• ই-পেপার

চট্টগ্রামে শিশু ইরা মনি ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা মামলার আসামি বাবু শেখের মৃত্যুদণ্ড

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে দলবদ্ধ ধর্ষণ মামলার রায় ১৪ জুলাই

অনলাইন ডেস্ক
এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে দলবদ্ধ ধর্ষণ মামলার রায় ১৪ জুলাই
সংগৃহীত ছবি

সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের মামলার রায় আগামী মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ঘোষণা করা হবে। আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার মামলার রায়ের দিন-তারিখ ধার্য্য করেন।

ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, গতকাল বুধবার আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ১৪ জুলাই রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেন আদালতের বিচারক।
 
মামলায় অভিযুক্তরা হলেন—নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি, তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক, অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল, মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজন, রবিউল ও মাহফুজুর রহমান। তারা সবাই নগরের টিলাগড় কেন্দ্রিক ছাত্রলীগের গ্রুপ রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

আদালত সূত্র জানায়, গত বছরের মে মাসে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের পর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। মোট ২৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। তন্মধ্যে ছিলেন পাশবিক নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ ও তার স্বামী, আসামিদের জবানবন্দি গ্রহণকারী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, এমসি কলেজের এক অধ্যাপক এবং ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক। তবে সাক্ষ্যগ্রহণকালে বাদীর বিভ্রান্তিমূলক সাক্ষ্য দেওয়া নিয়ে কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপক্ষ।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সিলেটের এমসি কলেজ এলাকায় ঘুরতে যান ভুক্তভোগী দম্পতি। সে সময় স্বামীকে আটকে রেখে নববিবাহিত তরুণীকে (২০) দলবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়।

মামলার এজাহারের বর্ণনামতে, ২৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে স্বামীকে নিয়ে শাহপরান মাজারে বেড়াতে গিয়েছিলেন নির্যাতনের শিকার তরুণী (২০)। ফেরার সময় তারা গাড়ি থামিয়েছিলেন নগরের টিলাগড় এলাকার এমসি কলেজের প্রধান ফটকের সামনে। স্ত্রীকে প্রাইভেটকারে রেখে স্বামী পার্শ্ববর্তী দোকানে গিয়েছিলেন। ওই সময় প্রাইভেটকারটি ঘিরে ধরে কয়েকজন তরুণ।

এজাহারে আরো বলা হয়, প্রাইভেটকারসহ ওই দম্পতিকে তারা নিয়ে যায় বালুচর এলাকার এমসি কলেজ ছাত্রাবাসের ভেতরে। সেখানে স্বামীর সামনেই গাড়ির ভেতর সংঘবদ্ধভাবে তরুণীকে ধর্ষণ করে ছয় তরুণ। পরে তাদের মারধর করে টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেয় ধর্ষকরা। আটকে রাখে তাদের গাড়িও।

ঘটনার রাতেই নির্যাতিতার স্বামী বাদী হয়ে নগরের শাহপরান থানায় এমসি কলেজ ছাত্রলীগের ছয়জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে এবং দুজনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেন। প্রাইভেটকারটি আটকে রেখে চাঁদাবাজির ঘটনায় আরেকটি মামলা হয়। মামলা দুটি প্রথমে পৃথক চললেও পরবর্তীতে উভয় মামলা একসঙ্গে চালানোর সিদ্ধান্ত হয়।

ঘটনার পর আসামিরা পালিয়ে গেলেও তিনদিনের মধ্যে পুলিশ ও র‍্যাবের যৌথ অভিযানে সন্দেহভাজন দুইজন ও এজাহারনামীয় ছয়জনসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা পরবর্তীতে আদালতে দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এ ছাড়া ডিএনএ পরীক্ষায় আট আসামির ছয়জনের সঙ্গে ধর্ষণের আলামতের মিল পাওয়া যায়।

২০২১ সালের ৩ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও শাহপরান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য গ্রেপ্তারকৃত আট আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশীট) জমা দেন। ২০২১ সালের ১০ জানুয়ারি আদালত এই মামলার অভিযোগ গঠন করে বিচারকার্য শুরু করেন। পরবর্তীতে মোট ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ ও আসামিদের যুক্তিতর্ক শেষে মামলার রায়ের তারিখ ধার্য্য করা হয়।

দুর্নীতির মামলায় আবেদপুত্র সিয়ামের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
দুর্নীতির মামলায় আবেদপুত্র সিয়ামের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য শুরু

জ্ঞাত আয়বর্হিভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে আলোচিত পিএসসির গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী জীবনের ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বি.এম. তারিকুল কবীরের আদালতে মামলার বাদী দুদকের উপসহকারী পরিচালক জাকির হোসেন ও মিন্টু মিয়া নামের আরেক সাক্ষী সাক্ষ্য দেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আরিফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘দুজন সাক্ষী মিন্টু ও জাকির হোসেনের জবানবন্দি শেষ হয়েছে। তাদের জেরার জন্য সময় চান আসামিপক্ষের আইনজীবী রেজাউল করিম। আদালত সময় আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ১০ আগস্ট বাদীর অবশিষ্ট জেরা এবং পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন। শুনানির সময় সোহানকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।’

গত ১৭ জুন এ মামলায় সিয়ামের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন একই আদালত।

সিয়ামের বিরুদ্ধে গত বছরের ৫ জানুয়ারি মামলা করেন দুদকের উপসহকারী পরিচালক জাকির হোসেন। মামলায় ২০২১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ৩৭ লাখ ৩০ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার তদন্ত শেষে একই বছরের ৩০ ডিসেম্বর সিয়ামকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেন উপসহকারী পরিচালক জাকির হোসেন। তবে তদন্তে সিয়ামের জ্ঞাত আয় উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৩১ লাখ ৮১ হাজার টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পায় কর্মকর্তা।

ঘুষ গ্রহণ

বেবিচকের লাইসেন্স পরিদর্শক রাশেদের ৫ বছরের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক
বেবিচকের লাইসেন্স পরিদর্শক রাশেদের ৫ বছরের কারাদণ্ড

পাইলট লাইসেন্স নবায়ন ও পরীক্ষায় সুযোগ করে দেওয়ার নামে ১ লক্ষ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) জুনিয়র লাইসেন্স পরিদর্শক এইচ. এম. রাশেদ সরকারকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এই রায় ঘোষণা করেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী জহিরুল ইসলাম এবং আসামিপক্ষে আইনজীবী ইব্রাহিম জুয়েলসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

রায় ঘোষণার পর সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, এই ধরনের মামলার রায়ে একটি দৃষ্টান্ত উপস্থাপন হলো এবং আমরা আদালতের রায়ে খুবই সন্তুষ্ট। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, তারা এই অন্যায্য রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ফিলিপাইন থেকে কমার্শিয়াল পাইলট লাইসেন্স (সিপিএল) অর্জনকারী মো. রাকিব হাসানের বাংলাদেশি লাইসেন্স রূপান্তরের আবেদনটি রাশেদ সরকার অনলাইন সিস্টেমে বাতিল করে দেন। পরবর্তীতে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিনিময়ে তিনি ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। রকিব হাসানের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের ৬ ডিসেম্বর উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরের ‘বিএফসি’ রেস্টুরেন্টে ফাঁদ পাতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সেখানে ঘুষের টাকাসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার হন রাশেদ সরকার।

​এই ঘটনায় ২০১৯ সালের ৬ ডিসেম্বর দুদকের সহকারী পরিচালক তাহসীন মোসাবিল হক বাদী হয়ে মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ৬ জুন তদন্ত কর্মকর্তা জাহিদ কালাম আদালতে চার্জশিট জমা দেন এবং ২০২৩ সালের ৬ মার্চ এ মামলায় আসামির বিরুদ্ধে চার্জগঠন করেন আদালত। পরবর্তীতে মামলার মোট ২৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে আজ এই রায় ঘোষণা করা হলো। রায়ের আদেশে বিচারক জব্দকৃত ঘুষের ১ লাখ টাকা অভিযোগকারীকে ফেরত দেওয়া এবং আসামির কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া মোবাইল, ল্যাপটপ, আইপ্যাড ও ক্রেডিট কার্ডগুলো রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেন।

হজফেরত ১৩০ হাজির মালামাল চুরির ঘটনা তদন্তের নির্দেশ

অনলাইন ডেস্ক
হজফেরত ১৩০ হাজির মালামাল চুরির ঘটনা তদন্তের নির্দেশ
সংগৃহীত ছবি

হজফেরত ১৩০ হাজির লাগেজ ও মালামাল চুরির ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালত এই ঘটনার তদন্তের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি আগামী এক মাসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।