• ই-পেপার

ইনস্টাগ্রামের বিতর্কিত ফিচার বন্ধ করল মেটা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিষেকেই ২০% লাফ দিতে পারে এসকে হাইনিক্সের শেয়ার

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রে অভিষেকেই ২০% লাফ দিতে পারে এসকে হাইনিক্সের শেয়ার
ছবি : রয়টার্স

দক্ষিণ কোরিয়ার চিপ নির্মাতা এসকে হাইনিক্সের শেয়ার যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে প্রথম দিনেই প্রায় ২০ শতাংশ বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির ২৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার কিনতে বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাসডাক শেয়ারবাজারে এসকে হাইনিক্সের শেয়ারের প্রস্তাবিত দাম ছিল ১৪৯ ডলার। তবে লেনদেন শুরুর সময় এর দাম প্রায় ১৮০ ডলারে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এসকে হাইনিক্স বিশ্বের সবচেয়ে বড় এআই মেমোরি চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। এই চিপগুলো এনভিডিয়া ও এএমডির মতো কম্পানির এআই প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত হয়।

শেয়ার বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে এসকে হাইনিক্স নতুন কারখানা তৈরি করবে এবং ব্যবসা আরও সম্প্রসারণ করবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বড় বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকেও সহজে বিনিয়োগ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেয়ার বিক্রির জন্য বিনিয়োগকারীদের চাহিদা ছিল বরাদ্দের সাত গুণেরও বেশি। বিশ্লেষকদের মতে, এটি এআই-সংশ্লিষ্ট সেমিকন্ডাক্টর খাতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা এখনো শক্তিশালী থাকার ইঙ্গিত দেয়।

 

যদিও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এআই খাতে ব্যয় কমতে পারে—এমন আশঙ্কায় চিপ কোম্পানিগুলোর শেয়ারে কিছুটা চাপ দেখা গেছে। তবুও গত এক বছরে এসকে হাইনিক্সের শেয়ারের দাম প্রায় ৬৩০ শতাংশ বেড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ায় এসকে হাইনিক্স আরও বেশি বিনিয়োগকারী পাবে। এতে প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক্রনের সঙ্গে বাজারমূল্যের ব্যবধানও কমতে পারে। এছাড়া ২০২৭ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে ক্লাউড ও এআই অবকাঠামোয় বিনিয়োগ প্রায় ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

সেপ্টেম্বর থেকে এআই চিপ উৎপাদনে যাচ্ছে মেটা

অনলাইন ডেস্ক
সেপ্টেম্বর থেকে এআই চিপ উৎপাদনে যাচ্ছে মেটা
সংগৃহীত ছবি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সক্ষমতা বাড়াতে নিজস্ব এআই চিপ তৈরি শুরু করতে যাচ্ছে মেটা। প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ এক নথি অনুযায়ী, আগামী সেপ্টেম্বর থেকে ‘আইরিস’ নামের এআই চিপের উৎপাদন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে মেটার।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রয়টার্সের এক প্রতিবেদন এ তথ্য জানায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেটা নিজস্ব প্রযুক্তিতে এই চিপ তৈরি করছে। এটি ‘মেটা ট্রেনিং অ্যান্ড ইনফারেন্স অ্যাকসেলারেটর’ প্রকল্পের অংশ। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে ব্যবহৃত এআই প্রযুক্তিকে আরো দ্রুত ও কার্যকর করতে এই চিপ ব্যবহার করা হবে।

মেটা বর্তমানে এআই প্রযুক্তি চালানোর জন্য এনভিডিয়া ও এএমডির কাছ থেকে বিপুল সংখ্যক জিপিইউ (গ্রাফিকস প্রসেসিং ইউনিট) কিনে থাকে। তবে নিজস্ব এআই চিপ তৈরি করতে পারলে খরচ কমবে এবং অন্য প্রতিষ্ঠানের চিপের ওপর নির্ভরতাও কমবে বলে আশা করছে মেটা।

নথি অনুযায়ী, ‘আইরিস’ চিপের পরীক্ষা মাত্র ছয় সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হয়েছে এবং এতে বড় কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। চিপটির নকশা তৈরিতে মেটাকে সহায়তা করছে ব্রডকম। আর চিপটি তৈরি করবে তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কম্পানি (টিএসএমসি)।

মেটা জানিয়েছে, ২০২৬ সালের মধ্যে তাদের কম্পিউটিং সক্ষমতা ৭ গিগাওয়াটে বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর ২০২৭ সালে এই সক্ষমতা দ্বিগুণ করে ১৪ গিগাওয়াটে নেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এক গিগাওয়াট বিদ্যুৎ দিয়ে প্রায় ৮ লাখ বাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব।

এআই অবকাঠামো সম্প্রসারণে চলতি বছর মেটা প্রায় ১৪৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ব্যয় করতে পারে বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ জন্য মেমোরি চিপ, ফ্ল্যাশ স্টোরেজ ও ফাইবার-অপটিক সরঞ্জামের জন্য দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিও করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন নিজেদের এআই চিপ তৈরির দিকে ঝুঁকছে। কারণ এআই মডেল চালাতে প্রয়োজনীয় চিপের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে এবং নিজস্ব চিপ থাকলে খরচ ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় সুবিধা পাওয়া যায়।

ইইউর ডিজিটাল আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে মেটা

অনলাইন ডেস্ক
ইইউর ডিজিটাল আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে মেটা
ছবি : রয়টার্স

ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের কিছু ফিচার ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মে আটকে রাখে। এমন ‘আসক্তিকর’ নকশার কারণে মেটা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ডিজিটাল আইন লঙ্ঘন করেছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছে ইউরোপীয় কমিশন।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সিএনবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মেটার কিছু ফিচার ব্যবহারকারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের সুরক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি যথেষ্ট ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ইউরোপীয় কমিশনের মতে, ইনফিনিট স্ক্রল, অটোপ্লে, পুশ নোটিফিকেশন এবং ব্যবহারকারীর পছন্দ অনুযায়ী কনটেন্ট দেখানোর মতো ফিচার মানুষকে দীর্ঘ সময় অ্যাপে রাখে। এতে অনেক ব্যবহারকারী বারবার অ্যাপ ব্যবহার করতে থাকেন। এমনকি এসব ফিচার থেকে আসক্তিও তৈরি হতে পারে।

এসব ঝুঁকি কমাতে মেটা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়নি। তাই প্রাথমিকভাবে প্রতিষ্ঠানটি ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট (ডিএসএ) লঙ্ঘন করেছে বলে মনে করছে কমিশন।

অভিযোগ প্রমাণিত হলে, মেটাকে তাদের বৈশ্বিক বার্ষিক আয়ের সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা দিতে হতে পারে।

তবে এসব অভিযোগ মানতে রাজি নয় মেটা। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র বলেন, কিশোরদের নিরাপত্তার জন্য তারা এরই মধ্যে বেশ কিছু নতুন ব্যবস্থা চালু করেছে। তাই ইউরোপীয় কমিশনের প্রাথমিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে তারা একমত নয়।

মেটা জানিয়েছে, তারা ‘টিন অ্যাকাউন্টস’ নামে একটি বিশেষ সুবিধা চালু করেছে। এর মাধ্যমে অভিভাবকেরা সন্তানদের অ্যাপ ব্যবহারের ওপর নজর রাখতে ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। এই সুবিধায় রাতে অ্যাপ ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা দেওয়া এবং প্রতিদিন কতক্ষণ অ্যাপ ব্যবহার করা যাবে, সেটির সময় নির্ধারণের সুযোগ রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি আরো জানায়, শিশু ও কিশোরদের জন্য নিরাপদ অনলাইন পরিবেশ গড়ে তুলতে তারা ইউরোপীয় কমিশনের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে। তবে কমিশনের অভিযোগের বিষয়ে তারা নিজেদের অবস্থান তুলে ধরবে।

এটি এখন ইউরোপীয় কমিশনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত। মেটা তাদের জবাব দেওয়ার সুযোগ পাবে। এরপর কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে এবং প্রয়োজন হলে জরিমানাসহ অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

কিশোরদের এআই চ্যাটবট আসক্তি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

অনলাইন ডেস্ক
কিশোরদের এআই চ্যাটবট আসক্তি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বজুড়ে কিশোর-কিশোরীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনতে একের পর এক আইন করছে বিভিন্ন দেশ। অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, স্পেন, কানাডাসহ কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব আইনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রায় উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে—এআই চ্যাটবট।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সিএনবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় অর্ধেক কিশোর চ্যাটজিপিটি, মাইক্রোসফট কোপাইলট ও ক্যারেক্টার.এআইয়ের মতো এআই চ্যাটবট ব্যবহার করছে। কেউ পড়াশোনার কাজে, কেউ তথ্য জানতে, আবার কেউ শুধু সময় কাটাতে এসব ব্যবহার করছে। কিন্তু ধীরে ধীরে অনেক কিশোর এসব চ্যাটবটের ওপর মানসিকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক কিশোর এখন বাস্তব জীবনের বন্ধু বা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার পরিবর্তে এআই চ্যাটবটের সঙ্গে বেশি সময় কাটাচ্ছে। কারণ চ্যাটবট সব সময় উত্তর দেয়, সমর্থন করে এবং ব্যবহারকারীর কথার বিরোধিতা খুব কমই করে। ফলে অনেকেই বাস্তব সম্পর্কের চেয়ে এআইকে বেশি স্বস্তিদায়ক মনে করতে শুরু করছে।

পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় অর্ধেক কিশোর কোনো না কোনোভাবে এআই চ্যাটবট ব্যবহার করে। একই সঙ্গে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, অনেক কিশোরের মধ্যে এসব চ্যাটবট ব্যবহারে আসক্তির লক্ষণও দেখা দিচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন–এর ডিজিটাল হিউম্যানিটিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ক্যাটলিন রেগার বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ার ক্ষেত্রে যে ভুল হয়েছিল, এআইয়ের ক্ষেত্রেও যেন সেই একই ভুল না হয়। 

তার মতে, পরীক্ষিত নয়—এমন এআই প্রযুক্তি শিশু-কিশোরদের হাতে পৌঁছে যাচ্ছে, অথচ এর ঝুঁকি মোকাবেলায় পর্যাপ্ত নিয়ম-কানুন নেই।

আরেক বিশেষজ্ঞ, লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের অধ্যাপক সোনিয়া লিভিংস্টোন বলেন, সরকারগুলো এআই প্রযুক্তিতে বিনিয়োগকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। কিন্তু শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইন ও নীতিমালা তৈরির গতি খুবই ধীর।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাজ্যে ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য কিছু ধরনের এআই ‘রোমান্টিক কম্প্যানিয়ন’ চ্যাটবটের ওপর বিধিনিষেধ আনার কথা বলা হয়েছে। তবে সাধারণ এআই চ্যাটবট ব্যবহারের বিষয়ে এখনো কোনো বিস্তৃত নীতিমালা নেই।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের সঙ্গে এআই চ্যাটবটের যোগাযোগ সীমিত করতে একটি বিল প্রতিনিধি পরিষদে পাস হয়েছে। তবে এটি এখনো সিনেটের অনুমোদন পায়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিশোরদের সোশ্যাল মিডিয়ার মতো এআই চ্যাটবটের ক্ষেত্রেও একই ধরনের আসক্তি ও মানসিক নির্ভরশীলতা তৈরি হতে পারে। তাই এখনই কার্যকর আইন ও নীতিমালা না করলে ভবিষ্যতে এর নেতিবাচক প্রভাব আরো বাড়তে পারে।