ভারতের আসামের বন্যা পরিস্থিতির কারণে ফের পাহাড়ি ঢল বেড়ে সিলেটের নদনদী ফুঁসে উঠতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদী বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করেছে। জেলা বাকি ৯ পয়েন্টের ৪ পয়েন্টই নদীর পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। তবে সকাল ৬টার তুলনায় দুপুর ১২টার হিসেবে নদীগুলোর পানি অল্প কমেছে।
জেলার নদনদীসমূহের দৈনিক পানি সমতলের পরিমাপ সংক্রান্ত পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের প্রতিবেদন বিশ্লেষণে এমন চিত্র দেখা গেছে। এতে দেখা গেছে, সিলেটে ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর পানি আজ শুক্রবার সকাল ৬টায় বিপৎসীমার পয়েন্ট ৩৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর কোনো পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম না করলেও একেবারে কাছাকাছি অবস্থান করছে। যে কোনো সময় বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।
এর মধ্যে কানাইঘাটে পয়েন্ট সুরমা নদীর পানি সকাল ৬টায় বিপৎসীমার মাত্র পয়েন্ট ৪ সেন্টিমিটার উপর নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পরে দুপুর ১২টায় সেটি আরো পয়েন্ট দুই কমেছে। একইভাবে জকিগঞ্জের অমলসিদে কুশিয়ারা নদীর পানি সকাল ৬টায় বিপৎসীমার মাত্র পয়েন্ট ৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা দুপুর ১২টায় আরো পয়েন্ট দুই সেন্টিমিটার কমেছে।
শেরপুরে কুশিয়ারা নদীর পানি সকাল ৬টায় বিপৎসীমার পয়েন্ট ৪৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। দুপুর ১২টায় সেটি অপরিবর্তিত ছিল। সিলেট পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি সকাল ৬টায় বিপৎসীমার পয়েন্ট ৭৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। দুপুর ১২টায় সেটি আরো পয়েণ্ট ১ সেন্টিমিটার কমেছে। শেওলায় সুরমা নদীর পানি সকাল ৬টায় বিপৎসীমার মাত্র পয়েন্ট ৩৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। দুপুর ১২টায় তা পয়েন্ট ৪ সেন্টিমিটার কমে আসে। তবে সারিঘাটে সারিগোয়াইন নদী, জাফলংয়ে পিয়াইন নদী, গোয়াইনঘাটে সারিগোয়াইন নদী, কানাইঘাটের লোভাছড়ায় লোভাছড়া নদী ও কোম্পানীগঞ্জের ইসলামপুরে ধলাই নদীর পানি বাড়লেও তা বিপৎসীমার বেশ নিচে রয়েছে এখনো। কানাইঘাট পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় সেখানে নিম্নাঞ্চলের কিছু কিছু স্থান প্লাবিত হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বলছে, ভারতের মেঘালয়, আসাম ও বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলে নতুন করে ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা না থাকায় বন্যার কোন আশঙ্কা নেই। নদীর পানি আরও কিছুটা বাড়লেও বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির সম্ভাবনা দেখছে না পাউবো।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, ‘ভারতের আসামের বন্যার পানি নামছে। যে কারণে সুরমা ও কুশিয়ারায় পানি বেড়েছে। তবে আপাতত নতুন করে সিলেট কিংবা ভারতের আসাম, মেঘালয়ে ভারি বর্ষনের কোন পূর্বাভাস নেই। তাই সিলেট অঞ্চলে আপাতত বন্যার আশঙ্কা নেই।’




