• ই-পেপার

নম্বর টেম্পারিং ঠেকাতে কোডিং সিস্টেম চালুর দাবি নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের

ছাত্রাবাসে বন্ধুদের আড্ডা, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাভাবিপ্রবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু

মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধি
ছাত্রাবাসে বন্ধুদের আড্ডা, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাভাবিপ্রবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) আইসিটি বিভাগের ২২তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থী বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তৃতীয় তলা থেকে পুকুরে পড়ে মারা গেছেন। এই আকস্মিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনায় পুরো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসজুড়ে এবং শিক্ষার্থী মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের সহপাঠীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন আরিফনগর এলাকার খাজা ছাত্রাবাসে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে তারা কয়েকজন সহপাঠী তৃতীয় তলার নিজস্ব রুমের বারান্দায় আড্ডা দেওয়ার সময় হঠাৎ মনিরুজ্জামান মনিরের হাত পাশে থাকা মেইন কারেন্ট লাইনের তারে লাগলে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এ সময় বারান্দায় রেলিং না থাকায় পাশে থাকা পুকুরে পড়ে যান তিনি। পরবর্তীতে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত টাঙ্গাগাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

নিহত মনির আইসিটি বিভাগের ২২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি প্রথম বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারে অধ্যয়নরত ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলার মির্জাপুর গ্রামে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও আইসিটি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মনির মোর্শেদ জানান, শিক্ষার্থীরা আমাকে ঘটনাটি জানালে দ্রুত আমি হাসপাতালে যাই। নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের সান্ত্বনা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের সহযোগীতায় মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের স্বজনরা এলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ দিনের শোক ঘোষণা করা হবে।

এদিকে, ক্যাম্পাসের এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র শোকের ছায়া নেমে আসে। পাশাপাশি অভিযোগ দেওয়ার পরও কেন বারান্দায় রেলিং দেয়নি মালিকপক্ষ তার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।

দায়িত্বরত পুলিশ ফাঁড়ির সদস্য রাহেদুল ইসলাম জানান, আমরা হাসপাতালে এসে মরদেহ পর্যবেক্ষণ করেছি। প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীদের জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। নিহতের মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে। নিহতের পরিবার আসার পর তারা চাইলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করলেন শিক্ষার্থীরা

খুবি প্রতিনিধি
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করলেন শিক্ষার্থীরা
ছবি : কালের কণ্ঠ

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) পরপর শিক্ষক ও হলের ক্যান্টিন কর্মচারীর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগের প্রতিবাদ এবং ঘটনার বিচার দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেছেন শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে সব ধরনের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ করে দেন।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ৩ দফা দাবি উত্থাপন করে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়ে তারা ভবনগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দেন।

জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে শিক্ষার্থীরা সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকে যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত বাংলা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. রুবেল আনছার, অ্যাগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল ইসলাম এবং হলের ছাত্রীদের ভিডিও ধারণের অভিযোগে অভিযুক্ত ক্যান্টিন কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিচারের দাবিতে ৩ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। তবে আলোচনার পরও দাবিগুলোর বিষয়ে সন্তোষজনক অগ্রগতি না হওয়ায় পূর্বঘোষিত কর্মসূচির সঙ্গে একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনগুলোতে তালা ঝুলিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ৩ দফা দাবি উত্থাপন করেছেন। তাদের প্রথম দাবি, হলের ছাত্রীদের ভিডিও ধারণের অভিযোগে অভিযুক্ত ইমাম হাসানের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ঘটনার আগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট হল প্রভোস্ট বডিকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। দ্বিতীয় দাবি, যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত বাংলা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. রুবেল আনসার এবং এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল ইসলামকে অতিদ্রুত স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে। তৃতীয় দাবি, সম্প্রতি গঠিত ‘স্পন্দন ২৪’ নামের ক্লাবটির নিবন্ধন বাতিল করতে হবে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আইনি জটিলতার কথা উল্লেখ করে তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে সরাসরি কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি এবং সময়ক্ষেপণ করেছে। তাদের ভাষ্য, দাবিগুলো বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি বা কার্যকর পদক্ষেপের নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে।

এর আগে, বুধবার (২৩ জুলাই) সকালে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। পরে তারা হাদি চত্বরে অবস্থান নিয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত সবার বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত শেষ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একাধিকবার বৈঠকে বসেন। বৈঠকগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. নূরুন্নবী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুলসমূহের স্কুলের ডিন, রেজিস্ট্রার, ডিসিপ্লিন প্রধান, আবাসিক হলগুলোর প্রভোস্ট, ছাত্রবিষয়ক পরিচালক ও অন্যান্য বিভাগের পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় এ ঘটনার তদন্তে হল প্রশাসন ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে এবং আগামী ৩ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে অভিযুক্তের পরিচালিত হল ক্যান্টিনের বরাদ্দ বাতিল, হলে কর্মচারীদের মোবাইল ফোন বহন নিষিদ্ধ এবং দুই ছাত্রী হলের ক্যান্টিনে কোনো পুরুষ কর্মী নিয়োগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ ছাড়া ছাত্রী হলের ক্যান্টিন পরিচালনায় কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন এবং শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. রুবেল আনছারের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগে রিভিউ আবেদন পাওয়া সাপেক্ষে পুনঃতদন্তের সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. নুরুন্নবী জানান, অভিযুক্ত ইমাম হাসানকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার পর আদালতে হাজির করা হয়েছে। তিনি বলেন, পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ইমাম হাসানের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং এসব ধারায় জামিনের সুযোগ নেই।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয়’২৪ হলের ছাত্রীদের ওয়াশরুমে গোপনে মোবাইল ফোন রেখে ভিডিও ধারণের অভিযোগে হলের ক্যান্টিনে কর্মরত ইমাম হাসান নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছেন ছাত্রীরা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হলজুড়ে আবাসিক ছাত্রীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

এর আগে, চলতি বছরের ১৮ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে মেসেঞ্জারে অশালীন বার্তা পাঠানো ও কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে ডিসিপ্লিন প্রধানের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়। বর্তমানে এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রের গঠিত ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি অভিযোগের তদন্ত করছে।

এ ছাড়া গত বছরের আগস্টে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. রুবেল আনছারের বিরুদ্ধে এক ছাত্রী অশালীন আচরণ, যৌন হয়রানি এবং অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ আনেন। এর কিছুদিন পর অন্য বিভাগের আরেক ছাত্রীও তার বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ করেন। অভিযোগ দুটি তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। পরে গত ২৬ ডিসেম্বর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রের তদন্ত কমিটি দুটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। পরবর্তীতে ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩৪তম সিন্ডিকেট সভায় প্রতিবেদন দুটি গৃহীত হয়।

সিন্ডিকেট সভায় তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে একটি অভিযোগ থেকে অধ্যাপক ড. রুবেল আনছারকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তবে অন্য অভিযোগে তাকে আগামী দুই বছরের জন্য বাংলা ডিসিপ্লিনে পাঠদান, পরীক্ষা গ্রহণসহ সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে জবি ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

জবি প্রতিনিধি
শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে জবি ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার
বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা মো. শের আলী। সংগৃহীত ছবি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) এক শিক্ষার্থী, তাঁর ছোট ভাই ও হবু স্ত্রীর ওপর হামলা, মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠার এক দিনের মাথায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. শের আলীকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক (সহসভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সদস্য মো. শের আলীকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হাসানান আল আবিত (সাবায়েত) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, গভীর রাতে ক্যাম্পাসে তাঁর ছোট ভাই, হবু স্ত্রী এবং ছোট ভাইয়ের এক বন্ধুকে নিয়ে অবস্থানকালে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী শের আলী ও ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষার্থী আবিদ হাসান বাঁধন মোটরসাইকেলে এসে কোনো ধরনের কারণ না দেখিয়েই তাঁর ছোট ভাই ও বন্ধুকে মারধর শুরু করেন।

অভিযোগে আরো বলা হয়, ঘটনাস্থলে গেলে শের আলী পাশের একটি চায়ের দোকান থেকে পেরেকযুক্ত কাঠের তক্তা এনে তাঁকে মারধর করেন এবং বলেন, ‘আমি জগন্নাথের শের, তোকে আজ মেরেই ফেলব।’ হামলার সময় তাঁর হবু স্ত্রীকে মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয় এবং তাঁকেও আঘাতের চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া বহিষ্কৃত শের আলীর সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

সকালের নাশতা করেন না বাকৃবির ৬৩ শতাংশ শিক্ষার্থী

বাকৃবি প্রতিনিধি
সকালের নাশতা করেন না বাকৃবির ৬৩ শতাংশ শিক্ষার্থী
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিক্ষার্থীদের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে পরিচালিত এক জরিপে উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। জরিপ অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৩ দশমিক ৩ শতাংশ শিক্ষার্থী নিয়মিত সকালের নাশতা করেন না। এ ছাড়া প্রায় ৯ শতাংশ শিক্ষার্থী নিয়মিত দুপুরের খাবার এবং প্রায় ১৫ শতাংশ শিক্ষার্থী নিয়মিত রাতের খাবারও গ্রহণ করেন না।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কমপ্লেক্সের সভাকক্ষে বাকৃবি শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত ‘শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের খামারগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে এসব তথ্য তুলে ধরেন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান সরকার।

তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ১৮৬ জন শিক্ষার্থীর পারিবারিক আয়, খাদ্যাভ্যাস, পুষ্টিগত অবস্থা ও জীবনযাত্রার বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করে এ জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৫৫ দশমিক ৯ শতাংশ ছাত্র এবং ৪৪ দশমিক ১ শতাংশ ছাত্রী ছিলেন।

তিনি বলেন, অনেক শিক্ষার্থীর দুপুরের খাবারে প্রাণিজ প্রোটিন থাকে না। তারা মূলত ডাল, ভর্তা ও সবজি দিয়ে খাবার শেষ করেন। রাতের খাবারেও একই প্রবণতা দেখা যায়। মাত্র ৩১ শতাংশ শিক্ষার্থীর রাতের খাবারে পর্যাপ্ত প্রাণিজ প্রোটিন থাকে।

পুষ্টি গ্রহণের বিষয়ে অধ্যাপক আসাদুজ্জামান সরকার জানান, ৫৩ দশমিক ৮ শতাংশ শিক্ষার্থী সপ্তাহে মাত্র ১ থেকে ৫টি ডিম খান, যা প্রয়োজনীয় পুষ্টি চাহিদার তুলনায় অনেক কম। এছাড়া ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী সপ্তাহে একদিনও ফল খাওয়ার সুযোগ পান না। যারা ফল খান, তাদের অধিকাংশই কলা ও মৌসুমি ফলের ওপর নির্ভরশীল।

জরিপে আরো দেখা যায়, মাত্র ১ দশমিক ৯ শতাংশ শিক্ষার্থী নিয়মিত দুধ পান করেন। বিপরীতে ৪১ দশমিক ৯ শতাংশ শিক্ষার্থী একেবারেই দুধ পান করেন না। অন্যদিকে কোমল পানীয় গ্রহণের প্রবণতা তুলনামূলক বেশি, যা পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতার ঘাটতির ইঙ্গিত দেয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

কর্মশালায় প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক। বাকৃবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদারের সভাপতিত্বে এবং অধ্যাপক ড. জাভিদুল হক ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় কর্মশালার শুরুতে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হল প্রভোস্ট, শিক্ষক, খামার-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

প্রধান পৃষ্ঠপোষকের বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, বর্তমান আর্থসামাজিক বাস্তবতায় শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এ লক্ষ্য অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব খামারগুলোর উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, সমন্বিত ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি কর্মশালায় উপস্থাপিত সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের আশাবাদও ব্যক্ত করেন।