১২০/০ থেকে ১৪১/৫—মাত্র ২১ রানের ব্যবধানে নেই ৫ উইকেট।
ম্যাচের এই ছোট্ট অংশটুকুই শুধু বাংলাদেশের পক্ষে ছিল না। বাকি অংশ সফরকারীরা এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করল যে, জিম্বাবুয়ে পাত্তাই পেল না।
বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাব মাঠে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে জিম্বাবুয়েকে অনায়াসে ৩৪ রানে হারিয়ে সিরিজে ১-১ সমতা আনল বাংলাদেশ।
আজ (১৭ জুলাই) টসে হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ৫ উইকেটে ১৮৭ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। জবাবে জিম্বাবুয়ে ২ বল বাকি থাকতে ১৫২ রানে গুটিয়ে যায়। দলে ফেরা রিশাদ হোসেন ২৬ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট, যা টি-টোয়েন্টিতে এই লেগ স্পিনারের ক্যারিয়ারসেরা বোলিং।
গত বুধবার (১৫ জুলাই) প্রথম টি-টোয়েটিতে ৩২ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ। আজ ৩৪ রানের জয়ে এল সমতা। ফলে আগামী রবিবার (১৯ জুলাই) শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ সিরিজ নির্ধারণীতে পরিণত হলো।
আগের ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ভালো করলেও আজ কী বুঝে যেন ফিল্ডিং নেন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজা।
প্রথম ম্যাচে লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের টপ অর্ডার ব্যর্থ হলেও আজ আগে ব্যাটিংয়ে নেমে তানজিদ হাসান ও সাইফ হাসান উড়ন্ত শুরু এনে দেন। দুই ওপেনারই ফিফটি করে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন।
তবে সিকান্দার রাজা ও রিচার্ড এনগারাভার দারুণ বোলিংয়ে হঠাৎই বাংলাদেশের ব্যাটিং ধস নামে। কিন্তু ষষ্ঠ উইকেটে ইয়াসির আলী রাব্বি ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন মাত্র ১৯ বলে ৪৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়লে জিম্বাবুয়েকে চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য ছুড়ে দিতে পারে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের ইনিংসের শেষ ওভার করতে আসেন ব্র্যাড ইভান্স। জিম্বাবুয়েন এই পেসারের প্রথম ৪ বলে ৪ ছক্কা মারেন সাইফউদ্দিন।
অবশ্য বাংলাদেশের ব্যাটারদের জ¦লে উঠতে জিম্বাবুয়েন ফিল্ডারদের ‘মাখন মাখানো হাতেরও’ অবদান আছে। একটি-দুটি নয়; আজ সাত-সাতটি ক্যাচ ছেড়েছে সিকান্দার রাজার দল।
বড় লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই শেখ মেহেদীর ঘূর্ণি ও নাহিদ রানার গতির কবলে পড়ে জিম্বাবুয়ে। পাওয়াপ্লেতেই প্রথম ৩ ব্যাটারকে হারিয়ে তারা ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়।
অভিজ্ঞ রাজার ২৮ ও রায়ান বার্লের ২৯ রান জিম্বাবুয়ের কোনো কাজে আসেনি। আরো ভয়ংকর হয়ে ওঠার আগেই এ দুজনকে ফেরান রিশাদ হোসেন। এই দুজন ছাড়াও আরো দুটি শিকার ধরেন রিশাদ।
এক পর্যায়ে ১০৯ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে ফেলে জিম্বাবুয়ে। এরপর রিচার্ড এনগারাভা ও ব্র্যাড ইভান্সের ৪০ রানের জুটি পরাজয়ের ব্যবধান কমিয়েছে মাত্র।
সিরিজে সমতা ফেরালেও বাংলাদেশের জন্য দুশ্চিন্তা বয়ে এনেছে নাহিদ রানার চোট। আলোচিত এই ফাস্ট বোলার নিজের তৃতীয় ওভার করতে এসে পেশিতে টান পড়লে অস্বস্তি নিয়ে মাঠ ছাড়েন। রবিবার সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে নাহিদ খেলতে পারবেন কি না, তা এখনো জানা যায়নি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ : ২০ ওভারে ১৮৬/৫ (তানজিদ ৫৮, সাইফ ৫৫, সাইফউদ্দিন ৩১*, ইয়াসির ২২*; এনগারাভা ২/২৩, ইভান্স ২/৬৫, রাজা ১/২০)।
জিম্বাবুয়ে : ১৯.৪ ওভারে ১৫২ অলআউট (বার্ল ২৯, রাজা ২৮, ইভান্স ২৫; রিশাদ ৪/২৬, মেহেদী ৩/২৪, সাইফ ১/৪)।
ফল : বাংলাদেশ ৩৪ রানে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ : মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন (বাংলাদেশ)।
সিরিজ : ৩ ম্যাচের সিরিজে ১-১ সমতা।




