নড়াইলে কারাগার থেকে ৩ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বাবার জানাজা ও দাফনে অংশ নিয়েছেন মো. জিসানুর রহমান জিসান (৩৩) নামে স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতা। তিনি নড়াইল সদর উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক। একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে আছেন তিনি।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) সদর উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের যদুনাথপুর গ্রামের নিজ বাড়ির পাশের একটি মাঠে বাবার জানাজায় অংশ নেন জিসান। মো. জিসানুর রহমান জিসান সদর উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবকদলের আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ভাঙচুর ও মারধর মামলায় কারাগারে আছেন।
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যায় নড়াইল শহর থেকে উপজেলার বাশঁগ্রাম ইউনিয়নের যদুনাথপুর গ্রামের নিজ বাড়ি ফিরছিলেন জিসানের বাবা টিপু মোল্যা। পথে সুম্ভডাঙ্গা গ্রামের নাজমুল কাজীর বাড়ির সামনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রাস্তার পাসে পড়ে যায় টিপু মোল্যা। পরে স্থানীয়রা তাকে দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্তত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বাবার মৃত্যুর পর, আইনি প্রক্রিয়ায় ছেলে জিসানকে কারাগার থেকে বেলা সাড়ে ১২ টা থেকে বিকাল সাড়ে ৩ টা পর্যন্ত ৩ ঘণ্টার জন্য পেরোলে মুক্তি দেয় নড়াইল জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষ। পরে সদর থানা পুলিশের সহযোগিতায় জিসানের বাবার নামাজে জানাজাসহ কর্মচন্দ্রপুর কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন শেষে আবারও কারাগারে পাঠানো হয় জিসান কে।
নড়াইল সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নড়াইল জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নিয়ে পুলিশ পাহারায় শুক্রবার দুপুরে তার বাবার জানাযায় জিসানকে নিয়ে যাওয়া হয়। জানাযা ও দাফন শেষে তাকে আবার কারা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ।
উল্লেখ্য, নড়াইল সদর উপজেলার সদ্য সাবেক সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু রায়হানের (৩৫) অফিসকক্ষে প্রবেশ করে ভাঙচুর, সরকারি কাজে বাঁধা দেয়াসহ কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ এনে গত (২৮ জুন) মো. জিসানুর রহমানসহ অজ্ঞাত আরও ৪ থেকে পাঁচ জনকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় কারাগারে রয়েছেন জিসান।




