<p>রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের (আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ) মধ্যে বিচার বিভাগ সবচেয়ে উপেক্ষিত বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, জাতীয় বাজেটে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ বিচার বিভাগের বরাদ্দ তুলনামূলক কম, প্রায় দুই হাজার ২০০ কোটি টাকা। সেখানে শুধু বিটিভির জন্য বরাদ্দ প্রায় দুই হাজার ৫০০ কোটি টাকা; যুব উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দও এর চেয়ে বেশি। এই বরাদ্দ দিয়ে বিচারকদের বেতন, প্রশাসনিক ব্যয় ও অবকাঠামো পরিচালনা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং।</p> <p>গতকাল শনিবার রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে অনুষ্ঠিত পরামর্শসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা (সেলপ) কর্মসূচি সভাটির আয়োজন করে। ৩২ জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের চার হাজার ৪০টি মামলা নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট ও ব্র্যাকের যৌথ গবেষণা পর্যবেক্ষণ উপস্থাপনে সভার আয়োজন করা হয়। পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারে ৭০ শতাংশ মামলায় আসামিরা খালাস পাচ্ছেন। এর বিপরীতে সাজা হচ্ছে মাত্র ৩ শতাংশ মামলার আসামির।</p> <p>বক্তব্যে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে আলোচনায় বিভিন্ন সমস্যা উঠে এসেছে, পরিসংখ্যান এসেছে, বাস্তবচিত্র উঠে এসেছে। এসবের মূল কথা হলো, আমাদের সক্ষমতা, বিশেষ করে রাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ও আইন প্রশাসনের সক্ষমতা।’</p> <p>মন্ত্রী বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন আইনজীবী ছিলাম, অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলাম, বর্তমানে আইনমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। আমার অভিজ্ঞতায় মনে হয়েছে, রাষ্ট্রের প্রধান তিনটি অঙ্গের মধ্যে বিচার বিভাগ সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত। জাতীয় বাজেটের দিকে তাকালে এটি স্পষ্ট হয়।’</p> <p>আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমি চাই বিচার বিভাগের বাজেট আরো বৃদ্ধি পাক। কিন্তু বাজেট আলোচনায় নানা স্তরের প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অনেক সময় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় জটিলতা দেখা দেয়। এই কাঠামোগত সমস্যাগুলো আমাদের সমাধান করতে হবে।’</p> <p>বিচার বিভাগে বিচারক নিয়োগ, পদোন্নতি এবং কাঠামোগত ভারসাম্য নিয়েও চ্যালেঞ্জ রয়েছে মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, ‘নিম্ন আদালত থেকে শুরু করে উচ্চ আদালত পর্যন্ত জনবল কাঠামোতে কিছু অসামঞ্জস্য দেখা যায়। দ্রুত নিয়োগপ্রক্রিয়া চালু করা এবং জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের কার্যক্রমকে আরো কার্যকর করা প্রয়োজন।’</p> <p> </p> <p> </p> <p> </p> <p> </p>