টেকসই স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবেশ সুরক্ষায় বাংলাদেশ আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জন করেছে। সিরাজগঞ্জ জেলার সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্মিত বায়োমেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র আজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। অত্যাধুনিক এই কেন্দ্রটি প্রতিবছর ৯৫০ টনেরও বেশি বায়োমেডিক্যাল বর্জ্য নিরাপদভাবে সংগ্রহ, পরিবহন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও পরিবেশসম্মতভাবে নিষ্পত্তি করবে। একই সঙ্গে প্রতিবছর প্রায় ১৩০ টন পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে তিন মিলিয়নেরও বেশি মানুষের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি সংক্রামক স্বাস্থ্যসেবা বর্জ্যের ঝুঁকি হ্রাস এবং পরিবেশদূষণ প্রতিরোধে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।
আরো পড়ুন
সর্বোচ্চ দায়বদ্ধতায় বন্যার্ত মানুষের পাশে রাষ্ট্র
ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এই মহতী কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, চিকিৎসাবর্জ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনা না থাকলে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। এই পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের ফলে সিরাজগঞ্জ জেলা চিকিৎসাবর্জ্য ব্যবস্থাপনায় একটি আদর্শ অঞ্চলে পরিণত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম। সভাপতিত্ব করেন সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিনুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান, ইউনিডো (UNIDO) সদর দপ্তরের সার্কুলার ইকোনমি অ্যান্ড রিসোর্স এফিসিয়েন্সি ইউনিটের প্রধান জেরোম স্টুকি, বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী গীতাঞ্জলি সিং, ইউনিডো, ভিয়েনার প্রকল্প ব্যবস্থাপক ড. রানা প্রতাপ সিং, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ, উন্নয়ন সহযোগী, স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি, সুশীল সমাজ, বেসরকারি খাতের অংশীজন এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা।
ভার্চুয়াল বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন এজেন্ডা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে পরিবেশসম্মত বায়োমেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আরো পড়ুন
ঢাবির সোমবারের সব অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা স্থগিত
বক্তারা বলেন, প্রকল্পটির সুফল শুধু স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং তিন মিলিয়নেরও বেশি মানুষের জন্য নিরাপদ স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অনিরাপদ বায়োমেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ফলে রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি হ্রাস, পরিবেশের গুণগত মান উন্নয়ন এবং জেলার সর্বত্র স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ জীবনযাত্রা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ কার্যকর অবদান রাখবে।
ইউনিডো সদর দপ্তরের সার্কুলার ইকোনমি অ্যান্ড রিসোর্স এফিসিয়েন্সি ইউনিটের প্রধান জেরোম স্টুকি বলেন, বাংলাদেশ সরকার ও প্রকল্পের অংশীদারদের যৌথ প্রচেষ্টায় পরিবেশসম্মত স্বাস্থ্যসেবা বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন সম্ভব হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, শক্তিশালী অংশীদারিত্ব, উদ্ভাবনী উদ্যোগ এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক অঙ্গীকারের মাধ্যমে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য বাস্তব ও টেকসই সুফল অর্জন সম্ভব।
বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী গীতাঞ্জলি সিং বলেন, পরিবেশগত টেকসই উন্নয়ন এবং সহনশীল স্বাস্থ্যসেবা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ সরকারের পাশে জাতিসংঘ ভবিষ্যতেও থাকবে। তিনি বলেন, সিরাজগঞ্জের এই উদ্যোগ অংশীদারিভিত্তিক সমন্বিত উন্নয়নের একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ, যা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
ইউনিডো, ভিয়েনার প্রকল্প ব্যবস্থাপক ড. রানা প্রতাপ সিং বলেন, সিরাজগঞ্জ বায়োমেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র ভবিষ্যতে সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের একটি জাতীয় মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশাবাদী।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জুবাইর বিন আরাফাত। তিনি বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সমন্বিত সহযোগিতার ফলেই এই উদ্ভাবনী উদ্যোগ বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে। কৌশলগত অংশীদারির মাধ্যমে পরিবেশগত, জনস্বাস্থ্য এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি সুফল অর্জনের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য এলাকায়ও এ ধরনের উদ্যোগ সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।