• ই-পেপার

‘পরীক্ষিত বন্ধু’, রক্তাক্ত ইতিহাস ও সুবিধাবাদের রাজনীতি

ফ্যাসিবাদী রাজনীতির অস্তিত্ব এ দেশের মানুষ আর মেনে নেবে না : গোলাম পরওয়ার

নরসিংদী প্রতিনিধি
ফ্যাসিবাদী রাজনীতির অস্তিত্ব এ দেশের মানুষ আর মেনে নেবে না : গোলাম পরওয়ার
নরসিংদীতে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত রুকন সম্মেলন বক্তব্য দিচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

জুলাই অভ্যুত্থানের পর ফ্যাসিবাদী রাজনীতির অস্তিত্ব এ দেশের মানুষ আর মেনে নেবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

আজ শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে নরসিংদীর শিশু একাডেমি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নরসিংদী জেলা আয়োজিত ‘সদস্য (রুকন) সম্মেলন-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জনগণ ফ্যাসিবাদকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তাই ফ্যাসিবাদী রাজনীতির আর কোনো স্থান এ দেশের মানুষ মেনে নেবে না।’ এ সময় তিনি রাষ্ট্র সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘গণভোটের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করে জনগণের মতামতের ভিত্তিতে একটি জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামী নরসিংদী জেলা শাখার সেক্রেটারি মো. ইব্রাহিম ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা অঞ্চলের পরিচালক সাইফুল আলম খান।

গাজীপুরে জামায়াতের ৩ দিনব্যাপী শিক্ষাশিবির শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
গাজীপুরে জামায়াতের ৩ দিনব্যাপী শিক্ষাশিবির শুরু
গাজীপুরে জামায়াতে ইসলামীর শিক্ষাশিবিরে কথা বলছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

গাজীপুরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে সংগঠনের জেলা ও মহানগরী সেক্রেটারি এবং সহকারী সেক্রেটারিদের অংশগ্রহণে ৩ দিনব্যাপী শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) শফিপুরে অবস্থিত স্থানীয় একটি হলে শুরু হওয়া এ শিক্ষাশিবির আগামী ১৮ জুলাই (শনিবার) পর্যন্ত চলবে। 

আজ ১৭ জুলাই (শুক্রবার) সকালে শিক্ষাশিবিরের দ্বিতীয় দিনের অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সাংগঠনিক দিকনির্দেশনামূলক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত শিক্ষাশিবিরে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য আবদুর রব, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানি ও ড. মাওলানা ছামিউল হক ফারুকি এবং গাজীপুর মহানগরী আমির অধ্যাপক মুহাম্মাদ জামাল উদ্দিনসহ অন্যান্য স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

শহিদ ওয়াসিমের ‘চলে আসুন ষোল শহরে’ আহ্বানেই জেগে উঠেছিল চট্টগ্রাম : নাছির

নিজস্ব প্রতিবেদক
শহিদ ওয়াসিমের ‘চলে আসুন ষোল শহরে’ আহ্বানেই জেগে উঠেছিল চট্টগ্রাম : নাছির
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে ‘জুলাই শহিদ দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দিচ্ছেনছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।

চট্টগ্রামের শহীদ ওয়াসিম আকরামের স্মৃতিচারণ করে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেছেন, ওয়াসিম আকরামের ফেসবুকে দেওয়া ‘চলে আসুন ১৬ শহরে’ আহ্বানই ছিল ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত লড়াইয়ের ডাক। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়েই চট্টগ্রামবাসী রাজপথে নেমে এসেছিল।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) চট্টগ্রামের ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে জুলাই শহিদ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

নাছির বলেন, ‘শহীদ ওয়াসিম আকরাম ১৬ জুলাইয়ের আগে তার ফেসবুকে লিখেছিলেন, ‘চলে আসুন ১৬ শহরে’। এটি ছিল শুধু একটি স্ট্যাটাস নয়, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের বিরুদ্ধে শেষ আহ্বান। তার এই বার্তা পুরো জাতিকে, বিশেষ করে চট্টগ্রামের মানুষকে রাজপথে নেমে আসতে উদ্বুদ্ধ করেছিল।’

তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার মধ্য দিয়ে। তার ভাষ্য, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের পরই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের, বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়।

নাছির বলেন, ‘ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, আন্দোলন দমাতে ছাত্রলীগই যথেষ্ট। ওই বক্তব্যের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা হয়। সেই হামলার প্রতিবাদে ছাত্রদল ১৬ জুলাই সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেয়। একই দিনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনও কর্মসূচি ঘোষণা করে।’

তিনি বলেন, ‘সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আবু সাঈদ শহীদ হন। এরপর আমাদের সহযোদ্ধা শহীদ ওয়াসিম আকরামও জীবন উৎসর্গ করেন। তাদের আত্মত্যাগ দেশের গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।’

জুলাই আন্দোলনের শহিদদের স্মরণ করে নাছির বলেন, ‘তাদের আত্মত্যাগ কখনও বৃথা যাবে না। নতুন প্রজন্মের কাছে জুলাইয়ের শহিদরা অন্যায়, দমন-পীড়ন ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে থাকবেন।’

কথার আগুনে ক্ষমতার প্রাসাদ ভেঙেছে, ইতিহাসের পাতায় কী আছে

অনলাইন ডেস্ক
কথার আগুনে ক্ষমতার প্রাসাদ ভেঙেছে, ইতিহাসের পাতায় কী আছে
প্রতীকী ছবি

রাজনীতির একটি অদ্ভুত ক্ষমতা আছে। সেটি হচ্ছে, অনেক সময় বড় কোনো ষড়যন্ত্র নয়, বরং ক্ষমতাসীনদের একটি অসাবধানী মন্তব্যই সরকারকে বড় ধরনের সংকটে ফেলে দিতে পারে। সমাজে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ক্ষোভ বা অসন্তোষকে বিস্ফোরণের পর্যায়ে নিয়ে যেতে কখনো কখনো একটি মাত্র বাক্যই যথেষ্ট হয়ে ওঠে।

ইতিহাস বলছে, কোনো একটি সমস্যা হয়তো বহুদিন ধরেই বিদ্যমান ছিল, কিন্তু একজন প্রভাবশালী রাজনীতিক বা রাষ্ট্রের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তার একটি বিতর্কিত মন্তব্য সেই সমস্যাকে নতুন মাত্রা দেয়। জনমনে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে, বিরোধীরা ইস্যু পেয়ে যায় এবং পরিস্থিতি দ্রুত রাজনৈতিক রূপ নিতে শুরু করে।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসেও এমন ঘটনার নজির রয়েছে। কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি মন্তব্য ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়। তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, ‘তাহলে কি শুধু রাজাকারের নাতি-নাতনিরাই সুযোগ পাবে?’ অনেক আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী এই বক্তব্যকে নিজেদের ‘রাজাকারের বংশধর’ হিসেবে আখ্যায়িত করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখেন। ফলে মূল দাবির গণ্ডি পেরিয়ে আন্দোলন আরো বিস্তৃত আকার ধারণ করে এবং জনসমর্থনও বাড়তে থাকে।

একইভাবে সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের একটি মন্তব্যও বিতর্কের জন্ম দেয়। পরীক্ষা নিয়ে উদ্বেগে থাকা শিক্ষার্থীরা তার ওই মন্তব্য ভালোভাবে নেয়নি। ফলে শিক্ষানীতির মূল আলোচনা আড়ালে চলে যায় এবং সমালোচকদের জন্য এটি নতুন রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়।

শুধু বাংলাদেশ নয়, প্রতিবেশী ভারতেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বেকার কিছু তরুণকে ‘তেলাপোকা’র সঙ্গে তুলনা করে মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। যদিও বক্তব্যের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করা হয়েছিল, তবু জনমনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছিল ওই উপমাটিই। কারণ সাধারণ মানুষ প্রায়ই ব্যাখ্যার চেয়ে অপমানজনক শব্দটিকেই বেশি মনে রাখেন।

ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণ করলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। জনগণ অনেক সময় কঠিন নিয়ম-নীতি, সরকারি সেবায় বিলম্ব কিংবা অজনপ্রিয় নীতিও মেনে নিতে পারে। কিন্তু তারা সহজে মেনে নেয় না এমন কোনো বক্তব্য, যা তাদের সম্মানবোধে আঘাত হানে।

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মূল ভিত্তিই হলো জনগণ রাষ্ট্রক্ষমতার প্রকৃত মালিক। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, মন্ত্রী কিংবা সরকারি কর্মকর্তারা জনগণের প্রতিনিধি এবং সাময়িকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন। তারা ক্ষমতার মালিক নন; বরং জনগণের দেওয়া দায়িত্বের রক্ষক।

এই বাস্তবতা মনে রেখে, সরকারি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সব সময় সংযত ভাষায় কথা বলা উচিত। কারণ তাদের প্রতিটি বক্তব্য কেবল ব্যক্তিগত মতামত হিসেবে নয়, রাষ্ট্রের অবস্থান হিসেবেও বিবেচিত হয়।

এ ক্ষেত্রে প্রত্যেক পদাধিকারী বা কর্মকর্তার ডেস্কে একটি ছোট নোট রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে, যেখানে লেখা থাকবে : ‘আপনার নিয়োগকর্তাকে (জনগণ) অপমান করবেন না।’

এ ধরনের ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শিক্ষা আছে, যা সরকার এবং বিরোধী দল উভয়েরই ভাবা উচিত। জনরোষই হলো রাজনৈতিক পুঁজি। ক্ষমতাসীনরা যদি ঔদ্ধত্য, অবহেলা কিংবা অসতর্ক মন্তব্যের মাধ্যমে জনগণের আস্থা হারান, তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে প্রতিপক্ষ কখনোই দেরি করে না। তারা সানন্দে তার সুফল ভোগ করবে। স্বার্থান্বেষী মহল, সুযোগসন্ধানীরা, শত্রুভাবাপন্ন বিদেশি শক্তি এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রতিদ্বন্দ্বীরা বরাবর ভালো করেই জানে কীভাবে আহত আত্মসম্মানকে রাজনৈতিক গতিতে রূপান্তরিত করতে হয়। একটিমাত্র ভুল একটি স্লোগানে পরিণত হতে পারে; একটি স্লোগান একটি আন্দোলনে রূপ নিতে পারে; আর সেই আন্দোলন দেশের রাজনীতির গতিপথও বদলে দিতে পারে।

এর অর্থ এই নয় যে রাজনৈতিক নেতাদের সব সময় পূর্বলিখিত বক্তৃতা দিতে হবে এবং লোক দেখানো ভদ্রতা প্রদর্শন করতে হবে। গণতন্ত্রে খোলামেলা ও স্পষ্ট আলোচনা অবশ্যই জরুরি। তবে স্পষ্টভাষিতা যেন কখনোই অবজ্ঞা, তাচ্ছিল্য বা অপমানের ভাষায় পরিণত না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।

রাষ্ট্রের উচ্চপর্যায় থেকে উচ্চারিত প্রতিটি শব্দের প্রভাব সুদূরপ্রসারী হয়। এর পরিণতি মাইক্রোফোনের সীমানা ছাড়িয়ে বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। একটি বক্তব্য যেমন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিকে শান্ত করতে পারে, তেমনি অসাবধানী মন্তব্য গোটা জাতিকে উসকেও দিতে পারে। তৈরি করতে পারে নতুন সংকট। বক্তব্য যেমন রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে পারে বা তেমনই দুর্বল করে দিতে পারে। সর্বোপরি, এসব বক্তব্য নাগরিকদের মনে এই বার্তাও দেয়- রাষ্ট্র তাদের সম্মান করে কি না।

তাই যেকোনো সরকারের জন্য জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হওয়া উচিত জনগণের মর্যাদা ও অনুভূতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন। কারণ অনেক সময় একটি মাত্র বাক্যই রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আমূল বদলে দিতে পারে।