• ই-পেপার

শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক হাতিয়ার বানিয়েছে কংগ্রেস : ধর্মেন্দ্র প্রধান

সিজেপি বিক্ষোভে দিল্লির ১৬ মেট্রো স্টেশন বন্ধ

অনলাইন ডেস্ক
সিজেপি বিক্ষোভে দিল্লির ১৬ মেট্রো স্টেশন বন্ধ
সংগৃহীত ছবি

ভারতের নয়াদিল্লিতে চলমান বিক্ষোভের কারণে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটা থেকে রাজধানীর ১৬টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এসব স্টেশনে যাত্রীদের প্রবেশ ও বের হওয়া বন্ধ থাকবে। বিক্ষোভ আরো তীব্র হওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশন (ডিএমআরসি) এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে এ তথ্য জানায়। সংস্থাটি জানায়, বন্ধ থাকা স্টেশনগুলো হলো— লোক কল্যাণ মার্গ, রাজীব চৌক, প্যাটেল চৌক, রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গ, বারাখাম্বা রোড, সুপ্রিম কোর্ট, সেবা তীর্থ, জনপথ, মান্ডি হাউস, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, আইটিও, দিল্লি গেট, ইন্দ্রপ্রস্থ, খান মার্কেট, জোর বাগ এবং শিবাজি স্টেডিয়াম। তবে যাত্রীদের জন্য একটি সুবিধা চালু রাখা হয়েছে। রাজীব চৌক, মান্ডি হাউস এবং সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট স্টেশনে আন্তঃলাইন পরিবর্তন (ইন্টারচেঞ্জ) করা যাবে। অর্থাৎ, যাত্রীরা এসব স্টেশনে ট্রেন পরিবর্তন করতে পারবেন। তবে স্টেশনের বাইরে বের হওয়া বা বাইরে থেকে ভেতরে প্রবেশ করা যাবে না। ডিএমআরসি তাদের পোস্টে জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে স্টেশনগুলো আবার খুলে দেওয়া হবে।

এদিকে, কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র বিক্ষোভ আরো তীব্র হয়েছে। দলটি নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে প্রতিবাদ করছে। একই সঙ্গে তারা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিও জানাচ্ছে। বিক্ষোভকে ঘিরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। যন্তর মন্তর এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সেখানে সিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিক্ষোভকারীদের জন্য পরিচয় প্রকাশ না করা কয়েকজন দাতা খাবার ও পানীয়ের ব্যবস্থাও করেছেন বলে জানা গেছে।

এর মধ্যেই বুধবার রাতে দিল্লির কনট প্লেস এলাকায় নতুন করে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, রাত সাড়ে ৮টার দিকে তলস্তয় মার্গের কাছে একদল দুর্বৃত্ত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে পাথর ও বোতল ছোড়ে। এ ঘটনায় কনট প্লেসের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসিপি) বিবেক ভগত আহত হন। পরে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা তাকে দ্রুত রাম মনোহর লোহিয়া (আরএমএল) হাসপাতালে নিয়ে যান। পুলিশ জানায়, কিছু সময়ের জন্য পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠলেও পরে তা নিয়ন্ত্রণে আসে।

অন্যদিকে, বিরোধী দলের কয়েকজন সংসদ সদস্য অভিযোগ করেছেন, কর্মী সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখা করতে গেলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। তারা মেদান্তা হাসপাতালে ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু হাসপাতালের ফটকেই তাদের আটকে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তারা। ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার (জেএমএম) সংসদ সদস্য মহুয়া মাজি সাংবাদিকদের বলেন, সংসদের অধিবেশন শুরুর আগেই এই বিক্ষোভ ২২ দিন ধরে চলছিল। তখন দিল্লি সরকার কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তিনি দাবি করেন, সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রীর কাছ থেকে তারা জানতে পেরেছেন, তার সঙ্গে দেখা করার ওপর আদালতের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তারপরও তাদের হাসপাতালে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) সংসদ সদস্য সঞ্জয় যাদবও সরকারের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, এত বড় জনরোষের পরও সরকার যদি শিক্ষার্থীদের সমস্যা নিয়ে রাজনীতি না করার কথা বলে, তাহলে সেটি সরকারের ঔদ্ধত্যের প্রকাশ। তার দাবি, এটি কোনো একক রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের আন্দোলন নয়। সরকারের নীতি এবং পুলিশের কঠোর আচরণে ক্ষুব্ধ তরুণরাই এই আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন। এদিকে, আন্দোলনকারী সোনম ওয়াংচুকও নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন। তিনি বলেছেন, ২৫ দিনের অনশন শেষ করার আগে তিনি সরকারের কাছ থেকে লিখিত নিশ্চয়তা চান। সেই নিশ্চয়তায় বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না— এমন প্রতিশ্রুতি থাকতে হবে।
 

কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ, জাতিসংঘে পাকিস্তানকে ভারতের জবাব

অনলাইন ডেস্ক
কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ, জাতিসংঘে পাকিস্তানকে ভারতের জবাব
সংগৃহীত ছবি

জাতিসংঘের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আবারও কড়া অবস্থান নিয়েছে ভারত। দেশটির অভিযোগ, পাকিস্তান রাষ্ট্রের নীতির অংশ হিসেবে সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদকে ব্যবহার করছে। একই সঙ্গে ভারত স্পষ্ট করে বলেছে, জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। 

বুধবার (যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময়) জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ‘প্রাকৃতিক সম্পদের সুশাসন : শান্তি, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির ভিত্তি’ শীর্ষক উন্মুক্ত বিতর্কে এসব কথা বলেন জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত পর্বতনেনি হরিশ। বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, প্রাকৃতিক সম্পদ নিয়ে হওয়া এই বৈঠককে পাকিস্তান রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছে। তার দাবি, আলোচনার মূল বিষয় থেকে সরে গিয়ে পাকিস্তান কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা অভিযোগ’ তুলেছে।

পর্বতনেনি হরিশ বলেন, এই বৈঠকে অন্য কোনো বিষয় নিয়ে কথা বলার পরিকল্পনা ভারতের ছিল না। কিন্তু পাকিস্তান আলোচনার সুযোগ নিয়ে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরায় ভারতকে তার জবাব দিতে হয়েছে। কাশ্মীর প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অবিচ্ছিন্ন অংশ। এটি ভারতের সংবিধান ও আইনের দৃষ্টিতেও প্রতিষ্ঠিত বাস্তবতা। তবে পাকিস্তান ইচ্ছাকৃতভাবে এই বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভারতের রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে একমাত্র অমীমাংসিত বিষয় হলো, ভারতের দাবি অনুযায়ী পাকিস্তান ওই অঞ্চলের কিছু অংশ অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে। সেই ভূখণ্ড খালি করাই এখন প্রধান বিষয় হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বক্তব্যে তিনি সিন্ধু পানি চুক্তির বিষয়ও তুলে ধরেন। এ সময় পাকিস্তানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, পারস্পরিক বিশ্বাস ও সদিচ্ছার ভিত্তিতে কোনো চুক্তি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়, যদি একটি দেশ একই সঙ্গে সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন বা ব্যবহার করে।

তিনি বলেন, সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট এবং এতে কোনো পরিবর্তন হয়নি। দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা তখনই সম্ভব, যখন পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসের পরিবেশ থাকবে। বক্তব্যের শেষ দিকে পাকিস্তানকে নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যার দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান ভারতের এই কূটনীতিবিদ। তার ভাষায়, ভারতের সমালোচনা করার পরিবর্তে পাকিস্তান যদি নিজেদের দেশের সমস্যাগুলো সমাধানে গুরুত্ব দেয়, তাহলে সেটিই দেশটির জনগণের জন্য বেশি উপকারী হবে।
 

তিন শ বছরের ‘যন্তর মন্তর’ যেভাবে দিল্লির প্রতিবাদের স্থান হয়ে উঠল

অনলাইন ডেস্ক
তিন শ বছরের ‘যন্তর মন্তর’ যেভাবে দিল্লির প্রতিবাদের স্থান হয়ে উঠল

১৭২৪ সালে স্থাপিত হয় যন্তর মন্তর। তিনশো বছরের জন্মদিন আগেই পেরিয়ে এসেছে এই স্থান। তবু এদেশে যন্তর মন্তর নামটি আজও উচ্চারিত হয় প্রায় নিয়মিত। কেননা দিল্লিতে কোনও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটলে তা প্রদর্শনের স্থান হিসেবে জায়গাটিকে বেছে নেওয়া হয়। এ মুহূর্তে ককরোচদের আন্দোলনে উত্তাল দিল্লি। কেন্দ্রস্থল এ স্থানই। কিন্তু কেন দিল্লিতে বিক্ষোভ বা জন সমাবেশ মানেই যন্তর মন্তর?

নিট বিতর্কের প্রতিবাদ হিসেবে ন্যায্য বিচারের দাবিতে যন্তর মন্তরে অনশন করছেন অসংখ্য শিক্ষার্থী। পথে নেমে প্রতিবাদ করছে ছাত্রসমাজ, অনশনে বসেছেন সমাজকর্মী তথা শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। আর সে প্রতিবাদের ক্ষেত্র হিসেবে আলোচিত হচ্ছে যন্তর মন্তর। সাম্প্রতিক বহু বিক্ষোভের মতো এবারও এ স্থানেই প্রতিবাদ কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে।

অথচ যন্তর মন্তর আসলে জ্যোতির্বিজ্ঞান মানমন্দির। কিন্তু আজ তা বিক্ষোভের স্থল হিসেবে প্রসিদ্ধ। কবে থেকে শুরু হল এ বিষয়টি? এর জন্য ফিরে যেতে হবে ১৯৯৩ সালে। সে বছর সংসদের কাছাকাছি এলাকায় সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। আর তার ফলে নাগরিকদের প্রতিবাদের অধিকার ও শহরের নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার লক্ষ্যে যন্তর মন্তর রোডকে প্রতিবাদের কেন্দ্রীয় স্থান হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।

গত শতকের নয়ের দশকের আগে দিল্লিতে মুখ্য প্রতিবাদের স্থল ছিল বোট ক্লাব। সেখানকার লনেই জমায়েত করতেন বিক্ষোভকারীরা। ১৯৮৮ সালে বিষয়টা চরমে ওঠে যখন ৫ লাখ কৃষক জমায়েত করেন। ফলে চারপাশ যেন অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। সেই সময় থেকে বোট ক্লাবে জমায়েত নিষিদ্ধ করার দাবি উঠতে থাকে। সেটি কার্যকর করা হয় ১৯৯৩ সালে।

রাজধানীতে যে কোনও ধরনের জনসভা বা প্রতিবাদ কর্মসূচির জন্য যন্তর মন্তর একটি সহজে প্রবেশযোগ্য স্থান হিসেবে রয়ে গিয়েছে সেই থেকে। এই মুহূর্তে যন্তর মন্তরে চলতে থাকা সিজেপির দীর্ঘস্থায়ী অবস্থান কর্মসূচির মতো কর্মসূচির ক্ষেত্রে কোলাহল ও যানজটের সমস্যা সৃষ্টি হয়। তবু প্রশাসনের কাছে নিজেদের কথা পৌঁছে দিতে চাওয়া নাগরিকদের কাছে এ স্থানটি গুরুত্বপূর্ণ।

আসলে দিল্লির প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত হলেও যন্তর মন্তর থেকে সংসদ ভবন ও প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দূরত্ব অনেকটাই। ফলে এখানে বিক্ষোভজনিত যানজট ইত্যাদির প্রভাব ওই অঞ্চলে পড়ে না। ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয়, এখানে করা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচি নাগরিকদের মৌলিক অধিকারেরই অংশ। যদিও তা করতে হবে আইন মেনে।

চলতি বছরের মে মাসে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এক শুনানিতে বেকার যুবকদের পরোক্ষভাবে 'তেলাপোকা' (ককরোচ) ও সমাজের পরজীবী বলে উল্লেখ করেন। চরম এ অপমানের প্রতিক্রিয়া হিসেবে রাজনৈতিক কৌশলবিদ অভিজিৎ দিপকে ১৬ মে সম্পূর্ণ ব্যঙ্গাত্মকভাবে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) গঠন করেন। অতি দ্রুত ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে এ দলটির ফলোয়ার সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখ ছাড়িয়ে যায়।

২০ জুলাই (সোমবার) সিজেপির ডাকে প্রায় ২০ হাজার তরুণ ও শিক্ষার্থী নয়াদিল্লির সংসদ ভবন অভিমুখে পদযাত্রার চেষ্টা করলে পুরো মধ্য দিল্লি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। যন্তর মন্তর ও কনট প্লেস এলাকায় পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর ব্যাপক লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে।

পুলিশের নজিরবিহীন সহিংসতার পর আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দিপকে জানিয়েছেন যে তারা আপাতত নতুন কোনো সড়ক পদযাত্রা করবেন না। তবে দিল্লির যন্তর মন্তরে তাদের অনির্দিষ্টকালের অবস্থান ধর্মঘট ও শান্তিপূর্ণ প্রতিরোধ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।

সিজেপির বিক্ষোভে আবারও সহিংসতা, ৫ পুলিশ আহত

অনলাইন ডেস্ক
সিজেপির বিক্ষোভে আবারও সহিংসতা,  ৫ পুলিশ আহত
সংগৃহীত ছবি

দিল্লির যন্তর মন্তরের কাছে বুধবার সন্ধ্যায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দিল্লি পুলিশের দুইজন সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসিপি), দুইজন পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) এবং আরো একজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কানাট প্লেস এলাকার এসিপি বিবেক ভগতকে দ্রুত রাম মনোহর লোহিয়া (আরএমএল) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

দিল্লি পুলিশের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (র‌্যাফ) ও পুলিশ সদস্যরা সীমিত শক্তি ব্যবহার করেন। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে দুই থেকে তিনটি কাঁদানে গ্যাসের শেলও ছোড়া হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কানাট প্লেসের টলস্টয় মার্গ এলাকায় উত্তেজনা শুরু হয়। যন্তর মন্তরে অবস্থান নেওয়া বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ পরে টলস্টয় মার্গে চলে যায়। সেখানে বিক্ষোভ সহিংস হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ পুলিশের। পুলিশের ভাষ্য, কিছু বিক্ষোভকারী নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইট-পাথর ও কাচের বোতল ছুড়ে মারেন। এতে এসিপি বিবেক ভগত আহত হন। এছাড়া আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্যও আঘাত পান। ঘটনার পর আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।

দিল্লি পুলিশ জানায়, শুরুতে তারা বলপ্রয়োগ না করে বিক্ষোভকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার অনুরোধ করে। আন্দোলনের আয়োজক ও ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতাদেরও ঘটনাস্থলে ডেকে বিক্ষোভকারীদের শান্ত করার চেষ্টা করা হয়। তবে পুলিশের অভিযোগ, আন্দোলনকারীদের একটি অংশ আয়োজকদের কথাও শোনেনি। পুলিশের দাবি, পরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে বড় বড় পাথর ছোড়া হয়। কিছু বিক্ষোভকারীর হাতে লাঠি ছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া কয়েকজনকে তলোয়ার ও খুকরি প্রদর্শন করতে দেখা গেছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে র‌্যাফ ও দিল্লি পুলিশ সীমিত শক্তি ব্যবহার করে এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে এলাকা খালি করে। 

দিল্লি পুলিশের অভিযোগ, সংঘর্ষের সময় এক পুলিশ কর্মকর্তাকে ঘিরে ধরে মারধর করা হয়। পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ তাকে চারদিক থেকে ঘিরে হামলা চালায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কিছু মানুষ গালিগালাজ ও উসকানিমূলক স্লোগানও দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পুলিশ আরো জানায়, টানা তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ হয়েছে। তাদের দাবি, সন্ধ্যার পর কিছু সমাজবিরোধী ব্যক্তি বিক্ষোভে ঢুকে পড়ায় পরিস্থিতি আরো উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ। তবে যন্তর মন্তর এবং আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) জানিয়েছে, তারা কেন্দ্র সরকারের সঙ্গে আলোচনা করতে প্রস্তুত। তবে সেই আলোচনা কোনো কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বাড়ি বা দপ্তরে নয়, নিরপেক্ষ কোনো স্থানে হতে হবে। বুধবার যন্তর মন্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সিজেপির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস। তিনি বলেন, পুলিশ তাদের জানিয়েছে যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা তার বাসভবনে আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। কিন্তু সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি সিজেপি। দলটির বক্তব্য, সরকারের প্রতিনিধিদের বিক্ষোভস্থলের কাছাকাছি কোনো নিরপেক্ষ জায়গায় এসে শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত। নিরাপত্তার কারণে যন্তর মন্তরে না এলে কাছাকাছি অন্য কোনো স্থানে বৈঠক করা যেতে পারে বলেও জানিয়েছে তারা। সিজেপি আরো জানিয়েছে, আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও তরুণদের বিরুদ্ধে নতুন কোনো মামলা বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না—এমন লিখিত আশ্বাস তারা সরকারের কাছে চাইবে।

গত ২০ জুন থেকে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে যন্তর মন্তরে আন্দোলন শুরু হয়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে এবং আরো কয়েকটি পরীক্ষায় অনিয়ম ঘটেছে। পরে এই আন্দোলনে যোগ দেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। তিনি শিক্ষার্থীদের দাবির সমর্থনে অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করলে আন্দোলন আরো জোরালো হয়। সিজেপি ওয়াংচুককে অনশন ভাঙার অনুরোধ জানালেও তিনি তাতে রাজি হননি। তার বক্তব্য, সরকার স্পষ্টভাবে নিশ্চিত না করা পর্যন্ত তিনি অনশন চালিয়ে যাবেন। বিশেষ করে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না—এমন নিশ্চয়তা চান তিনি।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে আন্দোলন এখন দিল্লির বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে। বিহার, তামিলনাড়ু, গোয়া, মহারাষ্ট্র ও রাজস্থানসহ বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষোভ হয়েছে। বিহারের রাজধানী পাটনায় রাজ্যপালের বাসভবনের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, জলকামান ও লাঠিচার্জ ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। অন্য রাজ্যগুলোতেও একই দাবিতে সংহতি কর্মসূচি ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এদিকে, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শক্তি ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে দায়ের করা একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দিল্লি হাইকোর্ট কেন্দ্র সরকার ও দিল্লি পুলিশকে জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশের অভিযানের সিসিটিভি ফুটেজ ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংরক্ষণের নির্দেশও দিয়েছে আদালত। অন্যদিকে, পুলিশের পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ করে করা একটি আবেদনের জরুরি শুনানি করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।