• ই-পেপার

ঢাবিতে জুলাই বিপ্লববিষয়ক দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলন ১৯ জুলাই

জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবিতে ঢাবিতে ছাত্রশক্তির কফিন মিছিল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবিতে ঢাবিতে ছাত্রশক্তির কফিন মিছিল
জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তির কফিন মিছিল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবিতে সংহতি সমাবেশ ও কফিন মিছিল করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি। শুক্রবার (১৭ জুলাই) জুমার নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে থেকে শুরু হয়ে রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে শেষ হয় এই মিছিল। পরে সেখানে আয়োজিত সমাবেশে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতারা অংশ নিয়ে বিগত সরকারের আমলের গণহত্যার বিচার এবং আওয়ামী লীগের দোসরদের শাস্তির দাবি জানান।

সমাবেশে জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান বলেন, ‘নানা রকমের মতের পার্থক্য, নানা রকমের আদর্শের পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ শেখ হাসিনা এবং জুলাইয়ের গণহত্যার বিচারের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ আছে। আমাদের মধ্যে বিভিন্ন রকমের আদর্শিক ভেদাভেদ থাকতে পারে, কিন্তু জুলাইয়ের গণহত্যার বিচারের দাবিতে আমরা এক আছি আজকের এই সমাবেশে সেটা প্রমাণিত হয়েছে। আমরা শুনতে পেরেছি হাসিনা নাকি ডিসেম্বরে দেশে আসতে চায়। আমরা বলি, ডিসেম্বরে পাকিস্তান আত্মসমর্পণ করেছিল; সেই ডিসেম্বরে পাকিস্তানিদের দোসর শেখ হাসিনাকেও বাংলাদেশে আত্মসমর্পণ করতে হবে।’

২০২৪ সালের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘এই কফিন মিছিল হয়েছিল ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই। আমাদের ওপরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির মদদে পুলিশ, র‍্যাব এবং বিজিবির যৌথবাহিনী হামলা করেছিল। আমরা সেদিন কফিন মিছিল শেষ করতে পারিনি। আমরা দেখেছি সেই ভিসিসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষকদের বিচার হয়নি। আমরা তীব্র নিন্দা জানাই, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীলদলপন্থী সব শিক্ষককে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।’

সমাবেশে ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন বলেন, ‘এই জুলাই-আগস্টে যারা আমাদের মুক্তিকামী ছাত্র-জনতার ওপর নির্মম নির্যাতন চালিয়েছে, গুলি চালিয়ে হাজার হাজার ছাত্র-জনতাকে শহীদ করেছে, তাদের বিচার অনতিবিলম্বে নিশ্চিত করতে হবে। শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ ওয়াসিম, মুগ্ধ, শহীদ রাফিসহ যারা আমাদেরকে এই গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের পথ দেখিয়ে দিয়েছে, সেই গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখতে ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে আমরা সব ছাত্রসমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে আজকের এই দিনে ঐতিহাসিক ১৭ জুলাই এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যে সন্ত্রাসী সংগঠনকে আমরা বিতাড়িত করেছিলাম, সেই সন্ত্রাসী সংগঠনের বিরুদ্ধে আমরা এদেশের গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখতে আগামী দিনে আমাদের লড়াই সংগ্রাম আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে চালিয়ে যাব।’

ছাত্রশক্তির ঢাবি শাখার সভাপতি তাহমীদ আল মুদ্দাসসীর বলেন, ‘সংসদে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বারবার নিজেদের জুলাই এর পক্ষ শক্তি হিসাবে হাজির করলেও আমরা দেখতে পাই তাদেরই পাশে বসে থাকা সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান ও নীলুফার চৌধুরী টকশোতে বসে জুলাইকে মেটিকুলাস ডিজাইন ও ষড়যন্ত্র হিসাবে আখ্যা দেয়। আমি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ বলতে চাই আপনি যদি জুলাইয়ের পক্ষশক্তি হয়ে থাকেন তবে আপনার পাশে বসে থাকা এসব কুলাঙ্গারকে শায়েস্তা করতে হবে।’

সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন জাতীয় ছাত্রশক্তি, ছাত্র অধিকার পরিষদ, ইসলামী ছাত্রশিবির এবং ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।

জাককানইবি নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়া কাজ করছেন শ্রমিকরা, বিভিন্ন সময় নিহত ৩

জাককানইবি প্রতিনিধি
জাককানইবি নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়া কাজ করছেন শ্রমিকরা, বিভিন্ন সময় নিহত ৩
ছবি: কালের কণ্ঠ

ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশ কয়েকটি ১০ তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মিত হচ্ছে, যেখানে কোনোরকম নিরাপত্তা ছাড়াই কাজ করে যাচ্ছেন শ্রমিকেরা। বিভিন্ন সময়ে আহত এবং নিহত হয়েছেন একাধিক নির্মাণ শ্রমিক। অথচ প্রকল্পের সাইটে দেখা যায় প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে কোনোরকম নিরাপত্তা ছাড়াই কয়েক শ ফুট উঁচুতে ঝুলে ঝুলে কাজ করছেন শ্রমিকরা।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ১০ তলা ইউটিলিটি ভবন-৪ এ স্যানিটারি কাজ করার সময় পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন নির্মাণশ্রমিক রাসেল। সহকর্মীরা তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সে করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। নিহত রাসেল চাঁদপুর থেকে কাজে এসেছিলেন এই প্রকল্পের শ্রমিক হিসেবে।

এর আগে গত বছরের ২২ মার্চ নির্মাণাধীন একটি ১০ তলা ভবন থেকে পড়ে মারা যান রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বাসিন্দা নির্মাণশ্রমিক মো. ইব্রাহিম। সহকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রোজা অবস্থায় কাজ শেষে নিচে নামার সময় ভবনের ফাঁকা অংশের পাশে দাঁড়ালে মাথা ঘুরে নিচে পড়ে যান তিনি। পরে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ওই সময় শ্রমিকরা অভিযোগ করেছিলেন, বারবার দাবি জানানো সত্ত্বেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম সরবরাহ করেনি।

এরও আগে ২০১৯ সালের ১৫ মে নির্মাণাধীন তৎকালীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (বর্তমান বিদ্রোহী হল) ছাত্র হলের ১০ তলা ভবনের অষ্টম তলায় কাজ করার সময় নিচে পড়ে মারা যান ২০ বছর বয়সী নির্মাণশ্রমিক হাসান। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। ওই ঘটনাতেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। তবে সেই রিপোর্ট আর কোনোদিন প্রকাশ্যে আসেনি।

শুধু মৃত্যুই নয়, ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন একটি ছাত্র হলের বারান্দার ছাদ ধসে অন্তত ১০ নির্মাণশ্রমিক আহত হন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ছিল, ঢালাইয়ের সময় দুর্বল সাপোর্ট ব্যবহার করায় ছাদটি ধসে পড়তে পারে।

এ ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করলেও সেই তদন্তের প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন হয়েছে কি না, তাও স্পষ্ট নয়। ফলে এক বছরের ব্যবধানে আবারও প্রাণহানির ঘটনা ঘটায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সময়ে ঘটে যাওয়া এসব দুর্ঘটনার পর প্রতিবারই তদন্তের ঘোষণা দেওয়া হলেও নির্মাণশ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, নিরাপত্তা সরঞ্জামের বাধ্যতামূলক ব্যবহার এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা নিয়ে কার্যকর কোন পদক্ষেপ চোখে পড়ে না বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড ও বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী, ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামের ক্ষেত্রে প্রতিটি নির্মাণস্থলে শ্রমিকদের জন্য হেলমেট, সেফটি বুট, গ্লাভস, গগলস এবং মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক এবং উচ্চতায় (২ মিটারের বেশি) কাজ করার সময় শ্রমিকদের সুরক্ষা বেল্ট পরা নিশ্চিত করতেও বলা হয়েছে। এছাড়া কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা ও ভারসম্য রক্ষায় মাচা নির্মাণের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ও মজবুত উপকরণ ব্যবহার করা ও তা নিয়মিত পরিদর্শন করতে বলা হয়েছে এবং উন্মুক্ত ছাদ, লিফট ও সিঁড়ির আশেপাশে নিরাপত্তা রেলিং ও সতর্কতামূলক জাল রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আইনে আরও বলা হয়েছে, কর্মস্থলে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে মালিকপক্ষ শ্রমিকের ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসার খরচ বহন করতে আইনত বাধ্য।

এনএস এন্টারপ্রাইজের দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যানেজার ওয়াশিম বলেন, ‘আমরা শ্রমিকদের সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা করেছি। ভবনের কাজ প্রায় শেষ হওয়ায় যারা ভবনের ভেতরে কাজ করছেন, তারা সেফটি বেল্ট ব্যবহার করছেন না। তবে যারা উঁচু স্থানে কাজ করছেন, তারা সেফটি বেল্ট পরেই কাজ করছেন।’

সম্প্রতি শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনার পর নির্মাণাধীন ১০ তলা ইউটিলিটি ভবন-৪ এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান খান এন্ড সন্স বিডি লিমিটেডের ইঞ্জিনিয়ার জসিম বলেন, ‘যে ছেলেটি মারা গেছেন,তিনি কাজে যাওয়ার আগে তাকে সেফটি বেল্ড দেওয়া হয়েছে এবং তার সাথে যে হেলপার আছে তাকেও সেফটি বেল্ড দেওয়া হয়েছে। যিনি মারা গেছেন তিনি সেই বেল্ড পরেনি তার হেলপারকে বলেছে বেল্ড পড়া লাগবে না কোন সমস্যা নাই। এইসব বিষয়ে জানা গেছে হেলপারের মুখ থেকে।’

বক্তব্যের সত্যতা যাচাইয়ের স্বার্থে সেই হেলপারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলে তারা কোনো সহায়তা করেনি।

প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী সৈয়দ মোফাছিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের ইঞ্জিনিয়ার অফিস আছে। ওরা নিয়মিত এসব দেখভাল করে। আমরা প্রকল্প পরিচালক অফিস সবসময় যেতে পারি না। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিরাপত্তা মানতে নির্দেশনা দেওয়া আছে। এখানে আরেকটা বিষয় শ্রমিকরা নিজেরাও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কাজে যেতে চান না।’

এ নিয়ে প্রকৌশল দপ্তরে যোগাযোগ করলেও কোনো উপ-পরিচালকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 

পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দপ্তরের পরিচালক প্রকৌশলী মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘তারা প্রতিবেদন দিলে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো। আমাদের বাংলাদেশে যে ইন্সুরেন্স পলিসি আছে সেখানে মারা গেলে নির্ধারিত এক লক্ষ টাকা দেওয়া হয়। এক লক্ষ টাকায় কি কোনো জায়গায় সমাধান হয়? সেখানে তাদের ফ্যামিলির দায়িত্বটা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকেই নিতে হয়, যেকোনো কন্ডাকটরের কাজ করেছে তাকেই নিতে হবে দায়িত্ব। তাকে চাপ দেওয়া হয়েছে, কত টাকা কিংবা কি করে সমাধান করবে সেটা তাকেই বলা হয়েছে।’

বর্ষা উদযাপনে চারুকলায় ‘ঘনঘটা-২’ অনুষ্ঠিত

অনলাইন ডেস্ক
বর্ষা উদযাপনে চারুকলায় ‘ঘনঘটা-২’ অনুষ্ঠিত
সংগৃহীত ছবি

বর্ষা উদযাপনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে নৃত্যানুষ্ঠান ‘ঘনঘটা ২’।

শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে অর্থী আহমেদ ড্যান্স একাডেমির উদ্যোগে শুরু হওয়া ৯০ মিনিটের এই আয়োজনে তিন শতাধিক নৃত্যশিল্পী অংশ নেয়।

বর্ষার আবহ ও বাংলা সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে পরিবেশিত নৃত্যানুষ্ঠান উপভোগ করেন বিপুলসংখ্যক দর্শক।

অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল সামাজিক উদ্যোগ। নৃত্যানুষ্ঠানের পাশাপাশি জাগো ফাউন্ডেশনের দুটি ভ্রাম্যমাণ বুথে পার্বত্য চট্টগ্রামের বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য সহায়তা সংগ্রহ করা হয়। দর্শনার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ওই বুথে আর্থিক সহায়তা করেন।

আয়োজকরা জানান, এবারের ‘ঘনঘটা-২’ এ তিন বছর থেকে ৭০ বছর বয়সী নৃত্যশিল্পীরা অংশ নেন। বর্ষার সৌন্দর্য, সংস্কৃতি এবং মানবিকতার বার্তা একসঙ্গে তুলে ধরতেই এই আয়োজন করা হয়েছে।

অবশেষে ৪৭তম বিসিএসের সংশোধিত ফলে শেকৃবির ১৩ শিক্ষার্থী সুপারিশপ্রাপ্ত

অনলাইন ডেস্ক
অবশেষে ৪৭তম বিসিএসের সংশোধিত ফলে শেকৃবির ১৩ শিক্ষার্থী সুপারিশপ্রাপ্ত
সংগৃহীত ছবি

ক্যাডার বঞ্চিতের অভিযোগ তুলে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীদের টানা ১২ দিনের আন্দোলনের পর ৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফলে সংশোধন এনেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি)। এতে লাইভস্টক ক্যাডারে নতুন করে ১৪ প্রার্থীকে সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ জনই শেকৃবি এনিম্যাল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন (এএসভিএম) অনুষদের শিক্ষার্থী।

বৃহস্পতিবার পিএসসির প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সংশোধিত ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

সংশোধিত ফলাফলে দেখা যায়, লাইভস্টক ক্যাডারে মেধাতালিকার প্রথম দশজনের মধ্যে তিনজনই শেকৃবির শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে আহসান হাবিব সজিব প্রথম স্থান অর্জন করেছেন। এ ছাড়া শেকৃবির আরো দুই শিক্ষার্থী চতুর্থ ও দশম স্থান অধিকার করেছেন। একই সঙ্গে ১৫তম স্থানেও রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির এক শিক্ষার্থী।

এর আগে ৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর এএসভিএম অনুষদের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১৮ জন শিক্ষার্থীর একজনও লাইভস্টক ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হননি। অথচ ওই বিসিএসে লাইভস্টক ক্যাডারে শূন্যপদের সংখ্যা ছিল ৭১টি। এমন ফলাফলকে অস্বাভাবিক উল্লেখ করে শুরু থেকেই শিক্ষার্থীরা এটিকে কারিগরি ত্রুটি বা কোড-সংক্রান্ত জটিলতার ফল বলে দাবি করে আসছিলেন।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফলাফল পুনর্মূল্যায়ন ও তদন্তের দাবি জানান শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরবর্তী সময়ে ফলাফল সংশোধনের দাবিতে চার দফা দাবিতে গত ৫ জুলাই থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে টানা আন্দোলন শুরু করেন এএসভিএম অনুষদের শিক্ষার্থীরা।

অবশেষে পিএসসির সংশোধিত ফলাফলে নতুন করে ১৪ জনকে লাইভস্টক ক্যাডারে সুপারিশ করা হয়, যার মধ্যে ১৩ জনই শেকৃবির শিক্ষার্থী। সংশোধিত এ ফলাফলকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাদের দীর্ঘদিনের দাবির যৌক্তিকতার স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন।