• ই-পেপার

সিরাজগঞ্জ ডিসি অফিসে রুফটপ সোলার উদ্বোধন করলেন বিদ্যুৎমন্ত্রী

টঙ্গীতে শিশু ধর্ষণকারীকে গ্রেপ্তারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর
টঙ্গীতে শিশু ধর্ষণকারীকে গ্রেপ্তারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ
শুক্রবার রাত ৮টায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গীর মিলগেট থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ।

গাজীপুরের টঙ্গীতে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা না নেওয়া ও আসামি গ্রেপ্তার না করায় পুলিশের গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় বিক্ষুব্ধ হয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেছে এলাকাবাসী। আজ শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাতে টঙ্গী মিলগেট এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, গত রবিবার (১২ জুলাই) সন্ধ্যার পরে মাছিমপুর জিন্নাত মহল্লা বস্তিতে  স্থানীয় বখাটে বিপ্লব মিয়া ৭ বছরের একটি শিশুকে ধর্ষণ করে। পরে কাউকে না জানাতে ভয়ভীতি দেখানো হয় শিশুটিকে। এক পর্যায়ে সোমবার দুপুরে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পরলে তার মায়ের কাছে ঘটনাটি খুলে বলে। পরে স্থানীয়রা অভিযুক্ত বিপ্লবকে আটক করে শিশুটির পরিবারকে থানায় পাঠায়।

এ ঘটনায় থানায় মামলা না নিয়ে স্থানীয়ভাবে আপস মিমাংসা করতে বলার অভিযোগ উঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। এরপর ঘটনাটি জানাজানি হলে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) থানা মামলা গ্রহণ করে। এই ঘটনায় বিক্ষুব্ধ হয়ে ভুক্তভোগীর পরিবারসহ এলাকাবাসী শুক্রবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে ৯ টায় মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এ সময় মহাসড়কের উভয়ের পাশে তীব্র যানজট দেখা দেয়।

ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বলেন, ‘স্থানীয় প্রভাবশালী সিমা ফারুক দম্পতির ইন্ধনে মামলা নেয়নি পুলিশ। তারা জনতার হাতে আটককৃত আসামি বিপ্লবকে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ধর্ষক বিপ্লব ও তার সহযোগীদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি। দ্রুত আসামি গ্রেপ্তার করে ফাঁসির দাবি করেন।

এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইমানুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ওসি ছুটিতে গেছেন। এই মামলার আসামি দ্রুততম সময়ে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

বাসায় ডেকে নিয়ে নারীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, জামায়াত নেতা আটক

অনলাইন ডেস্ক
বাসায় ডেকে নিয়ে নারীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, জামায়াত নেতা আটক

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে তাবিজের কথা বলে বাসায় ডেকে নিয়ে এক নারীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মোস্তাফিজুর রহমান মাহাবুব (৪৫) নামের এক জামায়াত নেতাকে আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) উপজেলার মাধবখালি ইউনিয়নের উত্তর চৈতা গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক মোস্তাফিজুর রহমান মাহাবুব মাধবখালী ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি ও উত্তর চৈতা গ্রামের মৃত জয়নাল মৌলভীর ছেলে।

জানা গেছে, বাড়ির পাশে তার একটি ফার্মেসির দোকান রয়েছে। তিনি পেশায় একজন পল্লী চিকিৎসক।

নারীর অভিযোগ, জামায়াত নেতা মোস্তাফিজুর তার ভাতিজার জন্য তাবিজ দেওয়ার কথা বলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পরে ঘরে এনে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমাকে এখনো কেউ জানায়নি। তবে অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মির্জাগঞ্জ থানার ওসি মো. তৌহিদুজ্জামান জানান, এ বিষয়ে ওই নারী বাদী হয়ে থানায় একটি ধর্ষণচেষ্টার মামলা দায়ের করেছেন। আসামি মোস্তাফিজুর রহমান মাহাবুবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বাবার মৃত্যুর পর প্যারোলে মুক্তি, জানাজা শেষে কারাগারে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা

নড়াইল প্রতিনিধি
বাবার মৃত্যুর পর প্যারোলে মুক্তি, জানাজা শেষে কারাগারে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা
নড়াইলে বাবার জানাজা শেষে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা জিসানকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

নড়াইলে কারাগার থেকে ৩ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বাবার জানাজা ও দাফনে অংশ নিয়েছেন মো. জিসানুর রহমান জিসান (৩৩) নামে স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতা। তিনি নড়াইল সদর উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক। একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে আছেন তিনি। 

শুক্রবার (১৭ জুলাই) সদর উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের যদুনাথপুর গ্রামের নিজ বাড়ির পাশের একটি মাঠে বাবার জানাজায় অংশ নেন জিসান। মো. জিসানুর রহমান জিসান সদর উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ভাঙচুর ও মারধর মামলায় কারাগারে আছেন।

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যায় নড়াইল শহর থেকে উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের যদুনাথপুর গ্রামের নিজ বাড়ি ফিরছিলেন জিসানের বাবা টিপু মোল্যা। পথে সুম্ভডাঙ্গা গ্রামের নাজমুল কাজীর বাড়ির সামনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রাস্তার পাশে পড়ে যান টিপু মোল্যা। পরে স্থানীয়রা তাকে দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বাবার মৃত্যুর পর আইনি প্রক্রিয়ায় ছেলে জিসানকে কারাগার থেকে বেলা সাড়ে ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ৩ ঘণ্টার জন্য পেরোলে মুক্তি দেয় নড়াইল জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষ। পরে সদর থানা পুলিশের সহযোগিতায় জিসানের বাবার জানাজাসহ কর্মচন্দ্রপুর কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন শেষে আবারও কারাগারে পাঠানো হয় জিসানকে।

নড়াইল সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নড়াইল জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নিয়ে পুলিশ পাহারায় শুক্রবার দুপুরে তার বাবার জানাজায় জিসানকে নিয়ে যাওয়া হয়। জানাজা ও দাফন শেষে তাকে আবার কারা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ।

উল্লেখ্য, নড়াইল সদর উপজেলার সদ্য সাবেক সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু রায়হানের (৩৫) অফিসকক্ষে প্রবেশ করে ভাঙচুর, সরকারি কাজে বাধা দেওয়াসহ কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ এনে গত (২৮ জুন) মো. জিসানুর রহমানসহ অজ্ঞাত আরো ৪ থেকে পাঁচজনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় কারাগারে রয়েছেন জিসান।

সরকারি দপ্তরে ছাত্রদল নেতার হুমকির অভিযোগ, ইউএনওর ভিডিও বার্তা

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
সরকারি দপ্তরে ছাত্রদল নেতার হুমকির অভিযোগ, ইউএনওর ভিডিও বার্তা
গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফিয়া আমীন পাপ্পা। ছবি : কালের কণ্ঠ

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ে ঢুকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সতর্কতামূলক ভিডিও বার্তা দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফিয়া আমীন পাপ্পা। তবে এ ঘটনায় কোনো মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) না হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে ঘটনার প্রতিবাদ ও নিরাপত্তার দাবিতে পরদিন পিআইও কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে কর্মবিরতি পালন করেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এতে বিভিন্ন এলাকা থেকে সেবা নিতে আসা মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) গৌরীপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ে যান পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাইসুল ইসলাম রিশাদ। তিনি নিজের এলাকার একটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প ও সরকারি বরাদ্দ-সংক্রান্ত তথ্য জানতে চান। এ সময় অফিস সহকারীর সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়।

অফিস সহকারীর অভিযোগ, প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া দাপ্তরিক তথ্য দেওয়া সম্ভব নয় জানালে রিশাদ ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে যান। পরে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।

ঘটনার পরও দৃশ্যমান কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ায় বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে পিআইও কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মবিরতি পালন করেন এবং অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেন।

এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার ইউএনও আফিয়া আমীন পাপ্পা কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীকে তার কার্যালয়ে ডেকে ভিডিও বার্তা দেন। পরে সেটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। ভিডিও বার্তায় তিনি সরকারি কাজে বাধা দেওয়া ও সরকারি কর্মকর্তাদের হুমকি না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটলে ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ১৮৭ ও ১৮৮ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাইসুল ইসলাম রিশাদ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে হুমকি দেওয়া হয়নি। বরং এলাকার একটি সড়কের অনিয়ম এবং সরকারি সেলাই মেশিন বিতরণে অনিয়মের বিষয়ে জানতে তিনি পিআইও ও ইউএনও কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। এসব অনিয়ম তুলে ধরায় তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে ইউএনও আফিয়া আমীন পাপ্পা ভিডিও বার্তা দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে। এরপরও কেউ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন বা কাজে বাধা দিলে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তবে হুমকির অভিযোগে কোনো জিডি বা মামলা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ওই রকম পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি।’

কর্মচারীদের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।