• ই-পেপার

কর মওকুফের অর্থ গবেষণা ও শিক্ষার মানোন্নয়নে ব্যয়ের আহ্বান অর্থমন্ত্রীর

রাত ও সকালে যেসব এলাকায় ভারি বৃষ্টির শঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক
রাত ও সকালে যেসব এলাকায় ভারি বৃষ্টির শঙ্কা
সংগৃহীত ছবি

উত্তরের তিন বিভাগে রাত থেকে সকালের মধ্যে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছেন কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ।

একই ধরনের বার্তা দিয়েছে দেশের আবহাওয়া পর্যবেক্ষক দল বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারবেশন টিম (বিডব্লিউওটি)। রবিবার (১২ জুলাই) রাতে পৃথক পৃথক ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়।
 
আবহাওয়াবিদ পলাশ তার পোস্টে লিখেছেন, রোববার রাত সাড়ে ৮টার পর সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল ৮টার মধ্যে দেশের উত্তর দিকের ৩ বিভাগের বিভিন্ন জেলায় মাঝারি থেকে ভারি মানের বৃষ্টির আশঙ্কা করা যাচ্ছে। বিশেষ করে নিম্নলিখিত বিভাগ ওজেলাগুলোত মাঝারি থেকে ভারি মানের বৃষ্টি হতে পারে।
 
ঢাকা : ঢাকা শহরসহ বিভাগের সব জেলায় মাঝারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাতের শঙ্কা রয়েছে। তবে ঢাকা শহরের উত্তর দিকের জেলাগুলোতে বৃষ্টিপাতের শঙ্কা বেশি।
 
রাজশাহী : সকল জেলায় মাঝারি থেকে ভারি মানের বৃষ্টিপাতের শঙ্কা রয়েছে।
 
রংপুর : বিভাগের সব জেলায় ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাতের প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।
 
ময়মনসিংহ : জামালপুর, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, শেরপুর জেলায় ভারি বৃষ্টিপাতের প্রবল শঙ্কা রয়েছে।
 
সিলেট : সব জেলায় বৃষ্টি হতে পারে। তবে অপেক্ষাকৃত বেশি পরিমাণে বৃষ্টির আশঙ্কা সুনামগঞ্জ ও সিলেট জেলায়।

এদিকে উত্তরাঞ্চলে ভারি বৃষ্টির শঙ্কা জানিয়ে বিডব্লিউওটি বলছে, বগুড়া, গাইবান্ধা, জামালপুর, জয়পুরহাট, রংপুর, নীলফামারী, পঞ্চগড়, লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও ও কুড়িগ্রামে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টি চলছে। যা রাত বাড়ার সঙ্গে ক্রমশ পূর্ব দিকে বিস্তৃত হয়ে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের সব এলাকা এবং ঢাকা বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতে পারে। এছাড়া আরো নতুন নতুন মেঘ তৈরি হয়ে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের আরও কিছু এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতে পারে।  
 
এতে আজ রাতে উত্তরাঞ্চলের অনেক এলাকায় ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টি হতে পারে।
 
এছাড়াও রাজশাহী খুলনা বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের বেশকিছু এলাকায় সকালের মধ্যে বিক্ষিপ্তভাবে ভারি বৃষ্টির মেঘমালা সৃষ্টি হতে পারে। যে কারণে এসব এলাকাতেও ভারি বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে, আজ রাত ও আগামীকাল দুপুরের মধ্যে। এ সময় বজ্রপাত নিয়ে বিশেষভাবে সতর্ক করেছে বিডব্লিউওটি। 

চট্টগ্রামে বন্যাকবলিত এলাকায় সেনাবাহিনীর মানবিক সহায়তা অব্যাহত

অনলাইন ডেস্ক
চট্টগ্রামে বন্যাকবলিত এলাকায় সেনাবাহিনীর মানবিক সহায়তা অব্যাহত

চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকে খাদ্যসামগ্রী, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

রবিবার (১২ জুলাই) আইএসপিআর সূত্রে এতথ্য জানা যায়।

আইএসপিআর জানায়, সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন এবং ২৪ পদাতিক ডিভিশনের উদ্যোগে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, লোহাগড়া, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, বোয়ালখালী, হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি উপজেলাসহ পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ এবং বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেটসহ বন্যাকবলিত ১১ জেলায় বিজিবি মোতায়েন

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেটসহ বন্যাকবলিত ১১ জেলায় বিজিবি মোতায়েন
বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও মনিটর করছে বিজিবি। ছবি : সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম, বান্দরবান, কক্সবাজার, সিলেটসহ বন্যাকবলিত ১১ জেলায় বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে এসব জেলার ৯০টি পয়েন্টে বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও মনিটর করছে বিজিবি। প্রয়োজন অনুযায়ী উদ্ধার, ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে। আজ রবিবার বিজিবি সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, টানা ভারি বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল, বন্যা ও ভূমিধসে সৃষ্ট দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের উদ্ধার, নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা, ত্রাণসামগ্রী বিতরণ, জরুরি চিকিৎসা সহায়তা প্রদান, ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষায় বান্দরবান, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, ফেনী, সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও জামালপুর জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবেলায় এসব জেলাগুলোতে মোট ৯০টি পয়েন্টে বিজিবির সার্বক্ষণিক বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক উদ্ধার ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। 

এখন পর্যন্ত শুধু বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকা থেকে ১১৬ জন পর্যটকসহ ১২২টি পরিবারের ৬ শতাধিক মানুষকে উদ্ধার করেছে বিজিবি। পাশাপাশি খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, ৪৮ জনকে জরুরি চিকিৎসাসেবা, বান্দরবান-রোয়াংছড়ি সড়ক থেকে গাছ ও ধ্বংসাবশেষ অপসারণ এবং নাইক্ষ্যংছড়িতে ঝুঁকিপূর্ণ সেতু রক্ষায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাও নিয়েছে বিজিবি।

১৪ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ

ইউএস-বাংলার বহরে আসছে ২১ ব্র্যান্ডনিউ বোয়িং

নিজস্ব প্রতিবেদক
ইউএস-বাংলার বহরে আসছে ২১ ব্র্যান্ডনিউ বোয়িং

দেশের বেসরকারি বিমান পরিবহন খাতে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস। বহর সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ২০২৭ সালের মধ্যে ২১টি ব্র্যান্ডনিউ বোয়িং ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ যুক্ত হচ্ছে এয়ারলাইনসটিতে। বিশ্বসেরা ৫টি এয়ারক্রাফট লিজিং প্রতিষ্ঠান ইউএস-বাংলাকে এই উড়োজাহাজগুলো দিচ্ছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ১.১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা)।

​বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনকে পাঠানো ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি চিঠি থেকে এই বিনিয়োগের তথ্য জানা গেছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের এই নতুন উড়োজাহাজগুলো যুক্ত হওয়ার পর ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে আঞ্চলিক হাব হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এসব বিমানবন্দর থেকে দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন নতুন গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করবে ইউএস-বাংলা। আগামী ২৯ জুলাই রাজধানীতে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বোয়িং এবং ইউএস-বাংলা যৌথভাবে এই বহর সম্প্রসারণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবে। অনুষ্ঠানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং বোয়িংয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

বর্তমানে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক আকাশপথের সিংহভাগ বিদেশি এয়ারলাইনসের নিয়ন্ত্রণে থাকায় প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে চলে যায়। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, দেশীয় ক্যারিয়ারগুলোর সক্ষমতা বাড়লে বিদেশি এয়ারলাইনসের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং দেশের অভ্যন্তরে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল হবে।

এভিয়েশন ও বিমান নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, দেশের কোনো সরকারি বা বেসরকারি এয়ারলাইনস এর আগে একসঙ্গে এত বড় পরিসরে বহর সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়নি। আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের এই উদ্যোগ অর্থনৈতিক উন্নয়ন, পর্যটন ও বিনিয়োগকে আরো গতিশীল করবে। একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক পাইলট, ইঞ্জিনিয়ার ও সহায়ক জনবলের প্রয়োজন হবে, যা দেশে বড় ধরনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সাবেক উইং কমান্ডার এ টি এম নজরুল ইসলাম এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি বাংলাদেশের এভিয়েশন শিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তবে একসঙ্গে এতগুলো এয়ারক্রাফট পরিচালনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিকল্পনা করতে হবে। কোন রুটে কি ধরনের চাহিদা রয়েছে, সে অনুযায়ী উপযুক্ত রুট ও এয়ারক্রাফট নির্বাচন করা গেলে এই বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদে সফল হবে।

​এভিয়েশন সূত্র মতে, ২০২৬-২৭ সালে বিশ্বের কোনো একক এয়ারলাইনসের একবছরে ২১টি নতুন উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হওয়ার ঘটনা খুবই বিরল। বাংলাদেশের সর্বপ্রথম আইএটিএ (IATA) সার্টিফাইড বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইউএস-বাংলা এই অনন্য নজির গড়তে যাচ্ছে।

​নতুন উড়োজাহাজগুলোতে আন্তর্জাতিক মানের কেবিন ইন্টেরিয়র এবং প্রিমিয়াম সিটের পাশাপাশি থাকবে আধুনিক ওয়্যারলেস ইন-ফ্লাইট এন্টারটেইনমেন্ট সিস্টেম, যার মাধ্যমে যাত্রীরা তারবিহীনভাবে সিনেমা, নাটক ও গান উপভোগ করতে পারবেন। এ ছাড়া থাকবে ইন-ফ্লাইট ওয়াই-ফাই সুবিধা, যার ফলে যাত্রীরা আকাশে ভ্রমণের সময়ও ইন্টারনেট ব্যবহার এবং ফোনকলে কথা বলতে পারবেন।