• ই-পেপার

রাত ও সকালে যেসব এলাকায় ভারি বৃষ্টির শঙ্কা

সাড়ে ৮ বছর পর ঢাকা-কাঠমাণ্ডু রুটে ফিরছে ইউএস-বাংলা

অনলাইন ডেস্ক
সাড়ে ৮ বছর পর ঢাকা-কাঠমাণ্ডু রুটে ফিরছে ইউএস-বাংলা
সংগৃহীত ছবি

দীর্ঘ বিরতির পর আগামী সেপ্টেম্বর থেকে ঢাকা-কাঠমাণ্ডু রুটে পুনরায় নির্ধারিত ফ্লাইট চালু করতে যাচ্ছে দেশের অন্যতম বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে চারটি ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। এ রুটে বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজ ব্যবহার করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) কামরুল ইসলাম বলেন, খুব শিগ্‌গিরই ঢাকা-কাঠমাণ্ডু রুটে ফ্লাইট চালু করতে যাচ্ছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা শিগ্‌গিরই দেওয়া হবে।

প্রায় ৮  বছর পর আবারও ঢাকা-কাঠমাণ্ডু রুটে ইউএস-বাংলার প্রত্যাবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

বর্তমানে এ রুটে সীমিতসংখ্যক এয়ারলাইন্স ফ্লাইট পরিচালনা করছে। নতুন করে ইউএস-বাংলা যুক্ত হলে প্রতিযোগিতা বাড়বে, যা যাত্রীদের জন্য ভাড়া কমানো, সময়সূচিতে বৈচিত্র্য এবং উন্নত সেবার সুযোগ সৃষ্টি করবে।

বিশেষ করে নেপালগামী পর্যটক, ব্যবসায়ী ও ধর্মীয় ভ্রমণকারীরা বাড়তি বিকল্প পাবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিমান পরিবহন খাতের বিশ্লেষকদের মতে, এই রুটে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পেলে শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি লাভবান হবেন যাত্রীরাই।

২০১৮ সালের ১২ মার্চ কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিএস-২১১ বিধ্বস্ত হওয়ার পর এই রুটে সংস্থাটির ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ হয়ে যায়। ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া বোম্বার্ডিয়ার ড্যাশ-৮ কিউ৪০০ উড়োজাহাজটি অবতরণের সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে চার ক্রুসহ ৭১ আরোহীর মধ্যে ৫১ জন নিহত হন। বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচলের ইতিহাসে এটি অন্যতম ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচিত।

চট্টগ্রামে বন্যাকবলিত এলাকায় সেনাবাহিনীর মানবিক সহায়তা অব্যাহত

অনলাইন ডেস্ক
চট্টগ্রামে বন্যাকবলিত এলাকায় সেনাবাহিনীর মানবিক সহায়তা অব্যাহত

চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকে খাদ্যসামগ্রী, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

রবিবার (১২ জুলাই) আইএসপিআর সূত্রে এতথ্য জানা যায়।

আইএসপিআর জানায়, সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন এবং ২৪ পদাতিক ডিভিশনের উদ্যোগে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, লোহাগড়া, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, বোয়ালখালী, হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি উপজেলাসহ পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ এবং বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।

কর মওকুফের অর্থ গবেষণা ও শিক্ষার মানোন্নয়নে ব্যয়ের আহ্বান অর্থমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
কর মওকুফের অর্থ গবেষণা ও শিক্ষার মানোন্নয়নে ব্যয়ের আহ্বান অর্থমন্ত্রীর

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য কর মওকুফের ফলে সাশ্রয় হওয়া অর্থ শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিংয়ে অবস্থান শক্তিশালী করার কাজে ব্যয় করার আহ্বান জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, উচ্চশিক্ষা একটি অলাভজনক খাত এবং এ খাতের উন্নয়ন দেশের মানবসম্পদ গঠনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রবিবার (১২ জুলাই) রাজধানীর দি ওয়েস্টিন ঢাকায় বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি (এপিইউবি) আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২০২৭ বাস্তবায়নে দক্ষ মানবসম্পদ, গবেষণা, উদ্ভাবন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী বছর থেকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর আরোপিত ৫ শতাংশ করের অর্থ তাদের কাছেই থেকে যাবে। আমরা আশা করি, এই অর্থ শিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণা অবকাঠামো গড়ে তোলা, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অর্জন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশ্বিক রেটিং উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।’

তিনি বলেন, শিক্ষা খাতে মুনাফার সুযোগ নেই। বিগত সরকারের রেখে যাওয়া অর্থনৈতিক চাপ, বিপুল অভ্যন্তরীণ দায় এবং অর্থ পাচারের চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও সরকার নীতিগতভাবে কর মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

২০৩৪ সালের মধ্যে অর্থনীতির বাইরে থাকা খাতকে জিডিপিতে আনার লক্ষ্য

অর্থমন্ত্রী জানান, ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনৈতিক মূলধারার বাইরে থাকা খাত ও জনগোষ্ঠীকে জিডিপির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, জিডিপি শুধু শিল্প ও উৎপাদন নয়; সংস্কৃতি, থিয়েটার, সংগীত, চারুকলা এবং গ্রামীণ কুটিরশিল্পের মতো খাতগুলোরও অর্থনৈতিক মূল্যায়ন প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ‘দেশের অনেক সৃজনশীল ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড অর্থনীতিতে অবদান রাখলেও তা জিডিপিতে প্রতিফলিত হয় না। এসব খাতকে আর্থিক মূল্যায়নের আওতায় এনে অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা হবে।’

বেসরকারি খাত-নির্ভর প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্ব

বিএনপির অর্থনৈতিক দর্শনের কথা উল্লেখ করে আমির খসরু জানান, তার দল শুরু থেকেই বেসরকারি খাত-চালিত প্রবৃদ্ধিতে বিশ্বাসী। সরকার একা উন্নয়ন করতে পারে না; বরং সরকারের ভূমিকা হওয়া উচিত সহায়ক বা ‘ফ্যাসিলিটেটর’ হিসেবে কাজ করা।

তিনি বলেন, ‘দেশের টেকসই উন্নয়নে বেসরকারি খাত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও এনজিওগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে চাই। বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে নীতিগত ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা হবে।’

অর্থমন্ত্রী জানান, এবারের বাজেটে পাঁচ বছরের জন্য নীতিগত দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে উদ্যোক্তারা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারেন।

আইসিটি খাতে দেশীয় দক্ষতা গড়ে তোলার আহ্বান

আইসিটি খাতে বিদেশি নির্ভরতা কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দেশীয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে বেশি সুযোগ দিতে হবে।

একই সঙ্গে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে দেশের পুঁজিবাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান এবং গবেষণা, উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা তৈরিতে আরো সক্রিয় ভূমিকা পালনের তাগিদ দেন।

‘সেলফ-রেগুলেশন’ জরুরি

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকারি নিয়ন্ত্রণের চেয়ে আত্মনিয়ন্ত্রণ বা ‘সেলফ-রেগুলেশন’-এর ওপর গুরুত্বারোপ করেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার আইন চাপিয়ে দিয়ে নিয়ন্ত্রণে বিশ্বাসী নয়। আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজেদের উদ্যোগেই সুশাসন ও মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করুক। বিশ্ববিদ্যালয়ের গুণগত মান নিয়ে সমাজে যেন কোনো প্রশ্ন না ওঠে।’

তিনি আরো বলেন, দেশের নৈতিক অবক্ষয় রোধে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

শিক্ষাবিদদের প্রশংসা

এপিইউবির চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ। সভায় দেশের বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান, উপাচার্য, শিক্ষাবিদ, শিল্পখাতের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।

ড. সবুর খান এবং অধ্যাপক মামুন আহমেদ তাদের বক্তব্যে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় সরকারের বেসরকারি খাতবান্ধব নীতির প্রশংসা করেন। তারা জাতীয় উন্নয়ন ও দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে সরকারের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেটসহ বন্যাকবলিত ১১ জেলায় বিজিবি মোতায়েন

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেটসহ বন্যাকবলিত ১১ জেলায় বিজিবি মোতায়েন
বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও মনিটর করছে বিজিবি। ছবি : সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম, বান্দরবান, কক্সবাজার, সিলেটসহ বন্যাকবলিত ১১ জেলায় বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে এসব জেলার ৯০টি পয়েন্টে বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও মনিটর করছে বিজিবি। প্রয়োজন অনুযায়ী উদ্ধার, ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে। আজ রবিবার বিজিবি সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, টানা ভারি বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল, বন্যা ও ভূমিধসে সৃষ্ট দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের উদ্ধার, নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা, ত্রাণসামগ্রী বিতরণ, জরুরি চিকিৎসা সহায়তা প্রদান, ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষায় বান্দরবান, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, ফেনী, সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও জামালপুর জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবেলায় এসব জেলাগুলোতে মোট ৯০টি পয়েন্টে বিজিবির সার্বক্ষণিক বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক উদ্ধার ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। 

এখন পর্যন্ত শুধু বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকা থেকে ১১৬ জন পর্যটকসহ ১২২টি পরিবারের ৬ শতাধিক মানুষকে উদ্ধার করেছে বিজিবি। পাশাপাশি খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, ৪৮ জনকে জরুরি চিকিৎসাসেবা, বান্দরবান-রোয়াংছড়ি সড়ক থেকে গাছ ও ধ্বংসাবশেষ অপসারণ এবং নাইক্ষ্যংছড়িতে ঝুঁকিপূর্ণ সেতু রক্ষায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাও নিয়েছে বিজিবি।