• ই-পেপার

কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যুতে ভারতে এক দিনের শোক

লিন্ডসে গ্রাহামের মৃত্যুতে বিপাকে ইউক্রেন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
লিন্ডসে গ্রাহামের মৃত্যুতে বিপাকে ইউক্রেন
ছবি : রয়টার্স

প্রভাবশালী মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের আকস্মিক মৃত্যুতে কিছুটা বিপাকেই পড়েছে ইউক্রেন। গ্রাহাম ছিলেন ওয়াশিংটনে ইউক্রেনের পক্ষে সবচেয়ে সোচ্চার কণ্ঠ। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর গ্রাহাম ১০ বার কিয়েভ সফর করেছেন, যার সর্বশেষটি ছিল গত সপ্তাহে। কিয়েভ থেকে ফেরার কয়েক ঘণ্টা পরই শনিবার সন্ধ্যায় আকস্মিক অসুস্থতায় মৃত্যুবরণ করেন সাউথ ক্যারোলাইনার এই সিনেটর।

লিন্ডসে গ্রাহামের হঠাৎ মৃত্যুতে শোকাহত ইউক্রেনের উপপ্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সিভি রিডেনকো তার শোকবার্তায় বলেন, ‘রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসনজুড়ে সিনেটর গ্রাহাম ইউক্রেনের পাশে এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় সবসময় অবিচল ছিলেন।’

ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গ্রাহাম সেখানে অস্ত্র পাঠানো থেকে শুরু করে অব্যাহত সর্বাত্মক সমর্থন দিয়ে গেছেন। রাশিয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আইন প্রণয়নেও সহ-উদ্যোক্তা ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ এই সহযোগী। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রাথমিক বৈরিতা সম্পর্কেও পুরোপুরি সচেতন ছিলেন তিনি। ট্রাম্পের অবস্থানের সঙ্গে তাল মিলিয়েই তিনি ইউক্রেনের স্বার্থ রক্ষা এবং ট্রাম্পের সঙ্গে জেলেনস্কির সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে কৌশলী ভূমিকা রাখেন।

গত সপ্তাহে সর্বশেষ কিয়েভ সফরে গ্রাহাম ইউক্রেনের একটি ড্রোন কারখানা পরিদর্শন করেন এবং আবারও ইউক্রেনের প্রতি সমর্থনের কথা জোর দিয়ে বলেন। কিয়েভ ছাড়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও গ্রাহাম বলেছিলেন, ‘এই যুদ্ধ শেষ করার সূত্র আমাদের কাছে রয়েছে। ইউক্রেনকে আরও শক্তিশালী হতে সাহায্য করুন। যারা রাশিয়াকে সমর্থন করছে তাদের জানিয়ে দিন যে, এই সমর্থন অব্যাহত রাখলে তাদের চড়া মূল্য দিতে হবে।’ কিয়েভ থেকে ফেরার কয়েক ঘণ্টা পরেই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

২০১৪ সালে রাশিয়া যখন ক্রিমিয়া দখল করে নেয়, তখন গ্রাহামই প্রথম ইউক্রেনকে প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্র পাঠানোর পক্ষে মত দিয়েছিলেন, কারণ সে সময় দেশটির সামরিক বাহিনীর সক্ষমতায় মারাত্মক ঘাটতি ছিল।

ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে হত্যায় তার ঘনিষ্ঠ কাউকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন। পুতিনের সম্ভাব্য হত্যাকারীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেছিলেন, ‘আপনি নিজের দেশ ও বিশ্বের অনেক বড় উপকার করবেন।’ পরবর্তীতে তিনি পুতিনকে একজন ’সন্ত্রাসী ও গুণ্ডা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন।

লিন্ডসে গ্রাহাম এমন একটি আইনেরও সমর্থন করেছিলেন, যা যুক্তরাষ্ট্রকে ইউক্রেনের কোনো অংশে রাশিয়ার সার্বভৌমত্বের দাবিকে স্বীকৃতি দেওয়া থেকে বিরত রাখতো এবং ইউক্রেনের মাটিতে মার্কিন সৈন্যদের দিয়ে ইউক্রেনীয় ইউনিটগুলোকে প্রশিক্ষণ দিত। যদিও এ প্রস্তাব কখনো আলোর মুখ দেখেনি। এছাড়া তিনি ‘স্ট্যান্ড উইথ ইউক্রেন অ্যাক্ট’-এরও সহ-প্রণেতা ছিলেন, যার উদ্দেশ্য ছিল ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা খাতে অস্ত্র ও সরঞ্জামের সরবরাহ এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানো। এই বিলের পক্ষে তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা বিশ্বকে একটি বার্তা দিচ্ছি যে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের পাশে থাকবে, তাদের লড়াই আমাদের লড়াই এবং তাদের ও আমাদের উভয়ের স্বাধীনতাই আজ বিপন্ন।’ তবে গ্রাহামের এই চেষ্টা শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। বিলটি শেষ পর্যন্ত আইনে পরিণত হয়নি।

গ্রাহাম ইউক্রেনের প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলেছেন। গতবছরের ফেব্রুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প-জেলেনস্কির উত্তপ্ত বৈঠকের পর গ্রাহাম প্রথমে জেলেনস্কির পদত্যাগও দাবি করেছিলেন। তবে খুব শিগ্‌গিরই তিনি আবার ইউক্রেনের পক্ষে ওকালতির শুরু করেন। তিনি ট্রাম্পকে ইউক্রেনে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করার জন্য অনুরোধ করেন এবং রাশিয়ান তেল আমদানিকারী যে কোনো দেশের উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের লক্ষ্যে একটি কঠোর নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজের খসড়া তৈরি করেন।

লিন্ডসে গ্রাহামের আকস্মিক মৃত্যু ওয়াশিংটনের সঙ্গে কিয়েভের সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

টান পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারে!

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
টান পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারে!
ছবি : রয়টার্স

যুদ্ধবিরতির সমাপ্তি ঘোষণা করে ইরানে নতুন করে হামলা চালিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের বিপদ ডেকে আনছে কি না, এমন আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ প্রায় ৫ মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রধান অস্ত্রের ভাণ্ডারে টান পড়েছে। বর্তমান হারে ইরানে হামলা চলতে থাকলে অস্ত্রের মজুদ সংকট আরো তীব্র হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুদ ইরান যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে ৩ বছরেরও বেশি সময় লাগতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে চীন বা উত্তর কোরিয়ার দিক থেকে কোনো ঝুঁকি এলে তা মোকাবেলায় মার্কিন সামরিক সক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে, মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছে।

থিংক ট্যাংক ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’-সিএসআইএসের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক এবং অবসরপ্রাপ্ত মেরিন কর্পস কর্নেল মার্ক কানসিয়ান বলেছেন, ‘গত পাঁচ দিন ধরে যেভাবে যুদ্ধ চলছে, তা যদি এই হারেই চলতে থাকে, তবে এটি অস্ত্রের মজুদ এতটাই কমিয়ে দেবে যে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ঝুঁকির একটি নতুন ও উচ্চতর স্তর তৈরি হবে।’ ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশন থিংক ট্যাংকের পররাষ্ট্রনীতি গবেষণা প্রধান মাইকেল ও’হানলন বলেছেন, ‘অস্ত্রের মজুদ যে আমাদের পছন্দের চেয়ে কম রয়েছে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।’

ইরান যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায় থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী দূরপাল্লার হামলা এবং শত্রুর বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে রক্ষা পেতে হাজার হাজার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। কিন্তু সে তুলনায় নতুন অস্ত্রভাণ্ডারে যুক্ত হয়নি। সিএসআইএসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ যখন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়; তত দিনে পেন্টাগন তাদের থাড ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইন্টারসেপ্টরের অন্তত অর্ধেক, প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ইন্টারসেপ্টরের প্রায় অর্ধেক এবং টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের অন্তত ৩০ শতাংশ ব্যবহার করে ফেলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর পুনরায় মজুতকরণের হার খুবই ধীর। চলতি অর্থবছরের সরবরাহ সূচি অনুযায়ী, পেন্টাগন প্রতি মাসে আনুমানিক ১৫টি নতুন টমাহক এবং ২০টি নতুন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র পাচ্ছে। ২০২৬ সালে কোনো থাড সরবরাহের পূর্বাভাস নেই। সিএসআইএস-এর ধারণা, মার্কিন অস্ত্রের মজুত ইরান যুদ্ধের আগের স্তরে ফিরিয়ে নিতে তিন বছর বা তার বেশি সময় লাগবে।

পেন্টাগনের সাবেক ডেপুটি এবং অ্যাক্টিং কমপ্ট্রোলার, বর্তমানে আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো এলেন ম্যাককাস্কার জানিয়েছেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অস্ত্রের পুনরায় মজুত করার সময়কাল বছর দিয়ে হিসাব করতে হবে, অধিকাংশের জন্য দুই থেকে পাঁচ বছর।

সঙ্কট শুধু মজুতে নয়, নতুন করে অস্ত্র তৈরিতে অর্থ পেতেও সমস্যায় পড়ছে ট্রাম্প প্রশাসন। অবসরপ্রাপ্ত দুই তারকা জেনারেল জন ফেরারি, যিনি বর্তমানে আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের সাথে যুক্ত, জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে একটি ক্ষেপণাস্ত্রও প্রতিস্থাপনের জন্য কংগ্রেস একটি ডলারও বাড়তি বরাদ্দ দেয়নি।

পেন্টাগনের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রতিরক্ষা দপ্তর প্রতিরক্ষা শিল্প ভিত্তি দ্রুত সম্প্রসারণ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ত্বরান্বিত করতে এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করতে ট্রাম্প জুনে ডিফেন্স প্রোডাকশন অ্যাক্ট প্রয়োগ করেন এবং প্রতিরক্ষা দপ্তর উৎপাদন লাইন সম্প্রসারণের জন্য নির্মাতাদের সাথে চুক্তি করেছে। ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চাহিদার মধ্যে জার্মানি এবং ইউক্রেনের মতো অন্যান্য দেশগুলোকে অভ্যন্তরীণভাবে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লাইসেন্স চুক্তি দেওয়া হলে তা মার্কিন উৎপাদন লাইনের ওপর চাপ কমাতে পারে। তুরস্কে ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ফাকে কথা বলার সময় ট্রাম্প বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের জন্য এই লাইসেন্সের ঘোষণা দেন। মোদ্দা কথা, অস্ত্রের মজুত বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সম্ভাব্য সব উৎস ব্যবসহারের চেষ্টা করছে। কিন্তু সমস্যা হলো যত চুক্তিই হোক বা অনুমতি দেয়া হোক, রাতারাতি অস্ত্র তৈরি সম্ভব নয়। যে কোনো প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে সময় লাগে। জাপানে প্যাট্রিয়ট কারখানা তৈরি করতে তিন বছর সময় লেগেছিল। ২০২২ সালে উৎপাদন লাইনের কাজ শুরু করার পরও জার্মানি এখনো একটিও প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারেনি।

যুদ্ধবিরতি মার্কিন অস্ত্রভান্ডারে কিছুটা স্বস্তি এনেছিল। কিন্তু নতুন করে যুদ্ধের তীব্রতা অস্ত্রের মজুতের বিষয়টি আবার আলোচনায় এনেছে। অস্ত্রের মজুদের যে অবস্থা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রাসী হুমকির সাথে তাল মিলিয়ে কতদিন বর্তমান তীব্রতায় হামলায় অব্যাহত রাখতে পারেবে তা নিয়েই শঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

দামেস্কে প্রথমবারের মতো বসল নতুন সিরীয় সংসদ

অনলাইন ডেস্ক
দামেস্কে প্রথমবারের মতো বসল নতুন সিরীয় সংসদ
নতুন সংসদ বক্তব্য রাখছেন সিরিয়ার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা, ছবি : বয়টার্স

সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর সিরিয়ার নতুন সংসদ প্রথমবারের মতো অধিবেশনে বসেছে। রবিবার (১২ জুলাই) এই নতুন সিরীয় সংসদ অধিবেশন বসে। অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার উপস্থিতিতে সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন। স্পিকার নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম শুরু করেন।

জানা যায়, ২২০ সদস্যবিশিষ্ট এই সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য নির্বাচিত। বাকিরা প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা কর্তৃক নিযুক্ত হয়েছেন। খবর রয়টার্স

প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহীরা বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার ১৯ মাস পর সিরিয়ার নতুন সংসদ বসলো। যা দেশটির রাজনৈতিক রূপান্তরের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক।  

দামেস্কের সংসদে দেওয়া এক ভাষণে শারা আইন প্রণেতাদের উদ্দেশে বলেন, ‘এই কাউন্সিলকে দায়িত্বশীলতা ও যোগ্যতার একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে গড়ে তুলুন।’

 সংসদকে সত্য ও ন্যায়ের একটি মঞ্চ হিসেবেও বর্ণনা করেন সিরিয়ার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট।

তিনি বলেন, ‘সিরিয়া এক গৌরবময় ইতিহাস রচনা করছে যা তার বীরত্বকে প্রতিফলিত করে। আমাদের সামনে এখন জাতি ও ব্যক্তি উভয়কেই গড়ে তোলার দায়িত্ব রয়েছে।’

দশক ধরে আসাদ পরিবারের চালানো একটি পুলিশি রাষ্ট্র—যেখানে আইনসভাকে কেবল নামমাত্র বা রবার স্ট্যাম্প হিসেবে দেখা হতো—সেই সিরিয়ায় একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নতুন ব্যবস্থা গড়ে তোলার যে প্রতিশ্রুতি শারা দিয়েছিলেন, এই সংসদকে তারই একটি পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইরানে ১৪০ লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, ৫ দেশে মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা তেহরানের

ক্রীড়া ডেস্ক
ইরানে ১৪০ লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, ৫ দেশে মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা তেহরানের
বাঁয়ে ইরানের অজ্ঞাত সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দৃশ্য, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলার পর ধোঁয়া দেখা যাচ্ছে ছবি : রয়টার্স

ইরানে ১৪০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলার দাবি করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। জবাবে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার এবং কুয়েতসহ ৫ উপসাগরীয় দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান। 

হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং ইরান কর্তৃক আন্তর্জাতিক নৌ রুটটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণার পর দুই দেশের মধ্যে এই ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

 সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে ইরানে তৃতীয় দফার সামরিক অভিযান শেষ হয়েছে। 

হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক সাইপ্রাসের পতাকাবাহী একটি জাহাজে হামলার প্রেক্ষিতে ইরানি বাহিনীকে জবাবদিহির আওতায় আনতেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

সেন্টকম আরো জানিয়েছে, হামলায় জাহাজের একজন বেসামরিক ক্রু নিখোঁজ রয়েছেন। জাহাজে আগুন লাগায় ইঞ্জিন রুমের ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়। এত চলার অনুপোযোগী হয়ে পড়ে।

এর চার ঘন্টা পর মার্কিন হামলা সম্পন্ন হয়েছে বলে সেন্টকমের দাবি, সর্বশেষ অভিযানে প্রায় ১৪০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে ছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি, নৌঘাঁটি, গোলাবারুদের গুদাম, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক এবং উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র। যা আগের দুই দফার চেয়ে অনেক বেশি ছিল।

এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, ওমানের দুকম বন্দরে মার্কিন বিমানবাহী রণতরির জন্য ব্যবহৃত রসদ সরবরাহ কেন্দ্র ও জ্বালানি ভরার স্থাপনায় তারা ‘ভারী ও আকস্মিক’ হামলা চালিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি এ তথ্য জানিয়েছে। 

আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগ দাবি করেছে, হামলায় এসব স্থাপনা ধ্বংস হয়ে গেছে। তারা আরো বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিমান হামলার জবাবে এটি তাদের পাল্টা অভিযানের তৃতীয় ধাপ।

আইআরজিসি আরো দাবি করেছে, কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় যুদ্ধবিমান রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত কেন্দ্র এবং ঘাঁটির কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র ধ্বংস হয়েছে।

তবে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কাতারের আকাশসীমা লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র তারা সফলভাবে প্রতিহত করেছে।

ইরানি বাহিনী দাবি করেছে, তারা কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে ধারাবাহিকভাবে ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

তাদের দাবি, কুয়েতে বিস্ফোরকবাহী ড্রোন দিয়ে মার্কিন প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, একটি গোলাবারুদের গুদাম এবং একটি রাডার স্থাপনাকে লক্ষ্য করা হয়েছে।

এ ছাড়া বাহরাইনে মার্কিন বাহিনীর একটি যোগাযোগ ব্যবস্থা ও রাডার স্থাপনায়ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের সেনাবাহিনী।

ইরানের ভাষ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত হামলার জবাব হিসেবেই এসব অভিযান চালানো হয়েছে।