ভারত ও ইন্দোনেশিয়া যৌথভাবে ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত প্রামবানান মন্দির সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প শুরু করেছে। বুধবার ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগ (এএসআই) জানায়, এই ঐতিহাসিক মন্দির সংরক্ষণের দায়িত্ব পেয়ে তারা গর্বিত।
এএসআই এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানায়, ইন্দোনেশিয়ার যোগ্যাকার্তার বিশেষ অঞ্চলে অবস্থিত প্রামবানান মন্দির সংরক্ষণের কাজ ভারত-ইন্দোনেশিয়া যৌথ সংরক্ষণ উদ্যোগের আওতায় করা হবে। এই উদ্যোগ যৌথভাবে শুরু করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো। সংস্থাটি জানায়, এই প্রকল্প শুধু একটি সংরক্ষণ উদ্যোগ নয়, বরং ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ও সভ্যতাগত সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। এএসআইর ভাষ্য অনুযায়ী, দুই দেশের যৌথ এই উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রতি তাদের অঙ্গীকারেরও প্রকাশ।
বুধবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো যৌথভাবে প্রামবানান মন্দির সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর মোদি প্রাচীন এই মন্দিরে প্রার্থনা করেন। পরে তিনি সেখানে কর্মরত কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেন। মন্দির কমপ্লেক্সে দুই নেতা পৌঁছালে দুই দেশের জাতীয় পতাকা হাতে থাকা মানুষ তাদের স্বাগত জানান। এর আগে মোদি নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে প্রামবানান মন্দিরের আকাশ থেকে ধারণ করা একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। পোস্টে তিনি এটিকে 'মহিমান্বিত প্রামবানান মন্দির' বলে উল্লেখ করেন। মঙ্গলবার নরেন্দ্র মোদি ও প্রাবোও সুবিয়ান্তোর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকের পর প্রামবানান মন্দিরে ভারতের সহায়তায় সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার কাজ পরিচালনার জন্য দুই দেশ একটি অভিপ্রায়পত্র বিনিময় করে। দুই নেতার আলোচনায় ভারত-ইন্দোনেশিয়া সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারত্ব আরো শক্তিশালী করা এবং ইন্দো-প্রশান্ত অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রামবানান ইন্দোনেশিয়ার সবচেয়ে বড় হিন্দু মন্দির কমপ্লেক্স। এটি নবম শতকে নির্মিত হয় এবং ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত। মন্দিরটি প্রধানত ভগবান শিবের উদ্দেশ্যে নির্মাণ করা হয়। এর কেন্দ্রে রয়েছে ৪৭ মিটার উঁচু শিব মন্দির। পাশাপাশি ভগবান বিষ্ণু ও ব্রহ্মার জন্যও আলাদা মন্দির রয়েছে। তাদের বাহনের জন্যও পৃথক মন্দির নির্মাণ করা হয়েছে। এএসআই জানায়, পুরো প্রামবানান কমপ্লেক্সে মোট ২৪০টি মন্দির রয়েছে। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় অংশে শিব, বিষ্ণু ও ব্রহ্মার তিনটি প্রধান মন্দির এবং তাদের বাহনের জন্য আরো তিনটি মন্দির রয়েছে। মন্দিরের দেয়ালে সূক্ষ্ম পাথরের খোদাইয়ে রামায়ণসহ বিভিন্ন হিন্দু মহাকাব্যের দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে। এসব শিল্পকর্ম ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শতাব্দীপ্রাচীন সাংস্কৃতিক ও সভ্যতাগত সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হয়।
ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার কর্মকর্তাদের আশা, যৌথ এই সংরক্ষণ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রামবানান মন্দিরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব আরো সুরক্ষিত হবে এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।






