যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে দলের নতুন নেতা হিসেবে ঘোষণা করেছে। ফলে তিনি দেশটির ৫৯তম প্রধানমন্ত্রী আরো এক দাফ এগিয়ে গেলেন।
এর আগে গত মাসে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পর নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়। স্থানীয় সময় শুক্রবার লন্ডনে অনুষ্ঠিত লেবার পার্টির বিশেষ সম্মেলনে ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটির (এনইসি) চেয়ারপারসন শাবানা মাহমুদ এ ঘোষণা দেন।
তিনি জানান, নেতৃত্ব নির্বাচনে যোগ্য মনোনয়নপ্রাপ্ত একমাত্র সংসদ সদস্য ছিলেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। তিনি ৩৭৯টি মনোনয়ন পেয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।
নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর দেওয়া ভাষণে বার্নহ্যাম দল ও দেশের রাজনীতিতে পরিবর্তন আনার জন্য পাঁচ দফা পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
তার মধ্যে প্রথম অঙ্গীকার হিসেবে তিনি বলেন, লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ বিভক্তি দূর করে একটি ঐক্যবদ্ধ দল গড়ে তুলবেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, দলীয় কোন্দল বন্ধ না হলে দেশের নতুন ডানপন্থী রাজনীতির মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।
দ্বিতীয় অঙ্গীকারে তিনি যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, একে অপরকে দোষারোপের রাজনীতি নয়, বরং জনগণের জীবনমান উন্নয়নে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়াই হবে তার লক্ষ্য।
তৃতীয় অঙ্গীকারে বার্নহ্যাম বলেন, লেবার পার্টি নিজের আদর্শেই চলবে। অন্য দলকে অনুকরণ না করে ‘আত্মবিশ্বাসী, স্পষ্ট ও প্রকৃত লেবার নীতিতে’ রাজনীতি করবে।
চতুর্থ অঙ্গীকারে তিনি জানান, ইংল্যান্ডের উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের পাশাপাশি স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের মানুষের জন্য সমানভাবে কাজ করবেন।
পঞ্চম অঙ্গীকার হিসেবে তিনি ‘ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ’ করার ঘোষণা দেন। তার ভাষায়, ওয়েস্টমিনস্টার ও হোয়াইটহল থেকে ক্ষমতা সরিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আরও বেশি কর্তৃত্ব দেওয়া হবে।
নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেবার পার্টি অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে অভিনন্দন জানায়। জবাবে বার্নহ্যাম বলেন, দলের নেতৃত্ব পাওয়া তার জীবনের ‘সবচেয়ে বড় সম্মান’ এবং তার সরকার লেবারের আদর্শ ও অগ্রাধিকারকে ভিত্তি করেই দেশ পরিচালনা করবে।






