ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবিতে সংহতি সমাবেশ ও কফিন মিছিল করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি। শুক্রবার (১৭ জুলাই) জুমার নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে থেকে শুরু হয়ে রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে শেষ হয় এই মিছিল। পরে সেখানে আয়োজিত সমাবেশে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতারা অংশ নিয়ে বিগত সরকারের আমলের গণহত্যার বিচার এবং আওয়ামী লীগের দোসরদের শাস্তির দাবি জানান।
সমাবেশে জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান বলেন, ‘নানা রকমের মতের পার্থক্য, নানা রকমের আদর্শের পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ শেখ হাসিনা এবং জুলাইয়ের গণহত্যার বিচারের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ আছে। আমাদের মধ্যে বিভিন্ন রকমের আদর্শিক ভেদাভেদ থাকতে পারে, কিন্তু জুলাইয়ের গণহত্যার বিচারের দাবিতে আমরা এক আছি আজকের এই সমাবেশে সেটা প্রমাণিত হয়েছে। আমরা শুনতে পেরেছি হাসিনা নাকি ডিসেম্বরে দেশে আসতে চায়। আমরা বলি, ডিসেম্বরে পাকিস্তান আত্মসমর্পণ করেছিল; সেই ডিসেম্বরে পাকিস্তানিদের দোসর শেখ হাসিনাকেও বাংলাদেশে আত্মসমর্পণ করতে হবে।’
২০২৪ সালের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘এই কফিন মিছিল হয়েছিল ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই। আমাদের ওপরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির মদদে পুলিশ, র্যাব এবং বিজিবির যৌথবাহিনী হামলা করেছিল। আমরা সেদিন কফিন মিছিল শেষ করতে পারিনি। আমরা দেখেছি সেই ভিসিসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষকদের বিচার হয়নি। আমরা তীব্র নিন্দা জানাই, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীলদলপন্থী সব শিক্ষককে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।’
সমাবেশে ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন বলেন, ‘এই জুলাই-আগস্টে যারা আমাদের মুক্তিকামী ছাত্র-জনতার ওপর নির্মম নির্যাতন চালিয়েছে, গুলি চালিয়ে হাজার হাজার ছাত্র-জনতাকে শহীদ করেছে, তাদের বিচার অনতিবিলম্বে নিশ্চিত করতে হবে। শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ ওয়াসিম, মুগ্ধ, শহীদ রাফিসহ যারা আমাদেরকে এই গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের পথ দেখিয়ে দিয়েছে, সেই গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখতে ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে আমরা সব ছাত্রসমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে আজকের এই দিনে ঐতিহাসিক ১৭ জুলাই এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যে সন্ত্রাসী সংগঠনকে আমরা বিতাড়িত করেছিলাম, সেই সন্ত্রাসী সংগঠনের বিরুদ্ধে আমরা এদেশের গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখতে আগামী দিনে আমাদের লড়াই সংগ্রাম আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে চালিয়ে যাব।’
ছাত্রশক্তির ঢাবি শাখার সভাপতি তাহমীদ আল মুদ্দাসসীর বলেন, ‘সংসদে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বারবার নিজেদের জুলাই এর পক্ষ শক্তি হিসাবে হাজির করলেও আমরা দেখতে পাই তাদেরই পাশে বসে থাকা সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান ও নীলুফার চৌধুরী টকশোতে বসে জুলাইকে মেটিকুলাস ডিজাইন ও ষড়যন্ত্র হিসাবে আখ্যা দেয়। আমি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ বলতে চাই আপনি যদি জুলাইয়ের পক্ষশক্তি হয়ে থাকেন তবে আপনার পাশে বসে থাকা এসব কুলাঙ্গারকে শায়েস্তা করতে হবে।’
সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন জাতীয় ছাত্রশক্তি, ছাত্র অধিকার পরিষদ, ইসলামী ছাত্রশিবির এবং ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।







