• ই-পেপার

দিনাজপুরে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা

  • আবারও উল্লাসে মেতে উঠার প্রত্যাশা

কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর

শিশু নিরবের স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে এলেন জেলা প্রশাসক

নীলফামারী সংবাদদাতা
শিশু নিরবের স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে এলেন জেলা প্রশাসক

নীলফামারী রেলওয়ে স্টেশনের ল্যাম্পপোস্টের আলোয় বসে পড়াশোনা করা সাত বছরের শিশু নিরবের পাশে দাঁড়িয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান। ‘কুপির তেল ফুরোলেই স্টেশনে, ল্যাম্পপোস্টের নিচে পড়াশোনা’ শিরোনামে গতকাল বৃহস্পতিবার কালের কণ্ঠ ডিজিটাল ও অনলাইনে সংবাদ প্রকাশের একদিনের মধ্যেই নিরবের পাশে দাঁড়ালেন তিনি।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে জেলা প্রশাসক নীলফামারী রেলওয়ে স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মসংলগ্ন ছোট্ট ঘরে গিয়ে নিরব ও তার পরিবারের খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি পরিবারের হাতে খাদ্য সহায়তা তুলে দেন।

2

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, ‘কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনটি আমার নজরে আসে। সেখানে দেখেছি, বাড়িতে বিদ্যুৎ না থাকায় নিরব প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত স্টেশনের ল্যাম্পপোস্টের আলোয় পড়াশোনা করে। বড় হয়ে সে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখে। তার সেই স্বপ্ন পূরণে আমরা পাশে দাঁড়িয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘নিরব পড়াশোনার প্রতি অত্যন্ত আগ্রহী। তাই সরকারি শিশু সদনের মাধ্যমে তার পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে। সে কিছুটা অসুস্থ, তাই তার চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হবে। এছাড়া পরিবারটি রেলওয়ের জমিতে বসবাস করছে। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে তাদের জন্য সরকারি খাস জমির ব্যবস্থা করে স্থায়ী আবাসনের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে নির্দেশ দিয়েছি।’

66

জেলা প্রশাসকের এই উদ্যোগে স্বস্তি ও আনন্দ প্রকাশ করেন নিরবের মা রুপসানা বেগম। তিনি সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সম্মতি জানান। একই সঙ্গে তাদের জীবনসংগ্রামের গল্প মানুষের সামনে তুলে ধরায় কালের কণ্ঠের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এ সময় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. মনোয়ারুল ইসলাম, নীলফামারী সরকারি শিশু পরিবার (বালক)-এর উপতত্ত্বাবধায়ক শাহ মো. আল আমিন, নীলফামারী রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মিঠুন রায়সহ জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পীরগাছায় ২০ মিনিটের ব্যবধানে ট্রেন দুর্ঘটনায় দুই গৃহবধূ নিহত

পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি
পীরগাছায় ২০ মিনিটের ব্যবধানে ট্রেন দুর্ঘটনায় দুই গৃহবধূ নিহত
সংগৃহীত ছবি

রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় প্রায় ২০ মিনিটের ব্যবধানে একই এলাকায় পৃথক দুটি ট্রেন দুর্ঘটনায় দুই গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় একজন এবং পদ্মরাগ ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে অপরজনের মৃত্যু হয়।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুর ১২টা ১০ মিনিট থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে উপজেলার সদর ইউনিয়নের সুখানপুকুর এলাকায় এ দুটি ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন উপজেলার দক্ষিণ দুধিয়াবাড়ী গ্রামের জামাল উদ্দিনের স্ত্রী রাশেদা বেগম (৪৫) এবং তাম্বুলপুর ইউনিয়নের পরাণ গ্রামের আবু তাহেরের মেয়ে আইরীন আক্তার ত্বারীন (২১)।

পীরগাছা রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার জেনারুল ইসলাম জানান, লালমনিরহাটগামী পদ্মরাগ ট্রেনটি পীরগাছা স্টেশনে ক্রসিংয়ের জন্য অপেক্ষা করছিল। দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে সান্তাহারগামী দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস ট্রেন স্টেশনে প্রবেশের সময় সুখানপুকুর এলাকায় রাশেদা বেগমকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

তিনি আরো জানান, দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে পদ্মরাগ ট্রেনটি স্টেশন ছেড়ে আউটার সিগন্যালের দিকে যাওয়ার সময় আইরীন আক্তার ত্বারীন রেললাইনে শুয়ে পড়েন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। এতে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে বোনারপাড়া রেলওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে।

এ বিষয়ে বোনারপাড়া রেলওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাহেব গণি বলেন, ‘দুই মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

৫ লাখ মানুষের ভরসা, সংকটের মধ্যেও এগিয়ে মোরেলগঞ্জ হাসপাতাল

বাগেরহাট প্রতিনিধি
৫ লাখ মানুষের ভরসা, সংকটের মধ্যেও এগিয়ে মোরেলগঞ্জ হাসপাতাল
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

তীব্র চিকিৎসক ও জনবল সংকট, সীমিত অবকাঠামো, সব বাধা পেরিয়েও সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় ইতিবাচক পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর পুনরায় চালু হয়েছে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার (ওটি)। ফলে হার্নিয়া, অ্যাপেন্ডিসাইটিস, টিউমারসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রোপচার এখন উপজেলা হাসপাতালেই সফলভাবে সম্পন্ন হচ্ছে। এতে রোগীদের জেলা কিংবা বিভাগীয় হাসপাতালে ছুটতে হচ্ছে না; কমেছে সময়, ভোগান্তি ও চিকিৎসা ব্যয়। জেলার বৃহত্তম উপজেলা মোরেলগঞ্জের প্রায় ৫ লাখ মানুষের চিকিৎসার প্রধান ভরসা ৫০ শয্যাবিশিষ্ট এ হাসপাতাল।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৫১ জন চিকিৎসকের অনুমোদিত পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ১৫ জন। তবে ডেপুটেশন, ছুটি ও অন্যান্য কারণে নিয়মিত সেবা দিচ্ছেন মাত্র ৬ জন চিকিৎসক। এছাড়া নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও অন্যান্য জনবলেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য ঘাটতি। তারপরও কর্মরত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় চিকিৎসাসেবা সচল রাখা হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০ জন এবং অন্তর্বিভাগে ৪০ থেকে ৫০ জন রোগী চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন। পাশাপাশি প্যাথোলজি, আল্ট্রাসনোগ্রাফি, ইসিজিসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার সেবা নিয়মিত চালু রয়েছে। সরকারিভাবে বিনামূল্যে বিভিন্ন ধরনের ওষুধও সরবরাহ করা হচ্ছে।

চিকিৎসাসেবা নিতে আসা মীনা বিশ্বাস বলেন, ‘এখন হাসপাতালেই ভালো চিকিৎসা পাওয়া যাচ্ছে। আগে ছোটখাটো অপারেশনের জন্য বাইরে যেতে হতো। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা দিচ্ছেন। তবে চিকিৎসক ও জনবল বাড়ানো হলে রোগীদের অপেক্ষার সময় আরও কমবে।’

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা একাধিক রোগী জানান, জনবল সংকটের কারণে কিছুটা অপেক্ষা করতে হলেও তারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তরিকতায় তারা সন্তুষ্ট।

হাসপাতালে দায়িত্ব পালনকারী আনসার সদস্য মো. বাদশা বলেন, ‘প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক রোগী ও স্বজন হাসপাতালে আসেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রোগীদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও দিকনির্দেশনা দিয়ে সহযোগিতা করা হয়। এতে চিকিৎসাসেবা গ্রহণে শৃঙ্খলা বজায় রাখা সহজ হচ্ছে।’

সিনিয়র স্টাফ নার্স নুর নাহার বলেন, ‘জনবল সংকটের মধ্যেও আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছি। প্রতিদিন বহির্বিভাগ, জরুরি বিভাগ ও ওয়ার্ডে রোগীর ব্যাপক চাপ থাকে। সমন্বিতভাবে কাজ করায় সেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে। তবে প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলে সেবার মান আরও বাড়বে।’

হাসপাতালের কর্মকর্তারা জানান, সীমিত জনবল নিয়েই রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। দ্রুত শূন্য পদে চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা নতুন ৩১ শয্যাবিশিষ্ট ভবনের নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু হলে এ অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবায় আরও গতি আসবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল হোসেন মুফতি বলেন, ‘মোরেলগঞ্জের মতো বৃহৎ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকসহ শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ এবং চলমান উন্নয়নকাজ শেষ করা জরুরি। বর্তমান জনবল দিয়ে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামো নিশ্চিত হলে হাসপাতালের সেবার পরিধি ও মান আরও অনেকগুণ বৃদ্ধি পাবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘জনবল সংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হলেও, বন্ধ থাকা অপারেশন থিয়েটার পুনরায় চালু, নিয়মিত অস্ত্রোপচার এবং চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তরিক সেবায় মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের আস্থা ফিরতে শুরু করেছে ‘ তবে এই ইতিবাচক ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগ, জনবল বৃদ্ধি এবং অসমাপ্ত উন্নয়নকাজ শেষ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি। 

বরিশালের ১২ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
বরিশালের ১২ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে
সংগৃহীত ছবি

গত ৪ দিন ধরে বরিশালের নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে একে একে নদ-নদীগুলো জোয়ারের সময় পানির লেভেল বিপদসীমা অতিক্রম করছে। আজ শুক্রবার বিকেলে ১২টি নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পানি বিজ্ঞান বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী তাইজুল ইসলাম।

তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, মঙ্গলবার থেকে দক্ষিণাঞ্চলের নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়া শুরু হয়। পাউবো কীর্তনখোলা, সুরমা, মেঘনা, বলেশ্বর, তেতুলিয়া, বিষখালী, তুলাতলি, টরকী, কচা, পায়রাসহ ১২ টি নদীর ১৩টি পয়েন্টে পানি পরিমাপ করে। জোয়ারের সময় মঙ্গলবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ৮টি পয়েন্টে পানির উচ্চতা বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। তবে পানির লেভেল ভাটার সময় বিপদসীমার নিচে নেমে যায়। প্রকৌশলী তাইজুল ইসলাম জানান, আমাবশ্যার প্রভাবে এ অবস্থা আরও দুইদিন অব্যাহত থাকবো। পানি আরও কিছুটা বাড়তে পারে। 

এদিকে পানি বৃদ্ধি পাওয়া চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। কীর্তণখোলার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করায় ড্রেনের মাধ্যমে বিকালে নগরের কিছু কিছু সড়কে জোয়ারের পানি ঢুকে যায়। পানি আরো বৃদ্ধির আশংকা করা হচ্ছে। 

বরিশাল আবহাওযা অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক উচ্চবেক্ষক মো. আনিচুর রহমান বলেন, ‘দক্ষিণাঞ্চলের আবহাওয়া স্বাভাবিক রয়েছে। নিম্নচাপ কিম্বা লঘুচাপ নেই। তবে সাগর উত্তাল থাকায় সমুদ্র বন্দরে ৩ নং ও নদী বন্দরে ১ নং সতর্ক সংকেত দেওয়া হয়েছে।’