• ই-পেপার

সাইবার স্ক্যাম ও সেক্সটর্শনে কঠোর হলো যুক্তরাষ্ট্র, নতুন ভিসা নীতি

নাইজেরিয়ায় ৪৪ শিক্ষার্থী-শিক্ষক অপহরণে তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

অনলাইন ডেস্ক
নাইজেরিয়ায় ৪৪ শিক্ষার্থী-শিক্ষক অপহরণে তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
সংগৃহীত ছবি

নাইজেরিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ওয়ো অঙ্গরাজ্যে ৪৪ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক অপহরণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিন ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালতে তারা অপরাধ স্বীকার করেছেন।

সাজাপ্রাপ্ত তিন ব্যক্তি হলেন আবদুলরাজাক উমর (যিনি আবু খলিফা বা আবু খালিদ নামেও পরিচিত), ইউনুসা মুসা এবং শামসু আদামু সানি। তারা রাজধানী আবুজার একটি উচ্চ আদালতে সাজা ঘোষণার শুনানিতে হাজির হন। আদালতে তারা অপহরণের মূল পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে তথ্য গোপন করার অভিযোগ স্বীকার করেন। একই সঙ্গে তারা স্বীকার করেন যে, তারা জঙ্গিগোষ্ঠী বোকো হারামের একটি সহযোগী সংগঠনের সদস্য। তবে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে ওয়ো অঙ্গরাজ্যে স্কুল শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অপহরণের পরিকল্পনায় অন্য সন্দেহভাজনদের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ তারা অস্বীকার করেন।

তদন্তে আবদুলরাজাক উমর আরো স্বীকার করেছেন, তিনি একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ ও নির্দেশনা দিতেন। পাশাপাশি অবৈধ খনন কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও জড়িত থাকার কথা তিনি জানিয়েছেন। রায়ের প্রায় দুই সপ্তাহ আগে নাইজেরিয়ার কর্তৃপক্ষ জানায়, মে মাসে ওয়োর ওরিইরে জেলায় তিনটি স্কুলে চালানো সমন্বিত হামলায় অপহৃত ৪৪ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষককে উদ্ধার করা হয়েছে। এই অপহরণের ঘটনায় অভিভাবক, শিক্ষক সংগঠন ও অধিকারকর্মীরা ব্যাপক প্রতিবাদ করেন। তারা স্কুলগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করার দাবি জানান।

ওরিইরের কমিউনিটি গ্রামার স্কুলের প্রধান শিক্ষক র‍্যাচেল ফোলাওয়ে আলামু জানান, অপহরণের পর তিনি, অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ৫৬ দিন জঙ্গলের গভীরে বন্দি ছিলেন। তিনি বলেন, অপহরণকারীরা প্রায়ই রাতে তাদের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যেত। অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা হেঁটে যেতে বাধ্য করা হতো। উদ্ধারের তিন দিন পর তিনি বলেন, 'আমরা শিশুদের নিয়ে বেশির ভাগ সময় খোলা জঙ্গলে ছিলাম। রোদ ও বৃষ্টির মধ্যেই থাকতে হয়েছে।' র‍্যাচেল জানান, অপহরণকারীরা তার দুই পুরুষ সহকর্মীকে হত্যা করে। অপহরণের কিছুদিন পর তার নিজের স্কুলের একজন শিক্ষককে হত্যা করা হয়। পরে জুন মাসে ব্যাপটিস্ট নার্সারি অ্যান্ড প্রাইমারি স্কুলের একজন শিক্ষককেও হত্যা করা হয়। তিনি বলেন, 'তারা ইচ্ছা করেই তাদের হত্যা করেছে। তারা ভেবেছিল, এতে সরকার বাধ্য হয়ে তাদের দাবি মেনে নেবে।'

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নাইজেরিয়ায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বড় আকারের অপহরণ একটি সাধারণ কৌশলে পরিণত হয়েছে। এসব গোষ্ঠী সাধারণত মুক্তিপণের জন্য মানুষকে জিম্মি করে। তারা বেশি হামলা চালায় তুলনামূলক সহজ লক্ষ্যবস্তুতে। এর মধ্যে রয়েছে স্কুল, গির্জা, মসজিদ এবং প্রত্যন্ত এলাকার গ্রাম। ওরিইরের এই অপহরণ ঘটনা বিশেষ উদ্বেগ তৈরি করে। কারণ, নাইজেরিয়ায় জঙ্গি সহিংসতা দীর্ঘদিন ধরে মূলত উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সীমাবদ্ধ ছিল। ওই অঞ্চলেই বোকো হারামের প্রধান ঘাঁটি রয়েছে। জুলাইয়ের শুরুতে ওরিইরের অপহৃতদের উদ্ধারের অভিযান শেষে কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা আরো কয়েকজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের মধ্যে একজনকে অপহরণকারী চক্রের অন্যতম প্রধান সংগঠক হিসেবে মনে করা হচ্ছে।

নাইজেরিয়া বর্তমানে একাধিক নিরাপত্তা সমস্যার মুখোমুখি। এর মধ্যে রয়েছে স্থানীয় অপরাধী চক্র, যাদের দেশটিতে ‘ডাকাত’ বলা হয়। এসব চক্র লুটপাট ও মুক্তিপণের জন্য অপহরণ চালায়। এ ছাড়া দেশটিতে ইসলামপন্থি বিদ্রোহ, জমি নিয়ে সংঘর্ষ এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনও নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে। ২০২৭ সালের জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে এসব নিরাপত্তা সংকট এখন দেশটির অন্যতম বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।


 

এআই'য়ের বুদ্ধিতেই ট্রিপল মার্ডার!

অনলাইন ডেস্ক
এআই'য়ের বুদ্ধিতেই ট্রিপল মার্ডার!
সংগৃহীত ছবি

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা-এআই কৃত্রিম হলেও তাদের দেয়া উত্তর মোটেই কৃত্রিম নয়। তবে মানুষ তো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চেয়েও চতুর। তাই তারা এরই মধ্যে এআই'য়ের অপব্যবহারে সিদ্ধহস্ত হয়ে গেছে। বেঙ্গালুরুর বহুল আলোচিত ট্রিপল মার্ডারের আগে সন্দেহভাজন খুনী দীর্ঘদিন গুগলের এআই চ্যাটবট জেমিনি'র সাথে পরামর্শ করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, অভিযুক্ত জে কেনেথ (২৫) হত্যাকান্ডের আগে ৬ মাস ধরে এআই চ্যাটবট জেমিনির সাথে পরামর্শ করে হত্যাকাণ্ডের নিখুঁত ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করেছিলেন। সরাসরি প্রশ্ন না করে কাল্পনিক পরিস্থিতি সাজিয়ে তিনি এআই'য়ের কাছে নানান বিষয়ে জানতে চান। কেনেথের কৌতুহল ছিল, কীভাবে মানুষকে হত্যা করা যায়, কোন ধরনের ছুরিকাঘাত প্রাণঘাতী হয়, কীভাবে স্লো পয়জনিং করা যায়, কীভাবে মরদেহ গুম বা সহজে পুড়িয়ে ফেলা যায়, মোবাইল ফোন ব্যবহার না করে কীভাবে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে লুকিয়ে থাকা যায়। এআই'য়ের পরামর্শে কেনেথ তার বাসায় ক্লাউড কিচেন বসানোর নামে একটি লোহার চুল্লি স্থাপন করেছিলেন। তার পরিকল্পনা ছিল, এই চুল্লি লাশ গুম করার কাজে ব্যবহারের। হোয়াইটফিল্ড ডিভিশনের ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ-ডিসিপি সাইদুলু আদাবাত এসব তথ্য জানিয়েছেন। 

অভিযুক্ত জে কেনেথ একজন সফটওয়্যার ঈঞ্জিনিয়ার। সে শ্বেতা নামে আরেক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের সাথে লিভ-ইন সম্পর্কে ছিল। কিন্তু শ্বেতার পরিবার তাদের সম্পর্কটিকে স্বাভাবিকভাবে নেয়নি। তবুও তারা বিভিন্ন সময়ে মেয়েকে আর্থিকভাবে সহায়তা করেছে। তারপরও কেনেথ আর শ্বেতা প্রবল আর্থিক সঙ্কটে ছিল। ৫৬ লাখ টাকার ঋণের বোঝা, শ্বেতার পরিবারের অর্থ ফিরিয়ে দেয়াসহ নানাবিধ মানসিক চাপের কারণে কেনেথ তাদের হত্যার পরিকল্পনা করে।  

গত ২২ জুন রাতে শ্বেতার বাবা সোমসুন্দর (৫৫), মা মুথুলক্ষ্মী (৪৮) এবং ছোট বোন সুপ্রিয়া (২০) পূর্ব বেঙ্গালুরুর কে. আর. পুরাম থানা এলাকার সিগেহাল্লিতে কেনেথ ও শ্বেতার ফ্ল্যাটে যান। সেখানে তাদের মধ্যে তুমুল তর্কাতর্কি শুরু হয়। ঘটনার শুরুতে শ্বেতার উপস্থিতিতে কেনেথ প্রথমে শ্বেতার মা মুথুলক্ষ্মীকে আক্রমণ করেন। চিৎকার শুনে বাবা ও ছোট বোন দরজার কাছে এগিয়ে এলে কেনেথ তাদের ওপরও ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে তিনজনকেই হত্যা করেন। পরিকল্পনামত হত্যা করতে পারলেও লাশ গুম করার সময় পাননি কেনেথ। জানাজানি হয়ে গেলে কেনেথ ও শ্বেতা দুজনই পদুচেরিতে পালিয়ে যান। অবশ্য পালানোর পরিকল্পনাও কাজে আসেনি। ২৪ ঘণ্টা পর আলাদাভাবে দুজনকেই গ্রেপ্তার করা হয়। 

ডিসিপি সাইদুলু আদাবাত জানান, বাবা, মা ও ছোট বোনকে হত্যার সময় শ্বেতা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল। সে এই পরিকল্পনা সম্পর্কে আগে থেকেই জানতো। শ্বেতা তার পরিবারের নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ পছন্দ করত না।


কেনেথের ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলোও জব্দ করা হয়েছে এবং ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে পুলিশের কাছে এআইয়ের সাথে কেনেথের চ্যাটের কোনো স্ক্রিনশট নেই। তাই পুলিশ এখন কেনেথের সার্চ হিস্ট্রি পাওয়ার জন্য গুগলের কাছে আবেদন করেছে। ডিসিপি আদাবাত বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি গুগলের কাছে ইতিমধ্যে একটি অনুরোধ পাঠানো হয়েছে। এর জন্য একটি আইনি প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হয় এবং সঠিক আইনি মাধ্যমের সাহায্যে প্রয়োজনীয় আবেদন করতে হয়।’


 

ফ্রান্সে ভয়াবহ দাবানল, সরানো হলো ২০ হাজার মানুষ

অনলাইন ডেস্ক
ফ্রান্সে ভয়াবহ দাবানল, সরানো হলো ২০ হাজার মানুষ
ছবি: রয়টার্স

ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ভয়াবহ দাবানলের কারণে ২০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দেশটির গিরন্দ অঞ্চলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় ৭০০ দমকলকর্মী কাজ করছেন।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, আর্কাশোঁ উপসাগরের আশপাশে ইতিমধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৪০০ হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে। আগুনের ঝুঁকি বাড়তে থাকায় আরো ৮ হাজার ৮০০ মানুষকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাতে যাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, তাদের বড় অংশই ছিলেন লেজ-ক্যাপ-ফেরে উপদ্বীপের বিভিন্ন ক্যাম্পসাইটে থাকা পর্যটক। গিরন্দ অঞ্চলের প্রশাসনিক প্রধান সোফি ব্রোকা জানান, সরিয়ে নেওয়া মানুষের মধ্যে প্রায় ১০ হাজার ছিলেন পর্যটক। তিনি বলেন, আর্কাশোঁ উপসাগরের তীরবর্তী ক্লাউয়ে গ্রামের সর্বশেষ সরিয়ে নেওয়ার কাজ শান্তিপূর্ণভাবে চলছে। এখন পর্যন্ত কেউ আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে ঝুঁকিপূর্ণ বনাঞ্চল ও কয়েকটি সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গিরন্দ দমকল বিভাগের প্রধান মার্ক ভেরমেউলেন বলেন, ‘সারা রাত একটানা কাজ করতে হয়েছে।’ তিনি সতর্ক করে জানান, তাপমাত্রা বাড়ছে এবং বাতাসের গতি আরো শক্তিশালী হচ্ছে, ফলে আগুনের গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে উঠছে। 

তিনি বলেন, ‘রাত ৮টার দিকে পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ হতে পারে। এরপর আমাদের পরিবর্তনশীল বাতাসের সঙ্গে লড়াই করতে হবে। তাই আমরা এমন একটি আগুনের মুখোমুখি হয়েছি, যার গতিপথ অনুমান করা খুব কঠিন। এ কারণে সতর্কতা কমানোর কোনো সুযোগ নেই।’ এর আগে সপ্তাহের শুরুতে বোর্দো বিমানবন্দরের কাছে আরেকটি দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করার সময় দুই স্থানীয় দমকলকর্মীর মৃত্যু হয়। উপকূলীয় শহর ল্য পোর্জের ১৯ বছর বয়সী বাসিন্দা ইয়াসমিনা দে ফ্রেইতাস জানান, বুধবার দুপুরে তিনি প্রথম ধোঁয়া ও পোড়া গন্ধ অনুভব করেন।

তিনি বলেন, বিকেলের দিকে আকাশ অন্ধকার হয়ে যায়। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে ঘন ধোঁয়া। পরে ছাই এবং আধাপোড়া গাছের বাকলও পড়তে শুরু করে। রাত প্রায় আটটার দিকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী তাদের পরিবারকে সরিয়ে পাশের একটি শহরের জিমনেশিয়ামে নিয়ে যায়। তাড়াহুড়োর কারণে তারা তাদের দুটি বিড়াল ও চারটি মুরগি রেখে যেতে বাধ্য হন। ইয়াসমিনা বলেন, তিনি পুরো রাত ঘুমাতে পারেননি। আগুন কতটা ছড়াচ্ছে তা দেখতে প্রতি ঘণ্টায় জেগে উঠছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি দেখছিলাম, পুড়ে যাওয়া এলাকার পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়ছে।’

বিবিসির দক্ষিণাঞ্চলের উপস্থাপক জো কেন্টও ওই এলাকার একটি ক্যাম্পসাইটে অবস্থান করছেন। তিনি জানান, পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন অনেক পর্যটক ইতিমধ্যে ক্যাম্প ছেড়ে চলে গেছেন। তিনি বলেন, উপদ্বীপের দক্ষিণে যাওয়ার প্রধান সড়ক, যেখানে সাধারণত প্রচুর গাড়ি থাকে, এখন প্রায় ফাঁকা। এমনকি সুপারমার্কেটগুলোতেও অস্বাভাবিক নীরবতা দেখা যাচ্ছে।

ফ্রান্স ছাড়াও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। স্পেন ও ইতালিতেও আগুন নিয়ন্ত্রণে লড়াই করছে কর্তৃপক্ষ। ফ্রান্সের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ভার অঞ্চলে আগুনের কারণে যেসব বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, তাদের বৃহস্পতিবার সকালে বাড়িতে ফিরে ক্ষয়ক্ষতি দেখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে প্রশাসন সতর্ক করেছে, বিকেলে বাতাসের গতি বাড়লে আগুন আবার ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনিয়েজ বোর্দো বিমানবন্দরের কাছে নিহত দুই দমকলকর্মীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তিনি তাদের পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও সমর্থন জানান।

ইতালির সিসিলি দ্বীপে দাবানল নেভানোর সময় এক দমকলকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। সান কাতালদো এলাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করার সময় তিনি মারা যান। সিসিলির আঞ্চলিক নেতা রেনাতো শিফানি আহত আরেক দমকলকর্মীর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন। ইতালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তেও পিয়ান্তেদোসি নিহত দমকলকর্মী আলেসান্দ্রো মার্কির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, মানুষের সেবা করতে গিয়েই তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। সিসিলির সিভিল প্রোটেকশন বিভাগের প্রধান সালভো কুচিনা জানান, দ্বীপটিতে ৩৫০টির বেশি দাবানল ছড়িয়েছে। এর মধ্যে ১০টি ছিল বড় ধরনের। এসব আগুনের কারণে অনেক মানুষকে সতর্কতামূলকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এসব আগুনের পেছনে মানুষের কর্মকাণ্ড দায়ী। দাবানল মোকাবেলা এখন শুধু পরিবেশগত নয়, সামাজিক ও আইন-শৃঙ্খলার সমস্যাও হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্পেনে মাদ্রিদের পশ্চিমে আলদেয়া দেল ফ্রেসনো এলাকার প্রায় ৩ হাজার ৫০০ বাসিন্দাকে বাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কাছাকাছি এলাকায় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া দাবানলের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে মাদ্রিদের দক্ষিণে আলমোরক্স গ্রামের বাসিন্দাদেরও সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তাদের মধ্যে কিছু মানুষ এখন ধীরে ধীরে বাড়িতে ফিরছেন।

তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুন এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। প্রায় ৮৯০ হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে। স্পেনের বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠেছে। দেশটির গুয়াদালাহারা অঞ্চলে এ বছরের সবচেয়ে বড় দাবানল দেখা গেছে। সেখানে ৩৫ হাজার হেক্টরের বেশি এলাকা পুড়ে গেছে। ইউরোপীয় বন আগুন তথ্য ব্যবস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এখন পর্যন্ত স্পেনে যত দাবানল হয়েছে, তা ২০২৫ সালের পুরো বছরের তুলনায়ও বেশি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরোপজুড়ে দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহের কারণে দাবানলের ঝুঁকি বেড়েছে। কোপার্নিকাস জলবায়ু পরিবর্তন পরিষেবার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপ বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা মহাদেশগুলোর একটি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপের বেশির ভাগ এলাকায় গড় তাপমাত্রার চেয়ে বেশি তাপমাত্রা দেখা গেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর ইউরোপে দাবানলে পুড়ে যাওয়া জমির পরিমাণ এবং আগুন থেকে নির্গত দূষণের মাত্রা রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছিল।


 

স্পেনে ভয়াবহ দাবানল, জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা

অনলাইন ডেস্ক
স্পেনে ভয়াবহ দাবানল, জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা
ছবি : রয়টার্স

স্পেনের মাদ্রিদ অঞ্চল ও রাজধানীর পাশের আভিলা প্রদেশে ভয়াবহ দাবানলের কারণে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় তা নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার জরুরি ব্যবস্থা নিয়েছে। দ্রুত উদ্ধার ও আগুন নেভানোর কাজ চালাতে সামরিক জরুরি ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে।

দাবানলের কারণে মাদ্রিদ অঞ্চলে এখন পর্যন্ত ১০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে মাদ্রিদ থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরের আলদেয়া দে ফ্রেসনো শহরের তিন হাজার ৫০০ বাসিন্দাকে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

আভিলা প্রদেশে আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় বুরগোহোন্দো, এল তিয়েমব্লো ও নাভালুয়েঙ্গা এলাকার বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে থাকতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া এল তিয়েমব্লোর একটি পর্যটন কেন্দ্র ও একটি আবাসন প্রকল্প থেকে আরো এক হাজার ৫০০ জনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

সবচেয়ে বড় দাবানলটি গুয়াদালাহারা প্রদেশে, যা রাজধানী মাদ্রিদ থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার উত্তরে। গত বৃহস্পতিবার থেকে এ আগুনে প্রায় ৩২ হাজার হেক্টর জমি পুড়ে গেছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেছেন, দাবানল নিয়ন্ত্রণে সরকার সব ধরনের সম্পদ ব্যবহার করছে। তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার এবং কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।

ইউরোপিয়ান ফরেস্ট ফায়ার ইনফরমেশন সিস্টেম জানিয়েছে, এ বছর এখন পর্যন্ত স্পেনে প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার হেক্টর বনভূমি পুড়ে গেছে। গত বছর পুরো বছরে পুড়েছিল ৩ লাখ ৯৩ হাজার হেক্টর এলাকা।