• ই-পেপার

সিজেপি বিক্ষোভে দিল্লির ১৬ মেট্রো স্টেশন বন্ধ

সামাজিক মাধ্যম আসক্তি

মেটার বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার করল কিশোর

অনলাইন ডেস্ক
মেটার বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার করল কিশোর
সংগৃহীত ছবি

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে আসক্তি ও ক্ষতির অভিযোগ তুলে মেটার বিরুদ্ধে করা মামলা তুলে নিয়েছে ফ্লোরিডার এক কিশোর। ১৫ বছর বয়সী ওই কিশোর দাবি করেছিল, ইনস্টাগ্রামসহ মেটার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে গিয়ে সে আসক্ত হয়ে পড়ে এবং এর কারণে তার মানসিক ও শারীরিক ক্ষতি হয়েছে।

আদালতের নথিতে ওই কিশোরের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তাকে আর.কে.সি. নামে উল্লেখ করা হয়েছে। কয়েক সপ্তাহ আগে একই ধরনের অভিযোগে টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট ও ইউটিউবের বিরুদ্ধেও করা মামলা মীমাংসা করে সে। শিশুদের জন্য ক্ষতিকর ও অতিরিক্ত আসক্তি তৈরি করে—এমন অভিযোগে বড় একটি মামলার অংশ হিসেবেই এসব প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল। আর.কে.সি.-র মামলার শুনানি আগামী সপ্তাহে লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি জুরির সামনে শুরু হওয়ার কথা ছিল। এর আগে একই ধরনের একটি বিচার প্রক্রিয়ায় মেটা ও ইউটিউব পরাজিত হয়েছিল। মেটার এক মুখপাত্র বিবিসিকে বলেন, অভিযোগগুলোর কোনো ভিত্তি ছিল না। তিনি বলেন, এই ফলাফল দেখিয়েছে যে ভিত্তিহীন মামলার বিরুদ্ধে নিজেদের রক্ষা করতে মেটা পিছিয়ে যাবে না।

অন্যদিকে, আর.কে.সি.-র আইনজীবী এমিলি জেফকট ও রাহুল রাভিপুদি বলেন, এই মামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কম্পানিগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনা এবং তরুণদের সুরক্ষায় পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা। তারা বলেন, আর.কে.সি. সেই লক্ষ্য অর্জন করেছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে চলতে পারে এমন জুরি বিচারের চাপের কারণে সে এখন এই অধ্যায় শেষ করতে চায়। নিজের সুস্থতার দিকে মনোযোগ দিতে এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সে চিকিৎসা নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। মেটার মুখপাত্র জানান, মামলা তুলে নেওয়ার জন্য আর.কে.সি.-কে কোনো অর্থ দেওয়া হয়নি।

আর.কে.সি.-র অভিযোগ ছিল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কিছু জনপ্রিয় ফিচার—যেমন শেষ না হওয়া স্ক্রল ব্যবস্থা এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিও বা অন্যান্য কনটেন্ট চালু হওয়া—ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় ধরে প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখে। এর ফলে অনেক ব্যবহারকারী বারবার ফিরে আসতে বাধ্য হন এবং একপর্যায়ে তা আসক্তিতে পরিণত হতে পারে। সে আরো দাবি করেছিল, অতিরিক্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের কারণে তার উদ্বেগ বেড়েছে, ঘুমের সমস্যা হয়েছে এবং আরো নানা মানসিক ও ব্যক্তিগত সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে। এর আগে একই ধরনের অভিযোগে এক তরুণী মেটা ও ইউটিউবের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার প্রাথমিক বিচারে জুরি সিদ্ধান্ত দেয়, তার মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতির জন্য দুটি প্রতিষ্ঠানই দায়ী।

ওই রায়ে মেটা ও ইউটিউবকে ৬০ লাখ ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৪৪ লাখ পাউন্ড ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের কারণে ক্ষতির জন্য কোনো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করার ক্ষেত্রে এটি ছিল প্রথম দিকের গুরুত্বপূর্ণ রায়গুলোর একটি। তবে ওই রায়ের বিরুদ্ধে মেটা ও ইউটিউব আপিল করেছে। লস অ্যাঞ্জেলেস সুপিরিয়র কোর্টে বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে আসক্তি ও ক্ষতির অভিযোগে করা শত শত মামলা চলছে। এসব মামলার মধ্যে কয়েকটি বেছে নিয়ে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, পরবর্তী একটি মামলার বিচার আগামী অক্টোবর মাসে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মেটা ও অন্যান্য বড় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মামলা হয়েছে। এসব মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, কম্পানিগুলোর প্ল্যাটফর্ম শিশু ও কিশোরদের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠেছে। গত মে মাসে শিক্ষার্থীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলার অভিযোগে করা একটি মামলায় একটি স্কুল জেলার সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছায় মেটা। ওই স্কুল জেলার অভিযোগ ছিল, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের অতিরিক্ত খরচ করতে হয়েছে। তারা ৬ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিল। তবে সমঝোতার অর্থ প্রকাশ করা হয়নি। এর কিছুদিন আগে নিউ মেক্সিকোর এক বিচারক শিশুদের জন্য নিজেদের প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা নিয়ে ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগে মেটাকে ৩৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার পরিশোধের নির্দেশ দেন।

ধর্মেন্দ্র প্রধান : ব্যারিকেডের এপার থেকে ওপারে

অনলাইন ডেস্ক
ধর্মেন্দ্র প্রধান : ব্যারিকেডের এপার থেকে ওপারে
ছবি : রয়টার্স

ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর নাম এখন সবার জানা। কোনো ভালো কাজের জন্য নয়। ছাত্ররা তার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছে বলে ধর্মেন্দ্র প্রধানের নাম এখন সবার মুখে মুখে। তবে তার বিরুদ্ধে আন্দোলন আজকের নয়। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলছে ককরোচ জনতা পার্টি-সিজেপির আন্দোলন।

গত ৩ মে নিট পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি উঠেছে। শিক্ষামন্ত্রী তো আর প্রশ্নপত্র ফাঁস করেননি। তবু ঘটনার দায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর পদতাগের দাবি বা পদত্যাগের ঘটনা, এমনকি ভারতের রাজনীতিতে বিরল নয়।

তবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ছাত্রদের আন্দোলনকে বলা যায় ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি। ধর্মেন্দ্র প্রধানের কেন্দ্রীয় নেতা ও মন্ত্রী হয়ে ওঠার শুরুটাও কিন্তু রাজপথে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়েই ছাত্রনেতা হিসেবে সবার নজর কেড়েছিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।

চলুন একটু পেছনে ফেরা যাক। পেছনে মানে ২৯ বছর পেছনে। ১৯৯৭ সালের কথা, তখন জানকী বল্লভ পট্টনায়ক ওড়িশার কংগ্রেস সরকারের মুখ্যমন্ত্রী। ভুবনেশ্বরে মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত বাসভবন থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে, স্থানীয় একটি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে হাজার দেড়েক শিক্ষার্থী রাজ্য সচিবালয়ের সামনে জড়ো হয়েছিলেন। সেই বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের নেতা ছিলেন আজকের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। 

‘দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, তৎকালীন জানকী পট্টনায়ক সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ-এবিভিপি’র জাতীয় সম্পাদক হিসেবে ভুবনেশ্বরের রাজপথে নেমেছিলেন প্রধান। পুলিশ পিটিয়ে সেদিন ধর্মেন্দ্র প্রধানের হাড় ভেঙ্গে দিয়েছিল।

ধর্মেন্দ্র প্রধানের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের বরাতে ‘দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ জানায় যে, প্রধান ১৮ বছর বয়সে ছাত্র রাজনীতিতে যোগ দেন এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ-আরএসএস’এর ছাত্র সংগঠন এবিভিপির একজন সক্রিয় সংগঠক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ১৯৯৪ সালের নভেম্বর থেকে ১৯৯৭ সালের মধ্যে দুইবার এবিভিপির জাতীয় সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। 

পত্রিকাটির প্রতিবেদন অনুসারে, ১৯৯৭ সালে ওড়িশায় একটি প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সে সময় প্রধান এবিভিপির জাতীয় সম্পাদক ছিলেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় জনতা পার্টি-বিজেপিতে যোগ দেওয়ার দ্বারপ্রান্তে ছিলেন। 

ভুবনেশ্বরের আরএমডি ডিগ্রি কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মেন্দ্র প্রধানের জুনিয়র প্রশান্ত রাউত সেই বিক্ষোভের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘আমরা সচিবালয়ের সামনে ওড়িশা সরকারের বিরুদ্ধে একটি বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছিলাম। সেখানে আমাদের সাথে প্রায় দেড় হাজার ছাত্র যোগ দিয়েছিল।’ 

তার বিবরণ অনুযায়ী, পুলিশ আন্দোলনকারীদের ওপর চড়াও হওয়ার আগে পর্যন্ত বিক্ষোভটি শান্তিপূর্ণ ছিল। রাউত বলেন, ‘আমরা বেশ ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। প্রধানকে সে সময় খুব নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছিল। পুলিশের পিটুনিতে তার শরীরের কয়েকটি হাড় ভেঙ্গে গিয়েছিল।’

রাউতের বক্তব্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে ওই সময়ে ক্যাম্পাসে ছাত্র সংসদ নির্বাচনগুলো প্রায়শই সহিংস রূপ নিত। তিনি অভিযোগ করেন, একটি নির্বাচন চলাকালীন প্রধানের জেতার সম্ভাবনা স্পষ্ট হয়ে উঠলে জনতা দলের সমর্থকেরা তার ওপর হামলা চালায়। সেই ঘটনার কথা মনে করে রাউত বলেন, ’তিনি আজ কেবল ভাগ্যের জোরেই বেঁচে আছেন।’

ছাত্র রাজনীতিতে কাটানো এই বছরগুলোই বিজেপির ভেতরে প্রধানের দীর্ঘ সাংগঠনিক ক্যারিয়ারের ভিত্তি গড়ে দিয়েছিল। ২০২১ সালে শিক্ষামন্ত্রী  হওয়ার আগে তিনি কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তাবিষয়ক মন্ত্রণালয়ও সামলেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা প্রায়ই ওড়িশাজুড়ে কয়েক দশক ধরে বিজেপির সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক বিস্তারে তার অবদানকে স্বীকৃতি দিয়ে থাকেন। তার সেই প্রচেষ্টারই চূড়ান্ত রূপ দেখা যায় ২০২৪ সালে, যখন নবীন পট্টনায়কের অধীনে থাকা বিজু জনতা দল-বিজেডি’র দুই দশকেরও বেশি সময়ের শাসনের অবসান ঘটিয়ে ওড়িশায় প্রথমবারের মতো সরকার গঠন করে বিজেপি।

পদত্যাগের দাবির ব্যাপারে এত দিন চুপই ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। তবে গত সোমবার বিক্ষুব্ধ ছাত্রদের ওপর পুলিশের হামার পর পাল্টে যায় পরিস্থিতি। তবে হামলার পরদিন গত মঙ্গলবার তিনি বলেছেন, নিট ইস্যু নিয়ে আলোচনা করতে সরকার শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং শিক্ষার্থীদের উত্তর পাওয়ার অধিকার রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স (সাবেক টুঈটার)এ ধর্মেন্দ্র প্রধান লিখেছেন, ‘সংসদ কক্ষে নিট নিয়ে আলোচনা করতে এবং আমাদের তরুণদের প্রতিটি যৌক্তিক উদ্বেগ নিরসন করতে আমাদের সরকার শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।  ভারতের শিক্ষার্থীরা কোনো রাজনৈতিক প্রচারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার চেয়ে আরও অনেক বেশি ভালো কিছু পাওয়ার দাবি রাখে। বিশৃঙ্খলার চেয়ে স্থায়িত্ব, স্লোগানের চেয়ে সমাধান এবং বিঘ্ন ঘটানোর চেয়ে দায়িত্বশীলতা তাদের প্রাপ্য।’

তিনি আরো যোগ করেন, ‘শুধু ক্ষোভ প্রকাশ করার চেয়ে আমাদের শিক্ষার্থীদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব অনেক বেশি। আমাদের তাদের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে, সংস্কার করতে হবে এবং প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। আমাদের সরকার ঠিক এই বিষয়গুলো পূরণ করতেই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদ করতে গিয়ে রাজনীতিতে যার উত্থান, আজ সেঈ প্রশ্নপত্র ফাঁসই তাকে বিতর্কের কেন্দ্রে দাড় করিয়ে দিয়েছে। এ যেন ইতিহাসের মখোমুখি হওয়া। ২৯ বছর আগে ধর্মেন্দ্র প্রধান ছিলেন ব্যারিকেডের এপারে, আজ তিনি ওপারে।

সিআইএ স্থাপনায় ইরানের হামলা, রাশিয়ার সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক
সিআইএ স্থাপনায় ইরানের হামলা, রাশিয়ার সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র
ছবি : রয়টার্স

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত চারজন ব্যক্তি জানিয়েছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে সিআইএর একটি স্থাপনায় ইরানের ড্রোন হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র খতিয়ে দেখছে, এই হামলায় রাশিয়া কোনোভাবে সহায়তা করেছে কি না।

তাদের মতে, এখনো এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো প্রমাণ বা সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। তবে হামলার নির্ভুলতা এবং ইরানকে রাশিয়ার দেওয়া উন্নত প্রযুক্তিগত সহায়তার বিষয়টি তদন্তে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

রয়টার্সসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের হামলায় রাশিয়া আগে থেকেই লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দিয়ে আসছে। তবে সিআইএর স্থাপনায় হামলায় রাশিয়ার সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তের বিষয়টি আগে প্রকাশ করা হয়নি।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্চ মাসে অন্তত দুটি সিআইএ স্থাপনায় হামলা হয়। এর একটি ছিল সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসের ভেতরে থাকা সিআইএ স্টেশন। অন্যটি ছিল পূর্ব ইরাকে অবস্থিত একটি সিআইএ স্থাপনা। কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, আরো কিছু সিআইএ স্থাপনাও হামলার শিকার হয়েছে। তবে সেগুলোর বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

পশ্চিমা একটি গোয়েন্দা সংস্থার অভ্যন্তরীণ এক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে সিআইএর স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে রাশিয়ার ভূমিকা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। অঞ্চলটির এক কর্মকর্তা, যিনি ওই প্রতিবেদনাটি দেখেছেন, নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ তথ্য জানান। নিরাপত্তার কারণে তিনি প্রতিবেদনের সুনির্দিষ্ট উৎস বা কোন সংস্থা এটি তৈরি করেছে, তা প্রকাশ করেননি।

উপসাগরীয় অঞ্চলের দুই পশ্চিমা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সৌদিতে চালানো হামলায় ইরানের শাহেদ ড্রোনের রাশিয়ার উন্নত করা দুটি সংস্করণ ব্যবহার করা হয়েছে বলে গোয়েন্দাদের ধারণা। তাদের মতে, প্রথম ড্রোনটি দূতাবাসের বাইরের একটি দুর্বল স্থানে আঘাত করে গর্ত তৈরি করে। এরপর দ্বিতীয় ড্রোনটি সেই গর্ত দিয়ে ভেতরে ঢুকে বিস্ফোরিত হয়। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

কর্মকর্তারা বলেন, ইরানকে রাশিয়ার সহায়তা নতুন নয়। তবে সিআইএ-সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করায় ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের কার্যক্রমে বাধা দিতে মস্কো আরো কঠোর অবস্থান নিচ্ছে। প্রয়োজন হলে এটিকে টিভি সংবাদ, অনলাইন নিউজ বা পত্রিকার ভাষায়ও সাজিয়ে দিতে পারি।

জর্দানে একটি মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে হামলার পর রাশিয়া ইরানকে হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা করছে, এমন আশঙ্কা আরো বেড়েছে। ওই হামলায় ইরানের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সেনা ব্যারাকে আঘাত করলে দুই মার্কিন সেনা নিহত হন। এ বিষয়ে মন্তব্য চাইলে হোয়াইট হাউস বিষয়টি সিআইএ-এর কাছে পাঠায়। তবে সিআইএ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। জাতিসংঘে ইরানের মিশন, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সৌদি সরকারও এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলের দুই পশ্চিমা কর্মকর্তা দাবি করেছেন, রাশিয়া ইরানের শাহেদ ড্রোনের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করেছে। তাদের ধারণা, রিয়াদে হামলায় সেই উন্নত প্রযুক্তির ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। আরেকটি সূত্র জানায়, রাশিয়া ইরানকে ‘কোমেটা-এম’ নামে একটি স্যাটেলাইট নেভিগেশন ব্যবস্থা দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তি ইরানের নিজস্ব ব্যবস্থার তুলনায় বেশি নির্ভুল এবং সহজে জ্যাম করা যায় না।

মার্চ মাসে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, রাশিয়া ইরানকে ‘কোমেটা-এম’ স্যাটেলাইট নেভিগেশন ব্যবস্থা সরবরাহ করেছে। তবে ক্রেমলিন এ প্রতিবেদন অস্বীকার করে এটিকে ‘ভুয়া খবর’ বলে দাবি করে। বিদেশে সিআইএর বিভিন্ন স্থাপনার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন দেশে দূতাবাসভিত্তিক স্টেশন, নজরদারি কেন্দ্র, নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র, রসদ সরবরাহ কেন্দ্র এবং অন্যান্য গোপন কার্যালয়। এসব স্থাপনার অবস্থান অত্যন্ত গোপন রাখা হয়।

সূত্রগুলো ক্ষতিগ্রস্ত সিআইএ স্থাপনাগুলোর সঠিক সংখ্যা বা অবস্থান প্রকাশ করেনি। তবে একটি সূত্র জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার সংখ্যা একটির বেশি, কিন্তু ১২টির কম। আরেকটি সূত্রের দাবি, একাধিক সিআইএ স্থাপনা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রাশিয়ার তথ্য ব্যবহার করেছিল ইরান?

কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষকরা তদন্ত করে দেখছেন দূতাবাসে হামলার সময় ইরান রাশিয়ার সরবরাহ করা লক্ষ্যবস্তু-সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করেছিল কি না। তবে এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কিছু সূত্রের মতে, ইরান হয়তো পুরো মার্কিন দূতাবাসকেই লক্ষ্যবস্তু করেছিল এবং ঘটনাক্রমে সিআইএ স্টেশনও হামলার শিকার হয়।

সূত্রগুলো বলছে, কিছু বিশ্লেষকের ধারণা হলো, রাশিয়া ছাড়া খুব কম দেশেরই যুক্তরাষ্ট্রের এমন সংবেদনশীল স্থাপনার তথ্য সংগ্রহ এবং তা হামলার উদ্দেশ্যে ব্যবহারের সক্ষমতা ও আগ্রহ রয়েছে।

সিআইএর সাবেক স্টেশন প্রধান ও গোপন অভিযান কর্মকর্তা ড্যানিয়েল হফম্যান বলেন, রাশিয়া ও ইরানের ঘনিষ্ঠ কৌশলগত সম্পর্কের কারণে মস্কো যদি সিআইএ স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করতে তেহরানকে সহায়তা করে থাকে, তাহলে তা অস্বাভাবিক হবে না। তার ভাষায়, ‘নিজেদের প্রভাব বলয়ে মার্কিন প্রভাব কমানো বা পুরোপুরি দূর করার ক্ষেত্রে রাশিয়া ও ইরানের স্বার্থ এক।’
 

১২ দেশে ছড়িয়েছে ভারতের ইউপিআই, ব্যবহারকারী ৫৫ কোটি

অনলাইন ডেস্ক
১২ দেশে ছড়িয়েছে ভারতের ইউপিআই, ব্যবহারকারী ৫৫ কোটি

ভারতে ডিজিটাল লেনদেনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ইউনিফাইড পেমেন্টস ইন্টারফেস (ইউপিআই) ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫৫ কোটি ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে গত পাঁচ অর্থবছরে এ প্ল্যাটফর্মে লেনদেনের পরিমাণ কয়েক গুণ বেড়েছে। বিশ্বের ১২টি দেশ ভারতীয় এ ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) ভারতের পার্লামেন্টের চলমান বর্ষাকালীন অধিবেশনে লোকসভার সদস্য ড. মান্না লাল রাওয়াতের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, ‘ন্যাশনাল পেমেন্টস করপোরেশন অব ইন্ডিয়ার (এনপিসিআই) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ইউপিআই প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধিত ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৫ কোটি ৪৯ লাখ।’

তিনি জানান, ‘২০১৬ সালের ১১ এপ্রিল ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের (আরবিআই) তত্ত্বাবধানে এনপিসিআই ইউপিআই চালু করে। বর্তমানে এটি ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার মূলভিত্তিতে পরিণত হয়েছে।’ 

সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ অর্থবছরে ইউপিআই লেনদেন ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে ৮৪ দশমিক ১৬ লাখ কোটি রুপির ৪ হাজার ৫৯৫ কোটি লেনদেন হলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে ৩১৪ দশমিক ২৩ লাখ কোটি রুপির ২৪ হাজার ১৬১ কোটি লেনদেনে পৌঁছেছে। যা এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ।’

ডিজিটাল লেনদেন আরও নিরাপদ ও স্বচ্ছ করতে সরকার, আরবিআই এবং এনপিসিআই যৌথভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও জানান পঙ্কজ চৌধুরী। এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে ঝুঁকিভিত্তিক লেনদেনের সীমা নির্ধারণ, প্রতারণা ঠেকাতে মোবাইল নম্বর পরিবর্তন ও এসএমএসভিত্তিক যাচাইকরণে অতিরিক্ত নিরাপত্তা এবং ইউপিআই অ্যাপের সুরক্ষা জোরদার।

এছাড়া এনপিসিআই ‘কমপ্রিহেনসিভ ইউপিআই ইনফরমেশন সিকিউরিটি ফ্রেমওয়ার্ক (সিইউআইএসএফ) ২০২৫’ এবং ‘মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন সিকিউরিটি ফ্রেমওয়ার্ক’ চালু করেছে। এসব নীতিমালার মাধ্যমে ইউপিআই ইকোসিস্টেমে উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

অর্থ প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, এনপিসিআইয়ের সম্পূর্ণ মালিকানাধীন সহযোগী প্রতিষ্ঠান এনপিসিআই ইন্টারন্যাশনাল পেমেন্টস লিমিটেড (এনআইপিএল) ২০২০ সালের এপ্রিলে গঠিত হয়। সংস্থাটি বিদেশি অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে ইউপিআই ও রুপে কার্ডসহ ভারতের পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্প্রসারণ করছে।

তিনি বলেন, ‘এর ফলে ভারতীয় পর্যটক ও প্রবাসীরা বিদেশে সহজে আন্তঃসীমান্ত ডিজিটাল লেনদেন করতে পারবেন। পাশাপাশি অংশীদার দেশগুলো নিজেদের রিয়েল-টাইম পেমেন্ট ব্যবস্থা ও দেশীয় কার্ড নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতেও এনআইপিএল সহায়তা করছে।’