• ই-পেপার

প্রযুক্তিবিদদের প্রত্যাশা

বৈশ্বিক প্রযুক্তিতে ভারতকে টেক্কা দেবে বাংলাদেশ

এআই কম্পানির শেয়ারে জনগণের অংশীদারি চান বেশির ভাগ মার্কিনি

অনলাইন ডেস্ক
এআই কম্পানির শেয়ারে জনগণের অংশীদারি চান বেশির ভাগ মার্কিনি
ছবি : রয়টার্স

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এআই কম্পানিগুলোর শেয়ারে জনগণের অংশীদারি চায় দেশটির বেশির ভাগ মানুষ। প্রযুক্তি খাতে বাড়তে থাকা চাকরি ছাঁটাইয়ের কারণে এমন দাবি জোরালো হচ্ছে।

রবিবার (১২ জুলাই) সিএনবিসির এক প্রতিবেদন এ তথ্য দেয়।

সম্প্রতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ভেরাসাইট একটি জরিপ প্রকাশ করেছে। এতে ১ হাজার ৬৯০ জন প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নেন।

জরিপে ৬৯ শতাংশ মানুষ বলেছেন, বড় এআই কম্পানিগুলোকে তাদের ৫০ শতাংশ শেয়ার একটি সরকারি সম্পদ তহবিলে (সোভারেন ওয়েলথ ফান্ড) দিতে বাধ্য করা উচিত। এই তহবিলের লাভ জনগণের কল্যাণে ব্যবহার করা যাবে।

ভেরাসাইটের প্রধান নির্বাহী বেঞ্জামিন লেফ বলেন, সাধারণ মানুষ চান এআই শিল্পের লাভের একটি অংশ সমাজের সবাই যেন পায়।

গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স আমেরিকান এআই সোভারেন ওয়েলথ ফান্ড অ্যাক্ট নামে একটি বিল উত্থাপন করেন। বিলটি পাস হলে দেশের বড় এআই কম্পানিগুলোর ৫০ শতাংশ শেয়ার জনগণের জন্য সংরক্ষিত হবে।

স্যান্ডার্স বলেন, এআই থেকে যে আয় হবে, তার সুফল শুধু ধনীরা নয়, দেশের সব মানষের পাওয়া উচিত।

এদিকে প্রযুক্তি খাতে চাকরি ছাঁটাই বাড়ছে। এতে অনেক কর্মী ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। তবে প্রতিষ্ঠানগুলো এআই খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়েই চলেছে।

বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ১০ বছরে এআই প্রযুক্তির কারণে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ মার্কিনি চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। তবে দীর্ঘ মেয়াদে এআই নতুন কর্মসংস্থানও তৈরি করবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই সম্পদ তহবিল গঠন করা হলে এআই খাতের লাভের একটি অংশ জনগণের কল্যাণে ব্যয় করা সম্ভব হবে। তবে এ ধরনের তহবিল পরিচালনায় নানা চ্যালেঞ্জও রয়েছে।

গোপন তথ্য চুরির অভিযোগে ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে অ্যাপলের মামলা

অনলাইন ডেস্ক
গোপন তথ্য চুরির অভিযোগে ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে অ্যাপলের মামলা
ছবি : রয়টার্স

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপল গোপন বাণিজ্যিক তথ্য চুরির অভিযোগে ওপেনএআই এবং অ্যাপলের সাবেক দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালতে মামলাটি করা হয়।

শনিবার (১১ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

অ্যাপলের অভিযোগ, ওপেনএআই সাবেক কর্মীদের মাধ্যমে অ্যাপলের গোপন হার্ডওয়্যার নকশা, উৎপাদন পদ্ধতি এবং সরবরাহকারীসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করেছে। এসব তথ্য ব্যবহার করে তারা নিজেদের নতুন হার্ডওয়্যার পণ্য তৈরির কাজ এগিয়ে নিতে চেয়েছে।

মামলায় অভিযুক্ত দুই সাবেক কর্মকর্তা হলেন চ্যাং লিউ ও ট্যাং ইউ ট্যান। অ্যাপলের দাবি, চাকরি ছাড়ার আগে তারা কম্পানির গোপন তথ্য নিজেদের কাছে পাঠিয়েছিলেন।

অ্যাপল আরো জানিয়েছে, বর্তমানে ওপেনএআইয়ে অ্যাপলের সাবেক ৪০০ জনের বেশি কর্মী কাজ করছেন। তবে শুধু সাবেক কর্মী নিয়োগ দেওয়া আইনবিরোধী নয়। কিন্তু গোপন তথ্য ব্যবহার করা হলে সেটি আইনের লঙ্ঘন হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের মত।

ওপেনএআই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের গোপন তথ্য ব্যবহারে তাদের আগ্রহ নেই। তারা নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের দিকেই মনোযোগ দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই মামলা এআই ডিভাইসের বাজারে অ্যাপল ও ওপেনএআইয়ের প্রতিযোগিতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। কারণ, ওপেনএআই নিজস্ব ফোন বা অন্য কোনো স্মার্ট ডিভাইস তৈরির পরিকল্পনা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত বছর ওপেনএআই অ্যাপলের সাবেক ডিজাইনার জনি আইভের প্রতিষ্ঠিত হার্ডওয়্যার কম্পানি আইও প্রোডাক্টস ৬৫০ কোটি মার্কিন ডলারে কিনে নেয়। এর পর থেকেই সফটওয়্যারের পাশাপাশি হার্ডওয়্যার পণ্য তৈরির দিকেও প্রতিষ্ঠানটি জোর দিচ্ছে।

এআইয়ের চাহিদা কমেনি, ব্যয়ের হিসাব কষছে প্রতিষ্ঠানগুলো

অনলাইন ডেস্ক
এআইয়ের চাহিদা কমেনি, ব্যয়ের হিসাব কষছে প্রতিষ্ঠানগুলো
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির চাহিদা এখনো অনেক বেশি। তবে এখন প্রতিষ্ঠানগুলো এআই ব্যবহারে শুধু প্রযুক্তির সক্ষমতা নয়, এর খরচ ও লাভও বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। এমনটাই জানিয়েছেন এআই খাতের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা।

রবিবার (১২ জুলাই) মার্কিন সংবাদমাধ্যম  সিএনবিসি-র দেওয়া এক প্রতিবেদন এ তথ্য দেয়।

শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে এআই অবকাঠামোর চাহিদা এত বেশি যে অনেক প্রতিষ্ঠান সেই চাহিদা পূরণই করতে পারছে না। তাই বাজারে অতিরিক্ত সক্ষমতা তৈরি হয়েছে—এমন ধারণার সঙ্গে তারা একমত নন।

ইন্টেলের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং বর্তমানে প্লেগ্রাউন্ড গ্লোবালের জেনারেল পার্টনার প্যাট গেলসিঙ্গার বলেন, এআইয়ের চাহিদা প্রায় সীমাহীন।এখন সবচেয়ে বড় বাধা হলো পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ। কারণ, এআই চালাতে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রয়োজন।

ডাটা সেন্টার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নেবিয়াসের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মার্ক বোরোডিটস্কি বলেন, তাদের কাছে চাহিদা এত বেশি যে সব গ্রাহকের প্রয়োজন মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে সেরেব্রাস সিস্টেমসের প্রধান নির্বাহী অ্যান্ড্রু ফেল্ডম্যান বলেন, মেটা ও এক্সএআই অতিরিক্ত কম্পিউটিং সক্ষমতা ভাড়া দেওয়ার ঘটনা পুরো শিল্পের চিত্র নয়। এআই খাতে এখনো পর্যাপ্ত ডাটা সেন্টার ও কম্পিউটিং সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে।

 

দক্ষিণ কোরিয়ার এআই চিপ নির্মাতা স্টার্টআপ রেবেলিয়নসের প্রধান নির্বাহী সাংইয়ুন পার্কও বলেন, এআই অবকাঠামোয় বিনিয়োগের গতি এখনো খুব শক্তিশালী। বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো অতিরিক্ত বিনিয়োগ করছে—এমনটি তিনি মনে করেন না।

অন্যদিকে, ডাটা সেন্টারের জন্য অপটিক্যাল যন্ত্রাংশ নির্মাতা লুমেন্টামের প্রধান নির্বাহী মাইকেল হার্লস্টন বলেন, আগামী পাঁচ বছরের উৎপাদন সক্ষমতাও আগেই বিক্রি হয়ে গেছে। তাই চাহিদা মেটাতে তারা উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছেন।

তবে এআই ব্যবহারে এখন প্রতিষ্ঠানগুলোর দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন এসেছে। আগে অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মীদের যত বেশি সম্ভব এআই ব্যবহার করতে উৎসাহ দিত। এখন তারা দেখছে, এআই ব্যবহারে কতটা ব্যাবসায়িক লাভ হচ্ছে।

মার্ক বোরোডিটস্কি বলেন, শুধু বেশি এআই ব্যবহার করাই লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়। বরং এমনভাবে এআই ব্যবহার করতে হবে, যাতে খরচের তুলনায় ভালো ফল পাওয়া যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে সব কাজের জন্য একই ধরনের এআই মডেল ব্যবহার করা হবে না। জটিল কাজের জন্য শক্তিশালী ও ব্যয়বহুল মডেল ব্যবহার করা হবে। আর সাধারণ কাজের জন্য কম খরচের মডেলই যথেষ্ট হবে। এতে প্রতিষ্ঠানগুলোর খরচ কমবে এবং এআই ব্যবহারে দক্ষতা আরো বাড়বে।

ইনস্টাগ্রামের বিতর্কিত ফিচার বন্ধ করল মেটা

অনলাইন ডেস্ক
ইনস্টাগ্রামের বিতর্কিত ফিচার বন্ধ করল মেটা
সংগৃহীত ছবি

মেটা ব্যবহারকারীদের তীব্র সমালোচনার মুখে ইনস্টাগ্রামের একটি বিতর্কিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ফিচার বন্ধ করে দিয়েছে। এই ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা পাবলিক ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের ছবি এআই দিয়ে পরিবর্তন বা নতুনভাবে তৈরি করতে পারতেন। তবে ফিচারটি চালুর পর থেকেই ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও অপব্যবহারের আশঙ্কা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়। খবর টেক ক্রাঞ্চ

চলতি সপ্তাহেই মেটা তাদের নতুন এআই ইমেজ জেনারেটর ‘মিউজ ইমেজ’ উন্মোচন করে। নতুন এই টুলের অন্যতম আলোচিত সুবিধা ছিল, ব্যবহারকারীরা কোনো পাবলিক ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টকে মেনশন করে সেই অ্যাকাউন্টের ছবিকে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করে নতুন এআইনির্ভর ছবি তৈরি করতে পারতেন।

তবে বিতর্কের মূল কারণ ছিল, যার ছবি ব্যবহার করা হচ্ছে তাকে এ বিষয়ে কোনো ধরনের নোটিফিকেশন পাঠানো হতো না। ফলে অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এই ফিচার ব্যবহার করে অনুমতি ছাড়াই অন্যের ছবি পরিবর্তন বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি করা হতে পারে।

সমালোচনার মুখে নিজেদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে মেটা। শুক্রবার প্রকাশিত এক ব্লগ পোস্টে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ফিচারটি আর ব্যবহার করা যাবে না। ব্লগে মেটা লিখেছে, আমাদের উদ্দেশ্য ছিল এমন একটি সৃজনশীল টুল দেয়া, যেখানে মানুষ তাদের পাবলিক কনটেন্ট এভাবে ব্যবহার করার বিষয়ে নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারবেন। তবে আমরা ব্যবহারকারীদের মতামত শুনেছি এবং বুঝেছি, এই ফিচারটি প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। তাই এটি আর থাকছে না।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার বেড়েছে। বিশেষ করে নারী তারকাদের ভুয়া বা অশালীন ছবি তৈরির মতো ঘটনায় এআই ব্যবহারের অভিযোগ বারবার উঠে এসেছে। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম এ ধরনের অপব্যবহার ঠেকাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করলেও সেগুলো সব সময় কার্যকর হয়নি।