• ই-পেপার

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে দলবদ্ধ ধর্ষণ মামলার রায় ১৪ জুলাই

দুর্নীতির মামলায় আবেদপুত্র সিয়ামের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
দুর্নীতির মামলায় আবেদপুত্র সিয়ামের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য শুরু

জ্ঞাত আয়বর্হিভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে আলোচিত পিএসসির গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী জীবনের ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বি.এম. তারিকুল কবীরের আদালতে মামলার বাদী দুদকের উপসহকারী পরিচালক জাকির হোসেন ও মিন্টু মিয়া নামের আরেক সাক্ষী সাক্ষ্য দেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আরিফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘দুজন সাক্ষী মিন্টু ও জাকির হোসেনের জবানবন্দি শেষ হয়েছে। তাদের জেরার জন্য সময় চান আসামিপক্ষের আইনজীবী রেজাউল করিম। আদালত সময় আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ১০ আগস্ট বাদীর অবশিষ্ট জেরা এবং পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন। শুনানির সময় সোহানকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।’

গত ১৭ জুন এ মামলায় সিয়ামের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন একই আদালত।

সিয়ামের বিরুদ্ধে গত বছরের ৫ জানুয়ারি মামলা করেন দুদকের উপসহকারী পরিচালক জাকির হোসেন। মামলায় ২০২১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ৩৭ লাখ ৩০ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার তদন্ত শেষে একই বছরের ৩০ ডিসেম্বর সিয়ামকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেন উপসহকারী পরিচালক জাকির হোসেন। তবে তদন্তে সিয়ামের জ্ঞাত আয় উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৩১ লাখ ৮১ হাজার টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পায় কর্মকর্তা।

ঘুষ গ্রহণ

বেবিচকের লাইসেন্স পরিদর্শক রাশেদের ৫ বছরের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক
বেবিচকের লাইসেন্স পরিদর্শক রাশেদের ৫ বছরের কারাদণ্ড

পাইলট লাইসেন্স নবায়ন ও পরীক্ষায় সুযোগ করে দেওয়ার নামে ১ লক্ষ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) জুনিয়র লাইসেন্স পরিদর্শক এইচ. এম. রাশেদ সরকারকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এই রায় ঘোষণা করেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী জহিরুল ইসলাম এবং আসামিপক্ষে আইনজীবী ইব্রাহিম জুয়েলসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

রায় ঘোষণার পর সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, এই ধরনের মামলার রায়ে একটি দৃষ্টান্ত উপস্থাপন হলো এবং আমরা আদালতের রায়ে খুবই সন্তুষ্ট। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, তারা এই অন্যায্য রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ফিলিপাইন থেকে কমার্শিয়াল পাইলট লাইসেন্স (সিপিএল) অর্জনকারী মো. রাকিব হাসানের বাংলাদেশি লাইসেন্স রূপান্তরের আবেদনটি রাশেদ সরকার অনলাইন সিস্টেমে বাতিল করে দেন। পরবর্তীতে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিনিময়ে তিনি ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। রকিব হাসানের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের ৬ ডিসেম্বর উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরের ‘বিএফসি’ রেস্টুরেন্টে ফাঁদ পাতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সেখানে ঘুষের টাকাসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার হন রাশেদ সরকার।

​এই ঘটনায় ২০১৯ সালের ৬ ডিসেম্বর দুদকের সহকারী পরিচালক তাহসীন মোসাবিল হক বাদী হয়ে মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ৬ জুন তদন্ত কর্মকর্তা জাহিদ কালাম আদালতে চার্জশিট জমা দেন এবং ২০২৩ সালের ৬ মার্চ এ মামলায় আসামির বিরুদ্ধে চার্জগঠন করেন আদালত। পরবর্তীতে মামলার মোট ২৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে আজ এই রায় ঘোষণা করা হলো। রায়ের আদেশে বিচারক জব্দকৃত ঘুষের ১ লাখ টাকা অভিযোগকারীকে ফেরত দেওয়া এবং আসামির কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া মোবাইল, ল্যাপটপ, আইপ্যাড ও ক্রেডিট কার্ডগুলো রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেন।

হজফেরত ১৩০ হাজির মালামাল চুরির ঘটনা তদন্তের নির্দেশ

অনলাইন ডেস্ক
হজফেরত ১৩০ হাজির মালামাল চুরির ঘটনা তদন্তের নির্দেশ
সংগৃহীত ছবি

হজফেরত ১৩০ হাজির লাগেজ ও মালামাল চুরির ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালত এই ঘটনার তদন্তের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি আগামী এক মাসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা, স্বামীর যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক
যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা, স্বামীর যাবজ্জীবন
ছবি: কালের কণ্ঠ

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী মোসা. শাহানুর আক্তারকে গলা কেটে হত্যার দায়ে স্বামী মো. জাহাঙ্গীর আলমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে ঢাকার ৪ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে জাহাঙ্গীর আলমকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে তাকে আরো এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

রায় ঘোষণার সময় কারাগার থেকে আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. এরশাদ আলম (জর্জ) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, প্রায় ১২ বছর আগে প্রথম স্বামী মো. হারুনের মৃত্যুর পর শাহানুর আক্তার দ্বিতীয়বার মো. জাহাঙ্গীর আলমকে বিয়ে করেন। তারা ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানার খালপাড় এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। জীবিকার জন্য দিনমজুরির পাশাপাশি অন্যের বাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহের কাজ করতেন। জাহাঙ্গীর আলম মাদকাসক্ত ছিলেন এবং প্রায়ই স্ত্রীর কাছে যৌতুকের টাকা দাবি করতেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে নিয়মিত পারিবারিক কলহ লেগে থাকত।

অভিযোগে আরো বলা হয়, ২০১৮ সালের ২০ নভেম্বর সকালে শাহানুর আক্তারের মেয়ে ঘুম থেকে উঠে মাকে ডাকতে গিয়ে দেখতে পান, ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকানো। পরে ভাই মো. হৃদয়কে নিয়ে দরজা খুলে ঘরে প্রবেশ করলে তারা খাটের ওপর কাঁথা দিয়ে ঢাকা অবস্থায় শাহানুর আক্তারের গলাকাটা রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান। ঘটনার সময় জাহাঙ্গীর আলম ঘরে ছিলেন না।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ১৪ জুন কেরানীগঞ্জ মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রফিকুল ইসলাম জাহাঙ্গীর আলমকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, যৌতুকের টাকা না পেয়ে জাহাঙ্গীর আলম ২০১৮ সালের ১৯ নভেম্বর রাত ১০টা থেকে ২০ নভেম্বর সকাল ৮টা ১০ মিনিটের মধ্যে যেকোনো সময় ভাড়া বাসার শোবার ঘরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শাহানুর আক্তারের গলা কেটে হত্যা করেন। পরে মরদেহ কাঁথা দিয়ে ঢেকে রেখে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

অভিযোগপত্র গ্রহণের পর আদালত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষের ছয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেন।