• ই-পেপার

চার ক্যাটাগরির যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বেড়েছে

কৃষক কার্ড কৃষকের অধিকার, কোনো বিশেষ শ্রেণির জন্য নয় : কৃষিমন্ত্রী

পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
কৃষক কার্ড কৃষকের অধিকার, কোনো বিশেষ শ্রেণির জন্য নয় : কৃষিমন্ত্রী
ছবি : কালের কণ্ঠ

কৃষক কার্ড কোনো বিশেষ শ্রেণির জন্য নয়, এটি দেশের প্রতিটি প্রকৃত কৃষকের অধিকার বলে জানিয়েছেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, ‘কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হবে। কৃষক কার্ড নিয়ে কেউ ভুল তথ্য দেবেন না। ভুল তথ্য দিলে কৃষক কার্ডের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি আইনি জটিলতায়ও পড়তে পারেন।’

শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের কালি মহাজন বাড়িতে দেশব্যাপী কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘সরকার কৃষিকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও লাভজনক খাতে রূপান্তর করতে কাজ করছে। কৃষকের সঠিক তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা গেলে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে সব ধরনের সরকারি সহায়তা, ভর্তুকি, প্রণোদনা ও জরুরি সহায়তা প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে দ্রুত পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। এজন্য তথ্য সংগ্রহে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘কৃষক কার্ডের মাধ্যমে দেশের কৃষকদের একটি জাতীয় ডাটাবেজ গড়ে তোলা হচ্ছে। এতে কৃষকের পরিচয়, জমির পরিমাণ, উৎপাদনের ধরন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। ভবিষ্যতে কৃষি নীতি প্রণয়ন ও সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনায় এই তথ্যভাণ্ডার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই কৃষক যেন উৎপাদন করে ন্যায্য মূল্য পান। কৃষক বাঁচলে কৃষি বাঁচবে, কৃষি বাঁচলে দেশের অর্থনীতি আরো শক্তিশালী হবে। কৃষক কার্ডে ভুল তথ্য দিলে সুবিধা হারাতে হবে কৃষকদের। আমাদের তিন বছরের এ প্রকল্পের আওতায় চলতি বছর আমরা ৪৩ লাখ কৃষকের মাঝে কৃষক কার্ড বিতরণ করব।’ 

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক এনাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মো. আব্দুর রহিম, চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, চট্টগ্রাম জেলার উপপরিচালক আপ্রু মারমা, পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন চন্দ্র দে, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. ইলিয়াছ, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা তপন কুমার রায়, পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হকসহ প্রমুখ।

সরেজমিনে মন্ত্রী তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পর্যেবক্ষণ করেন এবং দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের তথ্য যাচাই-বাছাইয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করে তাদের বিভিন্ন সমস্যা, উৎপাদন ব্যয়, বাজার ব্যবস্থা ও সরকারি সেবা প্রাপ্তির বিষয়েও খোঁজখবর নেন।

বন্যা মোকাবেলায় সরকারের কার্যক্রম

অনলাইন ডেস্ক
বন্যা মোকাবেলায় সরকারের কার্যক্রম
ছবি : রয়টার্স

দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস ও পাহাড়ধসসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের সর্বশেষ তথ্য জানিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়াধীন গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের জেলা ও উপজেলা তথ্য অফিস এবং তথ্য অধিদপ্তারের আঞ্চলিক অফিসগুলো থেকে পাঠানো প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। আজ শুক্রবার এক তথ্য বিবরণীতে এসব তথ্য তুলে ধরেছে মন্ত্রণালয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট এলাকার দপ্তর ও সংস্থাসমূহ চলমান আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস, পাহাড়ধস এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। জেলা তথ্য অফিস চট্টগ্রামের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী আবহাওয়ার পূর্বাভাসে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। আগামী ২-৩ দিন বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

এতে আরো বলা হয়েছে, ১২ জুলাই দুপুর ২টা থেকে রেল চলাচল স্বাভাবিক আছে। চট্টগ্রাম মহানগরসহ জেলার ১৫টি উপজেলা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। ছয়টি উপজেলায় (সাতকানিয়া, বাঁশখালী, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, বোমালখালী, সন্দ্বীপ) অধিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগরের ২৫টি ওয়ার্ডসহ বন্যায় প্লাবিত ১৭৬টি ইউনিয়নের মধ্যে অধিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৬৩টি ইউনিয়ন। এ ছাড়া আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত বসতবাড়ির সংখ্যা ৯২০৮টি, সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত বসতবাড়ির সংখ্যা ৬০২০টি, ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৪০৫টি, ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের দৈর্ঘ্য ১৫৯২ কিলোমিটার। ক্ষতিগ্রস্ত সেতু/কালভার্ট ১৬৯টি এবং মৃত ব্যক্তির সংখ্যা ১৬ জন।

এসব এলাকায় ১২০০ মেট্রিক টন চাল এবং নগদ ৯৫ লাখ টাকা ত্রাণ বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০৮০ মেট্রিকটন চাল, ৮৩.৭৫ লাখ টাকা এবং ৫৬১০০ প্যাকেট শুকনো খাবার ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত আছে বলে জানানো হয়েছে তথ্য বিবরণীতে।

জেলা তথ্য অফিস খাগড়াছড়ির সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী জেলায় এখন বৃষ্টি নেই এবং নতুন করে কোনো এলাকায় পাহাড়ধস/ভূমিধসের ঘটনা ঘটেনি। অধিকাংশ এলাকায় বন্যার পানি নেমে গেছে। বর্তমানে কোনো এলাকা প্লাবিত নেই। 
অধিক ক্ষতিগ্রস্ত বসতবাড়ির সংখ্যা ২৭৫টি এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ৭৬৬টি। তবে এখনো যাচাই কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, ফসলের মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমান ১১২০,৯৮০ লাখ টাকা এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা ৭ হাজার ৩৪৪ জন। মৎস্য খাতে মোট ক্ষতির পরিমাণ ৬৫১ লাখ টাকা। প্রাপ্ত ত্রাণ ১৫০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, ৪০০ টন চাল, ৪০ লাখ টাকা, ৪৬ বান্ডিল ঢেউটিন। মজুদকৃত ত্রাণের পরিমাণ ১০০ টন চাল, ৯,৫০,০০০ টাকা এবং ৪৬ বান্ডিল। 
খাগড়াছড়িতে ভারি বৃষ্টির প্রথম থেকেই পাহাড়ধস বন্যা এবং বন্যা-পরবর্তী করণীয় বিষয়ে সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার অব্যাহত রয়েছে। জেলা তথ্য অফিস, কক্সবাজারের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন করে কোনো এলাকায় পাহাড়ধস/ভূমিধসের ঘটনা ঘটেনি। অধিক ক্ষতিগ্রস্ত বসতবাড়ির সংখ্যা ২৪৭৫টি এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ৫৭৭৩টি। 
কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৮০ কোটি টাকা। মৎস্য খাতে মোট ক্ষতির পরিমাণ ৪৬ কোটি ২২ লাখ টাকা। জেলায় ৬৪০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। প্রাপ্ত ত্রাণ ৪৪৫ টন চাল, ৪৯.৫০ লাখ টাকা।

জেলা তথ্য অফিস, কক্সবাজারের কর্তৃক ভারি বৃষ্টির প্রথম থেকেই পাহাড়ধস বন্যা এবং বন্যা-পরবর্তী করণীয় বিষয়ে সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার ও মাইকিং অব্যাহত রয়েছে।

জেলা তথ্য অফিস হবিগঞ্জের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী হবিগঞ্জ সদর, বাহবল ও বানিয়াচং উপজেলাসহ মোট তিনটি উপজেলা খোয়াই নদী ভাঙনে আকস্মিক বন্যায় প্লাবিত হওয়ায় ৪ হাজার ৫৫০টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। বর্তমানে বৃষ্টি কম হওয়ায় প্লাবিত এলাকায় পানি কমতে শুরু করেছে।

জেলা তথ্য অফিস মৌলভীবাজার সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী মৌলভীবাজার সদর, রাজনগর উপজেলায় ১২টি ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। সরকারের গৃহীত কার্যক্রমসমূহ-বন্যার্তদের জন্য ছয়টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ৭৫০০০০ টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

জেলা তথ্য অফিস বান্দরবান থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী বর্তমানে দুর্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ২০ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। জেলা তথ্য অফিস, বান্দরবান কর্তৃক ভারি বৃষ্টির প্রথম থেকেই পাহাড়ধস বন্যা এবং বন্যা পরবর্তী করণীয় বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচার ও চলচ্চিত্র প্রদর্শন অব্যাহত রয়েছে।

জাতিসংঘে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী

অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জলবায়ু সহনশীল নগর উন্নয়নে বাংলাদেশের অঙ্গীকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জলবায়ু সহনশীল নগর উন্নয়নে বাংলাদেশের অঙ্গীকার

অন্তর্ভুক্তিমূলক, সাশ্রয়ী, জলবায়ু সহনশীল ও টেকসই নগর গড়ে তুলতে বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহাম্মদ সোহেল মনজুর। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে নিউ আরবান এজেন্ডার মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনা বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিকল্পিত নগরায়ণ, সাশ্রয়ী আবাসন এবং সুষম আঞ্চলিক উন্নয়ন বাংলাদেশের জাতীয় উন্নয়ন কৌশলের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। দেশের নগরায়ণকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

আহাম্মদ সোহেল মনজুর জানান, প্রধানমন্ত্রীর ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির আওতায় সরকার সাশ্রয়ী আবাসন সম্প্রসারণ, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালীকরণ এবং টেকসই নগর অবকাঠামো উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এসব উদ্যোগ নিউ আরবান এজেন্ডা ও টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ভবিষ্যৎমুখী নগর উন্নয়ন কৌশলের অংশ হিসেবে সমন্বিত স্থানীয় পরিকল্পনা, ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা, উদ্ভাবনী নগর অর্থায়ন, সুষম আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং জলবায়ু সহনশীল নগর অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারের গুরুত্বারোপের কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।

আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার, প্রযুক্তি হস্তান্তর, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উদ্ভাবনী অর্থায়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, টেকসই নগর উন্নয়নের মাধ্যমে এমন একটি ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে কোনো মানুষ বা কোনো অঞ্চল পিছিয়ে থাকবে না।

মহাসড়কে বর্জ্য ফেলতে গিয়ে ধরা পরিচ্ছন্নতাকর্মী, সাময়িক বরখাস্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
মহাসড়কে বর্জ্য ফেলতে গিয়ে ধরা পরিচ্ছন্নতাকর্মী, সাময়িক বরখাস্ত

ঢাকার আমিনবাজার-হেমায়েতপুর মহাসড়কের পাশে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বর্জ্য ফেলতে গিয়ে কয়েকজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী জেলা প্রশাসকের আকস্মিক পরিদর্শনে হাতেনাতে ধরা পড়েছেন। ঘটনাস্থলেই তাদের সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে মহাসড়কের পাশে বর্জ্য ফেলা সম্পূর্ণ বন্ধ করে সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম আমিনবাজার-হেমায়েতপুর মহাসড়কসংলগ্ন পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম পরিদর্শনে গেলে এ ঘটনা ধরা পড়ে।

এর আগে মহাসড়কের পাশে কোনো অবস্থাতেই বর্জ্য না ফেলার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের একাধিকবার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হলেও তা অমান্য করে বর্জ্য ফেলতে দেখা যায় কয়েকজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে।

ঘটনাস্থলেই জেলা প্রশাসক অভিযুক্তদের তীব্র ভর্ৎসনা করেন এবং তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেন।

পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, ‘মহাসড়কের পাশে কোনোভাবেই বর্জ্য ফেলা যাবে না। এ বিষয়ে আগেই স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তারপরও যারা নির্দেশ অমান্য করেছে, তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও জনস্বার্থের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।’

জেলা প্রশাসন জানায়, পরিবেশ দূষণ রোধ, দুর্গন্ধমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে মহাসড়ক ও জনবহুল এলাকায় অবৈধভাবে বর্জ্য ফেলা বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই দশক ধরে অব্যবস্থাপনা, দুর্গন্ধ ও পরিবেশ দূষণের কারণে ভোগান্তিতে থাকা আমিনবাজার থেকে হেমায়েতপুর পর্যন্ত মহাসড়ককে পরিচ্ছন্ন, দুর্গন্ধমুক্ত ও দৃষ্টিনন্দন করতে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।

এই কর্মসূচির আওতায় মহাসড়কের দুই পাশে বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা ও অবৈধভাবে ফেলা বর্জ্য অপসারণ করে নির্ধারিত ল্যান্ডফিলে স্থানান্তর করা হচ্ছে। পাশাপাশি রাস্তার দুই পাশে বালি ও মাটি দিয়ে ভরাট করে স্লোপ নির্মাণ করা হচ্ছে, যাতে বর্ষায় মাটি ক্ষয় রোধ করা যায়। সবুজায়নের অংশ হিসেবে রাস্তার দুই পাশে নিম, সুপারি ও নারিকেল গাছ রোপণ করা হবে। এছাড়া ভবিষ্যতে যাতে কেউ মহাসড়কের পাশে বর্জ্য ফেলতে না পারে, সে জন্য দুই পাশে উঁচু সুরক্ষা বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, মহাসড়ককে স্থায়ীভাবে পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব রাখতে নজরদারি আরো জোরদার করা হবে। এ ধরনের অনিয়মে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।