• ই-পেপার

কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ, জাতিসংঘে পাকিস্তানকে ভারতের জবাব

ধর্মেন্দ্র প্রধান: ব্যারিকেডের এপার থেকে ওপারে

অনলাইন ডেস্ক
ধর্মেন্দ্র প্রধান: ব্যারিকেডের এপার থেকে ওপারে
ছবি : রয়টার্স

ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর নাম এখন সবার জানা। কোনো ভালো কাজের জন্য নয়। ছাত্ররা তার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছে বলে ধর্মেন্দ্র প্রধানের নাম এখন সবার মুখে মুখে। তবে তার বিরুদ্ধে আন্দোলন আজকের নয়। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলছে ককরোচ জনতা পাটি-সিজেপির আন্দোলন।

গত ৩ মে নিট পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি উঠেছে। শিক্ষামন্ত্রী তো আর প্রশ্নপত্র ফাঁস করেননি। তবু ঘটনার দায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর পদতাগের দাবি বা পদত্যাগের ঘটনা, এমনকি ভারতের রাজনীতিতে বিরল নয়।

তবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ছাত্রদের আন্দোলনকে বলা যায় ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি। ধর্মেন্দ্র প্রধানের কেন্দ্রীয় নেতা ও মন্ত্রী হয়ে ওঠার শুরুটাও কিন্তু রাজপথে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়েই ছাত্রনেতা হিসেবে সবার নজর কেড়েছিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।

চলুন একটু পেছনে ফেরা যাক। পেছনে মানে ২৯ বছর পেছনে। ১৯৯৭ সালের কথা, তখন জানকী বল্লভ পট্টনায়ক ওড়িশার কংগ্রেস সরকারের মুখ্যমন্ত্রী। ভুবনেশ্বরে মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত বাসভবন থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে, স্থানীয় একটি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে হাজার দেড়েক শিক্ষার্থী রাজ্য সচিবালয়ের সামনে জড়ো হয়েছিলেন। সেই বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের নেতা ছিলেন আজকের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। 

‘দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, তৎকালীন জানকী পট্টনায়ক সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ-এবিভিপি’র জাতীয় সম্পাদক হিসেবে ভুবনেশ্বরের রাজপথে নেমেছিলেন প্রধান। পুলিশ পিটিয়ে সেদিন ধর্মেন্দ্র প্রধানের হাড় ভেঙ্গে দিয়েছিল।

ধর্মেন্দ্র প্রধানের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের বরাতে ‘দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ জানায় যে, প্রধান ১৮ বছর বয়সে ছাত্র রাজনীতিতে যোগ দেন এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ-আরএসএস’এর ছাত্র সংগঠন এবিভিপির একজন সক্রিয় সংগঠক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ১৯৯৪ সালের নভেম্বর থেকে ১৯৯৭ সালের মধ্যে দুইবার এবিভিপির জাতীয় সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। 

পত্রিকাটির প্রতিবেদন অনুসারে, ১৯৯৭ সালে ওড়িশায় একটি প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সে সময় প্রধান এবিভিপির জাতীয় সম্পাদক ছিলেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় জনতা পার্টি-বিজেপিতে যোগ দেওয়ার দ্বারপ্রান্তে ছিলেন। 

ভুবনেশ্বরের আরএমডি ডিগ্রি কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মেন্দ্র প্রধানের জুনিয়র প্রশান্ত রাউত সেই বিক্ষোভের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ’আমরা সচিবালয়ের সামনে ওড়িশা সরকারের বিরুদ্ধে একটি বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছিলাম। সেখানে আমাদের সাথে প্রায় দেড় হাজার ছাত্র যোগ দিয়েছিল।’ 

তার বিবরণ অনুযায়ী, পুলিশ আন্দোলনকারীদের ওপর চড়াও হওয়ার আগে পর্যন্ত বিক্ষোভটি শান্তিপূর্ণ ছিল। রাউত বলেন, ’আমরা বেশ ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। প্রধানকে সে সময় খুব নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছিল। পুলিশের পিটুনিতে তার শরীরের কয়েকটি হাড় ভেঙ্গে গিয়েছিল।’

রাউতের বক্তব্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে ওই সময়ে ক্যাম্পাসে ছাত্র সংসদ নির্বাচনগুলো প্রায়শই সহিংস রূপ নিত। তিনি অভিযোগ করেন, একটি নির্বাচন চলাকালীন প্রধানের জেতার সম্ভাবনা স্পষ্ট হয়ে উঠলে জনতা দলের সমর্থকেরা তার ওপর হামলা চালায়। সেই ঘটনার কথা মনে করে রাউত বলেন, ’তিনি আজ কেবল ভাগ্যের জোরেই বেঁচে আছেন।’

ছাত্র রাজনীতিতে কাটানো এই বছরগুলোই বিজেপির ভেতরে প্রধানের দীর্ঘ সাংগঠনিক ক্যারিয়ারের ভিত্তি গড়ে দিয়েছিল। ২০২১ সালে শিক্ষামন্ত্রী  হওয়ার আগে তিনি কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ও সামলেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা প্রায়ই ওড়িশাজুড়ে কয়েক দশক ধরে বিজেপির সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক বিস্তারে তার অবদানকে স্বীকৃতি দিয়ে থাকেন। তার সেই প্রচেষ্টারই চূড়ান্ত রূপ দেখা যায় ২০২৪ সালে, যখন নবীন পট্টনায়কের অধীনে থাকা বিজু জনতা দল-বিজেডি’র দুই দশকেরও বেশি সময়ের শাসনের অবসান ঘটিয়ে ওড়িশায় প্রথমবারের মতো সরকার গঠন করে বিজেপি।

পদত্যাগের দাবির ব্যাপারে এততিন চুপই ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। তবে গত সোমবার বিক্ষুব্ধ ছাত্রদের ওপর পুলিশের হামার পর পাল্টে যায় পরিস্থিতি। তবে হামলার পরদিন গত মঙ্গলবার তিনি বলেছেন, নিট ইস্যু নিয়ে আলোচনা করতে সরকার শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং শিক্ষার্থীদের উত্তর পাওয়ার অধিকার রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স (সাবেক টুঈটার)এ ধর্মেন্দ্র প্রধান লিখেছেন, ‘সংসদ কক্ষে নিট নিয়ে আলোচনা করতে এবং আমাদের তরুণদের প্রতিটি যৌক্তিক উদ্বেগ নিরসন করতে আমাদের সরকার শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।  ভারতের শিক্ষার্থীরা কোনো রাজনৈতিক প্রচারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার চেয়ে আরও অনেক বেশি ভালো কিছু পাওয়ার দাবি রাখে। বিশৃঙ্খলার চেয়ে স্থায়িত্ব, স্লোগানের চেয়ে সমাধান এবং বিঘ্ন ঘটানোর চেয়ে দায়িত্বশীলতা তাদের প্রাপ্য।’

তিনি আরো যোগ করেন, ‘শুধু ক্ষোভ প্রকাশ করার চেয়ে আমাদের শিক্ষার্থীদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব অনেক বেশি। আমাদের তাদের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে, সংস্কার করতে হবে এবং প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। আমাদের সরকার ঠিক এই বিষয়গুলো পূরণ করতেই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদ করতে গিয়ে রাজনীতিতে যার উত্থান, আজ সেঈ প্রশ্নপত্র ফাঁসই তাকে বিতর্কের কেন্দ্রে দাড় করিয়ে দিয়েছে। এ যেন ইতিহাসের মখোমুখি হওয়া। ২৯ বছর আগে ধর্মেন্দ্র প্রধান ছিলেন ব্যারিকেডের এপারে, আজ তিনি ওপারে।

সিআইএ স্থাপনায় ইরানের হামলা, রাশিয়ার সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক
সিআইএ স্থাপনায় ইরানের হামলা, রাশিয়ার সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র
ছবি : রয়টার্স

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত চারজন ব্যক্তি জানিয়েছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে সিআইএর একটি স্থাপনায় ইরানের ড্রোন হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র খতিয়ে দেখছে, এই হামলায় রাশিয়া কোনোভাবে সহায়তা করেছে কি না।

তাদের মতে, এখনো এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো প্রমাণ বা সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। তবে হামলার নির্ভুলতা এবং ইরানকে রাশিয়ার দেওয়া উন্নত প্রযুক্তিগত সহায়তার বিষয়টি তদন্তে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

রয়টার্সসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের হামলায় রাশিয়া আগে থেকেই লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দিয়ে আসছে। তবে সিআইএর স্থাপনায় হামলায় রাশিয়ার সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তের বিষয়টি আগে প্রকাশ করা হয়নি।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্চ মাসে অন্তত দুটি সিআইএ স্থাপনায় হামলা হয়। এর একটি ছিল সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসের ভেতরে থাকা সিআইএ স্টেশন। অন্যটি ছিল পূর্ব ইরাকে অবস্থিত একটি সিআইএ স্থাপনা। কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, আরো কিছু সিআইএ স্থাপনাও হামলার শিকার হয়েছে। তবে সেগুলোর বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

পশ্চিমা একটি গোয়েন্দা সংস্থার অভ্যন্তরীণ এক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে সিআইএর স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে রাশিয়ার ভূমিকা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। অঞ্চলটির এক কর্মকর্তা, যিনি ওই প্রতিবেদনাটি দেখেছেন, নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ তথ্য জানান। নিরাপত্তার কারণে তিনি প্রতিবেদনের সুনির্দিষ্ট উৎস বা কোন সংস্থা এটি তৈরি করেছে, তা প্রকাশ করেননি।

উপসাগরীয় অঞ্চলের দুই পশ্চিমা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সৌদিতে চালানো হামলায় ইরানের শাহেদ ড্রোনের রাশিয়ার উন্নত করা দুটি সংস্করণ ব্যবহার করা হয়েছে বলে গোয়েন্দাদের ধারণা। তাদের মতে, প্রথম ড্রোনটি দূতাবাসের বাইরের একটি দুর্বল স্থানে আঘাত করে গর্ত তৈরি করে। এরপর দ্বিতীয় ড্রোনটি সেই গর্ত দিয়ে ভেতরে ঢুকে বিস্ফোরিত হয়। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

কর্মকর্তারা বলেন, ইরানকে রাশিয়ার সহায়তা নতুন নয়। তবে সিআইএ-সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করায় ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের কার্যক্রমে বাধা দিতে মস্কো আরো কঠোর অবস্থান নিচ্ছে। প্রয়োজন হলে এটিকে টিভি সংবাদ, অনলাইন নিউজ বা পত্রিকার ভাষায়ও সাজিয়ে দিতে পারি।

জর্দানে একটি মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে হামলার পর রাশিয়া ইরানকে হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা করছে, এমন আশঙ্কা আরো বেড়েছে। ওই হামলায় ইরানের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সেনা ব্যারাকে আঘাত করলে দুই মার্কিন সেনা নিহত হন। এ বিষয়ে মন্তব্য চাইলে হোয়াইট হাউস বিষয়টি সিআইএ-এর কাছে পাঠায়। তবে সিআইএ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। জাতিসংঘে ইরানের মিশন, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সৌদি সরকারও এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলের দুই পশ্চিমা কর্মকর্তা দাবি করেছেন, রাশিয়া ইরানের শাহেদ ড্রোনের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করেছে। তাদের ধারণা, রিয়াদে হামলায় সেই উন্নত প্রযুক্তির ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। আরেকটি সূত্র জানায়, রাশিয়া ইরানকে ‘কোমেটা-এম’ নামে একটি স্যাটেলাইট নেভিগেশন ব্যবস্থা দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তি ইরানের নিজস্ব ব্যবস্থার তুলনায় বেশি নির্ভুল এবং সহজে জ্যাম করা যায় না।

মার্চ মাসে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, রাশিয়া ইরানকে ‘কোমেটা-এম’ স্যাটেলাইট নেভিগেশন ব্যবস্থা সরবরাহ করেছে। তবে ক্রেমলিন এ প্রতিবেদন অস্বীকার করে এটিকে ‘ভুয়া খবর’ বলে দাবি করে। বিদেশে সিআইএর বিভিন্ন স্থাপনার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন দেশে দূতাবাসভিত্তিক স্টেশন, নজরদারি কেন্দ্র, নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র, রসদ সরবরাহ কেন্দ্র এবং অন্যান্য গোপন কার্যালয়। এসব স্থাপনার অবস্থান অত্যন্ত গোপন রাখা হয়।

সূত্রগুলো ক্ষতিগ্রস্ত সিআইএ স্থাপনাগুলোর সঠিক সংখ্যা বা অবস্থান প্রকাশ করেনি। তবে একটি সূত্র জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার সংখ্যা একটির বেশি, কিন্তু ১২টির কম। আরেকটি সূত্রের দাবি, একাধিক সিআইএ স্থাপনা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রাশিয়ার তথ্য ব্যবহার করেছিল ইরান?

কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষকরা তদন্ত করে দেখছেন দূতাবাসে হামলার সময় ইরান রাশিয়ার সরবরাহ করা লক্ষ্যবস্তু-সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করেছিল কি না। তবে এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কিছু সূত্রের মতে, ইরান হয়তো পুরো মার্কিন দূতাবাসকেই লক্ষ্যবস্তু করেছিল এবং ঘটনাক্রমে সিআইএ স্টেশনও হামলার শিকার হয়।

সূত্রগুলো বলছে, কিছু বিশ্লেষকের ধারণা হলো, রাশিয়া ছাড়া খুব কম দেশেরই যুক্তরাষ্ট্রের এমন সংবেদনশীল স্থাপনার তথ্য সংগ্রহ এবং তা হামলার উদ্দেশ্যে ব্যবহারের সক্ষমতা ও আগ্রহ রয়েছে।

সিআইএর সাবেক স্টেশন প্রধান ও গোপন অভিযান কর্মকর্তা ড্যানিয়েল হফম্যান বলেন, রাশিয়া ও ইরানের ঘনিষ্ঠ কৌশলগত সম্পর্কের কারণে মস্কো যদি সিআইএ স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করতে তেহরানকে সহায়তা করে থাকে, তাহলে তা অস্বাভাবিক হবে না। তার ভাষায়, ‘নিজেদের প্রভাব বলয়ে মার্কিন প্রভাব কমানো বা পুরোপুরি দূর করার ক্ষেত্রে রাশিয়া ও ইরানের স্বার্থ এক।’
 

১২ দেশে ছড়িয়েছে ভারতের ইউপিআই, ব্যবহারকারী ৫৫ কোটি

অনলাইন ডেস্ক
১২ দেশে ছড়িয়েছে ভারতের ইউপিআই, ব্যবহারকারী ৫৫ কোটি

ভারতে ডিজিটাল লেনদেনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ইউনিফাইড পেমেন্টস ইন্টারফেস (ইউপিআই) ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫৫ কোটি ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে গত পাঁচ অর্থবছরে এ প্ল্যাটফর্মে লেনদেনের পরিমাণ কয়েক গুণ বেড়েছে। বিশ্বের ১২টি দেশ ভারতীয় এ ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) ভারতের পার্লামেন্টের চলমান বর্ষাকালীন অধিবেশনে লোকসভার সদস্য ড. মান্না লাল রাওয়াতের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, ‘ন্যাশনাল পেমেন্টস করপোরেশন অব ইন্ডিয়ার (এনপিসিআই) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ইউপিআই প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধিত ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৫ কোটি ৪৯ লাখ।’

তিনি জানান, ‘২০১৬ সালের ১১ এপ্রিল ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের (আরবিআই) তত্ত্বাবধানে এনপিসিআই ইউপিআই চালু করে। বর্তমানে এটি ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার মূলভিত্তিতে পরিণত হয়েছে।’ 

সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ অর্থবছরে ইউপিআই লেনদেন ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে ৮৪ দশমিক ১৬ লাখ কোটি রুপির ৪ হাজার ৫৯৫ কোটি লেনদেন হলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে ৩১৪ দশমিক ২৩ লাখ কোটি রুপির ২৪ হাজার ১৬১ কোটি লেনদেনে পৌঁছেছে। যা এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ।’

ডিজিটাল লেনদেন আরও নিরাপদ ও স্বচ্ছ করতে সরকার, আরবিআই এবং এনপিসিআই যৌথভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও জানান পঙ্কজ চৌধুরী। এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে ঝুঁকিভিত্তিক লেনদেনের সীমা নির্ধারণ, প্রতারণা ঠেকাতে মোবাইল নম্বর পরিবর্তন ও এসএমএসভিত্তিক যাচাইকরণে অতিরিক্ত নিরাপত্তা এবং ইউপিআই অ্যাপের সুরক্ষা জোরদার।

এছাড়া এনপিসিআই ‘কমপ্রিহেনসিভ ইউপিআই ইনফরমেশন সিকিউরিটি ফ্রেমওয়ার্ক (সিইউআইএসএফ) ২০২৫’ এবং ‘মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন সিকিউরিটি ফ্রেমওয়ার্ক’ চালু করেছে। এসব নীতিমালার মাধ্যমে ইউপিআই ইকোসিস্টেমে উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

অর্থ প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, এনপিসিআইয়ের সম্পূর্ণ মালিকানাধীন সহযোগী প্রতিষ্ঠান এনপিসিআই ইন্টারন্যাশনাল পেমেন্টস লিমিটেড (এনআইপিএল) ২০২০ সালের এপ্রিলে গঠিত হয়। সংস্থাটি বিদেশি অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে ইউপিআই ও রুপে কার্ডসহ ভারতের পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্প্রসারণ করছে।

তিনি বলেন, ‘এর ফলে ভারতীয় পর্যটক ও প্রবাসীরা বিদেশে সহজে আন্তঃসীমান্ত ডিজিটাল লেনদেন করতে পারবেন। পাশাপাশি অংশীদার দেশগুলো নিজেদের রিয়েল-টাইম পেমেন্ট ব্যবস্থা ও দেশীয় কার্ড নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতেও এনআইপিএল সহায়তা করছে।’

বিমান নিরাপত্তায় মোড় ঘোরানো ‘প্যান অ্যাম’ বিমানের ধ্বংসাবশেষ মিলল ৭৪ বছর পর

অনলাইন ডেস্ক
বিমান নিরাপত্তায় মোড় ঘোরানো ‘প্যান অ্যাম’ বিমানের ধ্বংসাবশেষ মিলল ৭৪ বছর পর
সংগৃহীত ছবি

আটলান্টিক মহাসাগরে বিধ্বস্ত হওয়ার ৭৪ বছর পর প্যান আমেরিকান এয়ারওয়েজের একটি যাত্রীবাহী বিমানের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পেয়েছেন গবেষকেরা। এই দুর্ঘটনার পরই বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যিক বিমানে উড্ডয়নের আগে যাত্রীদের বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা নির্দেশনা দেওয়ার নিয়ম চালু হয়। তাই এই আবিষ্কারকে বিমান চলাচলের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গবেষকেরা জানান, সোনার প্রযুক্তি সমৃদ্ধ একটি পানির নিচে চলাচলকারী ড্রোনের সাহায্যে পুয়ের্তো রিকোর উপকূলের কাছে সমুদ্রপৃষ্ঠের প্রায় দুই হাজার ফুট বা ৬১০ মিটার নিচে ক্লিপার এনডেভার নামের বিমানের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে। প্যান আমেরিকান এয়ারওয়েজের ডগলাস ডিসি-৪ মডেলের এই বিমানটি ১৯৫২ সালের ১১ এপ্রিল উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর একাধিক ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে। পরে পাইলট বাধ্য হয়ে আটলান্টিক মহাসাগরে জরুরি অবতরণের চেষ্টা করেন। কিন্তু বিমানটি পানিতে আছড়ে পড়ার পর দ্রুত ডুবে যায়।

দুর্ঘটনার পর শুরুতে বিমানে থাকা সবাই জীবিত ছিলেন। কিন্তু বিমানটি দ্রুত পানির নিচে তলিয়ে যেতে থাকায় যাত্রীরা লাইফ জ্যাকেট ও লাইফ ভেলা খুঁজে পেতে হিমশিম খেয়ে যান। শেষ পর্যন্ত বিমানে থাকা ৬৪ জন যাত্রী ও পাঁচজন ক্রুসহ মোট ৬৯ জনের মধ্যে মাত্র ১৭ জন প্রাণে বেঁচে যান। এই দুর্ঘটনার পর বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়। এরপর থেকে প্রতিটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটে উড্ডয়নের আগে যাত্রীদের নিরাপত্তা নির্দেশনা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়। পাশাপাশি বিমানে উন্নতমানের ভাসমান নিরাপত্তা সরঞ্জাম রাখা এবং সেগুলো কীভাবে ব্যবহার করতে হবে, তা যাত্রীদের জানানোও বাধ্যতামূলক হয়।

বর্তমানে বিশ্বের সব বাণিজ্যিক ফ্লাইটেই কেবিন ক্রুরা উড্ডয়নের আগে যাত্রীদের জরুরি বের হওয়ার পথ, লাইফ জ্যাকেটের অবস্থান এবং সেটি কীভাবে ব্যবহার করতে হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দিয়ে থাকেন।
 ধ্বংসাবশেষ অনুসন্ধানের এই অভিযানের নেতৃত্ব দেয় এয়ার/সি হেরিটেজ ফাউন্ডেশন। তাদের সঙ্গে ছিল ডিসকভারি চ্যানেলের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান 'এক্সপেডিশন আননোন' এবং আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। গত মাসে অনুসন্ধানকারী দল স্বয়ংক্রিয় সোনার ড্রোন ব্যবহার করে সমুদ্রের তলদেশে বিমানের মূল অংশ ও লেজ শনাক্ত করে। পরে সেগুলো বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হওয়া যায়, সেটি ক্লিপার এনডেভারের ধ্বংসাবশেষ।

এয়ার/সি হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের সভাপতি রাস ম্যাথিউস বলেন, এই আবিষ্কারে তারা যেমন আনন্দিত, তেমনি ৭৪ বছর আগে সেখানে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কথাও গভীরভাবে স্মরণ করছেন। তিনি জানান, ২০১৯ সালে এই দুর্ঘটনা নিয়ে তার আগ্রহ তৈরি হয়। তখন তিনি জানতে পারেন, দুর্ঘটনার পর বিমানের একটি লাগেজের ট্যাগ সাগরে ভেসে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা উপকূলে পৌঁছেছিল। এত গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা মানুষের স্মৃতি থেকে প্রায় হারিয়ে গেছে দেখে তিনি বিস্মিত হন। এরপর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন সিভিল অ্যারোনটিক্স বোর্ডের তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে কাজ শুরু করেন। পরে গবেষকেরা পুয়ের্তো রিকোতে অনুষ্ঠিত একটি প্রকাশ্য শুনানির নথি খুঁজে পান। সেখানে দুর্ঘটনা প্রত্যক্ষ করা বিমানবাহিনীর পাইলটদের আঁকা একটি মানচিত্র ছিল। সেই মানচিত্র অনুসন্ধানের এলাকা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

গবেষকেরা ঐতিহাসিক নথি, দুর্ঘটনার সময়কার আবহাওয়ার তথ্য এবং অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে আটলান্টিক মহাসাগরের তলদেশে ১০ বর্গ নটিক্যাল মাইলের একটি এলাকা চিহ্নিত করেন। তাদের ধারণা ছিল, ধ্বংসাবশেষ ওই এলাকাতেই রয়েছে। ২০২৪ সালে একবার অনুসন্ধান শুরু হলেও খারাপ আবহাওয়ার কারণে অভিযান বন্ধ করতে হয়। তবে গবেষকেরা হাল ছাড়েননি। দুর্ঘটনার ৭৫তম বার্ষিকীর আগেই আবার অনুসন্ধানে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। অবশেষে চলতি বছরের ২ জুন অনুসন্ধান এলাকায় প্রথমবার ড্রোন উড়ানোর পরই ধ্বংসাবশেষের অবস্থান শনাক্ত হয়। দেখা যায়, বিমানটি সমুদ্রের তলদেশে দুটি অংশে ভেঙে পড়ে আছে। পরে তোলা উচ্চমানের ছবিতে নিশ্চিত হওয়া যায়, সেটি ক্লিপার এনডেভারের ধ্বংসাবশেষ। ছবিতে বিমানের গায়ে থাকা প্যান অ্যামের লোগো এবং ‘ক্লিপার এনডেভার’ নাম এখনও স্পষ্টভাবে দেখা যায়।

'এক্সপেডিশন আননোন' অনুষ্ঠানের উপস্থাপক জশ গেটস বলেন, আজ মানুষ বিমানে ওঠার আগে যে নিরাপত্তা নির্দেশনা পান, তার পেছনে ক্লিপার এনডেভারের দুর্ঘটনার বড় ভূমিকা রয়েছে। তার ভাষায়, ৭৫ বছর আগে ওই দুর্ঘটনায় যা ঘটেছিল, সেটিই আজকের বিমান ভ্রমণকে আরো নিরাপদ করেছে। তিনি আরো বলেন, ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পাওয়ার পুরো ঘটনাটি অনুসন্ধান জাহাজ থেকে সরাসরি দেখার সুযোগ তার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা। গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কার সমুদ্রে নিখোঁজ হওয়া অন্য বিমানগুলোর সন্ধান পাওয়ার ক্ষেত্রেও নতুন আশা তৈরি করবে। এর মধ্যে রয়েছে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট এমএইচ৩৭০। ২০১৪ সালে ২৬৯ জন আরোহী নিয়ে বিমানটি নিখোঁজ হয়। ভারত মহাসাগরে বহুবার অনুসন্ধান চালানো হলেও এখন পর্যন্ত এর ধ্বংসাবশেষের অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

ক্লিপার এনডেভারের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পাওয়ার পুরো অভিযান নিয়ে 'এক্সপেডিশন আননোন' অনুষ্ঠানের একটি বিশেষ পর্ব আগামী শরৎকালে প্রচার করা হবে।