বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরো জোরদারের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
থাই বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে আরো বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কৌশলগত অবস্থান, বৃহৎ ভোক্তা বাজার, দক্ষ জনশক্তি এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতির কারণে বাংলাদেশ বর্তমানে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রদর্শনী ‘টপ থাই ব্র্যান্ডস ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত থিতিপর্ন চিরাসাওয়াদি, রয়্যাল থাই দূতাবাসের বাণিজ্যিক কর্মকর্তারা, থাইল্যান্ডের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা, ব্যবসায়ী নেতারা, উদ্যোক্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং তা পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পর্যটন, সংস্কৃতি এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে সম্প্রসারিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, থাইল্যান্ড বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার হলেও বিদ্যমান সম্ভাবনার তুলনায় দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিধি এখনো অনেক কম। ফলে এ খাতে সম্প্রসারণের বিপুল সুযোগ রয়েছে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, পর্যটন, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, তৈরি পোশাক, অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ এবং রাবারভিত্তিক শিল্পে থাই বিনিয়োগের বড় সম্ভাবনা রয়েছে। এসব খাতে যৌথ বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দুই দেশের অর্থনীতির জন্যই লাভজনক হবে।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশও থাইল্যান্ডের বাজারে ওষুধ, প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য, পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্য এবং হালকা প্রকৌশল পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে আগ্রহী। এ জন্য ব্যবসায়ী পর্যায়ে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং বাজার সম্প্রসারণে যৌথ উদ্যোগ প্রয়োজন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রদর্শনী কেবল পণ্য প্রদর্শনের ক্ষেত্র নয়; বরং উৎপাদক, আমদানিকারক, রপ্তানিকারক, পরিবেশক, বিনিয়োগকারী এবং উদ্যোক্তাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের কার্যকর প্ল্যাটফর্ম।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ‘টপ থাই ব্র্যান্ডস ২০২৬’ প্রদর্শনী দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন অংশীদারত্ব গড়ে তুলবে এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সরকার ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাণিজ্য সহজীকরণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটালাইজেশন এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সংযোগ বাড়াতে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে দায়িত্বশীল বিদেশি বিনিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, এ ধরনের বিনিয়োগ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং শিল্পখাতের আধুনিকায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী থাই কম্পানিগুলোর প্রতি বাংলাদেশের ব্যবসায়ী, আমদানিকারক, পরিবেশক ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদেরও থাইল্যান্ডের বাজারে দেশীয় পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ অনুসন্ধানের পরামর্শ দেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যকার বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো শক্তিশালী হবে এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হবে।
উল্লেখ্য, থাই সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য উন্নয়ন বিভাগের (ডিআইটিপি) উদ্যোগে এবং ঢাকাস্থ রয়্যাল থাই দূতাবাসের বাণিজ্যিক কার্যালয়ের সহযোগিতায় আয়োজিত ‘টপ থাই ব্র্যান্ডস ২০২৬’ প্রদর্শনীতে থাইল্যান্ডের ৫৭টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। তিন দিনব্যাপী এ প্রদর্শনী আগামী ২৫ জুলাই পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।