এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র নিজে মূল্যায়ন না করে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে দিয়ে মূল্যায়নের ঘটনায় কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার হাজী আমির উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. বাচ্চু মিয়া (৫৫) ও ওই শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানকে (১৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে বিশেষ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়।
এর আগে শনিবার (১১ জুলাই) কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (মাধ্যমিক) পাপিয়া আক্তার দেবীদ্বার থানায় বাচ্চু মিয়া ও শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানকে আসামি করে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ‘পাবলিক পরীক্ষাসমূহ (অপরাধ) আইন, ১৯৮০’-এর ১০, ১২ ও ১৩ ধারায় মামলা করা হয়।
রবিবার বিকেলে দেবীদ্বার থানায় আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে দেবীদ্বার সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. শাহীন জানান, পুলিশ সুপারের নির্দেশে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও দেবীদ্বার থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে আব্দুল্লাহপুর হাজী আমির উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. বাচ্চু মিয়া এবং শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, পাবলিক পরীক্ষাসমূহ (অপরাধ) আইন অনুযায়ী পরীক্ষা-সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, অননুমোদিত ব্যক্তি এবং অপরাধে সহায়তাকারীদের শাস্তির বিধান রয়েছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে অনিয়ম রোধে এ ঘটনা শিক্ষক সমাজের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হবে।
কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আহসান পারভেজ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক এবং শিক্ষক সমাজের জন্য কলঙ্কজনক। যিনি এ গর্হিত কাজটি করেছেন তিনি তার দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন। এ জাতীয় কাজের যেন আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে জন্য গোটা শিক্ষক সমাজের জন্য সতর্কতা মূলক ‘পাবলিক পরীক্ষাসমূহ (অপরাধ) আইন, ১৯৮০’ এর ধারা ১০, ১২ এবং ১৩ ধারায় ফৌজদারি আইনে এ মামলা রুজু করা হয়। যে মামলাটি বাংলাদেশে প্রথম। যদিও এ আইনটি আগেও ছিল কিন্তু কার্যকর হয়নি, বোর্ড কর্তৃপক্ষ তার নিজস্ব পাবলিক পরীক্ষার অপরাধ আইনে সাজা প্রদান করত।’
তিনি আরো জানান, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সব শিক্ষা বোর্ড কর্মকর্তা এবং পরীক্ষকদের সতর্ক করে বলেছেন, ‘দেবীদ্বারে এক শিক্ষক তার খাতা দেখাচ্ছিলেন ছাত্রকে দিয়ে, গতকাল রাত ২টায় তাকে অ্যারেস্ট করা হয়েছে। তার মানে একটি অপকর্মও আমরা ছাড় দেব না। প্রত্যেকটি ঘটনা আমরা মনিটর করছি।’
এ বিষয়ে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. ইমাম হাসান বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা মামলার অভিযোগে বর্ণিত ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। রবিবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়। এ মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’
প্রসঙ্গত, গত ২৩ জুন হাজী আমির উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের সময় দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে নম্বর দিতে দেখা যায়। আরেক শিক্ষার্থীর ধারণ করা সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। পরে শিক্ষা বোর্ড তদন্ত শেষে মামলা করলে শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়।