• ই-পেপার

নেতানিয়াহুকে নেওয়া হলো হাসপাতালে

কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ, জাতিসংঘে পাকিস্তানকে ভারতের জবাব

অনলাইন ডেস্ক
কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ, জাতিসংঘে পাকিস্তানকে ভারতের জবাব
সংগৃহীত ছবি

জাতিসংঘের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আবারও কড়া অবস্থান নিয়েছে ভারত। দেশটির অভিযোগ, পাকিস্তান রাষ্ট্রের নীতির অংশ হিসেবে সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদকে ব্যবহার করছে। একই সঙ্গে ভারত স্পষ্ট করে বলেছে, জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। 

বুধবার (যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময়) জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ‘প্রাকৃতিক সম্পদের সুশাসন: শান্তি, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির ভিত্তি’ শীর্ষক উন্মুক্ত বিতর্কে এসব কথা বলেন জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত পর্বতনেনি হরিশ। বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, প্রাকৃতিক সম্পদ নিয়ে হওয়া এই বৈঠককে পাকিস্তান রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছে। তার দাবি, আলোচনার মূল বিষয় থেকে সরে গিয়ে পাকিস্তান কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা অভিযোগ’ তুলেছে।

পর্বতনেনি হরিশ বলেন, এই বৈঠকে অন্য কোনো বিষয় নিয়ে কথা বলার পরিকল্পনা ভারতের ছিল না। কিন্তু পাকিস্তান আলোচনার সুযোগ নিয়ে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরায় ভারতকে তার জবাব দিতে হয়েছে। কাশ্মীর প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অবিচ্ছিন্ন অংশ। এটি ভারতের সংবিধান ও আইনের দৃষ্টিতেও প্রতিষ্ঠিত বাস্তবতা। তবে পাকিস্তান ইচ্ছাকৃতভাবে এই বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভারতের রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে একমাত্র অমীমাংসিত বিষয় হলো, ভারতের দাবি অনুযায়ী পাকিস্তান ওই অঞ্চলের কিছু অংশ অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে। সেই ভূখণ্ড খালি করাই এখন প্রধান বিষয় হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বক্তব্যে তিনি সিন্ধু পানি চুক্তির বিষয়ও তুলে ধরেন। এ সময় পাকিস্তানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, পারস্পরিক বিশ্বাস ও সদিচ্ছার ভিত্তিতে কোনো চুক্তি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়, যদি একটি দেশ একই সঙ্গে সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন বা ব্যবহার করে।

তিনি বলেন, সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট এবং এতে কোনো পরিবর্তন হয়নি। দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা তখনই সম্ভব, যখন পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসের পরিবেশ থাকবে। বক্তব্যের শেষ দিকে পাকিস্তানকে নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যার দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান ভারতের এই কূটনীতিবিদ। তার ভাষায়, ভারতের সমালোচনা করার পরিবর্তে পাকিস্তান যদি নিজেদের দেশের সমস্যাগুলো সমাধানে গুরুত্ব দেয়, তাহলে সেটিই দেশটির জনগণের জন্য বেশি উপকারী হবে।
 

তিন শ বছরের ‘যন্তর মন্তর’ যেভাবে দিল্লির প্রতিবাদের স্থান হয়ে উঠল

অনলাইন ডেস্ক
তিন শ বছরের ‘যন্তর মন্তর’ যেভাবে দিল্লির প্রতিবাদের স্থান হয়ে উঠল

১৭২৪ সালে স্থাপিত হয় যন্তর মন্তর। তিনশো বছরের জন্মদিন আগেই পেরিয়ে এসেছে এই স্থান। তবু এদেশে যন্তর মন্তর নামটি আজও উচ্চারিত হয় প্রায় নিয়মিত। কেননা দিল্লিতে কোনও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটলে তা প্রদর্শনের স্থান হিসেবে জায়গাটিকে বেছে নেওয়া হয়। এ মুহূর্তে ককরোচদের আন্দোলনে উত্তাল দিল্লি। কেন্দ্রস্থল এ স্থানই। কিন্তু কেন দিল্লিতে বিক্ষোভ বা জন সমাবেশ মানেই যন্তর মন্তর?

নিট বিতর্কের প্রতিবাদ হিসেবে ন্যায্য বিচারের দাবিতে যন্তর মন্তরে অনশন করছেন অসংখ্য শিক্ষার্থী। পথে নেমে প্রতিবাদ করছে ছাত্রসমাজ, অনশনে বসেছেন সমাজকর্মী তথা শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। আর সে প্রতিবাদের ক্ষেত্র হিসেবে আলোচিত হচ্ছে যন্তর মন্তর। সাম্প্রতিক বহু বিক্ষোভের মতো এবারও এ স্থানেই প্রতিবাদ কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে।

অথচ যন্তর মন্তর আসলে জ্যোতির্বিজ্ঞান মানমন্দির। কিন্তু আজ তা বিক্ষোভের স্থল হিসেবে প্রসিদ্ধ। কবে থেকে শুরু হল এ বিষয়টি? এর জন্য ফিরে যেতে হবে ১৯৯৩ সালে। সে বছর সংসদের কাছাকাছি এলাকায় সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। আর তার ফলে নাগরিকদের প্রতিবাদের অধিকার ও শহরের নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার লক্ষ্যে যন্তর মন্তর রোডকে প্রতিবাদের কেন্দ্রীয় স্থান হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।

গত শতকের নয়ের দশকের আগে দিল্লিতে মুখ্য প্রতিবাদের স্থল ছিল বোট ক্লাব। সেখানকার লনেই জমায়েত করতেন বিক্ষোভকারীরা। ১৯৮৮ সালে বিষয়টা চরমে ওঠে যখন ৫ লাখ কৃষক জমায়েত করেন। ফলে চারপাশ যেন অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। সেই সময় থেকে বোট ক্লাবে জমায়েত নিষিদ্ধ করার দাবি উঠতে থাকে। সেটি কার্যকর করা হয় ১৯৯৩ সালে।

রাজধানীতে যে কোনও ধরনের জনসভা বা প্রতিবাদ কর্মসূচির জন্য যন্তর মন্তর একটি সহজে প্রবেশযোগ্য স্থান হিসেবে রয়ে গিয়েছে সেই থেকে। এই মুহূর্তে যন্তর মন্তরে চলতে থাকা সিজেপির দীর্ঘস্থায়ী অবস্থান কর্মসূচির মতো কর্মসূচির ক্ষেত্রে কোলাহল ও যানজটের সমস্যা সৃষ্টি হয়। তবু প্রশাসনের কাছে নিজেদের কথা পৌঁছে দিতে চাওয়া নাগরিকদের কাছে এ স্থানটি গুরুত্বপূর্ণ।

আসলে দিল্লির প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত হলেও যন্তর মন্তর থেকে সংসদ ভবন ও প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দূরত্ব অনেকটাই। ফলে এখানে বিক্ষোভজনিত যানজট ইত্যাদির প্রভাব ওই অঞ্চলে পড়ে না। ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয়, এখানে করা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচি নাগরিকদের মৌলিক অধিকারেরই অংশ। যদিও তা করতে হবে আইন মেনে।

চলতি বছরের মে মাসে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এক শুনানিতে বেকার যুবকদের পরোক্ষভাবে 'তেলাপোকা' (ককরোচ) ও সমাজের পরজীবী বলে উল্লেখ করেন। চরম এ অপমানের প্রতিক্রিয়া হিসেবে রাজনৈতিক কৌশলবিদ অভিজিৎ দিপকে ১৬ মে সম্পূর্ণ ব্যঙ্গাত্মকভাবে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) গঠন করেন। অতি দ্রুত ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে এ দলটির ফলোয়ার সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখ ছাড়িয়ে যায়।

২০ জুলাই (সোমবার) সিজেপির ডাকে প্রায় ২০ হাজার তরুণ ও শিক্ষার্থী নয়াদিল্লির সংসদ ভবন অভিমুখে পদযাত্রার চেষ্টা করলে পুরো মধ্য দিল্লি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। যন্তর মন্তর ও কনট প্লেস এলাকায় পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর ব্যাপক লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে।

পুলিশের নজিরবিহীন সহিংসতার পর আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দিপকে জানিয়েছেন যে তারা আপাতত নতুন কোনো সড়ক পদযাত্রা করবেন না। তবে দিল্লির যন্তর মন্তরে তাদের অনির্দিষ্টকালের অবস্থান ধর্মঘট ও শান্তিপূর্ণ প্রতিরোধ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।

সিজেপির বিক্ষোভে আবারও সহিংসতা, ৫ পুলিশ আহত

অনলাইন ডেস্ক
সিজেপির বিক্ষোভে আবারও সহিংসতা,  ৫ পুলিশ আহত
সংগৃহীত ছবি

দিল্লির যন্তর মন্তরের কাছে বুধবার সন্ধ্যায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দিল্লি পুলিশের দুইজন সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসিপি), দুইজন পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) এবং আরো একজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কানাট প্লেস এলাকার এসিপি বিবেক ভগতকে দ্রুত রাম মনোহর লোহিয়া (আরএমএল) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

দিল্লি পুলিশের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (র‌্যাফ) ও পুলিশ সদস্যরা সীমিত শক্তি ব্যবহার করেন। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে দুই থেকে তিনটি কাঁদানে গ্যাসের শেলও ছোড়া হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কানাট প্লেসের টলস্টয় মার্গ এলাকায় উত্তেজনা শুরু হয়। যন্তর মন্তরে অবস্থান নেওয়া বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ পরে টলস্টয় মার্গে চলে যায়। সেখানে বিক্ষোভ সহিংস হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ পুলিশের। পুলিশের ভাষ্য, কিছু বিক্ষোভকারী নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইট-পাথর ও কাচের বোতল ছুড়ে মারেন। এতে এসিপি বিবেক ভগত আহত হন। এছাড়া আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্যও আঘাত পান। ঘটনার পর আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।

দিল্লি পুলিশ জানায়, শুরুতে তারা বলপ্রয়োগ না করে বিক্ষোভকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার অনুরোধ করে। আন্দোলনের আয়োজক ও ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতাদেরও ঘটনাস্থলে ডেকে বিক্ষোভকারীদের শান্ত করার চেষ্টা করা হয়। তবে পুলিশের অভিযোগ, আন্দোলনকারীদের একটি অংশ আয়োজকদের কথাও শোনেনি। পুলিশের দাবি, পরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে বড় বড় পাথর ছোড়া হয়। কিছু বিক্ষোভকারীর হাতে লাঠি ছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া কয়েকজনকে তলোয়ার ও খুকরি প্রদর্শন করতে দেখা গেছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে র‌্যাফ ও দিল্লি পুলিশ সীমিত শক্তি ব্যবহার করে এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে এলাকা খালি করে। 

দিল্লি পুলিশের অভিযোগ, সংঘর্ষের সময় এক পুলিশ কর্মকর্তাকে ঘিরে ধরে মারধর করা হয়। পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ তাকে চারদিক থেকে ঘিরে হামলা চালায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কিছু মানুষ গালিগালাজ ও উসকানিমূলক স্লোগানও দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পুলিশ আরো জানায়, টানা তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ হয়েছে। তাদের দাবি, সন্ধ্যার পর কিছু সমাজবিরোধী ব্যক্তি বিক্ষোভে ঢুকে পড়ায় পরিস্থিতি আরো উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ। তবে যন্তর মন্তর এবং আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) জানিয়েছে, তারা কেন্দ্র সরকারের সঙ্গে আলোচনা করতে প্রস্তুত। তবে সেই আলোচনা কোনো কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বাড়ি বা দপ্তরে নয়, নিরপেক্ষ কোনো স্থানে হতে হবে। বুধবার যন্তর মন্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সিজেপির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস। তিনি বলেন, পুলিশ তাদের জানিয়েছে যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা তার বাসভবনে আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। কিন্তু সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি সিজেপি। দলটির বক্তব্য, সরকারের প্রতিনিধিদের বিক্ষোভস্থলের কাছাকাছি কোনো নিরপেক্ষ জায়গায় এসে শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত। নিরাপত্তার কারণে যন্তর মন্তরে না এলে কাছাকাছি অন্য কোনো স্থানে বৈঠক করা যেতে পারে বলেও জানিয়েছে তারা। সিজেপি আরো জানিয়েছে, আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও তরুণদের বিরুদ্ধে নতুন কোনো মামলা বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না—এমন লিখিত আশ্বাস তারা সরকারের কাছে চাইবে।

গত ২০ জুন থেকে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে যন্তর মন্তরে আন্দোলন শুরু হয়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে এবং আরো কয়েকটি পরীক্ষায় অনিয়ম ঘটেছে। পরে এই আন্দোলনে যোগ দেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। তিনি শিক্ষার্থীদের দাবির সমর্থনে অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করলে আন্দোলন আরো জোরালো হয়। সিজেপি ওয়াংচুককে অনশন ভাঙার অনুরোধ জানালেও তিনি তাতে রাজি হননি। তার বক্তব্য, সরকার স্পষ্টভাবে নিশ্চিত না করা পর্যন্ত তিনি অনশন চালিয়ে যাবেন। বিশেষ করে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না—এমন নিশ্চয়তা চান তিনি।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে আন্দোলন এখন দিল্লির বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে। বিহার, তামিলনাড়ু, গোয়া, মহারাষ্ট্র ও রাজস্থানসহ বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষোভ হয়েছে। বিহারের রাজধানী পাটনায় রাজ্যপালের বাসভবনের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, জলকামান ও লাঠিচার্জ ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। অন্য রাজ্যগুলোতেও একই দাবিতে সংহতি কর্মসূচি ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এদিকে, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শক্তি ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে দায়ের করা একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দিল্লি হাইকোর্ট কেন্দ্র সরকার ও দিল্লি পুলিশকে জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশের অভিযানের সিসিটিভি ফুটেজ ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংরক্ষণের নির্দেশও দিয়েছে আদালত। অন্যদিকে, পুলিশের পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ করে করা একটি আবেদনের জরুরি শুনানি করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।

স্পিকার কালিবাফের হুঁশিয়ারি

তেহরানকে রপ্তানি থেকে আটকানো হলে গোটা অঞ্চলে তেল বিক্রি বন্ধ

অনলাইন ডেস্ক
তেহরানকে রপ্তানি থেকে আটকানো হলে গোটা অঞ্চলে তেল বিক্রি বন্ধ

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কারও কারণে তেহরান যদি তেল রপ্তানি করতে না পারে, তবে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের কোনো দেশই তেল রপ্তানি করতে পারবে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির জবাবে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (টুইটার)  এই ‘সবাই অথবা কেউ না’ নীতি সুস্পষ্ট করেন।

গালিবাফ বলেন, ‘এই যুদ্ধের সমীকরণ পরিষ্কার—হয় সবাই, নয়তো কেউই নয়। আমরা যদি তেল বিক্রি করতে না পারি, তাহলে এই অঞ্চলে আর কেউ তেল বিক্রি করতে পারবে না। আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে কোনো অবকাঠামোই নিরাপদ থাকবে না। এছাড়া মার্কিন বাহিনী উপস্থিত থাকলে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।’

ইরানের স্পিকারের এই মন্তব্য আসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক কঠোর হুঁশিয়ারির পর।

ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালিতে কোনো বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের পক্ষ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট, ড্রোন বা অন্য কোনো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালাবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের সামরিক স্থাপনা, ড্রোন গুদাম, বিমান হ্যাঙ্গার, নৌ সক্ষমতা এবং লজিস্টিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে সর্বশেষ ৭৫ মিনিটব্যাপী অভিযান চালানো হয়েছে।

ওয়াশিংটনের দাবি, গত তিন মাসে হরমুজ প্রণালিতে ৩০টিরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জন্য দায়ী ইরান।

অন্যদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নৌবাহিনী জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালির বিকল্প রুট ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে আইআরজিসির এক মুখপাত্র দাবি করেন, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাঞ্চলের নৌপথে মাইন পেতে রাখা হয়েছে এবং ওই পথ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিশ্ববাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী
ইরানের সর্বশেষ হুঁশিয়ারির পর বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বৈশ্বিক সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের বড় একটি অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করে। ফলে এই পথে যেকোনো ধরনের বিঘ্ন আন্তর্জাতিক বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে।

হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালিতেও নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম একপর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৫ ডলারের ওপরে উঠে যায়। পরে তা কিছুটা কমে প্রায় ৯৩ ডলারে নেমে আসে।

সংঘাত আরো বিস্তৃত হচ্ছে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জেরে শুরু হওয়া সংঘাত এখন পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। ইরান পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে।

বিভিন্ন পক্ষের হামলায় হাজারো মানুষ মারা গেছেন এবং লাখো মানুষের বাস্তুচ্যুত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা দাবি করে বলেন, সাম্প্রতিক মার্কিন হামলায় অন্তত ৫০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া প্রায় ৫০০ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ জন সেনা সদস্য নিহত হওয়ার তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে, যা চলমান সংঘাতের মানবিক ও সামরিক মূল্য আরো বাড়িয়ে তুলেছে।

সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে

নেতানিয়াহুকে নেওয়া হলো হাসপাতালে | কালের কণ্ঠ