• ই-পেপার

বর্তমান রিজার্ভ প্রায় ৩৬.০৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার : অর্থমন্ত্রী

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেটসহ বন্যাকবলিত ১১ জেলায় বিজিবি মোতায়েন

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেটসহ বন্যাকবলিত ১১ জেলায় বিজিবি মোতায়েন
বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও মনিটর করছে বিজিবি। ছবি : সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম, বান্দরবান, কক্সবাজার, সিলেটসহ বন্যাকবলিত ১১ জেলায় বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে এসব জেলার ৯০টি পয়েন্টে বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও মনিটর করছে বিজিবি। প্রয়োজন অনুযায়ী উদ্ধার, ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে। আজ রবিবার বিজিবি সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, টানা ভারি বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল, বন্যা ও ভূমিধসে সৃষ্ট দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের উদ্ধার, নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা, ত্রাণসামগ্রী বিতরণ, জরুরি চিকিৎসা সহায়তা প্রদান, ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষায় বান্দরবান, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, ফেনী, সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও জামালপুর জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবেলায় এসব জেলাগুলোতে মোট ৯০টি পয়েন্টে বিজিবির সার্বক্ষণিক বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক উদ্ধার ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। 

এখন পর্যন্ত শুধু বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকা থেকে ১১৬ জন পর্যটকসহ ১২২টি পরিবারের ৬ শতাধিক মানুষকে উদ্ধার করেছে বিজিবি। পাশাপাশি খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, ৪৮ জনকে জরুরি চিকিৎসাসেবা, বান্দরবান-রোয়াংছড়ি সড়ক থেকে গাছ ও ধ্বংসাবশেষ অপসারণ এবং নাইক্ষ্যংছড়িতে ঝুঁকিপূর্ণ সেতু রক্ষায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাও নিয়েছে বিজিবি।

১৪ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ

ইউএস-বাংলার বহরে আসছে ২১ ব্র্যান্ডনিউ বোয়িং

নিজস্ব প্রতিবেদক
ইউএস-বাংলার বহরে আসছে ২১ ব্র্যান্ডনিউ বোয়িং

দেশের বেসরকারি বিমান পরিবহন খাতে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস। বহর সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ২০২৭ সালের মধ্যে ২১টি ব্র্যান্ডনিউ বোয়িং ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ যুক্ত হচ্ছে এয়ারলাইনসটিতে। বিশ্বসেরা ৫টি এয়ারক্রাফট লিজিং প্রতিষ্ঠান ইউএস-বাংলাকে এই উড়োজাহাজগুলো দিচ্ছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ১.১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা)।

​বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনকে পাঠানো ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি চিঠি থেকে এই বিনিয়োগের তথ্য জানা গেছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের এই নতুন উড়োজাহাজগুলো যুক্ত হওয়ার পর ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে আঞ্চলিক হাব হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এসব বিমানবন্দর থেকে দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন নতুন গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করবে ইউএস-বাংলা। আগামী ২৯ জুলাই রাজধানীতে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বোয়িং এবং ইউএস-বাংলা যৌথভাবে এই বহর সম্প্রসারণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবে। অনুষ্ঠানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং বোয়িংয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

বর্তমানে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক আকাশপথের সিংহভাগ বিদেশি এয়ারলাইনসের নিয়ন্ত্রণে থাকায় প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে চলে যায়। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, দেশীয় ক্যারিয়ারগুলোর সক্ষমতা বাড়লে বিদেশি এয়ারলাইনসের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং দেশের অভ্যন্তরে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল হবে।

এভিয়েশন ও বিমান নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, দেশের কোনো সরকারি বা বেসরকারি এয়ারলাইনস এর আগে একসঙ্গে এত বড় পরিসরে বহর সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়নি। আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের এই উদ্যোগ অর্থনৈতিক উন্নয়ন, পর্যটন ও বিনিয়োগকে আরো গতিশীল করবে। একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক পাইলট, ইঞ্জিনিয়ার ও সহায়ক জনবলের প্রয়োজন হবে, যা দেশে বড় ধরনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সাবেক উইং কমান্ডার এ টি এম নজরুল ইসলাম এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি বাংলাদেশের এভিয়েশন শিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তবে একসঙ্গে এতগুলো এয়ারক্রাফট পরিচালনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিকল্পনা করতে হবে। কোন রুটে কি ধরনের চাহিদা রয়েছে, সে অনুযায়ী উপযুক্ত রুট ও এয়ারক্রাফট নির্বাচন করা গেলে এই বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদে সফল হবে।

​এভিয়েশন সূত্র মতে, ২০২৬-২৭ সালে বিশ্বের কোনো একক এয়ারলাইনসের একবছরে ২১টি নতুন উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হওয়ার ঘটনা খুবই বিরল। বাংলাদেশের সর্বপ্রথম আইএটিএ (IATA) সার্টিফাইড বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইউএস-বাংলা এই অনন্য নজির গড়তে যাচ্ছে।

​নতুন উড়োজাহাজগুলোতে আন্তর্জাতিক মানের কেবিন ইন্টেরিয়র এবং প্রিমিয়াম সিটের পাশাপাশি থাকবে আধুনিক ওয়্যারলেস ইন-ফ্লাইট এন্টারটেইনমেন্ট সিস্টেম, যার মাধ্যমে যাত্রীরা তারবিহীনভাবে সিনেমা, নাটক ও গান উপভোগ করতে পারবেন। এ ছাড়া থাকবে ইন-ফ্লাইট ওয়াই-ফাই সুবিধা, যার ফলে যাত্রীরা আকাশে ভ্রমণের সময়ও ইন্টারনেট ব্যবহার এবং ফোনকলে কথা বলতে পারবেন।

প্রধানমন্ত্রী বরিশাল যাচ্ছেন সোমবার

বাসস
প্রধানমন্ত্রী বরিশাল যাচ্ছেন সোমবার

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল সোমবার বরিশাল সফরে যাচ্ছেন। সেখানে তিনি বৃক্ষরোপণসহ কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকালে সড়কপথে বরিশাল যাবেন। সেখানে বৃক্ষরোপণের কয়েকটি কর্মসূচি রয়েছে।’

অতিরিক্ত প্রেসসচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী কর্মসূচি শেষ করে সন্ধ্যায় ঢাকায় ফিরবেন।

প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে গৌরনদীর বাটাজোর ইউনিয়নে নতুন খনন করা সরিকল খালের পাশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, জেলা সদরের ত্রিশ গোডাউন বধ্যভূমি এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং ত্রিশ গোডাউন সংলগ্ন সাগরদী এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। এ ছাড়া বিকেলে জেলার শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠান।

বরিশালে এটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম সফর।

উদ্ভাবনী ও সৃজনশীল মেধা বিকাশে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
উদ্ভাবনী ও সৃজনশীল মেধা বিকাশে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী
ছবি : কালের কণ্ঠ

ইন্টারন্যাশনাল অলিম্পিয়াড অ্যাসোসিয়েশনের স্বর্ণপদকজয়ী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধিদল রবিবার (১২ জুলাই) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকজয়ী তিন শিক্ষার্থীকে ল্যাপটপ এবং প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যদের বই উপহার দেন। বিকেল সাড়ে ৫টায় এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের বিজয়ী প্রকল্পগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। তিনি তাদের পড়াশোনা, গবেষণা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা শোনেন এবং নতুন নতুন উদ্ভাবনী উদ্যোগে আরো এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করেন।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের এই সাফল্যে গর্ব প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের নতুন প্রজন্মের উদ্ভাবনী ও সৃজনশীল মেধার বিকাশে বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।’

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকজয়ী তিন শিক্ষার্থী— হোমনা আদর্শ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির লাবিব শাহরিয়ার, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির সাইদুজ্জামান আরাফ এবং নটর ডেম কলেজের একাদশ শ্রেণির ত্রিদিব রায় আর্যকে একটি করে ল্যাপটপ উপহার দেন।

এ ছাড়া প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্য—নাইরা নাওয়ার আহমেদ, নাওফিল রহমান, অনন্য যারিফ আকন্দ, মুবতাসিম চৌধুরী পিয়ম ও মুরতাযা আব্দুল্লাহকে বই উপহার দেওয়া হয়।

প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী ২ থেকে ৮ আগস্ট কাজাখস্তানে অনুষ্ঠিতব্য ‘এআই ইন্টারন্যাশনাল অলিম্পিয়াডে’ তারা অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তাদের সর্বাত্মক সাফল্য কামনা করেন এবং এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে এআই অলিম্পিয়াড আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করলে প্রধানমন্ত্রী তাতেও সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতার কথা জানান।

তরুণদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা মেধাবী তরুণদের খুঁজে বের করে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ, গবেষণার সুযোগ ও সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। মেধাবী তরুণদের হাত ধরেই প্রযুক্তিনির্ভর ও জ্ঞানভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে উঠবে উল্লেখ করে তিনি বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সবাইকে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ এআই অলিম্পিয়াডের টিম লিডার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. বি এম মইনুল হোসেন রাজু, কোচ ড. মোহাম্মদ আজম খান, বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের সভাপতি মুনির হাসান এবং কো-অর্ডিনেটর ও মেন্টর তাসনিম মাহফুজ নাফিস উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব সালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।