• ই-পেপার

নিয়োগে অনিয়ম

রুপালী ব্যাংকের ৫ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ দুদকের

বিতর্কের পর এমপির ঐচ্ছিক তহবিলের অনুদান ফিরছে সরকারি কোষাগারে

নড়াইল সংবাদদাতা
বিতর্কের পর এমপির ঐচ্ছিক তহবিলের অনুদান ফিরছে সরকারি কোষাগারে
সংগৃহীত ছবি

নড়াইল-২ (সদরের একাংশ ও লোহাগড়া) আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য আতাউর রহমানের ঐচ্ছিক তহবিলের অনুদানের তালিকায় তার মেয়ের নাম দুইবার অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। সেই তালিকার অনুদানের টাকা এখন সরকারি কোষাগারে ফেরত যাচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তালিকাভুক্ত কেউ টাকা উত্তোলন না করায় অনুদানের অর্থ ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে প্রশাসন। 

এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ঐচ্ছিক তহবিল থেকে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা ২১ জনের নামে অনুদান মঞ্জুর করে সচিবালয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই তালিকায় সংসদ সদস্যের মেয়ে ফাইজার নাম দুই স্থানে থাকায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। একই সঙ্গে তালিকায় বেশির ভাগ উপকারভোগী সংসদ সদস্যের নিজ এলাকা ও আত্মীয়-স্বজনের নাম থাকায় এ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। 

বিতর্কের পর সংসদ সদস্য আতাউর রহমান দাবি করেছিলেন, তালিকাটি তার ব্যক্তিগত সচিব (পিএস) প্রস্তুত করেছিলেন। তিনি ওই তালিকা অনুযায়ী অনুদান বিতরণ করবেন না বলেও জানিয়েছিলেন। পরে নতুন তালিকা দিতে চাইলেও প্রশাসন জানায়, সচিবালয় থেকে অনুমোদিত তালিকার বাইরে কাউকে অনুদান দেওয়ার সুযোগ নেই। তালিকা সংশোধন করতে হলে তা সচিবালয় থেকেই করতে হবে।

নড়াইল সদর ও লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী অফিস সূত্রে জানা যায়, অনুমোদিত তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের কেউই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুদানের টাকা গ্রহণ করেনি। ফলে সরকারি আর্থিক বিধি অনুযায়ী অব্যবহৃত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

নড়াইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) টি এম রাহসিন কবির বলেন, সংসদ সদস্যের ঐচ্ছিক তহবিলের জন্য জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে একটি বরাদ্দপত্র এসেছিল। ওই বরাদ্দের অর্থ উপকারভোগীদের মধ্যে বিতরণের শেষ সময় ছিল ৩০ জুন পর্যন্ত। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুদানের অর্থ গ্রহণের জন্য কেউ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে আসেননি।

বরাদ্দপত্রে উল্লেখ রয়েছে, ৩০ জুনের মধ্যে অর্থ বিতরণ সম্ভব না হলে তা সরকারি কোষাগারে ফেরত পাঠাতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেউ অর্থ গ্রহণ না করায় বিধি অনুযায়ী অর্থ ফেরত পাঠানোর প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শিগগিরই বরাদ্দের পুরো অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হবে।

লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মী কায়সার জানান, বরাদ্দের তালিকায় থাকা উপকারভোগীরা যেহেতু এখন পর্যন্ত টাকা নিতে আসেনি। সেহেতু নিয়ম অনুযায়ী টাকা ফেরতের কাজ চলমান রেখেছি। 

এ বিষয়ে জানতে নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান (বাচ্চু) জানান, ওই তালিকার অনুকূলে বরাদ্দ বাতিলের জন্য গত ২৯ জুন সংসদ সচিবালয় বরাবর একটি ডিও দিয়েছিলাম।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের অর্থ শাখা-২-এর অর্থ সহকারী সচিব রাখী আহমেদ সই করা গত ১৮ জুনের পত্রে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্যের ঐচ্ছিক তহবিলের ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা নির্বাচনি এলাকার মোট ২১ জনের মধ্যে বণ্টনের জন্য মঞ্জুরি অনুমোদন দেওয়া হয়৷ ওই তালিকার ১ এবং ৮ নম্বরে এমপির মেয়ের নাম, ৭ নম্বরে এমপির ক্যামেরাম্যানের নাম, ১১ ও ১৭ নম্বরে এমপির শ্যালকের দুই মেয়ের নাম এবং ১২ নম্বরে এমপির শ্যালকের নামসহ অধিকাংশ আত্মীয়-স্বজনের নাম থাকায় সমালোচনা ঝড় ওঠে।
 

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল

পানি বাড়ছে বিশ্বম্ভরপুরের নদী-হাওরে

বিশ্বম্ভরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
পানি বাড়ছে বিশ্বম্ভরপুরের নদী-হাওরে
পানিতে ডুবে গেছে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা দূর্ঘাপুর-শক্তিয়ারখলা ১০০ মিটার সড়ক। বৃহস্পতিবার তোলা। -কালের কণ্ঠ

টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে পানি বাড়তে শুরু করেছে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার নদ-নদীতে। পানি বাড়ছে উপজেলার খড়চার হাওরসহ বিভিন্ন হাওরেও।

গতকাল বুধবার ও আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) টানা দুই দিন ধরে বৈরী আবহাওয়ায় হাওরপারের বাসিন্দা বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছে না। তবে এখনো কোনো গ্রাম প্লাবিত হয়নি বলে জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি যাদুকাটা নদী দিয়ে প্রবল বেগে ভাটির দিকে নামছে। এতে  উপজেলার দক্ষিণ বাদাঘাট ইউনিয়নের শক্তিয়ারখলা (দুর্গাপুর) এলাকার ১০০ মিটার ও তাহিরপুর উপজেলার আনোয়ারপুর সড়ক পানিতে ডুবে গেছে। এতে সড়কটি দিয়ে যানবাহন ও মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। 

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, সুনামগঞ্জে চলতি মৌসুমে সর্বোচ্চ ২৬৫ মিলি বৃষ্টিপাত হয়েছে। সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার দশমিক  ০৫৬ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৪ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে। জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা শক্তিয়ারখলা পয়েন্ট দিয়ে পানি বিপৎসীমার শূন্য দশমিক ২৭ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।  

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মাহফুজুর রহমান জানিয়েছেন, পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইমদাদুল হক বলেন, টানা বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতির আরো অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। কারণ আগামী ৭২ ঘণ্টা বৃষ্টি হওয়া পূর্বাভাস রয়েছে। এতে নিম্নাঞ্চলে স্বল্প মেয়াদে বন্যা হতে পারে। 

বন্যাকবলিত লোহাগাড়ায় গুরুতর অসুস্থ গর্ভবতী নারীকে উদ্ধার

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
বন্যাকবলিত লোহাগাড়ায় গুরুতর অসুস্থ গর্ভবতী নারীকে উদ্ধার
ছবি: কালের কণ্ঠ

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় ভয়াবহ বন্যায় গত ২-৩ দিন থেকে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে বিভিন্ন এলাকার অসংখ্য মানুষ। চারদিকে থইথই পানি, ঘর থেকে বের হওয়ার কোনো উপায় নেই। পানিবন্দি এসব পরিবারের কষ্টের যেন কোনো সীমা নেই। এমন চরম দুর্দশা ও দুর্যোগের মাঝেই মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন লোহাগাড়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ৭টার দিকে লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের পশ্চিম আমিরাবাদ খৈয়ারকুল এলাকায় বন্যার পানিতে আটকে পড়া এক গর্ভবতী নারীকে কাঁধে করে উদ্ধার করে নিরাপদে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছেন তারা। এ সময় লোহাগাড়া প্রেস ক্লাবের সেক্রেটারি শাহাজাদা মিনহাজ গর্ভবতী নারীর ব্যাগ কাঁধে নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সঙ্গে হাসপাতালে পৌঁছে দেন। 

জানা গেছে, ওই এলাকায় একজন গর্ভবতী নারী বন্যার পানিতে নিজ বাড়িতে আটকা পড়ে চরম বিপাকে পড়েন। খবর পেয়ে লোহাগাড়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাদা মিনহাজ উদ্ধারকাজে সার্বিক সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে আসেন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে লোহাগাড়া ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং ওই গর্ভবতী নারীকে পরম যত্নে কাঁধে তুলে বন্যার পানি পার করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করার ব্যবস্থা করেন।

স্থানীয়রা বলছেন, বিপদের সময় ফায়ার সার্ভিসের এই মানবিক সেবাই সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় ভরসা। দুর্যোগ মোকাবেলায় এমন অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্য লোহাগাড়া ফায়ার সার্ভিসের সাহসী সদস্যদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এলাকাবাসী।  

লোহাগাড়া ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার জাহাঙ্গীর আলম জানান, লোহাগাড়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাদা মিনহাজ আমাদের কাছে পানিবন্দি ওই গর্ভবতী নারীর খবরটি পৌঁছে দেন। খবর পেয়ে আমরা কালক্ষেপণ করিনি। আমাদের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে বন্যাকবলিত স্থান থেকে ওই নারীকে উদ্ধার করে সুস্থ ও নিরাপদে হাসপাতালে পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়।

জঙ্গি সন্দেহে সিঙ্গাপুর ফেরত ২ জন রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক
জঙ্গি সন্দেহে সিঙ্গাপুর ফেরত ২ জন রিমান্ডে
সংগৃহীত ছবি

জঙ্গি সন্দেহে সিঙ্গাপুর থেকে ফেরত পাঠানো গ্রেপ্তার দুই বাংলাদেশিকে তিন দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এ আদেশ দেন। আসামিরা হলেন সাহেদুল ইসলাম (৩৭) ও রিশাদ তায়ানী (২৫)।

এর আগে বুধবার (৮ জুলাই) বিমানবন্দর থানার জিডিমূলে তাদেরকে বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এদিন তাদেরকে আদালতে হাজির করে পাঁচদিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন বিমানবন্দর থানার এসআই আশরাফুল আলম।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, সিঙ্গাপুর অবস্থানকালে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার সন্দেহে সিঙ্গাপুর পুলিশ তাদেরকে আটক করে। এরপর বিমানযোগে সিঙ্গাপুর পুলিশ বাংলাদেশে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ঢাকায় ইমিগ্রেশনের কর্তব্যরত অফিসারের কাছে প্রেরণ করে। পরবর্তীতে বিষয়টি সিটিটিসির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মারফত সংবাদ পেয়ে ঢাকায় ইমিগ্রেশনে ডিউটি অফিসারের কক্ষে উপস্থিত হয়ে তাদেরকে হেফাজতে নেওয়া হয়। তাদের কাছ থেকে ৩টি মোবাইল ও ৩টি পাসপোর্ট জব্দ তালিকা মূলে জব্দ করা হয়।

আসামিদের থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা সিঙ্গাপুর অবস্থানকালে বিভিন্ন নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানা যায়। আসামিরা বাংলাদেশ থেকে সিঙ্গাপুর গিয়ে ধর্তব্য অপরাধে জড়িত থাকার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে তথ্য-প্রমাণ পাওয়ায় সিঙ্গাপুর পুলিশ তাদের আটক করে। পরে জিডিমূলে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করা হয়। আসামিদের যেকোনো সময় বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে জঙ্গি হামলা করার সম্ভবনা বিদ্যমান।

আবেদনে আরো বলা হয়, আসামিরা বাংলাদেশের কোনো নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের সঙ্গে জড়িত কিনা, কোনো ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস ব্যবহার করে নিষিদ্ধ কার্যক্রম পরিচালনা করে কিনা এবং জঙ্গি কার্যক্রমের অর্থের জোগানদাতা কে বা কারা তা জানা, বাংলাদেশে তাদের অস্তিত্ব আছে কিনা এবং আন্তর্জাতিক নিষিদ্ধ কোনো সংগঠনের সঙ্গে জড়িত আছে কিনা তা জানার জন্য পাঁচদিনের পুলিশ রিমান্ডের প্রয়োজন।