ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের কিছু ফিচার ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মে আটকে রাখে। এমন ‘আসক্তিকর’ নকশার কারণে মেটা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ডিজিটাল আইন লঙ্ঘন করেছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছে ইউরোপীয় কমিশন।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সিএনবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মেটার কিছু ফিচার ব্যবহারকারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের সুরক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি যথেষ্ট ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ইউরোপীয় কমিশনের মতে, ইনফিনিট স্ক্রল, অটোপ্লে, পুশ নোটিফিকেশন এবং ব্যবহারকারীর পছন্দ অনুযায়ী কনটেন্ট দেখানোর মতো ফিচার মানুষকে দীর্ঘ সময় অ্যাপে রাখে। এতে অনেক ব্যবহারকারী বারবার অ্যাপ ব্যবহার করতে থাকেন। এমনকি এসব ফিচার থেকে আসক্তিও তৈরি হতে পারে।
এসব ঝুঁকি কমাতে মেটা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়নি। তাই প্রাথমিকভাবে প্রতিষ্ঠানটি ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট (ডিএসএ) লঙ্ঘন করেছে বলে মনে করছে কমিশন।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে, মেটাকে তাদের বৈশ্বিক বার্ষিক আয়ের সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা দিতে হতে পারে।
তবে এসব অভিযোগ মানতে রাজি নয় মেটা। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র বলেন, কিশোরদের নিরাপত্তার জন্য তারা এরই মধ্যে বেশ কিছু নতুন ব্যবস্থা চালু করেছে। তাই ইউরোপীয় কমিশনের প্রাথমিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে তারা একমত নয়।
মেটা জানিয়েছে, তারা ‘টিন অ্যাকাউন্টস’ নামে একটি বিশেষ সুবিধা চালু করেছে। এর মাধ্যমে অভিভাবকেরা সন্তানদের অ্যাপ ব্যবহারের ওপর নজর রাখতে ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। এই সুবিধায় রাতে অ্যাপ ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা দেওয়া এবং প্রতিদিন কতক্ষণ অ্যাপ ব্যবহার করা যাবে, সেটির সময় নির্ধারণের সুযোগ রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি আরো জানায়, শিশু ও কিশোরদের জন্য নিরাপদ অনলাইন পরিবেশ গড়ে তুলতে তারা ইউরোপীয় কমিশনের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে। তবে কমিশনের অভিযোগের বিষয়ে তারা নিজেদের অবস্থান তুলে ধরবে।
এটি এখন ইউরোপীয় কমিশনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত। মেটা তাদের জবাব দেওয়ার সুযোগ পাবে। এরপর কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে এবং প্রয়োজন হলে জরিমানাসহ অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।






