• ই-পেপার

আজকের নামাজের সময়সূচি, ২৪ ‍জুলাই, ২০২৬

জুমার দিন যে আট আমল কখনো ছাড়বেন না

ইসলামী জীবন ডেস্ক
জুমার দিন যে আট আমল কখনো ছাড়বেন না
সংগৃহীত ছবি

ইসলামে জুমার দিনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পবিত্র কোরআনে জুমার দিন দ্রুত মসজিদে গমনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া হাদিসে গুরুত্বপূর্ণ আমলের কথা বর্ণিত হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা! জুমার দিন নামাজের আজান হলে তোমরা আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হও এবং বেচাবিক্রি বন্ধ কর, তা তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা বুঝ। এরপর নামাজ শেষ হলে ভূপৃষ্ঠে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ (জীবিকা) অনুসন্ধান কর এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।’ (সুরা : জুমা, আয়াত : ৯-১০)

জুমার দিনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আমল সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হলো—

১. জুমার দিনের বিশেষ মর্যাদা : আবু লুবাবা বিন আবদুল মুনজির (রা.) থেকে বর্ণিত, হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) জুমার দিনের পাঁচটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছেন। সেগুলো হলো—এক. আল্লাহ তাআলা এই দিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করেছেন। দুই. আল্লাহ তাআলা এই দিনে আদম (আ.)-কে জমিনে অবতরণ করিয়েছেন। তিন. এই দিনে আদম (আ.)-কে মৃত্যু দিয়েছেন। চার. এই দিনে এমন একটি সময় আছে, যখন বান্দা আল্লাহর কাছে যা কিছুই প্রার্থনা করবে তিনি তা দেবেন। যতক্ষণ সে হারাম কিছু প্রার্থনা করবে না। পাঁচ. এই দিনে কিয়ামত সংঘটিত হবে।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৮৯৫)

২. জুমার নামাজ আদায় : সালমান ফারসি থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করল, সাধ্যমতো পবিত্র হলো, তেল ব্যবহার করল, ঘর থেকে সুগন্ধি ব্যবহার করল, অতঃপর মসজিদে এল, সেখানে দুজন মুসল্লির মধ্যে ফাঁক করে সামনে এগিয়ে যায় না, নির্দিষ্ট পরিমাণ নামাজ পড়ল, অতঃপর ইমাম কথা শুরু করলে চুপ থাকল; তাহলে আল্লাহ তাআলা তার দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ মাফ করবেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৮৮৩)

অন্য হাদিসে এসেছে, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা, এক রমজান থেকে পরবর্তী রমজান মধ্যবর্তী সময়ের পাপ মোচন করে; যদি সেই ব্যক্তি সব ধরনের কবিরা গুনাহ থেকে বিরত থাকে।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৩৩)

৩. জুমার দিন গোসল করা : জুমার দিন গোসল করা ও আগে আগে মসজিদে যাওয়া অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। আউস বিন আউস সাকাফি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন ভালো করে গোসল করল, দ্রুততর সময়ে মসজিদে গেল ও (ইমামের) কাছাকাছি বসে মনোযোগসহ (খুতবা) শুনল, তার জন্য প্রতি কদমের বদলে এক বছরের রোজা ও নামাজের সওয়াব থাকবে।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৩৪৫)

৪. মসজিদে প্রথমে প্রবেশ করা : জুমার দিন মসজিদে আগে প্রবেশ করা ও মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনার বিশেষ গুরুত্ব আছে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করল, অতঃপর প্রথমে মসজিদে গেল সে যেন একটি উট কোরবানি করল। যে এরপর মসজিদে গেল, সে যেন একটি গরু কোরবানি করল। আর যে এরপর ঢুকল, সে যেন ছাগল কোরবানি করল, এরপর যে ঢুকল সে যেন মুরগি কোরবানি করল, আর যে এরপর ঢুকল সে ডিম সদকা করল। অতঃপর ইমাম খুতবার জন্য এলে ফেরেশতারা আলোচনা শোনা শুরু করে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৮৪১)

৫. দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত : জুমার দিন একটি সময় আছে, যখন মানুষ আল্লাহর কাছে কোনো দোয়া করলে আল্লাহ তা কবুল করেন। জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘জুমার দিন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে ভালো কিছুর দোয়া করলে আল্লাহ তাকে তা দেন। তোমরা সময়টি আসরের পর অনুসন্ধান কর।’ (আবু দাউদ, হাদিস নম্বর : ১০৪৮)

জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘জুমার দিনের ১২ ঘণ্টার মধ্যে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে যদি কোনো মুসলিম এ সময় আল্লাহর কাছে কিছু প্রার্থনা করে, তাহলে মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাকে দান করেন। এই মুহূর্তটি তোমরা আসরের শেষ সময়ে অনুসন্ধান কর। (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৮)

৬. সুরা কাহাফ পাঠ : জুমার অন্যতম আমল সুরা কাহাফ পাঠ করা। আবু সাইদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহাফ পড়বে তা দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ে তার জন্য আলোকিত হয়ে থাকবে। আর যে ব্যক্তি এই সুরার শেষ ১০ আয়াত পাঠ করবে অতঃপর দাজ্জাল বের হলে তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।’ (সহিহ তারগিব, হাদিস : ১৪৭৩, আল মুসতাদরাক : ২/৩৯৯)

৭. গুনাহ মাফ হয় : সালমান ফারসি থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করল, সাধ্যমতো পবিত্র হলো, তেল ব্যবহার করল, ঘর থেকে সুগন্ধি ব্যবহার করল, অতঃপর মসজিদে এলো, সেখানে দুজন মুসল্লির মধ্যে ফাঁক করে সামনে এগিয়ে যায় না, নির্দিষ্ট পরিমাণ নামাজ পড়ল, অতঃপর ইমাম কথা শুরু করলে চুপ থাকল; তাহলে আল্লাহ তাআলা তার দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ মাফ করেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৮৮৩)

৮. দরুদ পাঠ : জুমার দিন নবীজি (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা কর্তব্য। আউস বিন আবি আউস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন সর্বোত্তম। এই দিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে। এই দিনে তিনি ইন্তেকাল করেছেন। এই দিনে শিঙায় ফুঁ দেওয়া হবে এবং এই দিনে সবাইকে বেহুঁশ করা হবে। অতএব, তোমরা এই দিনে আমার ওপর বেশি পরিমাণ দরুদ পড়। কারণ জুমার দিনে তোমাদের দরুদ আমার কাছে পেশ করা হয়।’ সাহাবারা বললেন, আমাদের দরুদ আপনার কাছে কিভাবে পেশ করা হবে, অথচ আপনার দেহ এক সময় নিঃশেষ হয়ে যাবে? তিনি বলেন, ‘আল্লাহ জমিনের জন্য আমার দেহের ভক্ষণ নিষিদ্ধ করেছেন।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৭)

মানব দেহের ‘ত্বক’ নিয়ে কোরআনে যা বলা হয়েছে

মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ
মানব দেহের ‘ত্বক’ নিয়ে কোরআনে যা বলা হয়েছে
সংগৃহীত ছবি

মানুষের ত্বক হলো মানবদেহের বহিরাবরণ। এটি মানবদেহের সর্ববৃহৎ অঙ্গ। এটি সমগ্র শরীরকে সম্পূর্ণরূপে আবৃত করে রাখে। ত্বক এমন একটি আবরণ বা অঙ্গ, যা দেহের বাইরের অংশকে ঢেকে রাখে এবং তাকে সুরক্ষা প্রদান করে। পবিত্র কোরআনে ‘ত্বক’ সম্পর্কিত কয়েকটি আয়াত ও তার তাৎপর্য নিম্নে তুলে ধরা হলো—

শক্তি, ক্ষমতা ও অনুভূতির (সংবেদনশীলতার) নির্দেশনা

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই যারা আমার নিদর্শনসমূহকে অস্বীকার করেছে, অচিরেই আমি তাদের আগুনে নিক্ষেপ করব। যখনই তাদের চামড়া (ত্বক) পুড়ে যাবে, তখনই আমি তার পরিবর্তে নতুন চামড়া সৃষ্টি করে দেব, যাতে তারা শাস্তির স্বাদ আস্বাদন করতে থাকে। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।’ (সুরা : আন-নিসা, আয়াত : ৫৬)

ইমাম ইবন কাসির (রহ.) বলেন, আল-আমাশ ইবন উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে যখন তাদের চামড়া আগুনে পুড়ে যাবে, তখন আল্লাহ তাদের জন্য কাগজের মতো সাদা নতুন চামড়া সৃষ্টি করবেন। (ইবন আবি হাতিম)

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াজিদ আল-হাদরামি (রহ.)-এর মতে, ‘আল্লাহ একজন কাফিরের জন্য এক শ স্তরের চামড়া সৃষ্টি করবেন। প্রত্যেক দুই স্তরের মাঝখানে থাকবে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের শাস্তি।’ (ইবন আবি হাতিম)

চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, আগুনে পোড়ার ফলে ব্যথা অনুভবের প্রধান কেন্দ্র হলো ত্বকের বাইরের স্তর, যেখানে ব্যথা অনুভবকারী স্নায়ুগুলো অবস্থান করে। যদি পোড়া ক্ষত ত্বক অতিক্রম করে গভীর মাংসপেশী পর্যন্ত পৌঁছে যায়, তবে আগের তুলনায় ব্যথার অনুভূতি কমে যায়; কারণ গভীর টিস্যু, পেশি ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গে ব্যথা অনুভবকারী স্নায়ুর ঘনত্ব অনেক কম।

তাই চিকিৎসকরা বলেন, যে পোড়া ক্ষত শুধু ত্বক পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকে, তা অত্যন্ত তীব্র ব্যথা সৃষ্টি করে; পক্ষান্তরে আরো গভীর ও গুরুতর পোড়া ক্ষত তুলনামূলকভাবে কম ব্যথা অনুভূত করায়। এ দৃষ্টিকোণ থেকে কোরআনের এই আয়াত ইঙ্গিত করে যে জাহান্নামের আগুন যখন ত্বক পুড়িয়ে ফেলবে—যেখানে ব্যথা অনুভবকারী স্নায়ুগুলো আছে, তখনই আল্লাহ নতুন ত্বক সৃষ্টি করবেন, যাতে শাস্তির অনুভূতি অবিরাম চলতে থাকে এবং তারা নিরবচ্ছিন্নভাবে আজাবের স্বাদ গ্রহণ করে।

ভয় ও আল্লাহভীতির নির্দেশনা
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহ সর্বোত্তম বাণী অবতীর্ণ করেছেন—একটি এমন কিতাব, যার বক্তব্য পরস্পর সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং বারবার পুনরাবৃত্ত। যারা তাদের রবকে ভয় করে, তাদের ত্বক তা শুনে শিহরিত হয়ে ওঠে। অতঃপর তাদের ত্বক ও হৃদয় আল্লাহর স্মরণে কোমল হয়ে যায়। এটাই আল্লাহর হিদায়াত; তিনি যাকে ইচ্ছা এর মাধ্যমে সৎপথে পরিচালিত করেন। আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তার জন্য কোনো পথপ্রদর্শক নেই।’ (আয-ঝুমার, আয়াত : ২৩

ইমাম ইবন কাসির (রহ.) বলেন, এটি নেককার বান্দাদের বৈশিষ্ট্য। তারা যখন মহান আল্লাহর বাণী শ্রবণ করে, তখন তাতে বর্ণিত সুসংবাদ, সতর্কবাণী, ভীতি ও শাস্তির হুমকি উপলব্ধি করে তাদের ত্বক ভয়ে কেঁপে ওঠে। এরপর যখন তারা আল্লাহর রহমত, অনুগ্রহ ও ক্ষমার আশাবাণী স্মরণ করে, তখন তাদের ত্বক ও হৃদয় প্রশান্ত ও কোমল হয়ে আল্লাহর স্মরণে নিমগ্ন হয়। এভাবেই তারা কাফিরদের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।

সাক্ষ্য ও স্বীকারোক্তির নির্দেশনা
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘অবশেষে যখন তারা জাহান্নামে পৌঁছাবে, তখন তাদের কান, তাদের চোখ এবং তাদের ত্বক তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে।’ (সুরা : ফুসসিলাত, আয়াত : ২০)

ইমাম ইবন কাসির (রহ.) বলেন, অর্থাৎ তারা পৃথিবীতে যা কিছু করেছে প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে—সব কিছুর ব্যাপারে তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সাক্ষ্য দেবে; কোনো কিছুই গোপন থাকবে না। আল্লাহ আরো বলেন, তারা তাদের ত্বককে বলবে, ‘তোমরা কেন আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলে?’ তারা বলবে, ‘আল্লাহ আমাদের কথা বলার শক্তি দিয়েছেন, যিনি সব কিছুকেই কথা বলার ক্ষমতা দিয়েছেন। তিনিই প্রথমবার তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর কাছে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।’ (সুরা : ফুসসিলাত, আয়াত : ২১

যখন মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে, তখন তারা নিজেদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও ত্বককে ভর্ত্সনা করবে। তখন অঙ্গগুলো জবাব দেবে—আল্লাহই আমাদের কথা বলার ক্ষমতা দিয়েছেন, যিনি সব কিছুকে কথা বলার শক্তি দিয়েছেন। তিনিই প্রথমবার তোমাদের সৃষ্টি করেছেন; সুতরাং তাঁর আদেশ অমান্য করার ক্ষমতা কারো নেই।

হাদিসের বাণী

দাফনের সময় যে সাহাবির কাফনের কাপড় ছিল না

ইসলামী জীবন ডেস্ক
দাফনের সময় যে সাহাবির কাফনের কাপড় ছিল না
সংগৃহীত ছবি

বিশিষ্ট সাহাবি হজরত ইবরাহিম ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আওফ (রা.)-থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন আবদুর রহমান ইবনে আওফ (রা.)-এর কাছে খাবার আনা হলো, সেদিন তিনি রোজা ছিলেন।

তখন (প্রাচুর্যময় খাবার দেখে তাঁর একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা মনে পড়ে যায়) তিনি বললেন, মুসআব ইবনে ওমাইর (রা.) যখন শাহাদতবরণ করলেন, তিনি আমার থেকেও উত্তম অবস্থায় ছিলেন। অথচ তাঁকে কাফন পরানোর মতো এমন একটি চাদর ব্যতীত আর কিছুই ছিল না। সেই চাদর দিয়ে তাঁর মাথা ঢাকলে পা বের হয়ে যেত, আবার পা ঢাকলে মাথা বের হয়ে যেত।

অতঃপর আমাদের দুনিয়ার যা দেওয়ার, তা দেওয়া হলো। অথবা তিনি বললেন, আমাদের পার্থিব সম্পদ যা দেওয়ার, তা তো দেওয়া হলো। (এখন) আমাদের ভয় হয়, আমাদের নেক আমলের কারণে এসব আমাদেরকে (দুনিয়াতেই) দ্রুত দেওয়া হয়েছে। জান্নাতে আর নাও দেওয়া হতে পারে, তিনি এমন আশঙ্কা করে কাঁদতে লাগলেন। এমনকি তিনি আর খাবার খেতে পারেননি। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১২৭৫)

শিক্ষা ও বিধান
১. আখিরাতকে দুনিয়ার ওপর প্রাধান্য দিতে হবে। সাহাবিরা দুনিয়ার প্রাচুর্যকে সফলতার মাপকাঠি মনে করতেন না; বরং আখিরাতের সফলতাকেই প্রকৃত সফলতা মনে করতেন।

২. নেককারদের জীবন ছিল ত্যাগে ভরপুর। মুসআব ইবনে উমাইর ইসলামের জন্য সবকিছু ত্যাগ করেছিলেন। শাহাদাতের সময় তাঁর কাফনের কাপড়ও পর্যাপ্ত ছিল না।

৩. দুনিয়ার প্রাচুর্য সব সময় আল্লাহর সন্তুষ্টির প্রমাণ নয়। অনেক সময় দুনিয়ার সম্পদ পরীক্ষা হতে পারে। তাই সম্পদ পেয়ে আত্মতুষ্ট না হয়ে কৃতজ্ঞ ও সতর্ক থাকতে হবে।

৪. নেক আমলের প্রতিদান আখিরাতে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা রাখা উচিত। আবদুর রহমান ইবনে আওফ আশঙ্কা করছিলেন, দুনিয়ার প্রাচুর্যই যেন তাঁদের নেক আমলের প্রতিদান হয়ে না যায় এবং আখিরাতে সওয়াব কমে না যায়।

৫. আল্লাহভীতি মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। অঢেল সম্পদ থাকা সত্ত্বেও তিনি ভীত ছিলেন—এটি ছিল তাঁর গভীর তাকওয়ার পরিচয়।

৬. অতিরিক্ত ভোগ-বিলাস থেকে সতর্ক থাকা জরুরি। মুমিনের উচিত দুনিয়ার আরাম-আয়েশে মগ্ন না হয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা।

৭. খাবার ও সম্পদ আল্লাহর নিয়ামত—এগুলো আখিরাতকে ভুলিয়ে দেওয়ার কারণ যেন না হয়। প্রতিটি নিয়ামতের জন্য শোকর আদায় এবং সঠিক পথে ব্যয় করা অপরিহার্য।
 

পরকালে যে ৭ শ্রেণির মানুষের দিকে আল্লাহ তাকাবেন না

ইসলামী জীবন ডেস্ক
পরকালে যে ৭ শ্রেণির মানুষের দিকে আল্লাহ তাকাবেন না
সংগৃহীত ছবি

এমন কিছু মানুষ আছে, যারা কিয়ামত দিবসে দয়াময় আল্লাহর সুদৃষ্টি থেকে বঞ্চিত থাকবে, তিনি তাদের দিকে তাকাবেন না। বরং তিনি তাদের প্রতি রাগান্মিত থাকবেন। ফলে তারা ক্ষমাপ্রপ্তও হবে না। তাদের সংখ্যা অনেক।

১. যারা আল্লাহর সঙ্গে কৃত অঙ্গীকার ও শপথকে তুচ্ছ বিনিময়ে বিক্রয় করে : আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর সঙ্গে কৃত অঙ্গীকার এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে, এরা আখিরাতের কোনো অংশই পাবে না এবং আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাদের সঙ্গে কথা বলবেন না, তাদের প্রতি দৃষ্টিপাত করবেন না এবং তাদের পবিত্র করবেন না, বস্তুত তাদের জন্য আছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ৭৭)

২. উপকার করে খোঁটা দানকারী : আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেন, তিন ধরনের লোক এমন আছে, মহান আল্লাহ যাদের সঙ্গে কথা বলবেন না, কিয়ামতের দিন তাদের দিকে (রহমতের দৃষ্টিতে) তাকাবেন না এবং তাদের পবিত্র করবেন না; বরং তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। আমি (আবু হুরাইরা) বললাম, হে আল্লাহর রাসুল, তারা কারা? ওরা তো ক্ষতিগ্রস্ত! তিনি বলেন, টাখনুর নিচে কাপড় পরিধানকারী, ব্যবসার সামগ্রী মিথ্যা শপথ দিয়ে বিক্রয়কারী এবং কাউকে কিছু দান করার পর তার খোঁটা দাতা।’ (মুসলিম, ঈমান অধ্যায়, হাদিস নম্বর : ২৯৪)

অন্য হাদিসে এসেছে, ‘লুঙ্গির যে পরিমাণ অংশ টাখনুর নিচে থাকবে, ওই পরিমাণ জাহান্নামে যাবে।’ (বুখারি, হাদিস নম্বর ৫৭৮৭)

৩. পোশাকের মাধ্যমে অহংকার ও বড়ত্ব প্রকাশকারী : আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘মহান আল্লাহ কিয়ামতের দিন ওই ব্যক্তির দিকে (রহমতের দৃষ্টিতে) তাকাবেন না, যে অহংকারবশত পোশাক প্রলম্বিত (ও প্রদর্শিত) করে।’ (বুখারি, হাদিস : ৫৮৫৬)

৪. বৃদ্ধ ব্যভিচারী, মিথ্যাবাদী শাসক ও অহংকারী দরিদ্র : আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেন, আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তিন শ্রেণির লোকের সঙ্গে কথা বলবেন না, তাদের পবিত্র করবেন না এবং তাদের দিকে রহমতের দৃষ্টি দেবেন না। তাদের জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক শাস্তি। তারা হলো, বৃদ্ধ ব্যভিচারী, মিথ্যাবাদী শাসক ও অহংকারী দরিদ্র।’ (মুসলিম শরিফ, ঈমান অধ্যায়, হাদিস নম্বর : ২৯৬)

বিশেষভাবে তাদের ব্যাপারে উপরোক্ত শাস্তি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করার কারণ সম্পর্কে কাজি ইয়াজ বলেন, ‘তাদের প্রত্যেকের পাপমুক্ত থাকার বিশেষ সুযোগ রয়েছে। যদিও কোনো পাপীর পাপের অজুহাত গ্রহণীয় নয়; কিন্তু এ কথা বলা যেতে পারে যে ওই পাপ করার ক্ষেত্রে তাদের অতীব প্রয়োজন ছিল না। তা সত্ত্বেও তাদের ওই পাপে লিপ্ত হওয়া আল্লাহর অধিকারকে তুচ্ছ মনে করার শামিল। তাই তাদের জন্য এমন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে।

৫. রুকু ও সিজদার মাঝখানে যারা মেরুদণ্ড সোজা করে না : ত্বলাক বিন আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘মহান আল্লাহ কিয়ামতের দিন ওই নামাজির দিকে (রহমতের দৃষ্টিতে) তাকাবেন না, যে রুকু ও সিজদার মাঝখানে সোজা হয়ে দাঁড়ায় না।’  (তিরমিজি, হাদিস : ২৬৫)

৬. মাতা-পিতার অবাধ্য সন্তান, নারী হয়ে পুরুষের সাদৃশ্য অবলম্বনকারী ও দাইয়ুস : আবদুল্লাহ বিন আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, তিন ধরনের মানুষের দিকে আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন দৃষ্টিপাত করবেন না। মাতা-পিতার অবাধ্য, পুরুষের সদৃশ অবলম্বনকারী নারী এবং দাইয়ুস। আর তিন প্রকার লোক জান্নাতে যাবে না। মাতা-পিতার অবাধ্য, মদ পানে আসক্ত এবং অনুদানের পর খোঁটাদাতা।’ (মুসনাদ আহমদ, হাদিস নম্বর : ৬১১)

মাতা-পিতার অবাধ্য সন্তানের বিষয়টি স্পষ্ট। কারণ আল্লাহ তাআলা মাতা-পিতার অধিকারকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি নিজ অধিকারকে তাদের অধিকারের সঙ্গে সংযুক্ত করেছেন এবং তাদের উভয়ের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করার আদেশ করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমার রব তিনি ছাড়া অন্য কারো ইবাদত না করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং মাতা-পিতার প্রতি সদ্ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন। তাদের একজন অথবা উভয়ে তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হলে তাদের ‘উফ’ বোলো না এবং তাদের ধমক দিয়ো না। তাদের সঙ্গে সম্মানসূচক কথা বোলো।’ (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ২৩)

নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘মাতা-পিতার সন্তুষ্টিতে আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং তাঁদের অসন্তুষ্টিতে আল্লাহর অসন্তুষ্টি।’ (তিরমিজি শরিফ, হাদিস নং ১৯৬২)

পুরুষের সাদৃশ্য অবলম্বনকারী বলতে ওই নারীকে বোঝায়, পোশাক-পরিধানে, চালচলনে, কাজে-কর্মে এবং কথার স্বরে যারা পুরুষের অনুকরণ করে।

আর দাইয়ুস হচ্ছে, যে নিজ পরিবারে অশ্লীলতা প্রশ্রয় দেয়, তাদের সম্ভ্রম রক্ষায় আত্মসম্মানী নয়, সে মানবিকতাহীন, অপুরুষত্ব, অসুস্থ মস্তিষ্ক এবং দুর্বল ঈমানের অধিকারী।

দাইয়ুস ওই ব্যক্তি, যার স্ত্রীর কাছে পর-পুরুষ প্রবেশ করে, অথচ সে কিছুই মনে করে না; বরং চুপ থাকে। ইমাম জাহাবি (রহ.) বলেছেন, ‘দাইয়ুস’ ওই ব্যক্তি, যে তার স্ত্রীর অশ্লীল কাজ সম্পর্কে অবগত। কিন্তু তার প্রতি ভালোবাসার কারণে সে ব্যাপারে উদাসীন থাকে। অথবা তার ওপর তার স্ত্রীর বৃহৎ ঋণ বা অন্য কোনো দুর্বলতার কারণে সে স্ত্রীকে কিছুই বলে না। প্রকৃতপক্ষে ওই ব্যক্তির আত্মসম্মানবোধ বলতে কিছুই নেই। (ইমাম জাহাবি, কিতাবুল কাবায়ের : ১/৫০)

দাইয়ুস ব্যক্তির পরিণতি সম্পর্কে রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘দাইয়ুস কখনোই জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (নাসাঈ, হাদিস : ২৫৬২)

৭. সমকামী : আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন ওই ব্যক্তির দিকে দৃষ্টিপাত করবেন না, যে ব্যক্তি পুরুষের সঙ্গে কিংবা স্ত্রীর সঙ্গে পায়ুপথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে।’ (তিরিমিজি, হাদিস নম্বর : ১১৭৬)

আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক জ্ঞান দান করুন। আমিন।