• ই-পেপার

সন্তানদের প্রতি স্ত্রীর ভালোবাসায় স্বামীর ঈর্ষা, কথা বলেননি ২০ বছর

ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অটল সিজেপি, বৈঠকে যে সিদ্ধান্ত এলো

অনলাইন ডেস্ক
ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অটল সিজেপি, বৈঠকে যে সিদ্ধান্ত এলো
সংগৃহীত ছবি

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। 

দেশটির সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বলছে, সরকারের সঙ্গে বৈঠকের পর দলটি জানিয়েছে, তাদের উত্থাপিত দাবির বিষয়ে জবাব দেওয়ার জন্য সরকার আগামীকাল শনিবার পর্যন্ত সময় চেয়েছে।

এদিকে সিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বৈঠকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিসহ চলমান আন্দোলন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি বিবেচনার জন্য অতিরিক্ত সময় চাওয়া হয়েছে।

দলটি জানিয়েছে, সরকারের আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়ার পর আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

লন্ডনের হোটেলে সৌদি রাজপুত্রের রহস্যময় মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
লন্ডনের হোটেলে সৌদি রাজপুত্রের রহস্যময় মৃত্যু
ছবি : এক্স থেকে নেওয়া।

লন্ডনের একটি বিলাসবহুল হোটেলে অ্যালকোহল, পার্টি ড্রাগস এবং চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনের ওষুধ একসঙ্গে সেবনের ফলে ২৯ বছর বয়সী এক সৌদি রাজপুত্রের মৃত্যু হয়েছে। যুক্তরাজ্যের একটি তদন্তে এই তথ্য উঠে এসেছে। 

সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আবদুল্লাহ বিন ফাহাদ বিন আবদুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজ বিন জালাউই আল সৌদকে গত ২৫ নভেম্বর কেনসিংটনের ম্যারিয়ট হোটেলের কক্ষ থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তদন্তে বলা হয়েছে, একাধিক মাদক ও ওষুধের প্রভাবে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়।

ইনার ওয়েস্ট লন্ডন করোনারের আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, প্রিন্স আব্দুল্লাহ ১৯ নভেম্বর এক সপ্তাহের জন্য লন্ডনের একটি বিলাসবহুল হোটেলে ওঠেন। হোটেলটির প্রতি রাতের ভাড়া ছিল প্রায় ৬০০ ইউরো। মৃত্যুর আগের সন্ধ্যায় সিগারেট খাওয়ার জন্য বাইরে যাওয়ার সময় সিসিটিভিতে তাকে শেষবারের মতো জীবিত দেখা যায়।

পরদিন হোটেলের এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী পঞ্চম তলার কক্ষে ঢুকে বাথরুমের মেঝেতে সম্পূর্ণ পোশাক পরা অবস্থায় তাকে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে হোটেল কর্তৃপক্ষ জরুরি সেবায় খবর দিলে প্যারামেডিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তদন্তে দেখা গেছে, বিষবিদ্যা পরীক্ষায় প্রিন্স আব্দুল্লাহর রক্তে প্রতি ১০০ মিলিলিটারে ২২২ মিলিগ্রাম অ্যালকোহল পাওয়া যায়। এটি ইংল্যান্ডে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অনুমোদিত সীমার প্রায় তিন গুণ।

আদালতে বিশেষজ্ঞরা জানান, শুধু এই পরিমাণ অ্যালকোহলই একজন মানুষকে কোমায় নিয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট হতে পারে। তদন্তকারীরা প্রিন্স আব্দুল্লাহর শরীরে জিএইচবি (গামা-হাইড্রোক্সিবুটাইরেট) নামে পরিচিত মাদকের প্রাণঘাতী মাত্রা শনাক্ত করেছেন।

এ ছাড়া চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহৃত মাত্রায় গাঁজা, জ্যানাক্স এবং উদ্বেগ কমানোর আরো কিছু ওষুধের উপস্থিতিও পাওয়া গেছে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব মাদক ও ওষুধ একসঙ্গে সেবনের কারণেই তার হৃদযন্ত্র হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায় এবং এতে তার মৃত্যু হয়।

আসক্তির চিকিৎসা নিয়েছিলেন সৌদি রাজপুত্র

আদালতে জানানো হয়, মৃত্যুর আগে প্রিন্স আব্দুল্লাহ অ্যালকোহল এবং চিকিৎসকের পরামর্শে নেওয়া কিছু ওষুধের আসক্তিতে ভুগছিলেন। এ কারণে ২০২৫ সালের আগস্টে তাকে লন্ডনের রোয়েহ্যাম্পটনের প্রায়োরি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি অ্যালকোহল, বেনজোডায়াজেপিন ও প্রেগাবালিনের আসক্তি কাটাতে ডিটক্স চিকিৎসা নেন।

কনসালট্যান্ট মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ভিক্টোরিয়া চামোরো আদালতে বলেন, চিকিৎসায় প্রিন্স আব্দুল্লাহ ভালো সাড়া দিয়েছিলেন। ভর্তি হওয়ার সময় তার মধ্যে বিষণ্ণতার লক্ষণ থাকলেও তিনি কোনো শারীরিক জটিলতা ছাড়াই ডিটক্স চিকিৎসা সম্পন্ন করেন।

তিনি পরে নির্ধারিত ফলো-আপ চিকিৎসায় উপস্থিত না হলেও, হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার সময় চিকিৎসকদের কাছে তার আত্মহত্যার কোনো ঝুঁকির লক্ষণ ছিল না।

আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, প্রায়োরি ক্লিনিক ছাড়ার পর তিনি মার্সিসাইডের রেইনফোর্ড হল ক্লিনিকে আরো চিকিৎসা নেন। শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ থেকে সুস্থ হওয়ার পর তিনি অক্টোবর মাসে সেখান থেকে ছাড়পত্র পান।

‘দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু’ বলে রায়

সহকারী করোনার জিন হারকিন রায়ে বলেন, প্রিন্স আব্দুল্লাহ আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আদালতে জানানো হয়, কোনো সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি, তিনি আত্মহত্যার ইচ্ছার কথাও কাউকে জানাননি। এ ছাড়া তার মৃত্যুর সঙ্গে অন্য কারো জড়িত থাকারও কোনো প্রমাণ মেলেনি। সিসিটিভি ফুটেজেও মৃত্যুর আগের কয়েক ঘণ্টায় তাকে একাই দেখা গেছে।

সব তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে করোনার তার মৃত্যুকে ‘দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

রায়ে বলা হয়, একাধিক মাদক ও ওষুধ একসঙ্গে সেবনের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি রাজপুত্রের পরিবারের প্রতি সমবেদনাও জানান। পরে সৌদি রাজপরিবার এক বিবৃতিতে প্রিন্স আব্দুল্লাহর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। তারা জানায়, রিয়াদের ভিআইপি ইমাম তুরকি বিন আবদুল্লাহ মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
 

ট্রাম্পের নতুন যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল ইরান

অনলাইন ডেস্ক
ট্রাম্পের নতুন যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল ইরান
সংগৃহীত ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাঠানো নতুন যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান।

এর আগে সাম্প্রতিক ওয়াশিংটন সফর শেষে ইরাকি প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি তেহরানে গিয়ে এ প্রস্তাব পৌঁছে দেন। তবে প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ প্রশ্নে কোনো সমাধান না থাকায় তা গ্রহণে অনাগ্রহ দেখিয়েছে তেহরান।

মার্কিন সংবাদ মাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের বরাতে এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনালের (এএনআই) এক প্রতিবেদনে পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানি ও ইরাকি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর আল-জাইদি তেহরানে গিয়ে ট্রাম্পের প্রস্তাবটি ইরানি নেতৃত্বের কাছে তুলে ধরেন। 

প্রস্তাবের বিস্তারিত প্রকাশ করা না হলেও বর্তমানে এটিই একমাত্র যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব বলে জানিয়েছেন ইরানি কর্মকর্তারা। তবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণের মতো মূল বিরোধ নিষ্পত্তি ছাড়া কোনো অস্থায়ী সমঝোতায় আগ্রহী নয় তেহরান।

তেহরান সফরে আল-জাইদি প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিকে দেওয়া বক্তব্যে আরাঘচি বলেন, ওয়াশিংটন সফরের অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ ইরানের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়াটা ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর জন্য স্বাভাবিক বিষয়।

তিনি বলেন, ‘সমস্যা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের অযৌক্তিক, আধিপত্যবাদী ও অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগের নীতি। ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান দৃঢ়ভাবে সেই নীতির মোকাবিলা করছে।’

এদিকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি রেলপথ, বিমানবন্দর, সেতু ও সমুদ্রবন্দরের মতো বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে ইরান পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

সতর্ক করে ইরানের দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি তেহরান ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় আরও হামলা চালায়, তাহলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ইরান তেল আবিবে হামলা জোরদার করার পাশাপাশি ইয়েমেনের মিত্র হুথিদের সহায়তায় লোহিত সাগরের কৌশলগত বাব আল-মান্দাব প্রণালি বন্ধ করার পদক্ষেপও বিবেচনা করতে পারে।

নতুন শুল্কারোপ

ইসরায়েলকে ‘শত্রু’ চীনের কাতারে, ভারতকে কেন কাছে টানলেন ট্রাম্প?

অনলাইন ডেস্ক
ইসরায়েলকে ‘শত্রু’ চীনের কাতারে, ভারতকে কেন কাছে টানলেন ট্রাম্প?
ছবি : রয়টার্স

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীন, ইসরায়েল, যুক্তরাজ্য ও জাপানসহ বেশ কয়েকটি দেশের পণ্যের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে ভারতকে এই তালিকা থেকে আলাদা রেখে ১০ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের দাবি, জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানি ঠেকাতে ভারত প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় দেশটির জন্য তুলনামূলক কম শুল্ক রাখা হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারত, চীন, যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের অন্তত ৬০টি বাণিজ্য অংশীদার দেশের পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। দেশটির প্রশাসনের দাবি, এসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। 

তাই যুক্তরাষ্ট্র এসব দেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করবে। সমালোচকদের মতে, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য বিদেশি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরতা কমানো এবং দেশীয় উৎপাদনকে উৎসাহিত করা।

এই ঘোষণা এমন সময়ে এসেছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসনের আগে আরোপ করা অস্থায়ী শুল্কের মেয়াদ শুক্রবার শেষ হওয়ার কথা। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, যেসব দেশে জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানির বিরুদ্ধে কার্যকর আইন নেই, তাদের ওপর সর্বোচ্চ ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। এই তালিকায় চীন, যুক্তরাজ্য ও জাপানও রয়েছে।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো যেসব দেশে জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য ঠেকানোর আইন রয়েছে, কিন্তু সেগুলো কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা হয় না, সেসব দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। তবে মার্কিন-মেক্সিকো-কানাডা চুক্তি (ইউএসএমসিএ)-এর আওতাভুক্ত পণ্য এবং তেল ও গ্যাসসহ কিছু নির্দিষ্ট আমদানিকে নতুন এই শুল্ক থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন শুল্ক শুক্রবার রাত ১২টা ১ মিনিট (ওয়াশিংটন ডিসি সময়) থেকে কার্যকর হবে। একই সময়ে আগে আরোপ করা অস্থায়ী ১০ শতাংশ আমদানি শুল্কের মেয়াদ শেষ হবে। সুপ্রিম কোর্ট ২০২৫ সালের এপ্রিলে ট্রাম্পের ঘোষিত ‘লিবারেশন ডে’ শুল্ক বাতিল করার পর ফেব্রুয়ারিতে এই অস্থায়ী শুল্ক চালু করা হয়েছিল।

ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, নতুন এই শুল্কের উদ্দেশ্য হলো জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রায় এক শতাব্দী ধরে জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করে আসছে। তার মতে, এখন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য অংশীদারদেরও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এসেছে।

তিনি আরো বলেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও অন্যায্য বাণিজ্যিক চর্চা মোকাবিলা করা হবে এবং বিশ্বের শ্রমিকদের জন্য আরও ভালো কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।

ভারতে ১০ শতাংশ শুল্ক বহাল

নতুন সিদ্ধান্তের পর ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা পণ্যের ওপর মোট ১০ শতাংশ শুল্ক বহাল থাকবে। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন সুপ্রিম কোর্টের ফেব্রুয়ারির রায়ের পর ভারতসহ বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর একটি অস্থায়ী ১০ শতাংশ বৈশ্বিক সারচার্জ আরোপ করেছিল, যার মেয়াদ এখন শেষ হচ্ছে।

এর আগে জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহারের অভিযোগে ভারতের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তবে সর্বশেষ সিদ্ধান্তে সেই শুল্ক আরোপ করা হয়নি।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ভারত, কম্বোডিয়া, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, শ্রীলঙ্কা ও ত্রিনিদাদ ও টোবাগো জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বা সে ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। জর্দানও একটি বাণিজ্য চুক্তির আওতায় একই ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। 

হোয়াইট হাউসের মতে, এসব দেশকে আইনগুলো আরো কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে উৎসাহিত করতেই তাদের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক বজায় রাখা হয়েছে।

সামনে আসতে পারে আরো নতুন শুল্ক

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আরও একটি নতুন শুল্ক ঘোষণা করতে পারে। এই শুল্ক সেসব দেশের পণ্যের ওপর আরোপ করা হতে পারে, যারা নিজেদের শিল্পে অতিরিক্ত ভর্তুকি দিয়ে বেশি উৎপাদন করে এবং কম দামে পণ্য রপ্তানি করে। 

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এতে মার্কিন কোম্পানিগুলো প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্ট ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসনের আগের শুল্ক ব্যবস্থা বাতিল করার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নতুন আইনি ভিত্তিতে আবারও শুল্ক ব্যবস্থা জোরদার করার চেষ্টা করছেন। এবার তিনি এমন আইন ব্যবহার করছেন, যা আগের পদক্ষেপগুলোর তুলনায় আইনি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বেশি শক্তিশালী বলে মনে করা হচ্ছে।