• ই-পেপার

নোবিপ্রবি প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে দিনব্যাপী সাংবাদিকতা কর্মশালা

সকালের নাশতা করেন না বাকৃবির ৬৩ শতাংশ শিক্ষার্থী

বাকৃবি প্রতিনিধি
সকালের নাশতা করেন না বাকৃবির ৬৩ শতাংশ শিক্ষার্থী
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিক্ষার্থীদের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে পরিচালিত এক জরিপে উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। জরিপ অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৩ দশমিক ৩ শতাংশ শিক্ষার্থী নিয়মিত সকালের নাশতা করেন না। এ ছাড়া প্রায় ৯ শতাংশ শিক্ষার্থী নিয়মিত দুপুরের খাবার এবং প্রায় ১৫ শতাংশ শিক্ষার্থী নিয়মিত রাতের খাবারও গ্রহণ করেন না।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কমপ্লেক্সের সভাকক্ষে বাকৃবি শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত ‘শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের খামারগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে এসব তথ্য তুলে ধরেন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান সরকার।

তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ১৮৬ জন শিক্ষার্থীর পারিবারিক আয়, খাদ্যাভ্যাস, পুষ্টিগত অবস্থা ও জীবনযাত্রার বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করে এ জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৫৫ দশমিক ৯ শতাংশ ছাত্র এবং ৪৪ দশমিক ১ শতাংশ ছাত্রী ছিলেন।

তিনি বলেন, অনেক শিক্ষার্থীর দুপুরের খাবারে প্রাণিজ প্রোটিন থাকে না। তারা মূলত ডাল, ভর্তা ও সবজি দিয়ে খাবার শেষ করেন। রাতের খাবারেও একই প্রবণতা দেখা যায়। মাত্র ৩১ শতাংশ শিক্ষার্থীর রাতের খাবারে পর্যাপ্ত প্রাণিজ প্রোটিন থাকে।

পুষ্টি গ্রহণের বিষয়ে অধ্যাপক আসাদুজ্জামান সরকার জানান, ৫৩ দশমিক ৮ শতাংশ শিক্ষার্থী সপ্তাহে মাত্র ১ থেকে ৫টি ডিম খান, যা প্রয়োজনীয় পুষ্টি চাহিদার তুলনায় অনেক কম। এছাড়া ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী সপ্তাহে একদিনও ফল খাওয়ার সুযোগ পান না। যারা ফল খান, তাদের অধিকাংশই কলা ও মৌসুমি ফলের ওপর নির্ভরশীল।

জরিপে আরো দেখা যায়, মাত্র ১ দশমিক ৯ শতাংশ শিক্ষার্থী নিয়মিত দুধ পান করেন। বিপরীতে ৪১ দশমিক ৯ শতাংশ শিক্ষার্থী একেবারেই দুধ পান করেন না। অন্যদিকে কোমল পানীয় গ্রহণের প্রবণতা তুলনামূলক বেশি, যা পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতার ঘাটতির ইঙ্গিত দেয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

কর্মশালায় প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক। বাকৃবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদারের সভাপতিত্বে এবং অধ্যাপক ড. জাভিদুল হক ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় কর্মশালার শুরুতে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হল প্রভোস্ট, শিক্ষক, খামার-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

প্রধান পৃষ্ঠপোষকের বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, বর্তমান আর্থসামাজিক বাস্তবতায় শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এ লক্ষ্য অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব খামারগুলোর উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, সমন্বিত ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি কর্মশালায় উপস্থাপিত সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের আশাবাদও ব্যক্ত করেন।

ডিরেক্টরস অ্যাওয়ার্ড পেলেন ঢাবির লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটের ২৪ শিক্ষার্থী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
ডিরেক্টরস অ্যাওয়ার্ড পেলেন ঢাবির লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটের ২৪ শিক্ষার্থী
ছবি: কালের কণ্ঠ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষের স্নাতক পরীক্ষায় বিশেষ কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ ২৪ শিক্ষার্থীকে ‘ডিরেক্টরস অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ প্রদান করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ইনস্টিটিউটের অডিটরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে সনদ, মেডেল ও উত্তরীয় তুলে দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী এবং ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. উপমা কবির।

২০১৭-২০১৮, ২০১৮-২০১৯, ২০১৯-২০২০ এবং ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং, ফুটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং ও লেদার প্রোডাক্টস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থীদের এ পুরস্কার দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘একটি পুরস্কার কেবল একটি সনদ বা মেডেল নয়; এটি একজন শিক্ষার্থীর দীর্ঘদিনের শ্রম, অধ্যবসায়, মেধা ও সাফল্যের স্বীকৃতি। এই স্বীকৃতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনে আরও উৎকর্ষতা অর্জনে অনুপ্রাণিত করবে।’

তিনি বলেন, দেশের টেকসই উন্নয়ন ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা অর্জনে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলায় লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। শুধু ডিগ্রি প্রদান নয়, শিক্ষার্থীদের দক্ষ ও কর্মমুখী মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতেও প্রতিষ্ঠানটি কার্যকর অবদান রাখছে।

উপাচার্য আরো বলেন, প্রকৃত শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু সনদ অর্জন নয়, অর্জিত জ্ঞানকে সমাজ ও দেশের কল্যাণে কাজে লাগানো। এ জন্য তিনি আধুনিক গবেষণাগার, উন্নত যন্ত্রপাতি, যুগোপযোগী ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার্থী ভর্তির হার বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, ডিরেক্টরস অ্যাওয়ার্ড শিক্ষার্থীদের একাডেমিক উৎকর্ষতা ও অধ্যবসায়ের গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। তবে মেধার পাশাপাশি নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জনও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানে ইনস্টিটিউটের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

ছাত্রী হলে গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগে উত্তাল খুবি

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
ছাত্রী হলে গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগে উত্তাল খুবি
ছবি : কালের কণ্ঠ

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) বিজয়’২৪ হলের ছাত্রীদের ওয়াশরুমে গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগে হলের এক ক্যান্টিনকর্মীকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনার দ্রুত বিচার, জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন ও প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদি চত্বরে আয়োজিত মানববন্ধনে বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন। তারা অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি, ঘটনার দ্রুত বিচার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানান।

শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে, আলোচিত ঘটনার মূল অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন হয়রানির অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি।

মানববন্ধনে দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাবিত হাসান অর্ক বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের আবাসিক হলেই যদি নিরাপত্তা নিশ্চিত না হয়, তাহলে তারা কোথায় নিরাপদ থাকবে? প্রশাসনকে এমন ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের অপরাধ করার সাহস না পায়।’

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন। বুধবার রাত থেকেই তারা একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রধান ফটক, প্রশাসনিক ভবনসহ বিভিন্ন একাডেমিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ায় শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

বিজয়’২৪ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. সেলিনা আহমেদ বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত অভিযুক্তকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। তার মোবাইল ফোন সিলগালা অবস্থায় জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্যান্টিনের বরাদ্দ বাতিল, কর্মচারীদের হলে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ, পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন এবং তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের সমাবেশে উপস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. নুরুন্নবী বলেন, অভিযুক্তকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার পর আদালতে হাজির করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা হয়েছে এবং ধারাগুলো জামিনযোগ্য নয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী এ অপরাধে সর্বনিম্ন ১০ বছরের কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। তবে চূড়ান্ত শাস্তি আদালত নির্ধারণ করবেন।

ট্রেজারার আরো জানান, অভিযুক্তের মোবাইল ফোন বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে সিলগালা অবস্থায় রয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সেটি পরীক্ষা করা হবে।

এর আগে বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিজয়’২৪ হলের গণরুমসংলগ্ন ওয়াশরুমের ভেন্টিলেটরের ফাঁক দিয়ে মোবাইল ফোন রেখে এক ছাত্রীর ভিডিও ধারণের চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি টের পেয়ে ওই ছাত্রী অন্যদের জানালে শিক্ষার্থীরা হলের ক্যান্টিনে কর্মরত ইমাম হাসান নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে সোপর্দ করেন। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

উচ্চশিক্ষা রূপান্তরে ৫ বছর মেয়াদি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা করছে ইউজিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
উচ্চশিক্ষা রূপান্তরে ৫ বছর মেয়াদি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা করছে ইউজিসি
ছবি : কালের কণ্ঠ

দেশের উচ্চশিক্ষার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করতে পাঁচ বছর মেয়াদি ‘উচ্চশিক্ষা রূপান্তর : টেকসই উৎকর্ষ অর্জনে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (২০২৬-২০৩০)’ প্রণয়ন করছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ইউজিসি চেয়ারম্যানের সভাকক্ষে এ কর্মপরিকল্পনার খসড়া নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

সভায় ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতা, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের উচ্চশিক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের লক্ষ্যেই এ কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চশিক্ষা রূপান্তর বিষয়ক জাতীয় কর্মশালার সুপারিশ, সরকারের অগ্রাধিকার এবং ইউজিসির কৌশলগত পরিকল্পনার সমন্বয়ে কর্মপরিকল্পনার খসড়া তৈরি করা হয়েছে।

ইউজিসি চেয়ারম্যান জানান, কর্মপরিকল্পনায় পাঁচটি কৌশলগত বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো—স্নাতকদের কর্মসংস্থানযোগ্যতা বৃদ্ধি ও চাহিদাভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করা, বিশ্ববিদ্যালয়-শিল্প খাতের সহযোগিতা বাড়ানো, ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার, শিক্ষক উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধি, গবেষণা-উদ্ভাবন ও আন্তর্জাতিকীকরণ এবং সুশাসন ও মাননিশ্চিতকরণ।

তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে আউটকাম-বেইজড এডুকেশন (ওবিই), ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সেন্টার, ইন্টার্নশিপ ও কর্মসংস্থান পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এলএমএস), ডিজিটাল প্রশাসন এবং এআইভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া গবেষণা প্রকাশনা ও পেটেন্টের সংখ্যা দ্বিগুণ করা, আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা বাড়ানো, জাতীয় উচ্চশিক্ষা তথ্যভাণ্ডার তৈরি এবং বাংলাদেশকে আঞ্চলিক উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যও কর্মপরিকল্পনায় রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, খসড়া কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করার আগে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষাবিদ, শিল্প খাতের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মতামত নেওয়া হবে। এরপর পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত করে বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

সভায় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, দেশের উচ্চশিক্ষা খাতের রূপান্তরের রূপরেখা ইউজিসির কাছ থেকেই আসা উচিত। উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক ও সমন্বয়কারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইউজিসির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সফল উচ্চশিক্ষা সংস্কারের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের উপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে চীন, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু মেধাবী শিক্ষার্থী তৈরি করা নয়, বরং তাদের মেধার সর্বোচ্চ বিকাশ নিশ্চিত করা। বিদেশি শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক উচ্চশিক্ষার গন্তব্যে পরিণত করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, পরিকল্পিত উচ্চশিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে জাতীয় উন্নয়নের শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব।

আলোচনা সভায় ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, অধ্যাপক ড. মো. সাইদুর রহমান, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম, অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন এবং ইউজিসি সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলামসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।