• ই-পেপার

ডেঙ্গু প্রতিরোধে উদ্যোগ নিন

ডিজিটাল স্ক্রিনে বন্দি শৈশব

ডিজিটাল স্ক্রিনে বন্দি শৈশব

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের জীবনে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে যাচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তি। এসব প্রযুক্তির মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ও সহজলভ্য হচ্ছে স্মার্টফোন। যোগাযোগ, তথ্য আদান-প্রদান ও বিনোদনের জন্য এখন সবাই স্মার্টফোন ব্যবহার করেন। কিন্তু এই স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, বিশেষ করে শিশুদের ওপর। বর্তমানে প্রায়ই দেখা যায়, শিশুদের খাওয়ানোর সময় কিংবা ঘুম পাড়ানোর সময় কিংবা শান্ত রাখার জন্য তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় স্মার্টফোন। ফলে শিশুরা অল্প বয়সেই মোবাইলের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে। তারা বাইরে খেলাধুলা, বইপড়া কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে মেলামেশা করার পরিবর্তে সারাক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকে। এতে তাদের শারীরিক বিকাশ ব্যাহত হয় এবং মানসিক দক্ষতা কমে যায়। অনেক সময় ভাষা শেখা, মনোযোগ বৃদ্ধি এবং সৃজনশীলতা বিকাশেও বাধা সৃষ্টি হয়। তাই আমাদের উচিত স্মার্টফোন ব্যবহারে সচেতন হওয়া। শিশুদের হাতে অপ্রয়োজনে মোবাইল না দিয়ে তাদের খেলাধুলা, বইপড়া এবং সৃজনশীল কাজে উৎসাহিত করা।

শেখ সুলতানা মীম

ইডেন মহিলা কলেজ

আশ্রয়কেন্দ্রে অব্যবস্থাপনা

আশ্রয়কেন্দ্রে অব্যবস্থাপনা

বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও পাহাড়ধস থেকে অসহায় ও দুর্গত জনগোষ্ঠীকে রক্ষার জন্য আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়। উদ্দেশ্য হলো, সহায়-সম্বলহীন মানুষ যেন সেখানে নিরাপদে আশ্রয় নিতে পারে এবং তাদের মৌলিক প্রয়োজনগুলো পূরণ করতে পারে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, জীবন রক্ষার জন্য নির্মিত অনেক আশ্রয়কেন্দ্রই আজ অব্যবস্থাপনার কারণে দুর্গত মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলছে। এর পেছনে রয়েছে অব্যবস্থাপনা, স্বার্থান্বেষী মহলের দুর্নীতি এবং যথাযথ তদারকির অভাব। দেশের অনেক আশ্রয়কেন্দ্রে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সংযোগ নেই, নেই সোলার প্যানেলের ব্যবস্থা কিংবা বিশুদ্ধ পানির জন্য গভীর নলকূপ। ফলে দুর্যোগের সময় মানুষ বাধ্য হয়ে সেখানে আশ্রয় নিলেও পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেই সেখান থেকে চলে যেতে চায়। কারণ বিদ্যুত্হীন, অনিরাপদ ও ঝুঁকিপূর্ণ আশ্রয়কেন্দ্রের চেয়ে নিজেদের ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িকেই তারা তুলনামূলক নিরাপদ মনে করে। তাই আশ্রয়কেন্দ্রগুলোকে সত্যিকার অর্থে বসবাসের উপযোগী করে গড়ে তুলতে সরকার ও প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। স্থানীয় পর্যায়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করতে হবে এবং বিদ্যমান সমস্যাগুলো দ্রুত ও টেকসইভাবে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।

শেখ সুলতানা মীম

শিক্ষার্থী, ইডেন মহিলা কলেজ

টেকেরঘাট সড়কের করুণ দশা

টেকেরঘাট সড়কের করুণ দশা

হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত টেকেরঘাট এলাকার সড়কটি কয়েক গ্রামের বাসিন্দাদের চলাচলের প্রধান রাস্তা। এই রাস্তার বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। রাস্তাটি এখন এলাকাবাসীর জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে বর্ষা মৌসুমে পুরো রাস্তাটি হাঁটু সমান কাদা আর বড় বড় খানাখন্দে পরিণত হয়েছে। রাস্তায় জমে থাকা নোংরা পানি আর পিচ্ছিল কাদার কারণে হেঁটে চলাচল করাই অসম্ভব হয়ে পড়েছে। প্রতিনিয়ত স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, অফিসগামী মানুষ এবং কৃষিপণ্য পরিবহনে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এমনকি কোনো জরুরি রোগী বা গর্ভবতী নারীকে হাসপাতালে নেওয়ার মতো ন্যূনতম পরিস্থিতিও নেই। দুর্ভোগ শুধু বর্ষাকালেই সীমাবদ্ধ নয়, শুকনা মৌসুমেও রাস্তাটির ভঙ্গুর অবস্থার কারণে ধুলাবালি ও খানাখন্দে চলাচল করা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাই চুনারুঘাট উপজেলার স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আকুল আবেদন, মানুষের এই কষ্ট দূর করতে রাস্তাটি দ্রুত মেরামতের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।

 

মুর্শেদুর রহমান রুপক

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

পলিথিন ও জলাবদ্ধতা

পলিথিন ও জলাবদ্ধতা

সাম্প্রতিক সময়ে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজার, বান্দরবান, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। লাখো মানুষ পানিবন্দি, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও যোগাযোগব্যবস্থা। একই সময়ে রাজধানী ঢাকা ও বন্দরনগরী চট্টগ্রামের মতো বড় শহরগুলোও মৌসুমি বৃষ্টিতে বন্যা ও ভয়াবহ জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে। এর প্রভাব শুধু জনজীবনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, চলমান এইচএসসি পরীক্ষাও স্থগিত করতে হয়েছে।

পাহাড়ি অঞ্চল কিংবা হাওরাঞ্চলের বন্যা অনেকাংশেই প্রাকৃতিক কারণে সংঘটিত হলেও নগরাঞ্চলের জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ মানুষের সৃষ্ট অব্যবস্থাপনা। বিশেষ করে পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্যের নির্বিচার ব্যবহার আজ ভয়াবহ পরিবেশগত সংকটের জন্ম দিয়েছে। প্রতিদিন অসংখ্য পলিথিন ব্যাগ, প্লাস্টিকের বোতল ও অন্যান্য বর্জ্য ড্রেন, নালা, খাল ও নদীতে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। শত শত বছরেও এসব পলিথিন মাটির সঙ্গে মিশে যায় না, বরং ড্রেনেজ ব্যবস্থার বিভিন্ন স্থানে জমে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ সম্পূর্ণ ব্যাহত করে।

দুঃখজনক হলেও সত্য, পলিথিন উৎপাদন ও ব্যবহারের ওপর আইনগত নিষেধাজ্ঞা থাকলেও এর কার্যকর বাস্তবায়ন এখনো নিশ্চিত হয়নি। আমরা মনে করি, আইনের কঠোর প্রয়োগ ছাড়া এই বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা মিলবে না।

আফিয়া আবিদা এষা

শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়