বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিক্ষার্থীদের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে পরিচালিত এক জরিপে উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। জরিপ অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৩ দশমিক ৩ শতাংশ শিক্ষার্থী নিয়মিত সকালের নাশতা করেন না। এ ছাড়া প্রায় ৯ শতাংশ শিক্ষার্থী নিয়মিত দুপুরের খাবার এবং প্রায় ১৫ শতাংশ শিক্ষার্থী নিয়মিত রাতের খাবারও গ্রহণ করেন না।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কমপ্লেক্সের সভাকক্ষে বাকৃবি শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত ‘শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের খামারগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে এসব তথ্য তুলে ধরেন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান সরকার।
তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ১৮৬ জন শিক্ষার্থীর পারিবারিক আয়, খাদ্যাভ্যাস, পুষ্টিগত অবস্থা ও জীবনযাত্রার বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করে এ জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৫৫ দশমিক ৯ শতাংশ ছাত্র এবং ৪৪ দশমিক ১ শতাংশ ছাত্রী ছিলেন।
তিনি বলেন, অনেক শিক্ষার্থীর দুপুরের খাবারে প্রাণিজ প্রোটিন থাকে না। তারা মূলত ডাল, ভর্তা ও সবজি দিয়ে খাবার শেষ করেন। রাতের খাবারেও একই প্রবণতা দেখা যায়। মাত্র ৩১ শতাংশ শিক্ষার্থীর রাতের খাবারে পর্যাপ্ত প্রাণিজ প্রোটিন থাকে।
পুষ্টি গ্রহণের বিষয়ে অধ্যাপক আসাদুজ্জামান সরকার জানান, ৫৩ দশমিক ৮ শতাংশ শিক্ষার্থী সপ্তাহে মাত্র ১ থেকে ৫টি ডিম খান, যা প্রয়োজনীয় পুষ্টি চাহিদার তুলনায় অনেক কম। এছাড়া ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী সপ্তাহে একদিনও ফল খাওয়ার সুযোগ পান না। যারা ফল খান, তাদের অধিকাংশই কলা ও মৌসুমি ফলের ওপর নির্ভরশীল।
জরিপে আরো দেখা যায়, মাত্র ১ দশমিক ৯ শতাংশ শিক্ষার্থী নিয়মিত দুধ পান করেন। বিপরীতে ৪১ দশমিক ৯ শতাংশ শিক্ষার্থী একেবারেই দুধ পান করেন না। অন্যদিকে কোমল পানীয় গ্রহণের প্রবণতা তুলনামূলক বেশি, যা পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতার ঘাটতির ইঙ্গিত দেয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কর্মশালায় প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক। বাকৃবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদারের সভাপতিত্বে এবং অধ্যাপক ড. জাভিদুল হক ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় কর্মশালার শুরুতে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হল প্রভোস্ট, শিক্ষক, খামার-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
প্রধান পৃষ্ঠপোষকের বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, বর্তমান আর্থসামাজিক বাস্তবতায় শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এ লক্ষ্য অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব খামারগুলোর উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, সমন্বিত ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি কর্মশালায় উপস্থাপিত সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের আশাবাদও ব্যক্ত করেন।






