• ই-পেপার

বিএনপি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের পর্যালোচনা সভা

ধর্মমন্ত্রীর পূর্ণ সুস্থতা কামনায় বিশেষ দোয়ার আহ্বান হেফাজতের

অনলাইন ডেস্ক
ধর্মমন্ত্রীর পূর্ণ সুস্থতা কামনায় বিশেষ দোয়ার আহ্বান হেফাজতের
ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।

দেশের সর্বস্তরের আলেম-ওলামাসহ সবাইকে ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ এমপির আশু রোগমুক্তি কামনায় মহান আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে দোয়া করার আহ্বান জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান।

হেফাজতের এই দুই নেতা বলেন, অসুস্থ মানুষের জন্য দোয়া করা ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। তাই আমরা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে তাঁর সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া করব। আল্লাহ তাআলা তাওফিক দান করুন। 

আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদীর পাঠানো এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানো হয়।

ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ এমপি বর্তমানে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন।

এদিকে আজ বৃহস্পতিবার বাদ আসর জামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদরাসা মসজিদে উলামায়ে কেরাম ও ছাত্র-শিক্ষক নিয়ে ধর্মমন্ত্রীর দ্রুত রোগমুক্তি কামনায় দোয়া করেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী। এ সময় মাদরাসার নায়েবে মুহতামিম মাওলানা আইয়ুব বাবুনগরীসহ বিশিষ্ট উলামায়ে কেরাম উপস্থিত ছিলেন। 

হেফাজত আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, ধর্মমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ একজন দ্বিনদার ও দেশপ্রেমিক মানবহিতৈষী রাজনৈতিক ব্যক্তি। তিনি আওয়ামী ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর হাতে চরমভাবে নির্যাতিত। মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে দোয়া করছি, তিনি যেন ধর্মমন্ত্রীকে দ্রুত পূর্ণ সুস্থতা দান করেন এবং তাঁকে শিগগিরই সুস্থ অবস্থায় দেশ ও জনগণের সেবায় ফিরে আসার তাওফিক দান করেন।

এদিকে আজ বাদ জোহর দারুল উলুম হাটহাজারী মাদরাসায়ও ধর্মমন্ত্রীর দ্রুত সুস্থতা ও পূর্ণাঙ্গ আরোগ্য কামনায় এক বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়। এতে দোয়া পরিচালনা করেন হাটহাজারী মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা খলিল আহমদ কাসেমী। আরো উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র মুহাদ্দিস মুফতি জসিম উদ্দীন ও মাওলানা কবির আহমদ। 

জামিয়া ওবায়দিয়া নানুপুর মাদ্রাসায় দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা সালাহ উদ্দিন নানুপুরী। জামিয়া আরাবিয়া জিরিতে দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা হাফেজ খোবাইব বিন তৈয়ব। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জামিয়া দারুল আরকাম আল-ইসলামিয়া মাদরাসায় দোয়া পরিচালনা করেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান। 

জামিয়া ইউনুছিয়ায় দোয়া পরিচালনা করেন জমিয়ার মুহতামিম মাওলানা মুফতি মোবারক উল্লাহ। 

কুমিল্লা আশরফুল উলুম মাদরাসায় দোয়া পরিচালনা করেন মুফতি শামসুল ইসলাম জিলানী।

জামায়াত নেতার নৈতিক স্খলন কি ব্যক্তির ব্যর্থতা, নাকি দলের নৈতিক নেতৃত্বেরও পরীক্ষা?

অনলাইন ডেস্ক
জামায়াত নেতার নৈতিক স্খলন কি ব্যক্তির ব্যর্থতা, নাকি দলের নৈতিক নেতৃত্বেরও পরীক্ষা?

রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের নানা কেলেঙ্কারির জন্য জনগণ যতটা না মনে রাখে, তার চেয়েও বেশি মনে রাখে ওই সব কেলেঙ্কারির মুখে তারা কী ধরনের আচরণ করে তার ওপর। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ক্ষেত্রে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক এখন কেবল কোনো একজন ব্যক্তির ব্যর্থতার বিষয় হিসেবেই রয়ে যায়নি। বরং দলটি যে দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের নৈতিক নেতৃত্বসম্পন্ন একটি দল হিসেবে নিজেদের দাবি করে, সেই দাবির ক্ষেত্রেও এটি এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দশকের পর দশক ধরে জামায়াত নিজেদেরকে আলাদা করে তুলে ধরতে চেয়েছে তাদের অন্যান্য রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের থেকে। তাদের দাবি ছিল, তারা শুধু ভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচিই নয়, বরং ভিন্ন এক নৈতিক দিকনির্দেশনাও উপস্থাপন করে। দলটি নিজেদের শৃঙ্খলাবদ্ধ, ধর্মপরায়ণ এবং নৈতিক নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছে। এমনকি তারা প্রায়ই এমন ধারণা প্রচার করেছে যে, তাদের লোকদের কাছে অন্যান্য সাধারণ রাজনীতিবিদদের তুলনায় আরো বেশি উচ্চতর নৈতিক মানদণ্ড প্রত্যাশা করা যায়। কিন্তু সেই দাবিই এখন এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে, যার সহজ কোনো ব্যাখ্যা দলটির কাছেও নেই।

গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে বিতর্কটি শুধু এ ক্ষেত্রে উঠে আসা অভিযোগগুলোর কারণেই ক্ষতিকর নয়; বরং এটি আরো বড় এক প্রশ্ন উত্থাপন করেছে যে জামায়াতের প্রকাশ্যে প্রচার করা নৈতিকতার বক্তব্য এবং বাস্তবে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার মধ্যে ব্যবধান আসলে কতটা। ভাইরাল হওয়া তার অন্তরঙ্গ ভিডিওতে দেখা যাওয়া নারীকে তিনি নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন এবং অভিযোগ করেন, ভিডিওটি গোপনে ধারণ করা হয়েছিল। এসব ব্যক্তিগত ও আইনি প্রশ্নের উত্তর শেষ পর্যন্ত নিজস্ব প্রক্রিয়ায় মিলতে পারে। কিন্তু এখানে রাজনৈতিক প্রশ্নটি ভিন্ন; সেটি হলো যে দল নিজেকে নৈতিকতার ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী এক উদাহরণ বলে দাবি করে, তাদেরই একজন নেতা যখন কেলেঙ্কারির কেন্দ্রে চলে আসেন, তখন সেই দলের প্রতিক্রিয়া আসলে কী রকম ছিল?

প্রথম দিকে দলটি কোনো দৃঢ় পদক্ষেপ নেয়নি। তারা অভ্যন্তরীণ তদন্ত ও তথ্য-অনুসন্ধানের কথা বলেই বিষয়টি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। যথাযথ তদন্তের প্রক্রিয়া নিয়ে অবশ্য কোনো সমস্যা নেই। কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে প্রতিটি রাজনৈতিক সংগঠনেরই সময় নিয়ে অভিযোগ তদন্ত করে দেখা উচিত। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের আচরণ নিয়ে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে জামায়াত খুব কমই একই ধরনের ধৈর্য দেখিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তারা জনপরিসরে নৈতিকতার পক্ষের শক্তি হিসেবে অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করেছে এবং নিজেদের ইসলামী মূল্যবোধ ও নৈতিক রাজনীতির রক্ষক হিসেবে উপস্থাপন করেছে। সেই ইতিহাসের কারণেই তাদের নিজেদের আচরণও এখন আরও নিবিড়ভাবে পর্যালোচিত হওয়া স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে।

অবশেষে কয়েক দিন ধরে চলা গণমাধ্যমের নজরদারি এবং দেশজুড়ে ব্যাপক জনআলোচনার পর জামায়াত ঘোষণা করে যে তাদের তদন্তে গাজী নজরুল ইসলাম ‘নৈতিক অসদাচরণে’ দোষী প্রমাণিত হয়েছেন এবং তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সাংগঠনিক দৃষ্টিকোণ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তটি ছিল যথাযথ। কিন্তু এর পরপরই একটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন সামনে আসে : যদি এই বিতর্কটি জাতীয় পর্যায়ে এত ব্যাপক আলোচনার বিষয় না হতো, তাহলেও কি সিদ্ধান্তটি একই থাকত? প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কোনো রাজনৈতিক দলের বিশ্বাসযোগ্যতা শুধু শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, তার ওপর নির্ভর করে না; বরং সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া কতটা ধারাবাহিক, ন্যায়সংগত এবং সময়োপযোগী ছিল, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। যে দল নিজেদেকে উচ্চতর নৈতিক মানদণ্ডসম্পন্ন হিসেবে দাবি করে, তাদের জবাবদিহির ক্ষেত্রেও উচ্চতর প্রত্যাশা থাকাই বাঞ্ছনীয়। শুধু ভুল সংশোধন হয়েছে দেখলেই জনগণ আস্থা পায়, তা না; বরং কোনো ধরনের দ্বিধা বা বাইরের চাপ ছাড়াই ভুল সংশোধনের জন্য আন্তরিক ইচ্ছার উপস্থিতি ও এর জন্য পূর্বপ্রস্তুতি থাকার ওপর নির্ভর করে। 

জামায়াতের জন্য এটি কোনো বিচ্ছিন্ন চ্যালেঞ্জ নয়। বছরের পর বছর ধরে দলটিকে এমন বহু পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে, যখন কিনা তাদের কোনো কোনো নেতার আচরণ বা প্রকাশ্য বক্তব্য দলটির দীর্ঘদিনে যত্নসহকারে গড়ে তোলা নৈতিকতার ভাবমূর্তির সঙ্গে স্পষ্টভাবে সাংঘর্ষিক বলে মনে হয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই দলটি দাবি করেছে, কোনো ব্যক্তির ব্যর্থতাকে প্রতিষ্ঠানের মূল্যবোধের প্রতিফলন হিসেবে দেখা উচিত নয়। কথাটি সত্যও হতে পারে। কিন্তু একই ধরনের বিতর্ক যখন বারবার ফিরে আসে, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, সংগঠনটি কি সত্যিই তাদের ঘোষিত নৈতিক মানদণ্ড সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে এবং কোনো ব্যতিক্রম ছাড়াই প্রয়োগ করে?

কোনো একক ব্যক্তির আচরণ দিয়ে পুরো একটি সংগঠনকে বিচার করা উচিত নয়—এই যুক্তি দেওয়ার পূর্ণ অধিকার জামায়াতের আছে এবং এই নীতি প্রতিটি রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। কিন্তু জামায়াত কখনোই নিজেদের আর দশটি সাধারণ রাজনৈতিক দল হিসেবে উপস্থাপন করেনি। বরং তারা সচেতনভাবেই মানুষকে বিশ্বাস করাতে চেয়েছে যে, তারা প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর চেয়ে অধিক নৈতিকতাবোধ সম্পন্ন। 

সুতরাং তাদের পক্ষে এটা যুক্তিসংগতভাবে আশা করা সম্ভব নয়, সাধারণ রাজনৈতিক মানদণ্ডেই তাদের বিচার করা উচিত।

নিঃসন্দেহে, নৈতিক নেতৃত্বের দায় রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়ের চেয়ে অনেক বেশি ওজনদার। এর জন্য ধারাবাহিকতা বজায় রাখা প্রয়োজন। রাজনৈতিকভাবে নীরব থাকা সুবিধাজনক হলেও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে বিলম্ব প্রতিক্রিয়া দেখানো তাদের জন্য সুবিধাজনক বলে মনে হলেও দ্রুত জবাবদিহি নিশ্চিত করার অপরিহার্য। 

সর্বোপরি, এটি প্রমাণ করা প্রয়োজন যে ব্যক্তিগত আনুগত্য বা রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের চেয়ে নীতি-নৈতিকতাই অধিক শক্তিশালী। সুতরাং গাজী নজরুল ইসলামের ঘটনাটি এখন আর নিছক ব্যক্তিগত পর্যায়ের বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি জামায়াতের রাজনৈতিক দাবিরই একটি পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেননা বাংলাদেশের রাজনীতিতে দলটি নৈতিকভাবে শ্রেষ্ঠ এক বিকল্প হিসেবে নিজেদেরকে দাবি করে। ন্যায্যভাবে হোক বা অন্যায্যভাবে, এই ঘটনার পর সেই দাবি আগের তুলনায় অনেকটাই কম বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠেছে। 

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি দীর্ঘদিন ধরেই ‘সিলেক্টিভ’ জবাবদিহির সমস্যায় ভুগছে। রাজনৈতিক দলগুলো নিয়মিতভাবে নিজেদের প্রতিপক্ষের অসদাচরণের নিন্দা করে, অথচ একই ধরনের আচরণ নিজেদের দলের ভেতরে ঘটলে তা হয় ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখে, নয়তো তার গুরুত্ব কমিয়ে দেখায়। সমালোচকদের মতে, এই ঘটনা জামায়াত যেভাবে সামাল দিয়েছে, তাতে দলটি এত দিন ধরে যে ধরনের রাজনৈতিক আচরণের সমালোচনা করে এসেছে, তাদের মধ্যেই সেটি আরো শক্তিশালী হিসেবে প্রকাশিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। কোনো দল যদি নিজেকে ব্যতিক্রমী নৈতিক আদর্শের অধিকারী বলে দাবি করে, তাহলে জনগণেরও সেই দলের কাছ থেকে এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী ধারাবাহিকতা প্রত্যাশা করার অধিকার রয়েছে।

এই ঘটনার শিক্ষা কোনো একক কেলেঙ্কারির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আসলে, সংকটের মুখে প্রতিষ্ঠানগুলো দ্বিধা না করে স্পষ্টতার সঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানালে জনআস্থা গড়ে ওঠে। কোনো দলের রাজনৈতিক পরিচয় যদি নৈতিক অবস্থানের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে তাদের দ্বিধা অনিবার্যভাবেই এই প্রশ্নের জন্ম দেয়, তাদের নীতিগুলো কি পরম ও অপরিবর্তনীয়, নাকি পরিস্থিতি অনুযায়ী শর্তসাপেক্ষ?

গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কারের মাধ্যমে জামায়াত হয়তো তাৎক্ষণিকভাবে তাদের রাজনৈতিক ক্ষতি কিছুটা সামাল দিতে পেরেছে। তবে অনেক পর্যবেক্ষকের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে যে, দলটি নিজেদের ঘোষিত মূল্যবোধের সঙ্গে রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার বাস্তবতাকে সমন্বয় করতে গিয়ে হিমশিম খেয়েছে। আর, এই বহিষ্কার সত্ত্বেও সেই ধারণাকে তারা দূরও করতে পারেনি। দীর্ঘদিন ধরে নৈতিকতা ভিত্তিক রাজনীতির প্রতীক হিসেবে নিজেদের দাবি করে আসা একটি সংগঠনের উপর এই অবস্থাটিই সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলবে। 

শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের নিজেদের ঘোষিত গুণাবলির ভিত্তিতে মানুষ বিচার করবে না; বরং নিজেদের ক্ষেত্রে তারা যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে, তার ভিত্তিতেই বিচার করবে। জামায়াতও ঠিক এই ধারণার ওপর ভিত্তি করে নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় গড়ে তুলেছে। নজরুলকে ঘিরে তৈরি হওয়া ঘটনাটি মনে করিয়ে দেয় যে, শুধু মুখের কথার ওপর নৈতিক কর্তৃত্ব টিকিয়ে রাখা যায় না। মূল্যবোধ যখন পরীক্ষার মুখে পড়ে, তখন নীতিনিষ্ঠ, সময়োপযোগী ও ধারাবাহিক পদক্ষেপের মাধ্যমেই নৈতিক অবস্থান অর্জন ও ধরে রাখা যায়।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্পিকার ও ইসিকে জামায়াতের চিঠি

অনলাইন ডেস্ক
গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্পিকার ও ইসিকে জামায়াতের চিঠি

ভিডিওকাণ্ডে অভিযুক্ত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে গতকাল বুধবার দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সেই সিদ্ধান্ত আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) চিঠি দিয়ে অবহিত করেছে দলটি।

জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জামায়াতে সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের বিষয়ে পরিচালিত সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, গতকাল ২২ জুলাই (বুধবার) বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে সর্বসম্মতক্রমে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

চিঠিতে গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইসিকে বলা হয়েছে।

রাজনীতিবিদদের জন্য একটি সতর্কবার্তা

অনলাইন ডেস্ক
রাজনীতিবিদদের জন্য একটি সতর্কবার্তা

বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ভিন্ন রকমের ধারণা ছিল। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দোসর হিসেবে বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ থাকার পরও জামায়াত বাংলাদেশের রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হয়েছে সাধারণ মানুষের কিছু ধারণার ভিত্তিতে।

জামায়াত নেতাদের মানুষ অপেক্ষাকৃত সৎ মনে করে, তারা ধর্মকর্মে মনোযোগী এটাও ধর্মপ্রাণ অনেক মুসলিম পছন্দ করেন। কিন্তু জামায়াত সম্পর্কে সাধারণ মানুষের এ পারসেপশন একটা বড় ধাক্কা খেল সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ) থেকে নির্বাচিত জামায়াতের এমপি গাজী নজরুল ইসলামের অন্তরঙ্গ ভিডিও ফাঁস হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে।

দুই দিন গাজী নজরুলের এ ভিডিও সমাজমাধ্যম থেকে রাজনীতির মাঠে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। জামায়াত প্রথম দিকে বিষয়টি নিয়ে ধীরে চলো নীতি অনুসরণ করতে চাইলেও গতকাল সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়। নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

গতকাল বিকাল ৪টায় রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি।

নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। জামায়াতের এ সিদ্ধান্তের ফলে গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়ে যাবে। বৈঠকে বহিষ্কারের বিষয়টি অবিলম্বে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) অবহিত করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর ফলে নারীঘটিত কেলেঙ্কারিতে একজন রাজনীতিবিদের ক্যারিয়ার শেষ হয়ে গেল। কিন্তু এ ঘটনা ঘটনার পর জামায়াত যতই তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিক না কেন, দলটির সৎ লোক আর সৎ মানুষের শাসনের স্লোগান বড় হোঁচট খেয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন-শেষ পর্যন্ত জামায়াতও? এ ঘটনা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু সামনে এনেছে। তা হলো ক্ষমতার কাছাকাছি থাকলে সবারই অবক্ষয় হয়, এমনকি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের মধ্যেও পচন ধরে।

জামায়াত তাদের যে আদর্শিক অবস্থান নিয়ে এতদিন গর্ব করত, সেই গর্বে কিছুটা হলেও কালিমা লেগেছে। শুধু জামায়াত নয়, বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক নেতা-কর্মীর জন্যই এটা একটি সতর্কবার্তা। রাজনীতিবিদরা পাবলিক ফিগার। তারা সব সময় জনগণের সঙ্গে মেশেন।

ভারতের বরেণ্য রাজনীতিবিদ, সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি তার আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থে লিখেছেন, ‘রাজনীতিবিদদের একান্ত ব্যক্তিগত জীবন বলে কিছু নেই, তাদের জীবন খোলা বইয়ের মতো।’

বিএনপির সাবেক মহাসচিব প্রয়াত খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন লিখেছেন, ‘আমরা যারা রাজনীতিবিদ তারা সব সময় জনগণের নজরদারির মধ্যে থাকি।’ কোটি মানুষের চোখ থাকে রাজনীতিবিদদের চলাফেরা, কথাবার্তা এবং প্রতিটি কাজে। সারা বিশ্বের রাজনৈতিক নেতাদের জন্যই এটা প্রযোজ্য। এ কারণেই মনিকা লিউনস্কির সঙ্গে বিল ক্লিনটনের অন্তরঙ্গতা হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তাবেষ্টনী ভেঙে জন আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়। এজন্য তাকে ইমপিচমেন্টের মুখোমুখি হতে হয়।

কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো মার্কিন গায়িকা কেটি পেরির সঙ্গে প্রেম করার জন্য রাজনীতিকে বিদায় জানান।

পরকীয়া, রোমাঞ্চ কিংবা নৈতিক স্খলন আর রাজনীতি একসঙ্গে চলতে পারে না। জনগণ যেমন দুর্নীতিবাজ, দুর্বৃত্ত রাজনীতিবিদদের প্রত্যাখান করে, তেমনই রাজনীতিবিদদের অনৈতিক কাজ ঘৃণা করে। সদ্য সাবেক জামায়াত নেতা যে কাজটি করেছেন তা শুধু অনৈতিক নয়, অন্যায়ও বটে।

এর আগেও ২০২০ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগের প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ এক চলচ্চিত্র নায়িকাকে অশালীন, কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালিগালাজ করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। সেজন্য তাকে মন্ত্রিত্ব হারাতে হয়েছিল। এসব ঘটনা রাজনীতি এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি করে। বাংলাদেশের বেশির ভাগ রাজনীতিবিদ সুস্থ পারিবারিক সম্পর্ক বজায় রাখেন। অধিকাংশ রাজনীতিবিদের ব্যক্তিগত জীবন পরিচ্ছন্ন। কিন্তু মুরাদ, গাজী নজরুলদের মতো কিছু বেসামাল নেতার জন্য বদনাম হয় গোটা রাজনীতির। এ ঘটনা রাজনৈতিক দল এবং নেতা-কর্মীদের জন্য ওয়েক আপ কল। জামায়াতের মতো ক্যাডারভিত্তিক শৃঙ্খলাবদ্ধ একটি দলের সংসদ সদস্যের এ অনৈতিক কর্মকাণ্ড গোটা রাজনৈতিক অঙ্গন সম্পর্কে যেন নেতিবাচক মনোভাব তৈরি না করে সেজন্য সব রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের নৈতিকতা ও মূল্যবোধের চর্চাকে গুরুত্ব দিতে হবে। দলগুলোর আদর্শিক চর্চা এবং চেতনার মান বাড়াতে হবে। জনপ্রিয় নেতা হওয়ার চেয়ে আদর্শবান মানুষ হওয়া বেশি দরকার।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন