• ই-পেপার

৬২ দেশকে ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার দিলো জার্মানি

বন্দর আব্বাসে বিস্ফোরণ, কেশমে ‘ক্ষেপণাস্ত্র হামলার’ দাবি

অনলাইন ডেস্ক
বন্দর আব্বাসে বিস্ফোরণ, কেশমে ‘ক্ষেপণাস্ত্র হামলার’ দাবি
ফাইল ছবি

ইরানের বন্দর নগরী বন্দর আব্বাস ও হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত কেশম দ্বীপে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। রবিবার (১২ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত প্রায় সাড়ে ১০টার দিকে ইরানি বার্তাসংস্থার বরাতে এসব তথ্য জানায় আলজাজিরা

তবে এ বিস্ফোরণ কিসের কারণে হয়েছে সেটি এখনো জানা যায়নি বলে জানিয়েছে বার্তাসংস্থাগুলো।

এর কিছুক্ষণ পর কেশম দ্বীপের গভর্নর হোসেইন আমির দাবি করেন, শত্রুদের ছোড়া ১০ থেকে ১১টি বস্তু (সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র) দ্বীপে আঘাত হেনেছে।

বার্তাসংস্থা ইরনাকে তিনি জানিয়েছেন, সবগুলো হামলাই হয়েছে সামরিক অবকাঠামোতে এবং এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

এর আগে, গতকাল রাতভর ইরানের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে ব্যাপক হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে ইরান উপসাগরীয় আরব অঞ্চলের পাঁচটি দেশে থাকা মার্কিন সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র  ছোড়ে।

জেন-জি আন্দোলনে ক্ষমতায়, বছর না পেরোতেই সেই চাপে বালেন্দ্র

অনলাইন ডেস্ক
জেন-জি আন্দোলনে ক্ষমতায়, বছর না পেরোতেই সেই চাপে বালেন্দ্র
কাঠমাণ্ডুর রাজপথে পুলিশের মুখোমুখি বিক্ষোভকারীরা। সংগৃহীত ছবি

ব্যাপক জনরোষে নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর নেপালের মানুষের আশা ছিল, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অবসান ঘটবে, বেকারত্ব কমবে, নতুনভাবে এগিয়ে যাবে দেশ। কিন্তু নতুন সরকারের এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই আবারও বিদ্রোহের আগুনে জ্বলছে নেপালে। প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহর সরকারের বিরুদ্ধে নতুন করে রাজপথে নেমেছে দেশটির জেন-জি।

বালেন্দ্র শাহর পদত্যাগের দাবিতে গত ৩ দিনে প্রকাশ্য রাস্তায় গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন দিয়েছেন ৩ যুবক। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরো একজন।

নেপালের জেন-জি আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন বালেন্দ্র শাহ। বর্তমানে তিনিই দেশের প্রধানমন্ত্রী।

তবে যুবসমাজের অভিযোগ, পরিবর্তনের যে স্বপ্ন দেখিয়ে তিনি ক্ষমতায় এসেছিলেন, এক বছরেও তা বাস্তবায়ন করতে পারেননি। জেন-জি নেপাল সংগঠনের দাবি, শাহ সরকার জনবিরোধী ও স্বৈরাচারী শাসন চালাচ্ছে। একই সঙ্গে যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আয় বাড়াতে বাজেট এবং নীতিমালায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতেও সরকার ব্যর্থ হয়েছে। এসব দাবিতে নতুন করে আন্দোলনে নেমেছে দেশটির তরুণরা।

গত কয়েকদিন ধরে কাঠমাণ্ডুর রাজপথে বিক্ষোভ চলছে। টানা ৩ দিনে তিন যুবকের আত্মাহুতির চেষ্টার ঘটনায় পরিস্থিতি আরো উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতির অবনতিতে সরকারের উদ্বেগ বাড়ছে।

এ অবস্থায় যুবসমাজের পাশে দাঁড়িয়ে বালেন্দ্র সরকারকে নিশানা করেছে বিরোধী দল নেপালি কংগ্রেস। দলটির দাবি, রাষ্ট্রের ব্যর্থতার কারণেই এসব আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে।

উল্লেখ্য, গত বছর নেপালে জেন-জি বিদ্রোহ ভয়াবহ আকার ধারণের আগে ২০২৩ সালেও সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। প্রেম আচার্য নামের এক যুবকের মৃত্যুর পর তৎকালীন কাঠমাণ্ডুর মেয়র বালেন্দ্র শাহ সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। এবার একই ধরনের ঘটনার জেরে সমালোচনার মুখে পড়েছেন খোদ তিনিই।

গত বছর নেপালে জেন-জি বিদ্রোহ এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির সরকারের পতনের অন্যতম কারিগর ছিলেন বালেন্দ্র শাহ। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে তার একটি গান তরুণদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা, বেকারত্ব, দুর্নীতি এবং বেহাল অর্থনীতির বিরুদ্ধে জনরোষে টালমাটাল হয়ে পড়ে ওলি সরকার।

সরকার পতনের পর গত ৫ মার্চ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ওলিকে পরাজিত করে জয়ী হন বালেন্দ্র শাহ। মাত্র ৩৫ বছর বয়সে তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী হন। তবে ক্ষমতায় আসার এক বছর না পেরোতেই এবার সেই জনরোষের মুখেই পড়েছেন তিনি।

লিন্ডসে গ্রাহামের মৃত্যুতে বিপাকে ইউক্রেন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
লিন্ডসে গ্রাহামের মৃত্যুতে বিপাকে ইউক্রেন
ছবি : রয়টার্স

প্রভাবশালী মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের আকস্মিক মৃত্যুতে কিছুটা বিপাকেই পড়েছে ইউক্রেন। গ্রাহাম ছিলেন ওয়াশিংটনে ইউক্রেনের পক্ষে সবচেয়ে সোচ্চার কণ্ঠ। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর গ্রাহাম ১০ বার কিয়েভ সফর করেছেন, যার সর্বশেষটি ছিল গত সপ্তাহে। কিয়েভ থেকে ফেরার কয়েক ঘণ্টা পরই শনিবার সন্ধ্যায় আকস্মিক অসুস্থতায় মৃত্যুবরণ করেন সাউথ ক্যারোলাইনার এই সিনেটর।

লিন্ডসে গ্রাহামের হঠাৎ মৃত্যুতে শোকাহত ইউক্রেনের উপপ্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সিভি রিডেনকো তার শোকবার্তায় বলেন, ‘রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসনজুড়ে সিনেটর গ্রাহাম ইউক্রেনের পাশে এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় সবসময় অবিচল ছিলেন।’

ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গ্রাহাম সেখানে অস্ত্র পাঠানো থেকে শুরু করে অব্যাহত সর্বাত্মক সমর্থন দিয়ে গেছেন। রাশিয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আইন প্রণয়নেও সহ-উদ্যোক্তা ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ এই সহযোগী। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রাথমিক বৈরিতা সম্পর্কেও পুরোপুরি সচেতন ছিলেন তিনি। ট্রাম্পের অবস্থানের সঙ্গে তাল মিলিয়েই তিনি ইউক্রেনের স্বার্থ রক্ষা এবং ট্রাম্পের সঙ্গে জেলেনস্কির সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে কৌশলী ভূমিকা রাখেন।

গত সপ্তাহে সর্বশেষ কিয়েভ সফরে গ্রাহাম ইউক্রেনের একটি ড্রোন কারখানা পরিদর্শন করেন এবং আবারও ইউক্রেনের প্রতি সমর্থনের কথা জোর দিয়ে বলেন। কিয়েভ ছাড়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও গ্রাহাম বলেছিলেন, ‘এই যুদ্ধ শেষ করার সূত্র আমাদের কাছে রয়েছে। ইউক্রেনকে আরও শক্তিশালী হতে সাহায্য করুন। যারা রাশিয়াকে সমর্থন করছে তাদের জানিয়ে দিন যে, এই সমর্থন অব্যাহত রাখলে তাদের চড়া মূল্য দিতে হবে।’ কিয়েভ থেকে ফেরার কয়েক ঘণ্টা পরেই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

২০১৪ সালে রাশিয়া যখন ক্রিমিয়া দখল করে নেয়, তখন গ্রাহামই প্রথম ইউক্রেনকে প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্র পাঠানোর পক্ষে মত দিয়েছিলেন, কারণ সে সময় দেশটির সামরিক বাহিনীর সক্ষমতায় মারাত্মক ঘাটতি ছিল।

ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে হত্যায় তার ঘনিষ্ঠ কাউকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন। পুতিনের সম্ভাব্য হত্যাকারীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেছিলেন, ‘আপনি নিজের দেশ ও বিশ্বের অনেক বড় উপকার করবেন।’ পরবর্তীতে তিনি পুতিনকে একজন ’সন্ত্রাসী ও গুণ্ডা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন।

লিন্ডসে গ্রাহাম এমন একটি আইনেরও সমর্থন করেছিলেন, যা যুক্তরাষ্ট্রকে ইউক্রেনের কোনো অংশে রাশিয়ার সার্বভৌমত্বের দাবিকে স্বীকৃতি দেওয়া থেকে বিরত রাখতো এবং ইউক্রেনের মাটিতে মার্কিন সৈন্যদের দিয়ে ইউক্রেনীয় ইউনিটগুলোকে প্রশিক্ষণ দিত। যদিও এ প্রস্তাব কখনো আলোর মুখ দেখেনি। এছাড়া তিনি ‘স্ট্যান্ড উইথ ইউক্রেন অ্যাক্ট’-এরও সহ-প্রণেতা ছিলেন, যার উদ্দেশ্য ছিল ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা খাতে অস্ত্র ও সরঞ্জামের সরবরাহ এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানো। এই বিলের পক্ষে তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা বিশ্বকে একটি বার্তা দিচ্ছি যে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের পাশে থাকবে, তাদের লড়াই আমাদের লড়াই এবং তাদের ও আমাদের উভয়ের স্বাধীনতাই আজ বিপন্ন।’ তবে গ্রাহামের এই চেষ্টা শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। বিলটি শেষ পর্যন্ত আইনে পরিণত হয়নি।

গ্রাহাম ইউক্রেনের প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলেছেন। গতবছরের ফেব্রুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প-জেলেনস্কির উত্তপ্ত বৈঠকের পর গ্রাহাম প্রথমে জেলেনস্কির পদত্যাগও দাবি করেছিলেন। তবে খুব শিগ্‌গিরই তিনি আবার ইউক্রেনের পক্ষে ওকালতির শুরু করেন। তিনি ট্রাম্পকে ইউক্রেনে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করার জন্য অনুরোধ করেন এবং রাশিয়ান তেল আমদানিকারী যে কোনো দেশের উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের লক্ষ্যে একটি কঠোর নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজের খসড়া তৈরি করেন।

লিন্ডসে গ্রাহামের আকস্মিক মৃত্যু ওয়াশিংটনের সঙ্গে কিয়েভের সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যুতে ভারতে এক দিনের শোক

অনলাইন ডেস্ক
কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যুতে ভারতে এক দিনের শোক
ছবি : রয়টার্স

কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির মৃত্যুতে এক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে ভারত। সোমবার (১৩ জুলাই) রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হবে বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রয়াত আমিরের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনস্বরূপ আগামী ১৩ জুলাই সারা দেশে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে এবং সরকারি বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান স্থগিত থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও থানির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে কাতারকে সমবেদনা জানাতে সংসদীয় ও সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু শীঘ্রই কাতার সফরে যাবেন বলে জানা গেছে।

৭৪ বছর বয়সে মারা গেছেন শেখ হামাদ। কাতার সরকার তার মৃত্যুর খবর ঘোষণা করলেও মৃত্যুর কারণ প্রকাশ করেনি। ব্যাপক অর্থনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে কাতারকে নতুন রূপ দেওয়া, বিশ্বব্যাপী প্রভাব বিস্তার এবং একটি প্রধান জ্বালানি রপ্তানিকারক ও আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দেশটির ভূমিকার জন্য তাকে ব্যাপকভাবে কৃতিত্ব দেওয়া হয়।