• ই-পেপার

বিতর্কের পর এমপির ঐচ্ছিক তহবিলের অনুদান ফিরছে সরকারি কোষাগারে

বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ ৬ জেলের একজন জীবিত উদ্ধার

গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ ৬ জেলের একজন জীবিত উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

বঙ্গোপসাগরের গভীরে ডুবে যাওয়া গলাচিপার ৬ জেলের মধ্যে আল আমিন নামের একজনকে জীবিত উদ্ধার করেছে জেলেরা। তাকে উদ্ধারের পর চরফ্যাশন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গলাচিপা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আল আমিনের চিকিৎসার তদারকি করছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার।

বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে ভোলার ঢাল চর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দক্ষিণে ভাসমান অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। তবে আল আমিনের সঙ্গে থাকা অন্য ৫ জেলের সন্ধান মেলেনি। 

উদ্ধার জেলে আল আমিন উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের ইচাদী গ্রামের চান মিয়া হাওলাদারের ছেলে।

গলাচিপা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর হোসেন খান বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে চরফ্যাশন থেকে জনৈক দুলাল মাঝি আল আমিনের স্ত্রী মাকসুদা বেগমের কাছে মোবাইল ফোনে একটি বার্তা পাঠান যে, সাগর থেকে আল আমিনকে উদ্ধার করা হয়েছে। খবর পেয়ে আমরা স্পিডবোট নিয়ে চরফ্যাশন চলে যাই। সেখান থেকে আল আমিনকে উদ্ধার করে চরফ্যাশন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গলাচিপা হাসপাতালে ভর্তি করি।

উদ্ধার হওয়া জেলে আল আমিন বলেন, বঙ্গোপসাগরে ফিশিং ট্রলার গত রবিবার রাত ১০টার দিকে ঝড়ে কবলে পড়ে ১১ জেলে নিয়ে ডুবে যায়। সে সময় ট্রলারের ভেতর তিনজন ছিল, তারা বের হতে পারেনি। কিন্তু আমরা ৮ জন সাগরে ভেসেছিলাম। এসময় আমি আক্কাস আর সাগর ট্রলার ধরে ভেসেছিলাম। কিন্তু একসময় সবাই ট্রলার ছেড়ে দিয়ে তীরে ফেরার জন্য সাঁতার দিই। কিন্তু কিছুক্ষণ পর সবাই আলাদা হয়ে যাই। 

আল আমিন আরো বলেন, আমি একটি তেলের পট পেয়ে ভেসেছিলাম। বুধবার বিকেলে ভোলার দুলাল মাঝির জেলেরা আমাকে উদ্ধার করে চরফ্যাশন নিয়ে আসে। এ ছাড়া আমার আর কিছু মনে নেই।

গলাচিপা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য কলিমুল্লা খান বলেন, আল আমিনের বেঁচে থাকার খবর পেয়ে আমরা তার পরিবারের লোকজন নিয়ে চরফ্যাশন থেকে গলাচিপা নিয়ে এসেছি। সে সুস্থ হোক, পরে বিস্তারিত জানতে পারব।

এ ব্যাপারে গলাচিপা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী বলেন, উদ্ধার হওয়া জেলে আল আমিন জানিয়েছেন, সাগরে ভেসে যাওয়া অন্য ৫ জেলে হয়তো বেঁচে আছেন। এমন তথ্যের ভিত্তিতে আমরা যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছি।

এ প্রসঙ্গে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, আল আমিন অন্য জেলেদের অবস্থান সম্পর্কে কিছু তথ্য দিয়েছেন। তার তথ্য অনুসরণ করে উদ্ধার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ৫ জুলাই বঙ্গোপসাগরে ঝড়ের কবলে পরে গলাচিপার ১১ জন জেলেসহ ফিশিং ট্রলার ডুবে যায়। পরদিন ৫ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। এর পর বুধবার বিকেলে জেলে আল আমিন উদ্ধার হলেও ৫ জন জেলে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। 

নিখোঁজ জেলেরা হলেন, গলাচিপা উপজেলার পানপট্টি ইউনিয়নের দক্ষিণ পানপট্টির মৃত গেদু হাওলাদারে ছেলে মো. হারুন হাওলাদার, পানপট্টি গ্রামের মো. এমাদুল, গজালিয়া ইউনিয়নের ইচাদী গ্রামের মো. ফোরকান, মো. সায়েম, গলাচিপা সদর ইউনিয়নের পক্ষিয়া গ্রামের মো. আকাশ।

দুই বছর পর ভ্রমণ ভিসায় ভারতে যাত্রী পারাপার শুরু

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
দুই বছর পর ভ্রমণ ভিসায় ভারতে যাত্রী পারাপার শুরু
সংগৃহীত ছবি

প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর ভ্রমণ ভিসায় ভারতে যাত্রী পারাপার শুরু হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে দুই বছর পর প্রথম একজন বাংলাদেশি ভ্রমণ ভিসা নিয়ে ভারতে যান।

সরেজমিন দেখা যায়, বন্দর দিয়ে ভারতীয় যাত্রীরা বেশি আসছেন। তারা ভ্রমণ ভিসা নিয়ে আসছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশি যাত্রী যারা যাচ্ছেন তারা যাচ্ছেন চিকিৎসা ভিসা নিয়ে।

একাধিক সূত্র জানায়, কয়েকদিন ধরে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে যাত্রী পারাপার বেড়েছে। ভারত ভ্রমণ ভিসা দিতে শুরু করায় বাংলাদেশি যাত্রী পারাপার আরো বাড়বে। দুই বছর পর দেওয়া ভ্রমণ ভিসায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকা ফুলবাড়িয়ার এক যাত্রী প্রথম ভারতে যান। তিনি ২৮ জুন আবেদন করে ৮ জুলাই ভিসা পান। তিনি ছয় মাসের ভিসা পেয়েছেন।

আখাউড়া স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশের এসআই মো. আব্দুর রহিম জানান, আজ সকাল সাড়ে ১১টার দিকে একজন বাংলাদেশি ভ্রমণ ভিসায় গেছেন। ৮ তারিখ থেকে ভিসা পাওয়ায় যাত্রী আরো বাড়বে। 

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতিতে ভিসা কার্যক্রম বন্ধ রাখে ভারত। প্রায় দুই বছরের মাথায় ভ্রমণ ভিসা চালু করে। ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনার ভিসা সেন্টার থেকে ২৮ জুন একযোগে ভিসার কার্যক্রম শুরু হয়। চলতি জুলাই মাসের ৮ তারিখ থেকে যাত্রীরা ভিসা পাচ্ছেন।

পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে ফেনীর তিন নদীর পানি বৃদ্ধি, বন্যার শঙ্কা

জেলা প্রতিনিধি, ফেনী
পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে ফেনীর তিন নদীর পানি বৃদ্ধি, বন্যার শঙ্কা
ছবি: কালের কণ্ঠ

ভারতের ত্রিপুরা থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে ফেনীর মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনীয়া নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। এতে পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া উপজেলার নদীতীরবর্তী এলাকায় বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বেড়িবাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ অংশ নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন নদীপাড়ের লাখো মানুষ।

ফেনী জেলা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৫৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। জেলা আবহাওয়া কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান বলেন, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী কয়েকদিনও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় পরশুরাম পয়েন্টে মুহুরী নদীর পানির উচ্চতা ছিল ১০ দশমিক ৬৬ মিটার। সাত ঘণ্টা আগে, রাত ১২টায় একই স্থানে পানির উচ্চতা ছিল ১০ দশমিক ৪০ মিটার। যদিও এ পয়েন্টে বিপৎসীমা ১২ দশমিক ৫৫ মিটার, তবে পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

স্থানীয়রা জানান, প্রতি বছর পাহাড়ি ঢল ও ভারি বৃষ্টির সময় নদীর বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ে। এতে কৃষিজমি, আমনের বীজতলা, মাছের ঘের ও গবাদিপশুর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। তাই এবারও একই ধরনের পরিস্থিতির আশঙ্কায় রয়েছেন তারা।

ফুলগাজী উপজেলার বাসিন্দা মো. মোর্শেদ বলেন, ‘সবচেয়ে ভয় লাগে গভীর রাতে। কখন বাঁধ ভেঙে ঘরে পানি ঢুকে পড়ে, সেই আতঙ্কে ঠিকমতো ঘুমাতে পারছি না।’

সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় জেলা প্রশাসন প্রস্তুতি শুরু করেছে। গত মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ফেনীর জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, ‘ত্রিপুরায় ভারি বৃষ্টির কারণে আমাদের নদীগুলোর পানি বাড়ছে। সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা, মেডিকেল টিম ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি আশ্রয়কেন্দ্র পরিষ্কার এবং শুকনো খাবার মজুদের কাজ চলছে।’

ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম জানান, নদীর পানির উচ্চতা ও বেড়িবাঁধের অবস্থা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।

প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নদীর পানি আরো বাড়লে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

রায়পুরায় ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা, মালিককে জরিমানা ও কারাদণ্ড

রায়পুরা (নরসিংদী) প্রতিনিধি
রায়পুরায় ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা, মালিককে জরিমানা ও কারাদণ্ড
সংগৃহীত ছবি

নরসিংদীর রায়পুরায় অনুমোদন ও লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই পরিচালিত হওয়ায় সিরাজ খান আধুনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির মালিককে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) উপজেলার তুলাতুলী এলাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুদ রানার নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে ল্যাব টেকনিশিয়ান ছাড়া পরীক্ষা-নিরীক্ষা, রিএজেন্ট সংরক্ষণে অনিয়ম এবং চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি পাওয়া যায়। এসব অনিয়মের কারণে প্রতিষ্ঠানটি সাময়িকভাবে সিলগালা করা হয়।

ইউএনও মো. মাসুদ রানা বলেন, ‘আগামী ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে লাইসেন্স নবায়নসহ সব অনিয়ম সংশোধনের নির্দেশ দিয়ে মালিকপক্ষের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’