নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে নবীন প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য দিনব্যাপী সাংবাদিকতা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অন রুমে আয়োজিত এ কর্মশালায় ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার নৈতিকতা, সংবাদ সংগ্রহ, তথ্য যাচাই, ডিজিটাল সাংবাদিকতা ও পেশাগত চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
নোবিপ্রবি প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাদমান রাকিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায় অনুষদের ডিন ও প্রেস ক্লাবের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল কাইয়ুম মাসুদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও প্রেস ক্লাবের উপদেষ্টা কামারুজ্জামান। কর্মশালায় মূল বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন চ্যানেল ২৪-এর নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি হাসিব আল আমিন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নোবিপ্রবি প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মিলন হোসাইন, দপ্তর সম্পাদক মো. তৌফিকুল ইসলাম, অর্থ ও সম্পদ সম্পাদক জসীম উদ্দিন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মেহেদী হাসান, কার্যনির্বাহী সদস্য হিমেল রানা ও মাহাতাব চৌধুরীসহ প্রেসক্লাবের প্রশিক্ষণার্থীরা।
কর্মশালায় মূল বক্তা হাসিব আল আমিন বলেন, ‘সাংবাদিকতা রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। সংবাদপত্র সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করে। তবে এ পেশা সব সময়ই চ্যালেঞ্জিং। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের নানা ধরনের চাপ ও হুমকির মুখোমুখি হতে হয়।’
তিনি বলেন, প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে সাংবাদিকতার ধরনে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। একটি স্মার্টফোনের মাধ্যমেও এখন নাগরিক সাংবাদিকতা (Citizen Journalism) সম্ভব হচ্ছে। অনেক সময় নাগরিক সাংবাদিকদের তথ্য-উপাত্ত মূলধারার গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের উৎস হয়ে ওঠে। তবে যেকোনো তথ্য প্রকাশের আগে তার সত্যতা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।
প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ভালো সাংবাদিক হতে হলে নিয়মিত সংবাদ পড়তে হবে, অভিজ্ঞ সাংবাদিকদের লেখার ধরন অনুসরণ করতে হবে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) এই সময়ে যেকোনো তথ্য ব্যবহারের আগে অবশ্যই তা যাচাই করতে হবে।’
বিশেষ অতিথি কামারুজ্জামান বলেন, ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা অন্যান্য ধারার সাংবাদিকতার তুলনায় ভিন্ন। এখানে প্রতিটি সংবাদ প্রকাশে দায়িত্বশীলতা ও বস্তুনিষ্ঠতার পরিচয় দিতে হবে। কোনো অভিযোগভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়া এবং তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা সাংবাদিকতার মৌলিক দায়িত্ব।
তিনি আরো বলেন, ‘কোনো বিষয় আইনবহির্ভূত মনে হলেই সংবাদ প্রকাশ করা উচিত নয়। আগে বিষয়টি সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান অর্জন ও তথ্য যাচাই করতে হবে। এর পরই সংবাদ প্রকাশ করা উচিত।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল কাইয়ুম মাসুদ বলেন, একসময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাংবাদিকতার প্রতি অনাগ্রহ থাকলেও বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ পেশায় যুক্ত হচ্ছেন, যা গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সচেতনতার ইতিবাচক প্রতিফলন।
তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকতার মূল শক্তি হলো বস্তুনিষ্ঠতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা। কোনো তথ্য হাতে পেলেই তা সংবাদে প্রকাশ করা যাবে না। যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া সংবাদ প্রকাশ করলে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং সাংবাদিক—সবার জন্যই নেতিবাচক পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।’
তিনি আরো বলেন, নোবিপ্রবির অনেক সাবেক শিক্ষার্থী বর্তমানে জাতীয় গণমাধ্যমে সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন। নতুন প্রজন্মের প্রশিক্ষণার্থীরাও সততা, পেশাদারি ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মাধ্যমে নিজেদের দক্ষতার স্বাক্ষর রাখবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে সাদমান রাকিন বলেন, ‘একজন দক্ষ ক্যাম্পাস সাংবাদিক গড়ে তুলতেই এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। সংবাদ লেখার কৌশল, নৈতিকতা ও পেশাগত দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীরা ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল সাংবাদিক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করবেন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। নোবিপ্রবি প্রেস ক্লাব ভবিষ্যতেও সাংবাদিকদের দক্ষতা উন্নয়নে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার আয়োজন করবে।’
কর্মশালায় সংবাদ লেখার কৌশল, তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি, সাক্ষাৎকার গ্রহণ, সংবাদ উপস্থাপনা, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা এবং পেশাগত নৈতিকতা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। শেষে প্রশিক্ষণার্থীরা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন।