• ই-পেপার

শিক্ষিকার ফ্ল্যাটে গৃহকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ, মিলল চিরকুটও

সুপেয় পানি সংরক্ষণে পানির ট্যাংক বিতরণ করলেন প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল

মোংলা প্রতিনিধি
সুপেয় পানি সংরক্ষণে পানির ট্যাংক বিতরণ করলেন প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল
ছবি: কালের কণ্ঠ

তীব্র লবণাক্ত অধ্যুষিত উপকূলীয় মানুষের জন্য সুপেয় পানি সংরক্ষণে পানির ট্যাংক বিতরণ করা হয়েছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর চত্বরে জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের উদ্যোগে রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং'র মাধ্যমে সুপেয় পানির সংকটে থাকা পরিবারের মাঝে এ ট্যাংক বিতরণ করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম।

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তামান্না ফেরদৌসী, বাগেরহাট জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জয়ন্ত মল্লিক রামপাল উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইমরান হোসেন, রামপাল থানার ওসি মো. রাজীব আল রশিদ, উপজেলা বিএনপি সভাপতি হাফিজুর রহমান তুহিন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব কাজী জাহিদুল ইসলাম জাহিদ।

এসময় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রতিমন্ত্রী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘সুপেয় পানির তীব্র সংকটে থাকা উপকূলের মোংলা ও রামপালের দরিদ্র মানুষের মাঝে আপাতত তিন হাজার পানির ট্যাংক বিতরণ করা হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় শুক্রবার ৮২টি ট্যাংক বিতরণ করা হয়। এখানে লবণ পানিতে সয়লাব, কোথাও তেমন মিষ্টি পানির উৎস নেই। তাই বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য এই ট্যাংক দেওয়া হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের আওতায় পর্যায়ক্রমে উপকূলের প্রত্যেক ঘরে পানির ট্যাংক পৌঁছে দেওয়া হবে। কারণ এখানে টিউবওয়েলর পানিও লবণ। তাই সুপয়ে পানির চাহিদা পূরণে এখানকার সকল সরকারি পুকুর সংস্কার করা হবে। সেগুলো সুপেয় পানির আধারে পরিণত করা হবে। এ পুকুরগুলোতে কেউ মাছ চাষ করতে পারবে না।’

পরে দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে ২৮ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মাঝে ঢেউ টিন এবং নগদ অর্থ বিতরণ করেন পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম।

আমরা দলীয় অন্ধত্ব বিশ্বাস করি না : ভূমিমন্ত্রী মিনু

মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার, রাজশাহী
আমরা দলীয় অন্ধত্ব বিশ্বাস করি না : ভূমিমন্ত্রী মিনু
ছবি: কালের কণ্ঠ

ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেন, রাজশাহী আমাদের সবার। আর সবার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় এগিয়ে যাবে আমাদের সবার প্রিয় এই রাজশাহী। আমরা দলীয় অন্ধত্ব বিশ্বাস করি না। ক্ষমতার অপব্যবহার নয়। সবাই মিলেই এই রাজশাহী মহানগর।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে তিন দিনব্যাপী ৩-১৮ বছর বয়সী শিশু শিক্ষার্থীদের হৃদরোগ শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা কার্যক্রমের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন তিনি।

মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ‘হার্ট ফাউন্ডেশন তিলে তিলে এই পর্যায়ে এসেছে সেজন্য আমি খুব আনন্দিত। তিন দিনব্যাপী শিশু শিক্ষার্থীদের হৃদরোগ শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা কার্যক্রম করেছে। নিঃসন্দেহে এটি একটি ভালো উদ্যোগ। হার্ট ফাউন্ডেশন ভবিষ্যতে আরো ভালো কিছু করবে।’

হার্ট ফাউন্ডেশনের দাবির প্রেক্ষিতে মন্ত্রী বলেন, ‘এই হার্ট ফাউন্ডেশনে যাতে আগামী দিনে আরো বেশি অনুদান আসে সেই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আরো বৃহত্তর পরিসরে হাসপাতালটি কার্যক্রম পরিচালিত করতে পারে সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সবাইকে আরো আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে ফাউন্ডেশনকে এগিয়ে নেওয়ার আহবান জানান তিনি। ইতিমধ্যে ২৫০০ জনের হৃদরোগ সশনাক্তকরণ ও চিকিৎসা কার্যক্রম সম্মন্ন করা হয়েছে।’

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন- রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির, রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম, রাজশাহী চেম্বারের সভাপতি হাসেন আলী। সভাপতিত্ব করেন, হার্ট ফাউন্ডেশন রাজশাহীর সভাপতি আব্দুল মান্নান। 

সমাপনী অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন হার্ট ফাউন্ডেশন রাজশাহীর পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) প্রফেসর মহাম্মদ হাবিবুর রহমান। এর আগে গত ২২ জুলাই এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। তিন দিনব্যাপী এই ক্যাম্পিং এ চীনের চার সদস্যের চিকিৎসক প্রতিনিধি ছিলেন। এ কার্যক্রমে ২৬০০ জন রেজিস্ট্রেশন করেছিলেন। এতে সহায়ক টিম হিসেবে কাজ করে জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট ও হাসপাতাল ঢাকার শিশু হৃদরোগ বিভাগ।

ধসে পড়ল গৌরনদীতে নির্মাণাধীন ব্রিজ

আগৈলঝাড়া (বরিশাল)প্রতিনিধি
ধসে পড়ল গৌরনদীতে নির্মাণাধীন ব্রিজ
সংগৃহীত ছবি

বরিশালের আগৈলঝাড়া সিমান্ত এলাকার গৌরনদীতে নির্মাণাধীন ঢালাইয়ের ব্রিজ। কাজ শেষ হবার আগে ধসে পড়ায় কাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) ব্রিজ ধসের বিষয়টি প্রকাশ্য এসেছে।

গৌরনদী উপজেলা দুর্যোগ ও ত্রান কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অর্থায়নে ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে আহম্মেদকাঠী গ্রামের মৃধাবাড়ির সামনে ব্রীজ নির্মানের দরপত্র বিজয়ী হয় ডায়নামিক আইটি শপ নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। তবে আবুল ফয়েজ শরীফ নামের এক ঠিকাদার মূল ঠিকাদারের কাছ থেকে ক্রয় করে ব্রীজ নির্মাণ করছেন।

স্থানীয় হাবিবুর রহমান মৃধা ও জয়নাল মৃধাস জানান, ব্রীজ নির্মাণে পাটাতন (সাটারিং) পুরনো ও অনুপযুক্ত বাঁশ ব্যবহার করে পানির মধ্যে সাটারিং তৈরি করা হয়। ওই সাটারিংয়ের ওপর বুধবার দুপুরে ব্রীজের ঢালাই দেওয়া হয়। এতে ঢালাইয়ের চাপ সহ্য করতে না পেরে ঢালাইসহ পাটাতন খালের মধ্যে ধ্বসে পড়ে।

ঠিকাদার আবুল ফয়েজ শরীফ বলেন, ‘আমরা গৌরনদী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা খোকন চন্দ্র দাসকে জানিয়ে ঢালাই দিয়েছি। নিচের স্ট্রাকচার ভাল না থাকায় ঢালাই দেওয়ার শুরুতেই সাটারিং ভেঙে পড়েছে। এটা আবার পুনরায় সাটারিং করে ঢালাইয়ের কাজ করা হবে।’

গৌরনদী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা খোকন চন্দ্র দাস বলেন, ‘আমাদের কাউকে না জানিয়ে ঠিকাদার ঢালাই দিয়েছেন। এখন শুনেছি সেটা খালের মধ্যে ভেঙে পড়েছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।’ 

গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইব্রাহীম জানিয়েছেন, কাজের গুণগত মানে কোন ত্রুটি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

জামিনে বের হয়ে ফের হুমকি, বিদ্যালয়ে ঢুকতে পারছেন না সেই প্রধান শিক্ষিকা

কুমিল্লা প্রতিনিধি
জামিনে বের হয়ে ফের হুমকি, বিদ্যালয়ে ঢুকতে পারছেন না সেই প্রধান শিক্ষিকা
ছবি : কালের কণ্ঠ

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকাকে লাথি দিয়ে চেয়ার থেকে ফেলে দেওয়ার ঘটনা দেশজুড়ে ভাইরাল হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত আমিনুল ইসলাম সুজন গ্রেপ্তারের পর জামিনে বের হয়ে পুনরায় প্রধান শিক্ষিকা হাছিনা ইসলামকে প্রাণনাশের হুমকি, হামলা-মামলার ভয়ভীতি ও অপপ্রচার করে বিদ্যালয়ে ঢুকতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) কুমিল্লা নগরীর একটি হলরুমে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বেড়াখলা আবদুল মতিন খসরু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হাছিনা ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘আদালতের নির্দেশনার পরও আমি বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে পারছি না। আমাকে বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে বিদ্যালয় অফিসকক্ষে প্রধান শিক্ষকের চেয়ার অবৈধভাবে দখল করে রাখে বোর্ড কর্তৃক বহিষ্কৃত আমিনুল ইসলাম সুজন। একই সঙ্গে তার সঙ্গী-সাথিরা নানাভাবে আমাকে হুমকি দিচ্ছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে প্রাণনাশের আশঙ্কায় আমি বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে ভয়ে আছি। এ ছাড়া  সুজন বহিরাগতদের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দিয়ে জোরপূর্বক আমার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করিয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী মানববন্ধন করতে চায়নি বলে তাদের হয়রানি করা হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ব্রাহ্মণপাড়া সাবেক ইউএনও সোহেল রানা কর্তৃক দুই দফা তদন্ত শেষে স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে সুজনের অবৈধ নিয়োগের বিষয়টি স্পষ্ট হয়। পরে বোর্ড কর্তৃক তাকে বহিষ্কার করা হয়। দীর্ঘদিন যাবৎ আমি বোর্ডের নিদের্শক্রমে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছি। গত ২০ নভেম্বর বহিষ্কৃত সুজন হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করে। ১৩ মে হাইকোর্ট সুজনের যোগদানে নিষেধাজ্ঞা জারি করে ও আমাকে দায়িত্ব পালনে আদেশ প্রধান করা হয়। এই আদেশ বাস্তবায়নে ১৫ জুলাই কনটেমড নোটিশ জারি করে হাইকোর্ট। কিন্তু এখনো সুজন জোড় পূর্বক বিদ্যালয়ে বহিরাগতদের নিয়ে অবৈধ ভাবে প্রধান শিক্ষিকের চেয়ার দখল করে আছেন। আমাকে নানা ভাবে হুমকি ও অপপ্রচার চালাচ্ছেন যেন আমি বিদ্যালয়ে না যেতে পারি।’

এসব বিষয় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড ও স্থানীয় সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে হাছিনা ইসলাম বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয়টাকে বাঁচান। আমার বিদ্যালয়ের বাচ্চাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে ফেলছে আওয়ামী সন্ত্রাসী সুজন। আমাকে নিয়ে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে সে।’

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বেড়াখলা আবদুল মতিন খসরু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বহিস্কৃত শিক্ষক সুজন জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা মামলায় একাধিক বার জেল হাজতে গিয়েছেন। জামিনে বেরিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মদদে বিদ্যালয়ে অবৈধ ভাবে প্রভাব বিস্তার করছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে আমিনুল ইসলাম সুজনকে একাধিকবার করা হলেও তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।