• ই-পেপার

কাশিমপুর মহিলা কারাগার থেকে পালিয়ে গেলেন বন্দি

চট্টগ্রামে দারোয়ানকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ৭

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামে দারোয়ানকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ৭
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানার মনসুরাবাদ এলাকায় মো. সিদ্দিক (৭০) নামের এক দারোয়ানকে হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত সাত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলা দায়েরের চার ঘণ্টার মধ্যেই চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ এ তথ্য জানান।

নিহত মো. সিদ্দিক মনসুরাবাদ এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি স্থানীয় একটি গাড়ির গ্যারেজে দারোয়ান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— শেখ আহমেদ রুবেল (৩৫), মো. সাইফুল ইসলাম (২৭), মনিরুজ্জামান মামুন (২৮), মো. জামাল উদ্দিন মিজান (৪৫), মো. গোলাম রব্বানী (৫৫), মো. আবুল বাশার (৩৯) ও পেয়ার আহাম্মদ (৫৫)।

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ডবলমুরিং থানার মনসুরাবাদ এলাকার একটি গাড়ির গ্যারেজে প্রবেশ করে আসামিরা দারোয়ান মো. সিদ্দিকের ওপর হামলা চালান। তারা তাকে কিল-ঘুষি ও এলোপাতাড়ি মারধরের পাশাপাশি গ্যারেজে থাকা রিকশার চাকার লোহার রিং দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, হত্যার পর আসামিরা সিদ্দিকের মরদেহ গ্যারেজের ভেতরে থাকা একটি মিনি পিকআপে রেখে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মো. আসলাম শুক্রবার ডবলমুরিং থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আগ্রাবাদসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাত আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আসামিরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।

গণ-অভ্যুত্থানে গুলির নির্দেশ, ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ইউএনওকে বদলি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
গণ-অভ্যুত্থানে গুলির নির্দেশ, ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ইউএনওকে বদলি
ইউএনও রাফে মোহাম্মদ ছড়া। সংগৃহীত ছবি

কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাফে মোহাম্মদ ছড়াকে বদলি করা হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ নিয়োগ শাখা থেকে গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। তবে বদলির কারণ সম্পর্কে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

এর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ইউএনও রাফে মোহাম্মদ ছড়াকে নিয়ে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওকে কেন্দ্র করে অভিযোগ ওঠে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরা এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়ার ঘটনায় সম্পৃক্ত ছিলেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

তবে ইউএনও রাফে মোহাম্মদ ছড়া অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। স্থানীয় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ওই দিন তিনি দিনের বেলা নয়, রাতে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং তখন কোনো ধরনের গুলির ঘটনা ঘটেনি।

তিনি আরো দাবি করেন, অবৈধ বালু ব্যবসার সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।

বিপুল অস্ত্র-গোলাবারুদসহ ‘মিন্টু বাহিনীর’ প্রধান গ্রেপ্তার

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার
বিপুল অস্ত্র-গোলাবারুদসহ ‘মিন্টু বাহিনীর’ প্রধান গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

কক্সবাজারের মহেশখালীর গহীন পাহাড়ে গড়ে তোলা অবৈধ অস্ত্র তৈরির আস্তানায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। এ সময় কুখ্যাত ‘মিন্টু বাহিনীর’ প্রধান ইমাম হোসেন মিন্টুকে (৩৮) গ্রেপ্তার করা হয়।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের কেরুনতলী সংলগ্ন গহীন পাহাড়ে একটি সশস্ত্র চক্র গোপনে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। একই সঙ্গে চক্রটি অবৈধ অস্ত্র বেচাকেনা, জলদস্যুতা, পর্যটকদের ওপর হামলা, ডাকাতি এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছিল।

এ তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে কোস্ট গার্ড স্টেশন শাহপরী, টেকনাফ, বাহারছড়া, ইনানী, কক্সবাজার ও মহেশখালীর সমন্বয়ে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মিন্টু বাহিনীর আস্তানায় তল্লাশি চালিয়ে ইমাম হোসেন মিন্টুকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযানে পাঁচটি দেশীয় একনলা বন্দুক, নয়টি দেশীয় পিস্তল, একটি বিদেশি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ২০ রাউন্ড তাজা গুলি, ১২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, চার রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, একটি দেশীয় অস্ত্র, তিন লিটার দেশীয় মদ এবং আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

কোস্ট গার্ড জানায়, গ্রেপ্তার ইমাম হোসেন মিন্টু মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ‘মিন্টু বাহিনী’ নামে একটি সন্ত্রাসী চক্রের নেতৃত্ব দিয়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে ১৫টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে।

কোস্ট গার্ডের ভাষ্য, মিন্টুকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে অবৈধ অস্ত্র ব্যবসার একটি গুরুত্বপূর্ণ নেটওয়ার্কে আঘাত হানা সম্ভব হয়েছে। এসব অস্ত্র ব্যবহার করে মহেশখালীসহ দেশের পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলের জেলে ও লবণচাষীদের ভয়ভীতি দেখানো হতো। বাহিনীর অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরো জোরদার করা হয়েছে।

জব্দ করা অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য আলামত এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

আর্জেন্টিনার খেলা দেখতে গিয়ে নিখোঁজ, নদী থেকে উদ্ধার যুবকের লাশ

নেত্রকোণা প্রতিনিধি
আর্জেন্টিনার খেলা দেখতে গিয়ে নিখোঁজ, নদী থেকে উদ্ধার যুবকের লাশ
সংগৃহীত ছবি

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে আর্জেন্টিনার ফুটবল ম্যাচ দেখতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হওয়া আহাদ নূর (২৬) নামের এক যুবকের মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) ভোরে উপজেলার বার্তোকোনা এলাকার সাপমরা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত আহাদ নূর উপজেলার মাঘান মাইজহাটি গ্রামের কাঁচা মিয়ার ছেলে। তবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামে বসবাস করতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার দিবাগত রাতে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের ফুটবল খেলা দেখতে বাড়ি থেকে বের হন আহাদ নূর। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা দুই দিন ধরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে শুক্রবার ভোরে সাপমরা নদীতে একটি ভাসমান মরদেহের খবর পান। ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা মরদেহটি আহাদ নূরের বলে শনাক্ত করেন। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গভীর রাতে নদীর পাড়ে বসে মোবাইলে খেলা দেখার সময় অসাবধানতাবশত আহাদ নূর পানিতে পড়ে যান। তিনি সাঁতার জানতেন না। যে স্থান থেকে নদীতে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে, সেখান থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে তার মরদেহ উদ্ধার হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’