• ই-পেপার

২৩তম কমনওয়েলথ গেমস নিয়ে যা জানা জরুরি

আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি

ক্রীড়া ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি
ছবি : রয়টার্স

অবশেষে আলবিসেলেস্তেদের নীল-সাদা জার্সিটা তুলে রাখার কঠিন সিদ্ধান্তটা নিয়েই ফেললেন নিকোলাস ওতামেন্ডি। ১৭ বছরের দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন আর্জেন্টিনার এই অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার। ২০০৯ সাল থেকে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের রক্ষণভাগ সামলে আসা ৩৮ বছর বয়সী এই সেন্ট্রাল ব্যাকের অবসর গ্রহণের মাধ্যমে ইতি ঘটল এক সোনালী অধ্যায়ের।

যুক্তরাষ্ট্রে সদ্য সমাপ্ত ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচটিই ছিল জাতীয় দলের হয়ে ওতামেন্ডির শেষ ম্যাচ। ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হলেও দেশের হয়ে সর্বোচ্চ উজাড় করে দেওয়ার স্বস্তি নিয়েই বিদায় নিচ্ছেন তিনি। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে ১৩৯টি ম্যাচ খেলা ওতামেন্ডি প্রতিনিধিত্ব করেছেন চারটি বিশ্বকাপ মঞ্চে।

বিদায়বেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি আবেগঘন বার্তা পোস্ট করে ওতামেন্ডি লেখেন, ‘আজ আমাকে আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন শব্দগুলো লিখতে হচ্ছে। ভাগ্যের কী পরিহাস, আমার শেষ ম্যাচটি ছিল বিশ্বকাপ ফাইনাল। ফলাফলটা আমাদের মনমতো হয়নি সত্যি, তবে আমরা শেষ সেকেন্ড পর্যন্ত সর্বোচ্চটা দিয়ে লড়াই করেছি—এই তৃপ্তি নিয়ে মাথা উঁচু করেই মাঠ ছাড়ছি। ধন্যবাদ আর্জেন্টিনা, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য।’

২০২২ সালে কাতারের মাটিতে আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পান ওতামেন্ডি। এছাড়া আলবিসেলেস্তেদের ২০২১ ও ২০২৪ সালের জোড়া কোপা আমেরিকা জয়ের ক্ষেত্রেও রক্ষণে মূল স্তম্ভের ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি।

ইউরোপিয়ান ফুটবলে পোর্তো, ভ্যালেন্সিয়া, ম্যানচেস্টার সিটি এবং বেনফিকার মতো শীর্ষ সারির ক্লাবে সফল ১৬ বছর কাটানোর পর সম্প্রতি নিজ দেশের ক্লাব রিভার প্লেটে যোগ দিয়েছেন এই তারকা ডিফেন্ডার। আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেও ক্লাব ফুটবলে তার পথচলা অব্যাহত থাকছে। 
 

শুধু ২০২৬ নয়, ২০১৪ ও ১৯৯০ বিশ্বকাপের ফাইনালেও অন টার্গেট শট নেই আর্জেন্টিনার!

ক্রীড়া ডেস্ক
শুধু ২০২৬ নয়, ২০১৪ ও ১৯৯০ বিশ্বকাপের ফাইনালেও অন টার্গেট শট নেই আর্জেন্টিনার!

বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো মহা-মঞ্চের ভাগ্য অনেক সময় নির্ধারণ হয়ে যায় একক কোনো সুযোগ কাজে লাগানোর ওপর। আর সেই নির্মম সত্যটি বারবার কড়ায়-গণ্ডায় টের পেয়েছে আর্জেন্টিনা। পরিসংখ্যানের পাতা উল্টালে দেখা যায়, ১৯৬৬ সালের পর থেকে আলবিসেলেস্তেরা বিশ্বমঞ্চের তিনটি ফাইনালে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে, যেখানে প্রতিপক্ষের গোলরক্ষককে পরীক্ষা করার মতো একটি শটও তারা লক্ষ্যে রাখতে পারেনি। আর প্রতিবারই ফলাফল এসেছে হুবহু ১-০ গোলের পরাজয়। 

প্রতিপক্ষ আর সালগুলো যেন একই ট্র্যাজেডির ভিন্ন ভিন্ন অধ্যায়। ১৯৯০ সালে জার্মানি, ২০১৪ সালে সেই জার্মানি এবং সবশেষে ২০২৬ সালে স্পেনের কাছে হার। ক্রীড়া তথ্য বিশ্লেষক সংস্থা সোফাস্কোরের ডেটাসেট অনুযায়ী, এই তিনটি মেগা ফাইনালেই বিশ্বমঞ্চে আর্জেন্টিনার শটস অন টার্গেটের খাতায় জমা হয়েছিল এক অলস শূন্য।

সংখ্যার হিসাবটা যেমন সরল, তেমনি নির্মম। যখন প্রতিপক্ষের গোলরক্ষককে সামান্যতম পরীক্ষায় ফেলা যায় না, তখন ভুলের মাশুল দেওয়ার সুযোগও শূন্যে নেমে আসে। ১৯৯০ সালে রোমে জার্মানির বিপক্ষে ১-০ হার, ২০১৪ সালে রিও ডি জেনিরোতে একই প্রতিপক্ষের কাছে ১-০ ব্যবধানে স্বপ্নভঙ্গ এবং ২০২৬-এ স্পেনের কাছে ১-০ গোলের সেই একই তিক্ত অভিজ্ঞতা। প্রতিটি ম্যাচেই চিত্রনাট্য ছিল একই রকম।

বিভিন্ন প্রজন্ম, আলাদা ট্যাকটিক্স আর ভিন্ন খেলোয়াড়দের যুগেও পরিসংখ্যানের এই ট্র্যাজেডি যেন এক সুতোয় গাঁথা। বিশ্বকাপ ফাইনাল সাধারণত হাই-স্কোরিং ম্যাচ হয় না, সেখানে একটি নিখুঁত ও লক্ষ্যভিত্তিক শটই পুরো ম্যাচের ভাগ্য ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু এই তিনটি ফাইনালে প্রতিপক্ষকে সেই ভীতির মুখে ফেলতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন আলবিসেলেস্তে ফরোয়ার্ডরা।

একটি বিশ্বকাপ মৌসুমে দলের সার্বিক সাফল্য বিচার করা হয় শেষ ম্যাচটি দিয়েই। ১৯৯০, ২০১৪ ও ২০২৬ সালের পরিসংখ্যান অন্তত আর্জেন্টিনা সমর্থকদের জন্য এই তেতো সত্যিটাই মনে করিয়ে দেয়। রক্ষণভাগ যতটাই লড়াই করুক না কেন, আক্রমণের ধার ছাড়া সোনালী ট্রফিতে চুমু আঁকা অসম্ভব। 
 

গার্দিওলার আগে ‘ডন’কে চেয়েছিল ইতালি

ক্রীড়া ডেস্ক
গার্দিওলার আগে ‘ডন’কে চেয়েছিল ইতালি
গার্দিওলার আগে আনচেলত্তিকে কোচ করতে চেয়েছিল ইতালি। ছবি : এক্স থেকে

ফুটবলে কঠিন এক সময় পার করছে ইতালি। এতটাই যে সর্বশেষ তিন বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পায়নি জার্মানির সঙ্গে যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। 

কঠিন সময় থেকে মুক্তি পেতে ইতালি শরণাপন্ন হয় বিশ্বের অন্যতম ‍দুই সেরা কোচ কার্লো আনচেলত্তি ও পেপ গার্দিওলার। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইতালি ফুটবল ফেডারেশনের (এফআইজিসি) টেকনিক্যাল ডিরেক্টর পাওলো মালদিনি। 

শুরুটা আনচেলত্তিকে করেছিল ইতালি। তবে নিজ দেশের জাতীয় দলের দায়িত্ব না নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক কোচ ব্রাজিলকে বেছে নেন। নিজেদের সাবেক ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারকে না পাওয়ায় এবার গার্দিওলার পেছনে ছুটছে ইতালি। ইতিমধ্যে সাবেক বার্সেলোনা-ম্যানচেস্টার সিটির কোচের সঙ্গে এফআইজিসির সভাপতি জিওভান্নি মালাগোর কথাবার্তাও হয়েছে। 

 

তবে ইতালির পরবর্তী কোচ গার্দিওলা হচ্ছেন কিনা তা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত নয়। গত এপ্রিলে জেনেরো গাত্তুসো সরে দাঁড়ানোর পর থেকেই ইতালির ডাগআউট খালি। অন্যদিকে ম্যানসিটির হয়ে দীর্ঘ ১০ বছর ডাগআউট সামলানো গার্দিওলাও বর্তমানে অবসর সময় কাটাচ্ছেন। দুইয়ে দুইয়ে চার হয় কিনা সেটাই এখন দেখার বিষয়। 

দুই কোচকে প্রস্তাব দেওয়ার বিষয় স্বীকার করে এক সংবাদ সম্মেলনে মালদিনি বলেছেন, ‘পেপের আগে আনচোলত্তির সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে এ বিষয়টি আমরা গোপন রাখতে চাই না। সত্যি বলতে, আমরা যাদের বিশ্বের সেরা ভাবি, তাদের দিয়েই শুরু করাটা আমাদের কাছে সঠিক মনে হয়েছিল।’

ব্রাজিলের হয়ে শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি ফুটবলে ‘ডন’ নামে পরিচিত আনচেলত্তির। প্রথমবার কোনো জাতীয় দলের দায়িত্ব নিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় বিদায় নিতে হয়েছে। তাকে ‘ডন’ বলা হয় চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যর কারণে। শান্ত স্বভাবের সঙ্গে কঠিন পরিস্থিতিতে ঠান্ডা মাথায় ম্যাচ বের করে আনার দক্ষতার জন্য।   

ইতালির ডাগআউটে দাঁড়ানোর ইচ্ছে গার্দিওলার আছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদ মাধ্যম লা গাজেত্তা দেলো স্পোর্ট। তবে বার্ষিক স্যালারি ইতালির চেয়ে স্প্যানিশ কোচ দ্বিগুণ চেয়েছেন বলে নাকি চুক্তি ঝুলে রয়েছে। এ নিয়ে অবশ্য এখনি কথা বলতে চান না মালদিনি। ইতালির হয়ে ১২৬ ম্যাচ খেলা সাবেক ডিফেন্ডার বলেছেন, ‘সত্যি বলতে এই মুহূর্তে কি চলছে সে বিষয়ে আর কোনো তথ্য এখনি জানাতে চাচ্ছি না আমরা।’

গত এক দশকে ম্যানচেস্টার সিটিকে অনেক শিরোপা এনে দিয়েছেন গার্দিওলা। বিশেষ করে ইংল্যান্ড ক্লাবটির স্বপ্ন চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ও পূরণ করেছেন তিনি। সঙ্গে তার সময়ে ৬ টি প্রিমিয়ার লিগ, ৫টি লিগ কাপ ও ৩ টি এফএ কাপও জিতেছে সিটিজেনরা।

শেষ পর্যন্ত গার্দিওলাকে রাজি করাতে না পারলে বিকল্পদের নিয়ে ভাববে ইতালি। বিকল্পদের মধ্যে আছেন আগেও দায়িত্ব পালন করা দুই কোচ আন্তোনিও কন্তে ও রবার্তো মানচিনি। সঙ্গে আজ্জুরিদের কিংবদন্তি মিডফিল্ডার আন্দ্রে পিরলোকেও পছন্দ করছে তারা।

গ্লাসগোয় শুরু ২৩তম কমনওয়েলথ গেমস, উদ্বোধন করেন রাজা তৃতীয় চার্লস-রানি ক্যামিলা

ক্রীড়া ডেস্ক
গ্লাসগোয় শুরু ২৩তম কমনওয়েলথ গেমস, উদ্বোধন করেন রাজা তৃতীয় চার্লস-রানি ক্যামিলা
গ্লাসগোর কমনওয়েলথ গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাজা তৃতী চার্লস ও রানি ক্যামিলা। ছবি : এক্স থেকে

চতুর্থবারের মতো কমনওয়েলথ গেমসের আয়োজক স্কটল্যান্ড। সবমিলিয়ে ২৩তম আসরে আগামী ১১ দিন বুঁদ হয়ে থাকবেন ক্রীড়াপ্রেমীরা। গতকাল গ্লাসগোয় শুরু হওয়া গেমসের উদ্বোধন করেছেন রাজা তৃতীয় চার্লস ও রানি ক্যামিলা।

দ্য রয়েল ফ্যামিলি সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে দিয়ে গ্লাসগোয় শুরু হওয়া কমনওয়েলথ গেমসের উদ্বোধনী মুহূর্তকে ‘অবিশ্বাস্য সন্ধ্যা’ বলে সংবোধন করেছে। তাতে জমকালো এক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে শুরু হওয়ায় এখন উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে গ্লাসগো।

 

এবারের আসরে ৭৪ দেশের ৩ হাজারের বেশি ক্রীড়াবিদ অংশ নিচ্ছেন। ১০ ইভেন্টে অংশ নেবেন ক্রীড়াবিদরা। এ ছাড়া ৬টি প্যারা ইভেন্টও আছে। ২৩ জুলাই শুরু হয়ে প্রতিযোগিতাটির পর্দা নামবে ২ আগস্ট। 

১৯৩০ সালে শুরু হওয়া কমনওয়েলথ গেমসে বাংলাদেশের ১৭ জন অ্যাথলেট অংশ নিচ্ছেন। ৪টি ইভেন্টে অংশ নেবেন তারা।