• ই-পেপার

আন্দোলনের মুখে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের পদায়ন বাতিল

উখিয়া সীমান্তে সাড়ে ১২ লাখ টাকাসহ দুই পাচারকারী আটক

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার
উখিয়া সীমান্তে সাড়ে ১২ লাখ টাকাসহ দুই পাচারকারী আটক
সংগৃহীত ছবি

কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্তে মিয়ানমারে সার ও ভোজ্যতেল পাচার করে ফেরার সময় এক রোহিঙ্গাসহ দুই পাচারকারীকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ ১২ লাখ ৪৮ হাজার ৩০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

রবিবার (১২ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের আঞ্জুমানপাড়া সীমান্তের গুইল্লাখালী পয়েন্ট থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটকরা হলেন উখিয়ার ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি-৫ ব্লকের বাসিন্দা আমির হোসেনের ছেলে লোকমান হাকিম (২৫) এবং পালংখালী ইউনিয়নের পূর্ব ফারিরবিল এলাকার আজিম উদ্দিনের ছেলে আবছার উদ্দিন (২৮)।

উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সীমান্তের চোরাইপথে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সার ও ভোজ্যতেল পাচার করে বাংলাদেশে ফেরার সময় বিজিবির টহল দল তাদের আটক করে।

তিনি বলেন, আটকের পর তাদের দেহ তল্লাশি করে নগদ ১২ লাখ ৪৮ হাজার ৩০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া অর্থ পাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

বিজিবি জানিয়েছে, আটক দুইজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।

বাবাকে হারানোর ৯ দিন পর বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল কলেজপড়ুয়া ছেলের

দেবীদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
বাবাকে হারানোর ৯ দিন পর বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল কলেজপড়ুয়া ছেলের
সংগৃহীত ছবি

কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার ধামতী ইউনিয়নের তেবারিয়া গ্রামের ওয়াকিল (১৮) নামে এক কলেজছাত্র বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিহত হয়েছে। নিহত ছাত্র ওই গ্রামের মৃত জাকির মিয়ার ছেলে। সে দুয়ারিয়া এজিএস কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। 

রবিবার (১২ জুন) বিকেলে চান্দিনায় তার (নিহতের) খালার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, চান্দিনা খালার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে বিকেলে বাড়ির ছাদে ঘুরতে যায় ওয়াকিল। সেখানে গিয়ে পা পিছলে ছাদের একপাশে দিয়ে যাওয়া বিদ্যুতের লাইনে পড়ে যায়। মুহূর্তে বিকট আওয়াজ হয় এবং বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয়রা আরো জানান, মাত্র ৯ দিন আগে নিহত ওয়াকিলের বাবা জাকির মিয়া মারা গেছেন। একটি শোক কাটিয়ে না উঠতেই আরেকটি শোক পুরো এলাকাকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।

এ বিষয়ে চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমাদের কেউ অবগত করেননি। আমরা এখন পর্যন্ত কোনো খবর পাইনি। নিহতের পরিবার পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ দায়ের করলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

একই সঙ্গে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেল তিন জমজ বোন

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম
একই সঙ্গে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেল তিন জমজ বোন
ছবি : কালের কণ্ঠ

একই দিনে জন্ম, একসঙ্গে বেড়ে ওঠা। এবার প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষাতেও একসঙ্গে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে কুড়িগ্রামের তিন জমজ বোন।

মেধাবী এই তিন শিক্ষার্থী হলেন তাবিয়া রহমান, তাহিয়া রহমান ও তাকিয়া রহমান। তারা কুড়িগ্রাম জেলা জজ আদালতের আইনজীবী তারিকুর রহমান তারিক ও গৃহিণী শাহিনা আক্তারের কন্যা। তিন মেয়ের একযোগে এই সাফল্যে আনন্দে ভাসছে পরিবার, শিক্ষক ও স্বজনরা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় তাহিয়া রহমান ও তাকিয়া রহমান কুড়িগ্রাম সরকারি বালিকা বিদ্যালয় থেকে এবং তাবিয়া রহমান অর্জুনডারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে অংশ নিয়ে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করে।

বর্তমানে তাহিয়া ও তাকিয়া কুড়িগ্রাম সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণিতে এবং তাবিয়া কুড়িগ্রাম বর্ডার গার্ড স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়ন করছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ছোটোবেলা থেকেই তিন বোনের পড়াশোনার প্রতি ছিল প্রবল আগ্রহ। নিয়মিত অধ্যয়ন, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং পরিবারের উৎসাহ-অনুপ্রেরণাই তাদের এই সাফল্যের ভিত্তি গড়ে দিয়েছে। একজনের অনুপ্রেরণা অন্য দুজনকে আরও ভালো করার উৎসাহ জুগিয়েছে।

শিক্ষার্থীদের বাবা আইনজীবী তারিকুর রহমান তারিক বলেন, ‘এটি আল্লাহর অশেষ রহমত। মেয়েরা যেন ভবিষ্যতে সুশিক্ষিত, সুনাগরিক ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মির্জা নাসির উদ্দিন বলেন, ‘একই পরিবারের তিন জমজ বোনের একসঙ্গে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন সত্যিই বিরল ঘটনা। এটি শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো কুড়িগ্রামের জন্যই গর্বের।’

রামুতে পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে পথচারীর মৃত্যু

রামু (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
রামুতে পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে পথচারীর মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

কক্সবাজারের রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নে পাহাড়ি ঢলের পানিতে পা ফসকে তলিয়ে গিয়ে নিরঞ্জন দাস (৬৫) নামের এক পথচারীর মৃত্যু হয়েছে। প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টার পর স্থানীয়রা তার মরদেহ উদ্ধার করেন।

রবিবার (১২ জুলাই) রাত ৮টার দিকে কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের ফাক্রিকাটা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত নিরঞ্জন দাস একই ইউনিয়নের দোছড়ি পূর্বদাশপাড়া গ্রামের মৃত সুধীর দাসের ছেলে।

নিহতের ভাই ডালিম দাস জানান, নিরঞ্জন দাস নাইক্ষ্যংছড়ির একটি দোকানে চাকরি করতেন। প্রতিদিনের মতো কাজ শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে টমটমে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে নাইক্ষ্যংছড়ি-রামু গর্জনিয়া বাজার সড়কের ফাক্রিকাটা এলাকায় পৌঁছে দেখা যায়, সড়কের ওপর হাঁটুসমান পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ঝুঁকির কারণে টমটমচালক পানি পার হতে রাজি না হলে নিরঞ্জন দাস হেঁটে সড়ক পার হওয়ার চেষ্টা করেন।

তিনি আরো জানান, ফাক্রিকাটা বিলসংলগ্ন সড়কের মাঝামাঝি অংশে পানির স্রোত বেশি ছিল। শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী নিরঞ্জন দাস রাস্তার পাশ দিয়ে হাঁটার সময় একটি গর্তে পা পড়ে ভারসাম্য হারিয়ে স্রোতের পানিতে তলিয়ে যান। আশপাশের লোকজন ছুটে এলেও মুহূর্তের মধ্যে তিনি পানির নিচে হারিয়ে যান।

খবর পেয়ে স্বজন ও স্থানীয়রা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। প্রায় এক ঘণ্টা খোঁজাখুঁজির পর ঘটনাস্থলের কাছ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এদিকে নাইক্ষ্যংছড়ি ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও তার আগেই স্থানীয়রা মরদেহ উদ্ধার করেন।

রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, নিহতের পরিবারের সদস্যরা মরদেহ গ্রহণ করেছেন। এ ঘটনায় তাদের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ‘ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসকে উদ্ধারকাজে পাঠানো হয়। সোমবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হবে। নিহতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে এবং তাদের প্রতি সমবেদনা জানানো হবে।’

এদিকে টানা বর্ষণে পাহাড়ি ঢলের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় প্রয়োজন ছাড়া ঢলপ্রবণ এলাকা ও স্রোতযুক্ত সড়ক পারাপার না করার জন্য সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।