• ই-পেপার

নবজাতককে রেখে উধাও জননী, বিপাকে বাবা

হিলিতে ৯০ বছরের বৃদ্ধ মতিউরের ঠাই হলো রাস্তার পাশে, দেখার কেউ নেই

হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
হিলিতে ৯০ বছরের বৃদ্ধ মতিউরের ঠাই হলো রাস্তার পাশে, দেখার কেউ নেই
দিনাজপুরের হিলির এক রাস্তাার পাশে পড়ে থাকা বৃদ্ধ মতিউর।

চোখে দেখতে পারেন না, হাটাচলাও করতে পারেন না, বয়স প্রায় ১০০ ছুইছুই। এমন এক বৃদ্ধার দেখা মিলেছে দিনাজপুরের হিলির এক রাস্তাার পাশে। শুধু নাম বলতে পারে মতিউর, আর ঠিকানা রংপুরে, এর থেকে বেশি কিছু বলতে পারেননা তিনি। স্থানীয়রা বলেন, ‘বুধবার দুপুর ২ টার সময় হিলি চরমাথা মসজিদের পাশের এক দোকানে কাছে একটি ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সা তাকে রেখে চলে যায়। এরপর কয়েকজন তাকে প্রথমে মসজিদের ভিতরে রাখলে সেখান থেকে তিনি বতমান মসজিদ গেটের সামনে বসে অবস্থান করছেন। কিছু জিজ্ঞাসা করলে বলছেন রংপুর থেকে এসেছি যাব পাচঁবিবি বড় মসজিদ।

এমন এক বৃদ্ধাকে এভাবে রাস্তায় ফেলে যাওয়াটা তার পরিবারের মুঠেই উচিত হয়নি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীদের। কোথায় যাবে কিভাবে থাকবে এসব নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা। এলাকাবাসীরা বলছেন, যেহেতু ৯০ বছরের এই বৃদ্ধা একাই চলাফেরা করতে পারছেনা সেহেতু তাকে সরকারের পক্ষ থেকে কোন একটা ব্যবস্থা করা হোক। এদিকে ওই বৃদ্ধাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান থানার ওসি। পরে নাম ঠিকানা পেলে তার পরিবারের কাছে হস্তাান্তর করা হবে।

কয়েকজন এলাকাবাসী বলেন, ‘হাতে লাঠি আর একটি বস্তা নিয়ে বসে আছে রাস্তার পাশে ৯০ বছরের একজন বৃদ্ধা।’ নাম ও ঠিকানা জানতে চাইলে শুধু বলেন, ‘নাম মতিউর আর রংপুর বাড়ি। এর থেকে আর কিছুই বলতে পারেন না তিনি। কথাও অস্পষ্ট, হাঁটাচলাও করতে পারছেন না। সন্তান সন্ততি আছে কি না তাও জানা যাচ্ছে না। খেয়ে না খেয়ে পড়ে আছে রাস্তার উপর। দেখার কেউ নেই। রাস্তার পথচারিরা দয়া করে কিছু দিলে খাচ্ছেন না দিলে না খেয়ে থাকছেন।

স্থানীয়রা বলছেন, আজকে দুপুরে একটি ব্যাটারী চালিত অটো রিকশা তাকে একটি দোকানের পাশে রেখে চলে যায়। তখন তারা তাকে মসজিদের ভিতরে রাখেন কিন্তু তিনি বর্তমানে সেই মসজিদের গেটে রাস্তার পাশে বসে আছেন। তার পরিবারের কেউ আছে কি না জানতে চাইলে তিনি কিছুই বলতে পারছেন না। শুধু বলছেন রংপুর থেকে আসছি আর যাব জয়পুরহাটের পাঁচবিবি বড় মসজিদে। দেখতে মনে হবে বাবা দাদার মতো। চুল দাড়ি পেকে সাদা হয়ে গেছে। চোখে ছাপ পড়ে গেছে কিছু দেখতে পারেনা। সম্বল বলতে হাতে একটি লাঠি আর একটি সাদা কাপড়ের বস্তা। স্থানীয়দের দাবী,সরকারের পক্ষ থেকে তার থাকার একটা ব্যবস্থার করা হোক।

বৃদ্ধা মতিউর রহমান বলেন, ‘অটো রিক্সায় চলে এখানে এসেছেন,কিন্তু কোন ছেলে মেয়ে নেই। আরো কিছু জানতে চাইলে বলতে পারছেন না তিনি।

হাকিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, রাস্তায় বসে থাকা সেই বৃদ্ধাকে চিকিৎসা প্রদানের জন্য হাকিমপুর উপজেলা সাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভতি করা হয়েছে। 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জর্জ মিত্র চাকমা বলেন, ‘এমন বয়সে এই বৃদ্ধাকে রাস্তায় থাকতে দেখে সবারই মনে প্রশ্ন রয়েই যায়, কে এর সন্তান আর কেনই বা রাস্তায় ফেলে রেখে গেছে। যত বড়ই খারাপ হক না কেন এই বয়সে তাকে রাস্তায় ফেলে যাওয়া কোন মতেই বিবেচ্য হয়নি।  

তিনি আরো বলেন, ‘ওই বৃদ্ধাকে হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভর্তি করা হয়েছে এখানে আপাতত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে তার পরিবারকে পাওয়া যায় তাহলে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’ 

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী আইয়ুব আলীকে পণ্যসামগ্রী বিতরণ করল বসুন্ধরা শুভসংঘ

ধামইরহাট (নওগাঁ)
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী আইয়ুব আলীকে পণ্যসামগ্রী বিতরণ করল বসুন্ধরা শুভসংঘ
সংগৃহীত ছবি

নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলায় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আইয়ুব আলীকে তার ব্যবসা পরিচালনা ও জীবিকার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরণের পণ্যসামগ্রী বিতরণ করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে উপজেলার ধামইরহাট ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী আলতাদিঘী জাতীয় উদ্যানের উত্তর প্রান্ত সীমান্ত পিলারঘেঁষা এলাকায় অবস্থিত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী আইয়ুব আলীর দোকানে গিয়ে এসব পণ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। 

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী আইয়ুব আলী বলেন, গত ২৫ বছর পূর্বে আমার দুই চোখে সমস্যা দেখা দেয়। চোখের প্রেসারে আমি পরবর্তীতে দুই চোখের দৃষ্টি সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে ফেলি। জীবিকার তাগিদে সেই থেকে আমি ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। আমাকে ব্যবসায়  সহযোগিতা করেন আমার স্ত্রী আক্তার বানু। আমার মতো একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর পাশে দাঁড়িয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। আমার দোকানে নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল প্রদান করায় অভাব-অনটন কিছুটা দূর হবে। এতে আমার সংসার চালাতে পারব। আমি বসুন্ধরা শুভসংঘকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

ধামইরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এটিএম বদিউল আলম জানান, একজন অন্ধ মানুষ জীবিকার তাগিদে ক্রেতাদের ওপর বিশ্বাস রেখে ব্যবসা করে। এর থেকে বড় কিছু আর নেই। সমাজের পিছিয়ে পড়া ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বাবলম্বী করে তুলতে মানবিক সহায়তার কোনো বিকল্প নেই। বসুন্ধরা শুভসংঘের এই সহায়তা তার ব্যবসা পরিচালনায় নতুন করে উদ্দীপনা জোগাবে। পাশাপাশি তাকে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পথে আরো এগিয়ে আনবে।

ধামইরহাট ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী  সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে বসুন্ধরা শুভসংঘ এর মতো সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ধামইরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এটিএম বদিউল আলম, ধামইরহাট ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো.হায়দার আলী, বসুন্ধরা শুভসংঘের ধামইরহাট উপজেলা শাখার উপদেষ্টা সাংবাদিক মো. হারুন আল রশীদ, সাংবাদিক রেজুয়ান আলম, সাংবাদিক মুমিনুল ইসলাম, বসুন্ধরা শুভসংঘের উপজেলা শাখার সদস্য শাকিলা খাতুন,আইয়ুব আলীর স্ত্রী আক্তার বানু।

আইয়ুব আলীর স্ত্রী আক্তার বানু জানান, দুই ছেলে দুই মেয়ে থাকার পরও অন্ধ মানুষটিকে দু’মুঠো ভাতের জন্য দোকানদারি করতে হচ্ছে। ছেলেমেয়েদের বিয়ে দেওয়ার পর ছেলেরা আলাদা হয়ে গেছে। তাই বাধ্য এ বয়সে ক্রেতার ওপর বিশ্বাস রেখে ব্যবসা করতে হচ্ছে। আমাদের জীবিকার কথা চিন্তা করে যে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে তা দিয়ে যেন আমরা সুন্দরভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে যেতে পারি। আমরা সবার নিকট দোয়া প্রার্থনা করি।

জামালগঞ্জে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২

জামালগঞ্জ (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
জামালগঞ্জে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২
সংগৃহীত ছবি

‎সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় ৬৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে জামালগঞ্জ থানা পুলিশ। বুধবার (১৭ জুন) বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

‎পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার গভীর রাতে জামালগঞ্জ থানার একটি বিশেষ অভিযানিক দল মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় উপজেলার জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নের সাচনা এলাকায় শিপন দাসের দোকানের সামনে শ্মশানঘাটগামী পাকা সড়ক থেকে ৬৭ পিস ইয়াবাসহ দুজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।

‎গ্রেপ্তাররা হলেন উপজেলার বেহেলী ইউনিয়নের ইনাতনগর গ্রামের মজনু মিয়ার ছেলে কামরুল ইসলাম (২৮) এবং মৃত সুনীল চন্দ্র দাসের ছেলে লিটন চন্দ্র দাস (২২)। এ ঘটনায় জামালগঞ্জ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

জামালগঞ্জ থানার ওসি মো. বন্দে আলী বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিদের আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

অর্থের বিনিময়ে সামাজিক বিচারে অবিচার করা যাবে না : আমানউল্লাহ আমান

কেরাণীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি
অর্থের বিনিময়ে সামাজিক বিচারে অবিচার করা যাবে না : আমানউল্লাহ আমান

অর্থের বিনিময়ে সামাজিক বিচারে অবিচার করা যাবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য আমানউল্লাহ আমান। তিনি বলেন, বিএনপি কোনো অবিচার বা জুলুম পছন্দ করে না। বিএনপি জনগণের দল, ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দল। এখানে সবাই সুবিচার পাওয়ার অধিকার নিয়ে আসে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে কেরানীগঞ্জ উপজেলা হলরুমে নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ উন্নয়নে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের সনদ ও অর্থ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

আমানউল্লাহ আমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের আগে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা বাস্তবায়ন করে দেখাচ্ছেন। নারী ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হচ্ছে। কৃষকদের সহজ শর্তে ১০ হাজার টাকা ঋণ দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে সবাই এ ধরনের সুবিধা পাবেন। এ ছাড়া দেশের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খতিবসহ বিভিন্ন ধর্মীয় নেতৃবৃন্দকে সম্মানিভাতা দেওয়া হচ্ছে।

আমান বলেন, তারেক রহমানের হাত ধরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার স্বপ্ন ও কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবে। তিনি তার পিতা-মাতার আদর্শ অনুসরণ করে দেশের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

এই সংসদ সদস্য বলেন, কেরানীগঞ্জকে মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, ভূমিদস্যুমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত ও অবিচারমুক্ত শান্তির জনপদ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এখানে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ সবাই ভাই ভাই। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. উমর ফারুকের সভাপতিত্বে এতে উপস্থিত ছিলেন কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস, কেরানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাজী শামীম হাসান, সাধারণ সম্পাদক হাসমত উল্লাহ নবী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনিরুল হক মনির প্রমুখ।