• ই-পেপার

যে ১০ গুণ মানুষকে প্রশংসনীয় করে তোলে

জুমার দিন সম্পর্কে মহানবী (সা.)-এর ভবিষ্যদ্বাণী

মুফতি ওমর বিন নাছির
জুমার দিন সম্পর্কে মহানবী (সা.)-এর ভবিষ্যদ্বাণী
সংগৃহীত ছবি

সপ্তাহের সাত দিনের মধ্যে জুমার দিন আল্লাহ তাআলার কাছে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও বরকতময়। এটি মুসলিম উম্মাহর সাপ্তাহিক ঈদের দিন। এই দিনেই আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে, পৃথিবীতে প্রেরণ করা হয়েছে এবং কিয়ামতও সংঘটিত হবে জুমার দিনেই। তাই জুমার দিন শুধু একটি ইবাদতের দিন নয়; বরং এটি ঈমান, আত্মশুদ্ধি, ঐক্য ও আখিরাতের স্মরণে নিজেকে প্রস্তুত করার এক মহামূল্যবান সুযোগ। রাসুলুল্লাহ (সা.) জুমার দিনের ফজিলতের পাশাপাশি এ দিনের সঙ্গে সম্পর্কিত ভবিষ্যতের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনারও সংবাদ দিয়েছেন। এসব ভবিষ্যদ্বাণী মানুষের জন্য সতর্কবার্তা, যাতে তারা গাফিলতি ছেড়ে আল্লাহর পথে ফিরে আসে এবং কিয়ামতের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে।

১. কিয়ামত সংঘটিত হবে জুমার দিনেই
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে দিনগুলোর ওপর সূর্য উদিত হয়, তার মধ্যে সর্বোত্তম দিন হলো জুমার দিন। এ দিনেই আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এ দিনেই তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে, এ দিনেই তাঁকে জান্নাত থেকে বের করা হয়েছে এবং কিয়ামতও সংঘটিত হবে জুমার দিনেই।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮৫৪)

এ হাদিস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, প্রতি জুমা কিয়ামতের একটি স্মারক। তাই প্রতিটি জুমাকে আখিরাতের প্রস্তুতির নতুন সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করা উচিত।

২. জুমার দিন এমন একটি সময় রয়েছে, যখন দোয়া কবুল হয়
নবী (সা.) বলেছেন, ‘জুমার দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন কোনো মুসলিম বান্দা সালাতরত অবস্থায় আল্লাহর কাছে কল্যাণের জন্য দোয়া করলে আল্লাহ অবশ্যই তা কবুল করেন।’ এরপর তিনি হাতের ইশারায় বোঝালেন, সেই সময়টি খুবই অল্প।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৯৩৫; সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৮৫২)

আলেমদের অধিকাংশের মতে, এই সময়টি আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

৩. দাজ্জাল মদিনায় প্রবেশ করতে পারবে না
রাসুলুল্লাহ (সা.) ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, ‘মদিনার প্রতিটি প্রবেশপথে ফেরেশতা পাহারায় থাকবে। তাই সেখানে প্লেগ এবং দাজ্জাল প্রবেশ করতে পারবে না।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৮৮০)

আরো বর্ণিত হয়েছে, দাজ্জাল জুমার দিন মদিনার নিকটবর্তী এক লবণাক্ত প্রান্তরে অবস্থান করবে এবং শহরে প্রবেশ করতে ব্যর্থ হবে। এটি মহানবী (সা.)-এর একটি সুস্পষ্ট ভবিষ্যদ্বাণী, যা শেষ যুগের ঘটনাবলির অংশ।

৪. জুমার দিন বেশি বেশি দরুদ পাঠের নির্দেশ
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম দিন হলো জুমার দিন। অতএব এ দিনে আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো। কেননা তোমাদের দরুদ আমার কাছে পৌঁছানো হয়।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৭)

এ হাদিস অনুযায়ী জুমার দিনে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠ করা বিশেষ আমল।

৫. জুমার দিনের গুরুত্ব অবহেলা করলে অন্তর মোহরাঙ্কিত হয়ে যায়
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যারা অবহেলাবশত জুমা ত্যাগ করে, তারা যেন অবশ্যই বিরত হয়; অন্যথায় আল্লাহ তাদের অন্তরে মোহর মেরে দেবেন। অতঃপর তারা গাফিলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৮৬৫)
এটি ভবিষ্যৎ সম্পর্কে এক কঠোর সতর্কবার্তা। ধারাবাহিকভাবে জুমা পরিত্যাগ করলে মানুষের হৃদয় কঠিন হয়ে যায় এবং ঈমান দুর্বল হতে থাকে।

জুমার দিন শুধু একটি সাপ্তাহিক ছুটির দিন নয়; বরং এটি ঈমানকে নবায়ন, গুনাহ থেকে তাওবা এবং আখিরাতের প্রস্তুতির এক অনন্য সুযোগ। মহানবী (সা.) জুমার দিনকে কেন্দ্র করে যে ভবিষ্যদ্বাণীগুলো করেছেন, সেগুলো আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—একদিন কিয়ামত অবশ্যই সংঘটিত হবে, আর সেই দিনের জন্য প্রস্তুতিই একজন মুমিনের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

তাই আসুন, প্রতিটি জুমাকে জীবনের শেষ জুমা মনে করে আন্তরিক তাওবা করি, সালাতের প্রতি যত্নবান হই, বেশি বেশি দরুদ পাঠ করি, দোয়ায় মগ্ন থাকি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে সফল আখিরাতের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করি। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে জুমার মর্যাদা যথাযথভাবে উপলব্ধি করে তার হক আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

জুমার দিন যে আট আমল কখনো ছাড়বেন না

ইসলামী জীবন ডেস্ক
জুমার দিন যে আট আমল কখনো ছাড়বেন না
সংগৃহীত ছবি

ইসলামে জুমার দিনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পবিত্র কোরআনে জুমার দিন দ্রুত মসজিদে গমনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া হাদিসে গুরুত্বপূর্ণ আমলের কথা বর্ণিত হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা! জুমার দিন নামাজের আজান হলে তোমরা আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হও এবং বেচাবিক্রি বন্ধ কর, তা তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা বুঝ। এরপর নামাজ শেষ হলে ভূপৃষ্ঠে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ (জীবিকা) অনুসন্ধান কর এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।’ (সুরা : জুমা, আয়াত : ৯-১০)

জুমার দিনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আমল সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হলো—

১. জুমার দিনের বিশেষ মর্যাদা : আবু লুবাবা বিন আবদুল মুনজির (রা.) থেকে বর্ণিত, হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) জুমার দিনের পাঁচটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছেন। সেগুলো হলো—এক. আল্লাহ তাআলা এই দিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করেছেন। দুই. আল্লাহ তাআলা এই দিনে আদম (আ.)-কে জমিনে অবতরণ করিয়েছেন। তিন. এই দিনে আদম (আ.)-কে মৃত্যু দিয়েছেন। চার. এই দিনে এমন একটি সময় আছে, যখন বান্দা আল্লাহর কাছে যা কিছুই প্রার্থনা করবে তিনি তা দেবেন। যতক্ষণ সে হারাম কিছু প্রার্থনা করবে না। পাঁচ. এই দিনে কিয়ামত সংঘটিত হবে।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৮৯৫)

২. জুমার নামাজ আদায় : সালমান ফারসি থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করল, সাধ্যমতো পবিত্র হলো, তেল ব্যবহার করল, ঘর থেকে সুগন্ধি ব্যবহার করল, অতঃপর মসজিদে এল, সেখানে দুজন মুসল্লির মধ্যে ফাঁক করে সামনে এগিয়ে যায় না, নির্দিষ্ট পরিমাণ নামাজ পড়ল, অতঃপর ইমাম কথা শুরু করলে চুপ থাকল; তাহলে আল্লাহ তাআলা তার দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ মাফ করবেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৮৮৩)

অন্য হাদিসে এসেছে, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা, এক রমজান থেকে পরবর্তী রমজান মধ্যবর্তী সময়ের পাপ মোচন করে; যদি সেই ব্যক্তি সব ধরনের কবিরা গুনাহ থেকে বিরত থাকে।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৩৩)

৩. জুমার দিন গোসল করা : জুমার দিন গোসল করা ও আগে আগে মসজিদে যাওয়া অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। আউস বিন আউস সাকাফি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন ভালো করে গোসল করল, দ্রুততর সময়ে মসজিদে গেল ও (ইমামের) কাছাকাছি বসে মনোযোগসহ (খুতবা) শুনল, তার জন্য প্রতি কদমের বদলে এক বছরের রোজা ও নামাজের সওয়াব থাকবে।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৩৪৫)

৪. মসজিদে প্রথমে প্রবেশ করা : জুমার দিন মসজিদে আগে প্রবেশ করা ও মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনার বিশেষ গুরুত্ব আছে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করল, অতঃপর প্রথমে মসজিদে গেল সে যেন একটি উট কোরবানি করল। যে এরপর মসজিদে গেল, সে যেন একটি গরু কোরবানি করল। আর যে এরপর ঢুকল, সে যেন ছাগল কোরবানি করল, এরপর যে ঢুকল সে যেন মুরগি কোরবানি করল, আর যে এরপর ঢুকল সে ডিম সদকা করল। অতঃপর ইমাম খুতবার জন্য এলে ফেরেশতারা আলোচনা শোনা শুরু করে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৮৪১)

৫. দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত : জুমার দিন একটি সময় আছে, যখন মানুষ আল্লাহর কাছে কোনো দোয়া করলে আল্লাহ তা কবুল করেন। জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘জুমার দিন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে ভালো কিছুর দোয়া করলে আল্লাহ তাকে তা দেন। তোমরা সময়টি আসরের পর অনুসন্ধান কর।’ (আবু দাউদ, হাদিস নম্বর : ১০৪৮)

জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘জুমার দিনের ১২ ঘণ্টার মধ্যে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে যদি কোনো মুসলিম এ সময় আল্লাহর কাছে কিছু প্রার্থনা করে, তাহলে মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাকে দান করেন। এই মুহূর্তটি তোমরা আসরের শেষ সময়ে অনুসন্ধান কর। (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৮)

৬. সুরা কাহাফ পাঠ : জুমার অন্যতম আমল সুরা কাহাফ পাঠ করা। আবু সাইদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহাফ পড়বে তা দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ে তার জন্য আলোকিত হয়ে থাকবে। আর যে ব্যক্তি এই সুরার শেষ ১০ আয়াত পাঠ করবে অতঃপর দাজ্জাল বের হলে তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।’ (সহিহ তারগিব, হাদিস : ১৪৭৩, আল মুসতাদরাক : ২/৩৯৯)

৭. গুনাহ মাফ হয় : সালমান ফারসি থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করল, সাধ্যমতো পবিত্র হলো, তেল ব্যবহার করল, ঘর থেকে সুগন্ধি ব্যবহার করল, অতঃপর মসজিদে এলো, সেখানে দুজন মুসল্লির মধ্যে ফাঁক করে সামনে এগিয়ে যায় না, নির্দিষ্ট পরিমাণ নামাজ পড়ল, অতঃপর ইমাম কথা শুরু করলে চুপ থাকল; তাহলে আল্লাহ তাআলা তার দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ মাফ করেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৮৮৩)

৮. দরুদ পাঠ : জুমার দিন নবীজি (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা কর্তব্য। আউস বিন আবি আউস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন সর্বোত্তম। এই দিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে। এই দিনে তিনি ইন্তেকাল করেছেন। এই দিনে শিঙায় ফুঁ দেওয়া হবে এবং এই দিনে সবাইকে বেহুঁশ করা হবে। অতএব, তোমরা এই দিনে আমার ওপর বেশি পরিমাণ দরুদ পড়। কারণ জুমার দিনে তোমাদের দরুদ আমার কাছে পেশ করা হয়।’ সাহাবারা বললেন, আমাদের দরুদ আপনার কাছে কিভাবে পেশ করা হবে, অথচ আপনার দেহ এক সময় নিঃশেষ হয়ে যাবে? তিনি বলেন, ‘আল্লাহ জমিনের জন্য আমার দেহের ভক্ষণ নিষিদ্ধ করেছেন।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৭)

মানব দেহের ‘ত্বক’ নিয়ে কোরআনে যা বলা হয়েছে

মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ
মানব দেহের ‘ত্বক’ নিয়ে কোরআনে যা বলা হয়েছে
সংগৃহীত ছবি

মানুষের ত্বক হলো মানবদেহের বহিরাবরণ। এটি মানবদেহের সর্ববৃহৎ অঙ্গ। এটি সমগ্র শরীরকে সম্পূর্ণরূপে আবৃত করে রাখে। ত্বক এমন একটি আবরণ বা অঙ্গ, যা দেহের বাইরের অংশকে ঢেকে রাখে এবং তাকে সুরক্ষা প্রদান করে। পবিত্র কোরআনে ‘ত্বক’ সম্পর্কিত কয়েকটি আয়াত ও তার তাৎপর্য নিম্নে তুলে ধরা হলো—

শক্তি, ক্ষমতা ও অনুভূতির (সংবেদনশীলতার) নির্দেশনা

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই যারা আমার নিদর্শনসমূহকে অস্বীকার করেছে, অচিরেই আমি তাদের আগুনে নিক্ষেপ করব। যখনই তাদের চামড়া (ত্বক) পুড়ে যাবে, তখনই আমি তার পরিবর্তে নতুন চামড়া সৃষ্টি করে দেব, যাতে তারা শাস্তির স্বাদ আস্বাদন করতে থাকে। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।’ (সুরা : আন-নিসা, আয়াত : ৫৬)

ইমাম ইবনে কাসির (রহ.) বলেন, আল-আমাশ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে যখন তাদের চামড়া আগুনে পুড়ে যাবে, তখন আল্লাহ তাদের জন্য কাগজের মতো সাদা নতুন চামড়া সৃষ্টি করবেন। (ইবনে আবি হাতিম)

ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াজিদ আল-হাদরামি (রহ.)-এর মতে, ‘আল্লাহ একজন কাফিরের জন্য এক শ স্তরের চামড়া সৃষ্টি করবেন। প্রত্যেক দুই স্তরের মাঝখানে থাকবে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের শাস্তি।’ (ইবন আবি হাতিম)

চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, আগুনে পোড়ার ফলে ব্যথা অনুভবের প্রধান কেন্দ্র হলো ত্বকের বাইরের স্তর, যেখানে ব্যথা অনুভবকারী স্নায়ুগুলো অবস্থান করে। যদি পোড়া ক্ষত ত্বক অতিক্রম করে গভীর মাংসপেশি পর্যন্ত পৌঁছে যায়, তবে আগের তুলনায় ব্যথার অনুভূতি কমে যায়; কারণ গভীর টিস্যু, পেশি ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গে ব্যথা অনুভবকারী স্নায়ুর ঘনত্ব অনেক কম।

তাই চিকিৎসকরা বলেন, যে পোড়া ক্ষত শুধু ত্বক পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকে, তা অত্যন্ত তীব্র ব্যথা সৃষ্টি করে; পক্ষান্তরে আরো গভীর ও গুরুতর পোড়া ক্ষত তুলনামূলকভাবে কম ব্যথা অনুভূত করায়। এ দৃষ্টিকোণ থেকে কোরআনের এই আয়াত ইঙ্গিত করে যে জাহান্নামের আগুন যখন ত্বক পুড়িয়ে ফেলবে—যেখানে ব্যথা অনুভবকারী স্নায়ুগুলো আছে, তখনই আল্লাহ নতুন ত্বক সৃষ্টি করবেন, যাতে শাস্তির অনুভূতি অবিরাম চলতে থাকে এবং তারা নিরবচ্ছিন্নভাবে আজাবের স্বাদ গ্রহণ করে।

ভয় ও আল্লাহভীতির নির্দেশনা
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহ সর্বোত্তম বাণী অবতীর্ণ করেছেন—একটি এমন কিতাব, যার বক্তব্য পরস্পর সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং বারবার পুনরাবৃত্ত। যারা তাদের রবকে ভয় করে, তাদের ত্বক তা শুনে শিহরিত হয়ে ওঠে। অতঃপর তাদের ত্বক ও হৃদয় আল্লাহর স্মরণে কোমল হয়ে যায়। এটাই আল্লাহর হিদায়াত; তিনি যাকে ইচ্ছা এর মাধ্যমে সৎপথে পরিচালিত করেন। আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তার জন্য কোনো পথপ্রদর্শক নেই।’ (আয-ঝুমার, আয়াত : ২৩)

ইমাম ইবন কাসির (রহ.) বলেন, এটি নেককার বান্দাদের বৈশিষ্ট্য। তারা যখন মহান আল্লাহর বাণী শ্রবণ করে, তখন তাতে বর্ণিত সুসংবাদ, সতর্কবাণী, ভীতি ও শাস্তির হুমকি উপলব্ধি করে তাদের ত্বক ভয়ে কেঁপে ওঠে। এরপর যখন তারা আল্লাহর রহমত, অনুগ্রহ ও ক্ষমার আশাবাণী স্মরণ করে, তখন তাদের ত্বক ও হৃদয় প্রশান্ত ও কোমল হয়ে আল্লাহর স্মরণে নিমগ্ন হয়। এভাবেই তারা কাফিরদের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।

সাক্ষ্য ও স্বীকারোক্তির নির্দেশনা
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘অবশেষে যখন তারা জাহান্নামে পৌঁছাবে, তখন তাদের কান, তাদের চোখ এবং তাদের ত্বক তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে।’ (সুরা : ফুসসিলাত, আয়াত : ২০)

ইমাম ইবন কাসির (রহ.) বলেন, অর্থাৎ তারা পৃথিবীতে যা কিছু করেছে প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে—সব কিছুর ব্যাপারে তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সাক্ষ্য দেবে; কোনো কিছুই গোপন থাকবে না। আল্লাহ আরো বলেন, তারা তাদের ত্বককে বলবে, ‘তোমরা কেন আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলে?’ তারা বলবে, ‘আল্লাহ আমাদের কথা বলার শক্তি দিয়েছেন, যিনি সব কিছুকেই কথা বলার ক্ষমতা দিয়েছেন। তিনিই প্রথমবার তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর কাছে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।’ (সুরা : ফুসসিলাত, আয়াত : ২১

যখন মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে, তখন তারা নিজেদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও ত্বককে ভর্ৎসনা করবে। তখন অঙ্গগুলো জবাব দেবে—আল্লাহই আমাদের কথা বলার ক্ষমতা দিয়েছেন, যিনি সব কিছুকে কথা বলার শক্তি দিয়েছেন। তিনিই প্রথমবার তোমাদের সৃষ্টি করেছেন; সুতরাং তাঁর আদেশ অমান্য করার ক্ষমতা কারো নেই।

আজকের নামাজের সময়সূচি, ২৪ ‍জুলাই, ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক
আজকের নামাজের সময়সূচি, ২৪ ‍জুলাই, ২০২৬

আজ শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ, ১৪৩৩, ৯ সফর, ১৪৪৮।

ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ—

জুমার সময় শুরু ১২টা ৮ মিনিটে।

আসরের সময় শুরু ৪টা ৪৩ মিনিটে।

মাগরিব ৬টা ৪৯ মিনিটে।

এশার সময় শুরু ৮টা ১২ মিনিটে।

আগামীকাল ফজর শুরু ৪টা ০৪ মিনিটে 

আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত ৬টা ৪৮ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ৫টা ২২ মিনিটে।

সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা।