• ই-পেপার

নতুন নেতা নির্বাচিত হয়ে ৫ অঙ্গীকার করলেন অ্যান্ডি বার্নহাম

বিশ্ববাজারের সঙ্গে এবার তেলের দাম বাড়াল চীন

অনলাইন ডেস্ক
বিশ্ববাজারের সঙ্গে এবার তেলের দাম বাড়াল চীন
রয়টার্স ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক সপ্তাহে প্রায় ১২ শতাংশ বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে চীনের জ্বালানি বাজারেও। 

ফলে দেশটিতে আগামীকাল শনিবার থেকে প্রতি টন পেট্রোল ৩০০ ইউয়ান (প্রায় ৪৪.২৯ মার্কিন ডলার) এবং প্রতি টন ডিজেল ২৯০ ইউয়ানে (প্রায় ৪২.৮২ মার্কিন ডলার) বিক্রি করা হবে। এই ঘোষণা দিয়েছে দেশটির ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিফর্ম কমিশন (এনডিআরসি)।

চীনা বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তথ্যসেবা প্রতিষ্ঠান অয়েলকেমের প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক লিউ বিংজুয়ান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের পুনরায় উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের দাম অস্থিরভাবে বেড়েছে। মূল্য সমন্বয়ের আগের ১০ কার্যদিবসে গড় তেলের দাম আগের মূল্য নির্ধারণ চক্রের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল।

জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল প্রতিষ্ঠান চায়না ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (সিএনপিসি), সিনোপেক এবং চায়না ন্যাশনাল অফশোর অয়েল করপোরেশনকে (সিএনওওসি) উৎপাদন অব্যাহত রাখা এবং পরিবহন জোরদারের নির্দেশ দিয়েছে এনডিআরসি।

তবে জ্বালানির এই ঊর্ধ্বমুখী দাম শুধু চীনেই নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও ছড়িয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্র হওয়া এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় শুক্রবার অপরিশোধিত তেলের দাম এক মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। এতে সপ্তাহজুড়ে তেলের দাম প্রায় ১২ শতাংশ বেড়েছে, যা এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ সাপ্তাহিক বৃদ্ধি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রেও জ্বালানির দাম বাড়ছে। বাজার বিশ্লেষণা প্রতিষ্ঠান গ্যাসবাডির পেট্রোলিয়াম বিশ্লেষণ প্রধান প্যাট্রিক ডি হান জানিয়েছেন, দেশটিতে গড় পেট্রোলের দাম আবারও প্রতি গ্যালন ৪ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। একই সঙ্গে ডিজেলের জাতীয় গড় মূল্য প্রতি গ্যালন ৫ ডলারে উঠেছে।

তিনি আরও জানান, গতকাল (১৬ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তারা গত বছরের একই দিনের তুলনায় ৩০ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার বেশি ব্যয় করেছেন শুধুমাত্র পেট্রোল কেনার জন্য।

যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করতে চীনের নতুন ‘এআই জোট’

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করতে চীনের নতুন ‘এআই জোট’
ছবি : রয়টার্স

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করে বৈশ্বিক প্রভাব বিস্তারে নতুন কৌশল নিয়ে মাঠে নেমেছে চীন। বিশ্বের ২৯টি দেশ নিয়ে গঠিত ‘ওয়ার্ল্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (ওয়াইকো)’ নামের এই জোটের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে বেইজিং ।

সাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলনে (ডব্লিউএআইসি) চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছেন, এআই কোনো একক দেশের নিয়ন্ত্রণে থাকা উচিত নয়। এটি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও যৌথ উন্নয়নের ক্ষেত্র হওয়া প্রয়োজন।

শুক্রবার দেওয়া বক্তব্যে পরোক্ষভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে প্রযুক্তি খাতে অন্য দেশকে সীমাবদ্ধ করা উচিত নয়। তার মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়ন ও ব্যবহার আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া দরকার।

এর আগে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সাংহাইয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে ওয়াইকো। ২৯টি দেশ নিয়ে গঠিত এই জোটের সদর দপ্তর সাংহাইয়ে স্থাপন করা হয়েছে। জোটটিতে ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, সেনেগাল, রাশিয়া ও পাকিস্তানসহ গ্লোবাল সাউথভুক্ত বিভিন্ন দেশ অংশ নিয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্লেষকদের ধারণা, এই জোটের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এআই-সংক্রান্ত নীতিমালা ও আইন প্রণয়নে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করবে চীন। প্রযুক্তি খাতে নেতৃত্ব নিয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে। বিশেষ করে উন্নতমানের সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ প্রযুক্তিকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে, তা ‘চিপ যুদ্ধ’ নামে পরিচিত।

জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে চীনের কাছে উন্নত চিপ রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে চীনও চিপ উৎপাদনে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ বিরল খনিজ রপ্তানিতে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে।

উন্নত চিপ উৎপাদনে চীন এখনো কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও বৃহৎ ডাটা সেন্টার, বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা এবং খনিজ সম্পদের ক্ষেত্রে দেশটি উল্লেখযোগ্য সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। ফলে এআই খাতের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতায় চীনের অবস্থান শক্তিশালী হতে পারে।

কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের গভর্ন্যান্স বিশেষজ্ঞ অরিন্দ্রজিৎ বসু আলজাজিরাকে বলেন, বৈশ্বিক সাইবার ও এআই নীতি নির্ধারণে যুক্তরাষ্ট্র যখন তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে যাচ্ছে, তখন চীন সেই শূন্যস্থান কাজে লাগিয়ে নিজেদের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।

উন্নয়নশীল দেশগুলোর সমর্থন নিয়ে এআই শাসনব্যবস্থায় নতুন প্রভাব বলয় তৈরি করতে চায় বেইজিং। বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে প্রযুক্তি বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের প্রভাবের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে চলছে দমন-পীড়ন, জাতিসংঘের সতর্কতা

অনলাইন ডেস্ক
পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে চলছে দমন-পীড়ন, জাতিসংঘের সতর্কতা
ছবি : রয়টার্স

পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে (পিওজেকে) আসন্ন আইনসভা নির্বাচনের আগে বাড়তে থাকা অস্থিরতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। এ সময় সতর্ক করে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষকে সংযম প্রদর্শন, মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং সহিংসতার ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক। 

আগামী ২৭ জুলাই পিওজেকে আইনসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে চলমান বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের কারণে অঞ্চলটির পরিস্থিতি এখনো উত্তেজনাপূর্ণ রয়েছে। এ অবস্থায় শুক্রবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ভোটের আগে সবাইকে সংযমের আহ্বান জানিয়েছেন ভলকার তুর্ক।

জাতিসংঘের তথ্যমতে, জুন মাস থেকে চলমান বিক্ষোভে প্রতিবাদকারী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ কয়েক ডজন মানুষের প্রাণহানি হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এসব ঘটনার দ্রুত, পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করে তিনি বলেন, নিহত ব্যক্তি বিক্ষোভকারী হোন বা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য—দায়ীদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

এছাড়া জম্মু-কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটিকে (জেকেজেএএসি) সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় নিষিদ্ধ করার পাকিস্তানের সিদ্ধান্ত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভলকার তুর্ক।

ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক, শিক্ষার্থী, আইনজীবী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত এই সংগঠনটি চলমান আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে। জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টির অভিযোগে সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি এর কয়েকজন নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

জাতিসংঘের মতে, একটি নাগরিক সমাজভিত্তিক আন্দোলনকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা এবং জনসমাবেশের ওপর ব্যাপক বিধিনিষেধ আরোপ করা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ এবং সংগঠন গঠনের অধিকারের লঙ্ঘনের আশঙ্কা তৈরি করছে।

ভলকার তুর্ক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড মেনে আটক জেকেজেএএসি নেতাদের অবিলম্বে আইনজীবী ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, তাদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও ন্যায্য বিচারের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

অঞ্চলটির বিভিন্ন স্থানে ইন্টারনেট সেবা সীমিত করার সমালোচনা করে তিনি বলেন, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং তথ্য আদান-প্রদানের অধিকারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, বিশেষ করে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে। তাই পুরো অঞ্চলে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ ইন্টারনেট সেবা পুনরায় চালুর আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।

হাইড্রোজেন ট্রেন চালু করল ভারত

অনলাইন ডেস্ক
হাইড্রোজেন ট্রেন চালু করল ভারত
ছবি : রয়টার্স

পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব রেল যোগাযোগের নতুন যুগে পদার্পণ করল ভারত। নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি প্রথম হাইড্রোজেন ফুয়েল সেলচালিত ট্রেনের উদ্বোধন করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

এই উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে জার্মানি, জাপান, চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত দেশগুলোর পর এবার ভারতও রেল যোগাযোগে হাইড্রোজেন প্রযুক্তির এলিট ক্লাবে যোগ দিল। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উত্তর রেলওয়ের ৮৯ কিলোমিটার দীর্ঘ জিন্দ-সোনিপৎ রুটে চলাচলকারী ১০ কোচের এই ট্রেনটি বিশ্বের দীর্ঘতম ও সবচেয়ে শক্তিশালী হাইড্রোজেন ট্রেন।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বলছে, প্রথাগত ডিজেল ইঞ্জিনের সম্পূর্ণ বিপরীত ধারায় চলা এই হাইড্রোজেন ট্রেন কোনো ওভারহেড বৈদ্যুতিক তার ছাড়াই সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তিতে অনবোর্ড বিদ্যুৎ তৈরি করতে পারে। এই ব্যবস্থার কেন্দ্রে রয়েছে একটি ১ হাজার ২০০ কিলোওয়াটের প্রোটন এক্সচেঞ্জ মেমব্রেন ফুয়েল সেল, যা হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের মধ্যে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। 

ট্রেনের চালক বিদ্যুৎবাহী দুটি পাওয়ার কারের উচ্চ-চাপ সিলিন্ডারে সংকুচিত হাইড্রোজেন গ্যাস বহন করা হয়। এই হাইড্রোজেন যখন ফুয়েল সেলে প্রবেশ করে, তখন একটি প্ল্যাটিনাম অনুঘটকের সাহায্যে হাইড্রোজেনের প্রোটন ও ইলেকট্রন আলাদা হয়ে যায়।

ইলেকট্রনগুলো যখন একটি বাহ্যিক বৈদ্যুতিক সার্কিটের মধ্য দিয়ে যেতে বাধ্য হয়, তখনই বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয় এবং তা ট্রেনের ট্র্যাকশন মোটরকে সচল করে। একই সময়ে চারপাশের বাতাস থেকে নেওয়া অক্সিজেন হাইড্রোজেন প্রোটন ও ইলেকট্রনের সঙ্গে মিলিত হয়। এই সম্পূর্ণ তড়িৎ-রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় কোনো দহন বা ধোঁয়া তৈরি হয় না। 

ফলে ক্ষতিকারক কার্বন নির্গমনের পরিবর্তে উপজাত হিসেবে কেবল জলীয় বাষ্প ও তাপ নির্গত হয়, যা একে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম পরিচ্ছন্ন যোগাযোগ মাধ্যমে পরিণত করেছে। ফুয়েল সেল থেকে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ লিথিয়াম আয়রন ফসফেট ব্যাটারিতে জমা থাকে, যা ট্রেনটি যখন গতি বাড়ায় তখন অতিরিক্ত শক্তি জোগায় এবং ব্রেকিংয়ের সময় উৎপন্ন শক্তি পুনরুৎপাদন করে সংরক্ষণ করে।

ডিজেলের তুলনায় হাইড্রোজেনের শক্তির ঘনত্ব অনেক বেশি। যেখানে ডিজেলের শক্তির ঘনত্ব প্রতি কেজিতে ৪৩ মেগাজুল, সেখানে হাইড্রোজেনের ক্ষেত্রে তা প্রায় ১২০ মেগাজুল। ফলে এটি কার্বন নির্গমন ছাড়াই উচ্চ কর্মক্ষমতা নিশ্চিত করতে পারে। 

এই ট্রেনকে সার্বক্ষণিক সচল রাখতে হরিয়ানার জিন্দে ভারতের বৃহত্তম রেলওয়ে হাইড্রোজেন স্টোরেজ এবং রিফুয়েলিং স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই কেন্দ্রে প্রায় ৩ হাজার কেজি হাইড্রোজেন সংরক্ষণ করা সম্ভব, যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড মেনে তৈরি করা হয়েছে।

রিসার্চ, ডিজাইন অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অর্গানাইজেশনের কারিগরি নির্দেশনায় নির্মিত এই ১০ কোচের ট্রেনটিতে প্রায় ২ হাজার ৬০০ যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১১০ কিলোমিটার গতিবেগের নকশায় তৈরি এই ট্রেনটি আপাতত সুরক্ষার স্বার্থে ৭৫ কিলোমিটার গতিতে চালানো হবে।

জিন্দ জংশন, গোহানা জংশন এবং সোনিপতের মধ্যে সংযোগকারী এই ট্রেনের সুরক্ষায় কোনো আপস করা হয়নি। এতে যুক্ত রয়েছে হাইড্রোজেন লিক ডিটেক্টর, ফ্লেম ডিটেকশন সিস্টেম, স্বয়ংক্রিয় হাইড্রোজেন শাট-অফ মেকানিজম এবং চালকদের জন্য রিয়েল-টাইম হেলথ মনিটরিং ব্যবস্থা।