• ই-পেপার

একের পর এক উপসাগরীয় মার্কিন ঘাটিতে ইরানের হামলা

পাকিস্তান সেনাবহরে হামলায় নিহত ৪৫, বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মির দায় স্বীকার

অনলাইন ডেস্ক
পাকিস্তান সেনাবহরে হামলায় নিহত ৪৫, বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মির দায় স্বীকার
ছবি : রয়টার্স

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়িবহরে হামলায় অন্তত ৪৫ জন সেনা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য বেলুচিস্তান পোস্ট। 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বেলুচিস্তানের অশান্ত মাস্তুং এলাকার কাছে এই অতর্কিত হামলা চালানো হয়। বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) হামলার দায় স্বীকার করেছে।

দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর এটি তৃতীয় বড় হামলা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনী হামলার ঘটনা নিশ্চিত করলেও এখন পর্যন্ত হতাহতের আনুষ্ঠানিক সংখ্যা প্রকাশ করেনি।

বিএলএর মুখপাত্র জিয়ান্দ বেলুচ গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেছেন, সংগঠনের যোদ্ধারা নিরাপত্তা বাহিনীর কনভয়, এর নিরাপত্তা এসকর্ট এবং হামলা শুরুর পর ঘটনাস্থলে পৌঁছানো অতিরিক্ত সেনা সদস্যদের লক্ষ্য করে আক্রমণ চালিয়েছে।

তিনি দাবি করেন, বিএলএর বিশেষ ইউনিট ‘ফাতেহ স্কোয়াড’ এই হামলা পরিচালনা করেছে এবং এটিকে একটি সমন্বিত অভিযান বলে উল্লেখ করেন। জিয়ান্দ বেলুচ আরো বলেন, বিবৃতি প্রকাশের সময়ও বিএলএ যোদ্ধা ও পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ চলছিল। পরিস্থিতির আরো অবনতি হলে হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও তিনি দাবি করেন।

বেলুচিস্তানে সাম্প্রতিক সমন্বিত জঙ্গি হামলার পর পাকিস্তান সেনাবাহিনী এ সপ্তাহে ‘অপারেশন শাবান’ শুরু করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জিয়ারত জেলার মাঙ্গি ড্যাম এলাকায় হামলায় ২৭ জন পুলিশ সদস্য এবং লাসবেলায় ১১ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হওয়ার পর এই অভিযান শুরু হয়।

অভিযানটি পাকিস্তান সেনাবাহিনী, ফ্রন্টিয়ার কর্পস (এফসি) এবং বেলুচিস্তান পুলিশের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে। এতে গোয়েন্দা সংস্থা ও বিমান বাহিনীর সহায়তাও নেওয়া হচ্ছে।

হামলাগুলোর প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী বলেন, হামলার জন্য দায়ীদের খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যোদ্ধারা যেন পাকিস্তানি বাহিনীর জবাবে ‘সংযম বা আনুপাতিক প্রতিক্রিয়া’ আশা না করে।

পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় হলেও সবচেয়ে কম জনবসতিপূর্ণ প্রদেশ বেলুচিস্তান দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু। আন্দোলনকারীরা অধিক রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসন এবং প্রদেশের প্রাকৃতিক সম্পদের আয়ে বৃহত্তর অংশীদারির দাবি জানিয়ে আসছে। 

ইরান ও আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী এই প্রদেশটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে অবস্থিত গভীর সমুদ্রবন্দর গওয়াদার, যা চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) প্রকল্পের আওতায় চীনা বিনিয়োগে উন্নয়ন করা হয়েছে। প্রচুর খনিজ সম্পদ এবং গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বেলুচিস্তান পাকিস্তানের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে একই সঙ্গে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ ও সশস্ত্র সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবেও প্রদেশটি পরিচিত।

পাকিস্তানি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, মাঙ্গি ড্যাম এলাকায় হামলার ঘটনাটি তদন্তে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে হামলার পুরো ঘটনাক্রম পুনর্গঠন, সম্ভাব্য নেতৃত্বগত ব্যর্থতা খতিয়ে দেখা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি হামলার জন্য দায়ী ছিল কি না তা তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ৬ থেকে ৯ জুলাইয়ের মধ্যে বেলুচিস্তানে তিনটি বড় হামলা হয়। এর মধ্যে একটি চালায় বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) এবং বাকি দুটি চালায় তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)। ৭ জুলাই টিটিপির একটি হামলা জিম্মি সংকটে রূপ নেয়। সে সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী রাওয়ালপিন্ডিতে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, একটি চেকপোস্ট দখলের পর টিটিপি সদস্যরা জীবিত থাকা ১৮ জন পুলিশ সদস্যকে অপহরণ করে।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দাবি, পরে ওই সব জিম্মিকে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ড সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

৮ জুলাই বেলুচিস্তানের লাসবেলা জেলার বেলা-উইন্ডার এলাকার এন-২৫ মহাসড়কের কাছে একটি সেনা কনভয়ের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় সশস্ত্র যোদ্ধারা। এই মহাসড়কটি প্রদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন পথ। পাকিস্তান সেনাবাহিনী হামলার জন্য বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)-কে দায়ী করে জানায়, এতে একজন জুনিয়র কমিশন্ড কর্মকর্তা (জেসিও) ও ১০ জন সৈন্যসহ মোট ১১ জন সেনাসদস্য নিহত হন।

তবে বিএলএ ভিন্ন দাবি করে বলেছে, হামলায় তারা ১৭ জন সেনাকে হত্যা করেছে এবং সেনা কনভয় থেকে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম জব্দ করেছে। বিএলএর এই দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
 

ইরানে সেতু-রেলস্টেশনসহ বেসামরিক স্থাপনায় নতুন মার্কিন হামলা, নিহত অন্তত ৮

অনলাইন ডেস্ক
ইরানে সেতু-রেলস্টেশনসহ বেসামরিক স্থাপনায় নতুন মার্কিন হামলা, নিহত অন্তত ৮
ছবি : রয়টার্স

ইরানে নতুন করে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলায় সেতু, বিমানবন্দর, রেলস্টেশন ও অন্যান্য স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতের এসব হামলায় অন্তত আটজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।

এর আগের দিন হরমোজগান প্রদেশে সড়ক ও রেলওয়ে অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এতে অন্তত সাতজন নিহত হয় বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে। 

এএফপির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী আহভাজ, কেশম, বুশেহের, দাশতি, বোস্তান, সিরিক, বন্দর-ই লেঙ্গেহ, বন্দর-ই খামির ও বন্দর আব্বাসসহ হরমুজগান প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক বিমান অভিযান চালায়। হামলায় বন্দর-ই খামির শহরের তিনটি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া বন্দর আব্বাসের একটি রেলস্টেশন ও একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রেও আঘাত হানা হয়।

একই সময়ে মার্কিন মেরিন সেনারা একটি তেলবাহী ট্যাংকারে অভিযান চালায়। অন্য একটি জাহাজ গোলার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনাগুলোর তদন্ত চলছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, এসব হামলার উদ্দেশ্য ছিল ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলায় বেসামরিক অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিবিসি ভেরিফাই বন্দর আব্বাসের পশ্চিমে একটি সেতুতে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

এর জবাবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানায়, তারা ওমানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামুদ্রিক নজরদারি রাডার কেন্দ্র এবং কুয়েত ও বাহরাইনের কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এ ছাড়া সিরিয়ার আল-তানফ এলাকায় অবস্থিত একটি মার্কিন বিশেষ অভিযান কমান্ড সেন্টারে হামলারও দাবি করা হয়েছে। 

আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, দুই দিন আগে ইরানি সেনা নিহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও সিরিয়ার পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

কুয়েতের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরানের হামলায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পানি পরিশোধন কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন লাগে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের কার্যক্রম ব্যাহত হয়। অন্যদিকে জর্দানের সামরিক বাহিনী তিনটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি করেছে। এতে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

এদিকে ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের সুলায়মানিয়া শহরে ভোরের হামলায় অন্তত আটজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছে। কুর্দি নিরাপত্তা বাহিনী এ হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছে। এ ছাড়া এরবিল শহরের আকাশে উড়ে আসা আটটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে বলে কুর্দি বাহিনী জানিয়েছে।

সংঘাত বাড়তে থাকায় হরমুজ প্রণালি এখনো বন্ধ রয়েছে। ইরানের উপকূলসংলগ্ন এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বের বড় একটি অংশের তেল পরিবহন হয়। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও তেলের বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) প্রধান ফাতিহ বিরোল সতর্ক করে বলেছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়বে। এদিকে উত্তেজনা কমাতে চীন ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে যুদ্ধ বন্ধ করে আলোচনায় ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

ইরাকে হামলায় ৮ ইরানি কুর্দি বিদ্রোহী নিহত

অনলাইন ডেস্ক
ইরাকে হামলায় ৮ ইরানি কুর্দি বিদ্রোহী নিহত
ছবি : রয়টার্স

ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে এক হামলায় ইরানি কুর্দি সশস্ত্র বিরোধী দলের আট সদস্য নিহত হয়েছেন। শুক্রবারের এই হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছে দলটি।

কোমালা দলের নেতা ইদ্রিস কোলওয়াজি জানান, ভোরে সুলাইমানিয়া শহরের কাছে তাদের একটি শিবির ও আশপাশের এলাকায় ড্রোন ও রকেট হামলা চালানো হয়।

এতে তাদের আট সদস্য নিহত এবং আরো কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে হামলার বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

মধ্যপ্রাচ্যে ‘নতুন যুদ্ধ’, জড়াতে পারে পাকিস্তানও

অনলাইন ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে ‘নতুন যুদ্ধ’, জড়াতে পারে পাকিস্তানও
রয়টার্স ছবি

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে চলমান উত্তেজনার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে এবার নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। চার বছরের যুদ্ধবিরতির পর সৌদি আরবের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইয়েমেনের শক্তিশালী সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠন হুথি। ইরান-সমর্থিত এই সশস্ত্র গোষ্ঠীর সাথে সৌদি সীমান্তে আবারও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানও সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

বিশ্লেষকদের মতে, এমন পরিস্থিতি ইসলামাবাদকে আঞ্চলিক সংঘাতে জড়ানো এবং মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তাদের ভূমিকাকে আরো জটিল করে তুলতে পারে। এ ছাড়া সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির কারণেও পরমাণু অস্ত্রধারী এই দেশটি কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে পড়তে যাচ্ছে।

সৌদিতে হামলা মানেই পাকিস্তানের ওপর হামলা

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত সোমবার। এ দিন সৌদি আরবের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইয়েমেনের শক্তিশালী সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠন হুথিরা। তাদের দাবি, সৌদি বাহিনী হুথি-নিয়ন্ত্রিত একটি বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে।

এতে চার বছরের যুদ্ধবিরতির পর দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সীমান্তে উত্তেজনা তৈরি হয়। কারণ গত বছর সৌদি আরবের সঙ্গে একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে ইসলামাবাদ। সেই চুক্তির ফলে সৌদি আরবে বর্তমানে হাজারো পাকিস্তানি সেনা এবং একটি যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রন মোতায়েন রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাকিস্তানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘আমাদের শীর্ষ বেসামরিক ও সামরিক নেতৃত্ব ইরানকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে জানিয়ে দিয়েছে যে, সৌদি আরবের ওপর হামলা মানে পাকিস্তানের ওপর হামলা। এটি আমাদের স্পষ্ট রেড লাইন।’

সংঘাতে জড়ানোর শঙ্কা পাকিস্তানের

তবে উত্তেজনা এত আকস্মিকভাবে বেড়ে যাবে, তা ইসলামাবাদ প্রত্যাশা করেনি বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানি নিরাপত্তা বিশ্লেষক মুহাম্মদ আমির রানা।

দুই পাকিস্তানি কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী রয়টার্স বলছে, ইয়েমেন সীমান্তের কাছে সৌদি আরবে পাকিস্তানি সেনারা মোতায়েন থাকায় হুথিদের হামলা অব্যাহত থাকলে তারা সরাসরি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

এছাড়া, লোহিত সাগরে উত্তেজনা বাড়লে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। পাকিস্তানের জ্বালানি আমদানির জন্য এই নৌপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অবসরপ্রাপ্ত পাকিস্তানি জেনারেল গুলাম মুস্তাফা বলেন, ‘আপাতত পাকিস্তান সব পক্ষকে শান্ত রাখার চেষ্টা করছে। তবে হুথিরা যদি সৌদি আরবের আরো গভীরে হামলা সম্প্রসারণ করে, তাহলে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে।’

ইরানের অভ্যন্তরীণ বিভাজনেও উদ্বেগ

দুই পাকিস্তানি সরকারি কর্মকর্তার মতে, ইরানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) মধ্যে মতপার্থক্য গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ইসলামাবাদ।

তাদের দাবি, দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের অবস্থানের সঙ্গে আইআরজিসির অবস্থানের পার্থক্য ক্রমেই বাড়ছে।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক মুহাম্মদ আলী বলেন, ‘ইরানে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সামরিক বাহিনীর প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে এবং ইসলামাবাদ তা উপলব্ধি করছে।’

স্থগিত ইরানি প্রতিনিধিদলের সফর

সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে ইরানের একটি প্রতিনিধিদলের ইসলামাবাদ সফর কয়েকদিন পিছিয়ে যায় বলে জানায় পাকিস্তানি কর্মকর্তারা।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা নিয়েও আলোচনার জন্য ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দার মোমেনির নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি নির্ধারিত সময়ের দুই দিন পর গত বুধবার পাকিস্তানে পৌঁছায়। 

সংযমের আহ্বান পাকিস্তানের

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি বলেন, ইসলামাবাদ সব পক্ষকে ‘সর্বোচ্চ সংযম’ প্রদর্শনের আহ্বান জানাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘টেকসই সম্পৃক্ততা, সংলাপ ও কূটনীতির কোনো বিকল্প নেই।’

কঠিন ভারসাম্যের মুখে ইসলামাবাদ

একদিকে পাকিস্তান সৌদি আরবের ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা অংশীদার, অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কও বজায় রাখতে চায়।

হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক উত্তেজনায় পাকিস্তানের জ্বালানি সরবরাহও ব্যাহত হয়েছে। জ্বালানি সংকট এড়াতে দেশটির সরকার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আগেভাগে বন্ধসহ জরুরি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে বলে জানায় বিশ্লেষকরা।

পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতার পেছনে শুধু কূটনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর লক্ষ্য নয়, বরং জ্বালানি সরবরাহের পথ স্বাভাবিক রাখাও বড় উদ্দেশ্য। 

এ বিষয়ে এক কর্মকর্তা বলেন, ‘হতাশা রয়েছে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমরা মধ্যস্থতার উদ্যোগ থেকে সরে আসছি। এতে আমরা অনেক বিনিয়োগ করেছি এবং এটি সচল রাখার স্বার্থ আমাদের রয়েছে।’

তবে আরেকজন পাকিস্তানি সূত্র রয়টার্সকে বলেন, ‘যুদ্ধের অবসান সবার স্বার্থে। কিন্তু সৌদি আরব যদি আমাদের সহায়তা চায়, তাহলে আমরা অবশ্যই তাদের পাশে দাঁড়াব—এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।’