ইরানে ১৪০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলার দাবি করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। জবাবে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার এবং কুয়েতসহ ৫ উপসাগরীয় দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান।
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং ইরান কর্তৃক আন্তর্জাতিক নৌ রুটটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণার পর দুই দেশের মধ্যে এই ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে ইরানে তৃতীয় দফার সামরিক অভিযান শেষ হয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক সাইপ্রাসের পতাকাবাহী একটি জাহাজে হামলার প্রেক্ষিতে ইরানি বাহিনীকে জবাবদিহির আওতায় আনতেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
সেন্টকম আরো জানিয়েছে, হামলায় জাহাজের একজন বেসামরিক ক্রু নিখোঁজ রয়েছেন। জাহাজে আগুন লাগায় ইঞ্জিন রুমের ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়। এত চলার অনুপোযোগী হয়ে পড়ে।
এর চার ঘন্টা পর মার্কিন হামলা সম্পন্ন হয়েছে বলে সেন্টকমের দাবি, সর্বশেষ অভিযানে প্রায় ১৪০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে ছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি, নৌঘাঁটি, গোলাবারুদের গুদাম, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক এবং উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র। যা আগের দুই দফার চেয়ে অনেক বেশি ছিল।
এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, ওমানের দুকম বন্দরে মার্কিন বিমানবাহী রণতরির জন্য ব্যবহৃত রসদ সরবরাহ কেন্দ্র ও জ্বালানি ভরার স্থাপনায় তারা ‘ভারী ও আকস্মিক’ হামলা চালিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি এ তথ্য জানিয়েছে।
আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগ দাবি করেছে, হামলায় এসব স্থাপনা ধ্বংস হয়ে গেছে। তারা আরো বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিমান হামলার জবাবে এটি তাদের পাল্টা অভিযানের তৃতীয় ধাপ।
আইআরজিসি আরো দাবি করেছে, কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় যুদ্ধবিমান রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত কেন্দ্র এবং ঘাঁটির কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র ধ্বংস হয়েছে।
তবে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কাতারের আকাশসীমা লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র তারা সফলভাবে প্রতিহত করেছে।
ইরানি বাহিনী দাবি করেছে, তারা কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে ধারাবাহিকভাবে ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
তাদের দাবি, কুয়েতে বিস্ফোরকবাহী ড্রোন দিয়ে মার্কিন প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, একটি গোলাবারুদের গুদাম এবং একটি রাডার স্থাপনাকে লক্ষ্য করা হয়েছে।
এ ছাড়া বাহরাইনে মার্কিন বাহিনীর একটি যোগাযোগ ব্যবস্থা ও রাডার স্থাপনায়ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের সেনাবাহিনী।
ইরানের ভাষ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত হামলার জবাব হিসেবেই এসব অভিযান চালানো হয়েছে।