• ই-পেপার

জামায়াতের কাছে মা-বোন কেমন নিরাপদ দেশবাসী দেখেছে : কামরুল হুদা

ওমরাহর পথে সড়কে ঝরল প্রবাসী মা-মেয়ে-ছেলের প্রাণ

সালথা-নগরকান্দা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
ওমরাহর পথে সড়কে ঝরল প্রবাসী মা-মেয়ে-ছেলের প্রাণ
সংগৃহীত ছবি

ওমরাহ পালন করতে যাওয়ার পথে সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের সালথা উপজেলার এক পরিবারের মা, মেয়ে ও ছেলে নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টার দিকে রিয়াদ-মক্কা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও পুঠিয়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত নাজিমুদ্দিন মোল্যার সেজো মেয়ে তানিয়া তাহমিনা রিনা (৪৫), তার মেয়ে জারা আক্তার (১৫) ও ছেলে তাসবিক (২০)। আহত হয়েছেন রিনার স্বামী শফিকুল ইসলাম ও বড় ছেলে নাবিল। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে তানিয়া তাহমিনা রিনার ভাই তৌহিদ মোহাম্মাদ মুরাদ বলেন, আমার ভগ্নিপতি শফিকুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের ভৈরবে। তিনি প্রায় ২৬ বছর ধরে সৌদি আরবের রিয়াদ শহরে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন।

বৃহস্পতিবার সকালে আমার ভগ্নিপতি, বোন ও তাদের সন্তানরা রিয়াদ থেকে একটি প্রাইভেট কারে মক্কায় ওমরাহ পালনের উদ্দেশে রওনা হন। পথে রিয়াদ-মক্কা মহাসড়কে তাদের বহনকারী প্রাইভেট কারটিকে পেছন থেকে অন্য একটি বড় গাড়ি সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই আমার বোন, ভাগ্নে ও ভাগ্নি নিহত হয়। আহত হয় ভগ্নিপতি শফিকুল ইসলাম ও বড় ভাগ্নে নাবিল। তাদেরকে গুরুতর অবস্থায় স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

অপহরণ রোধে পদক্ষেপের আশ্বাসে ৯০ ঘণ্টা পর অনশন ভাঙলেন শিক্ষার্থী

উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
অপহরণ রোধে পদক্ষেপের আশ্বাসে ৯০ ঘণ্টা পর অনশন ভাঙলেন শিক্ষার্থী
সংগৃহীত ছবি

টেকনাফে অপহরণ, মুক্তিপণ, ডাকাতি ও মানবপাচার বন্ধ করে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে ৯০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে আমরণ অনশন পালনকারী শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম জিহাদী অনশন প্রত্যাহার করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে অনশনস্থলে গিয়ে কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং দাবিগুলো শোনেন। এ সময় তিনি টেকনাফের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে তাঁর আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে সাইফুল ইসলাম জিহাদী অনশন ভঙ্গ করেন।

সাইফুল ইসলাম জিহাদী টেকনাফের বাহারছড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে বেড়ে যাওয়া অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, ডাকাতি ও মানবপাচারের ঘটনার প্রতিবাদে এবং এসব অপরাধ দমনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেছিলেন।

অনশন চলাকালে তাঁর দাবির প্রতি বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, ছাত্র ও পেশাজীবী সংগঠন, মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক এবং সচেতন নাগরিক সংহতি প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে টেকনাফেও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মানববন্ধন ও অন্যান্য কর্মসূচির মাধ্যমে তাঁর দাবির প্রতি সমর্থন জানান।

অনশন ভাঙার পর সাইফুল ইসলাম জিহাদী বলেন, সংসদ সদস্যের দেওয়া আশ্বাস দ্রুত বাস্তবায়িত হবে এবং টেকনাফে অপরাধ দমনে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে বলে আশা করি।

দক্ষিণ গফরগাঁওয়ের উন্নয়নে ঢাকায় ঐক্যের প্রত্যয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
দক্ষিণ গফরগাঁওয়ের উন্নয়নে ঢাকায় ঐক্যের প্রত্যয়

মাত্র পাঁচ মাসে দক্ষিণ গফরগাঁওয়ে যে দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়েছে, তা স্বাধীনতার পরে আর হয়নি। দক্ষিণ গফরগাঁওয়ে উপজেলা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগসহ এলাকার পুরোচিত্র পাল্টে যাচ্ছে। উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। উন্নয়নের এই ধারবাহিকতা বজায় থাকলে আগামী পাঁচ বছরে দক্ষিণ গফরগাঁওয়ে কোনো কাঁচা রাস্তা থাকবে না। একইসঙ্গে এলাকাকে করতে হবে মাদকমুক্ত। দক্ষিণ গফরগাঁওকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও শিল্পায়নে সমন্বিত উন্নয়নের মাধ্যমে একটি আধুনিক উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। নতুন উপজেলা বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় অবকাঠামো উন্নয়ন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরির কার্যক্রম আরো দ্রুত এগিয়ে নিতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা ফোরাম’ আয়োজিত ‘দক্ষিণ গফরগাঁওয়ের উন্নয়ন ও অগ্রগতি’ শীর্ষক মতবিনিময়সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

একুশে টেলিভিশনের বার্তা প্রযোজক আনোয়ারুল কাইয়ুম কাজলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাবেক সহকারী এটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট আশরাফ-উজ-জামান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও-দক্ষিণ গফরগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বাচ্চু। এতে আরো বক্তব্য দেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএপিএমইএ) সাবেক সভাপতি মো. মোয়াজ্জেম হোসেন মতি, সাবেক সিনিয়র সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক প্রফেসর ড. সিরাজুল হক, যুগ্ম সচিব হেমায়েত হোসেন, তিতাস গ্যাসের সাবেক জিএম ফয়জুল বারী গোলাপ, সাবেক সহকারী পুলিশ সুপার হাম্মাদ হোসেন নয়ন এবং বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) সভাপতি ও ইউএনবির ডেপুটি এডিটর মাসউদুল হক প্রমুখ।

সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বাচ্চু বলেন, আগামী ৫ বছর নয়, তিন বছরের মধ্যেই অবহেলিত গফরগাঁও ও দক্ষিণ গফরগাঁওয়ের চিত্র পাল্টে যাবে। আগামী প্রজন্মের জন্য সবাইকে নিয়ে আমরা মানবিক, আধুনিক ও বাসযোগ্য গফরগাঁও তৈরিতে কাজ করতে চাই। এক মুহূর্তও সময় নষ্ট না করে কাজ করে যাচ্ছি। প্রতিদিন বিভিন্ন দপ্তরে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে তদবির করে যাচ্ছি।

গফরগাঁও পৌরসভার চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের তথ্য তুলে ধরে মোহম্মদ আক্তারুজ্জামান বাচ্চু বলেন, বর্তমানে পৌরসভায় ৩২ কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে। এর বাইরে আরো ১৮ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ ইতিমধ্যে অনুমোদন হয়েছে, যা শিগগিরই টেন্ডার প্রক্রিয়ায় যাবে। এ ছাড়া অতিরিক্ত ৫০ কোটি টাকার বরাদ্দেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।

গফরগাঁওয়ের জন্য আলাদা উন্নয়ন প্রকল্প করা হয়েছে জানিয়ে এমপি বাচ্চু বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ বরাদ্দের অনুরোধ জানালে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় গফরগাঁও ও দক্ষিণ গফরগাঁওয়ের জন্য পৃথক প্রকল্প প্রণয়ন করেছে এবং ইতিমধ্যে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রাস্তা উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, গত পাঁচ মাসে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রাস্তা পাকাকরণ, এইচবিবি ও ইট সোলিংয়ের কাজ হয়েছে। যেসব এলাকায় মাটির রাস্তার দাবি এসেছে, বরাদ্দ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও সেখানে কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে রাস্তা বসে যাওয়ার পর পরবর্তী সময়ে স্থায়ী উন্নয়ন করা যায়।

ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল বলেন, বর্তমান এমপি মাত্র চার মাসের মাথায় দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা বাস্তবায়নের দীর্ঘদিনের আশা পূরণ করেছেন। তিনি নির্মোহ ব্যক্তি; তিনি এটা ঝুলিয়ে রাখতে পারতেন, নির্বাচনের আগে করতে পারতেন। আর জায়গা কোনো ফ্যাক্টর নয়। যে জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে এটিই উপযুক্ত। উপজেলা ভবন বা অন্যান্য প্রকল্পের কাজ করার ক্ষেত্রে কোনো দুর্নীতি যেন না হয়, বর্তমান এমপি সেদিকে লক্ষ রাখবেন বলে মনে করছি। এখন অনেক রাস্তার কাজ চলমান, এটি আগে হয়নি।

সাবেক সিনিয়র সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন বলেন, উপজেলা ভবনের স্থান নির্বাচনের ক্ষেত্রে ইগো বা আঞ্চলিকতাকে প্রশ্রয় না দিয়ে সামষ্টিকভাবে যা ভালো, তাই মেনে নেওয়া উচিত। কোনো এলাকার জন্য কোনটি ভালো—তার একটি দার্শনিক সংজ্ঞা রয়েছে; যা সবচেয়ে বেশি মানুষের কাজে আসে, সেটাই প্রকৃত অর্থে ভালো। নয়াবাড়ী বা কান্দিপাড়ায় যে স্থানটি নির্বাচন করা হয়েছে, তা দক্ষিণ গফরগাঁওয়ের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের স্বার্থেই সবচেয়ে উপযুক্ত ও যৌক্তিক। সামষ্টিক কল্যাণের কথা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানিয়েছি।

বিজিএপিএমইএ-এর সাবেক সভাপতি মো. মোয়াজ্জেম হোসেন মতি বলেন, সরকার যে জায়গা স্থান নির্ধারণ করেছে দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা পরিষদ নির্মাণের জন্য, স্থানটি আমাদের দৃষ্টিতে যথাযথ হয়েছে। আমরা চাই এই উপজেলা সদরের সঙ্গে প্রতিটি ইউনিয়ন ও গ্রামের সঙ্গে কানেক্টিভিটি হোক, সেটি হলে সরকারি সেবা গ্রহণে কোনো সমস্যা হবে না।

সাবেক সহকারী এটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট আশরাফ-উজ-জামান বলেন, গফরগাঁওবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হওয়ায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানাই। একই সঙ্গে উপজেলার উন্নয়ন, দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন রোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

কমলগঞ্জে ১২০০ কমলা গাছ কেটে ফেলার ঘটনা তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন

মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার
কমলগঞ্জে ১২০০ কমলা গাছ কেটে ফেলার ঘটনা তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন
ছবি : কালের কণ্ঠ

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সংরক্ষিত বনাঞ্চলে প্রায় ১ হাজার ২০০টি কমলা গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় গঠিত তিন সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সিলেটের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আশরাফুর রহমানের নেতৃত্বাধীন এই কমিটি এরই মাঝে সরেজমিন তদন্ত, সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করেছে। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কমিটি।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি রেঞ্জের অধীন আদমপুর বিটের কালিঞ্জি এলাকায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা।

এ সময় তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আশরাফুর রহমানের সঙ্গে ছিলেন সিলেট বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. আব্দুর রহমান এবং মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোসা. শাহীনা আক্তার।

তদন্তকালে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিয়াজ মাহমুদ, কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ওয়াহিদুজ্জামান রাজু, বন বিভাগের কর্মকর্তা এবং পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে তদন্ত কমিটির প্রধান আশরাফুর রহমান বলেন, ‘এখানে কিছু গাছ কাটা হয়েছে। গাছ কাটার বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব আমাকে দেওয়া হয়েছে। আমরা সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য রেকর্ড করেছি এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করেছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে।’

তিনি আরো বলেন, তদন্তে ঘটনার প্রকৃত কারণ, দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতা এবং আইনি বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হবে।

তদন্ত কমিটির সদস্য ও সিলেট বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. আব্দুর রহমান বলেন, ‘আমি তদন্ত কমিটির প্রধানকে সহযোগিতা করতে এসেছি। কেউ যদি সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ, পাকা রাস্তা বা অন্য কোনো অবকাঠামো তৈরি করে থাকে, সেগুলো আইন অনুযায়ী উচ্ছেদ করা হবে। এলাকাটির একটি পুকুরসহ বিভিন্ন বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনা হবে।’

এর আগে গত ১৬ জুলাই কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি রেঞ্জের অধীন আদমপুর বিটের কালিঞ্জি এলাকায় বন বিভাগ, উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের যৌথ অভিযানে প্রায় পাঁচ একর সংরক্ষিত বনভূমি দখলমুক্ত করা হয়।

বন বিভাগের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে দখল করা ওই জমিতে কমলার বাগান, বিভিন্ন স্থাপনা ও একটি পুকুর তৈরি করা হয়েছিল। অভিযানে এসব অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করে ভূমি পুনরায় বন বিভাগের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, উচ্ছেদ অভিযানের সময় প্রায় ১ হাজার ২০০টি ফলদ কমলা গাছ কেটে ফেলা হয়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিলে সরকার উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে।

তদন্ত কমিটির কার্যক্রমকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক।