• ই-পেপার

খুলনায় বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ আটক ২

বৈদ্যুতিক চুলায় রান্না করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে গৃহবধূর মৃত্যু

পঞ্চগড় প্রতিনিধি
বৈদ্যুতিক চুলায় রান্না করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে গৃহবধূর মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলা ইউনিয়নে বৈদ্যুতিক চুলায় ভাত রান্না করার সময় বিদ্যুৎস্পর্শে নাসিমা বেগম (৩৫) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকালে নিজ বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নাসিমা বেগম ওই এলাকার শহিম উদ্দিনের স্ত্রী।

স্থানীয়রা জানায়, সকালে নাসিমা বেগম বৈদ্যুতিক চুলায় ভাত রান্না করছিলেন। এ সময় হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে পরিবারের সদস্যরা ছুটে গিয়ে তাকে ঘরের মেঝেতে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে দ্রুত উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. সৌরভ বলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট এক নারীকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।

ঝিনাইদহে হঠাৎ ‘তেল নেই’ গুজব, পাম্পে উপচে পড়া ভিড়

ঝিনাইদহ সংবাদদাতা
ঝিনাইদহে হঠাৎ ‘তেল নেই’ গুজব, পাম্পে উপচে পড়া ভিড়
ছবি : কালের কণ্ঠ

​ঝিনাইদহে জ্বালানি তেল সংকটের ‘গুজব’ ছড়িয়ে পড়ায় পাম্পগুলোতে মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহনের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। বিশেষ করে জেলার কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর উপজেলার পেট্রল পাম্পগুলোতে পরিস্থিতি বেশি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। চার থেকে ছয় ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও কাঙ্ক্ষিত তেল পাচ্ছেন না বলে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন গ্রাহকরা।

​বুধবার সন্ধ্যার পর থেকেই জেলাজুড়ে এই তেল নেই গুজব ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে খবর ছড়িয়ে পড়ে পাম্পগুলোতে মোটরসাইকেল চালক ভিড় করতে থাকেন। 

মোটরসাইকেল চালক সুবাস দাস বলেন, সংকটের কথা শুনে তেল নিতে এসেছি। খুব কষ্টে তেল নিতে পেরেছি।   

পাম্প মালিকরা জানান, সোশ্যাল মিডিয়া ও মুখে মুখে একটি ভিত্তিহীন গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। হঠাৎ করে কয়েক গুণ বেশি গাড়ি একসঙ্গে পাম্পে চলে আসায় সাময়িকভাবে লাইন দীর্ঘ হয়েছে। সবাইকে তেল দিতে কিছুটা সময় লাগছে। আমাদের কাছে পর্যাপ্ত তেল আছে, তাই আতঙ্কের কোনো কারণ নেই।

এদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত ভিড় না জমানো এবং গুজবে কান না দেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও পাম্প মালিকদের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করা হয়েছে। তবে গভীর রাত পর্যন্ত পাম্পগুলোতে তেল নেওয়ার দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।
 

জয়পুরহাটে কৃষিপণ্য রপ্তানি অঞ্চল স্থাপনে সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শনে খাদ্য প্রতিমন্ত্রী

কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি
জয়পুরহাটে কৃষিপণ্য রপ্তানি অঞ্চল স্থাপনে সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শনে খাদ্য প্রতিমন্ত্রী
ছবি: কালের কণ্ঠ

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় কৃষিপণ্য রপ্তানি অঞ্চল স্থাপনের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেছেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী এবং কৃষি সচিব ড. রফিকুল-ই-মোহাম্মদ।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকালে কালাই উপজেলার আহম্মেদাবাদ ইউনিয়নের বামনাহানি মৌজায় জয়পুরহাট-বগুড়া মহাসড়কের উত্তর পাশে সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেন তারা।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, প্রায় ১০০ একর (প্রায় ৩০০ বিঘা) জমির ওপর আধুনিক কৃষিপণ্য রপ্তানি অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

স্থানীয় কৃষকদের আশা, এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি নতুন শিল্প ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে হিমাগারনির্ভরতা কমে কৃষিপণ্য সরাসরি রপ্তানির পথও সহজ হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ কে এম সাদিকুল ইসলাম বলেন, সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে নতুন দিগন্তের সূচনা হবে। বিশেষ করে আলুভিত্তিক রপ্তানি অঞ্চল গড়ে উঠলে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাবেন, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং সরকারও উল্লেখযোগ্য রাজস্ব অর্জন করবে।

মাঠ পরিদর্শনে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, জয়পুরহাটের জেলা প্রশাসক আল মামুন মিয়া, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বগুড়া অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ আব্দুল ওয়াদুদ, উপপরিচালক এ কে এম সাদিকুল ইসলাম, কালাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল্লাহ আল মাহবুব এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হারুনুর রশিদ উপস্থিত ছিলেন।

নারী চিকিৎসককে কুপ্রস্তাব

বরগুনা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা

বরগুনা প্রতিনিধি
বরগুনা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা
সংগৃহীত ছবি

নারী চিকিৎসককে কুপ্রস্তাবের অভিযোগে বরগুনা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. রেজওয়ানুর আলমের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে না কেন, তা জানতে চেয়ে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

গত ২২ জুলাই স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব (শৃঙ্খলা-২ শাখা) কামরুজ্জামান চৌধুরীর সই করা প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তত্ত্বাবধায়ক ডা. রেজওয়ানুর আলম সুযোগ পেলেই কোনো প্রয়োজন ছাড়াই আবাসিক সার্জন ডা. লুৎফুন্নাহার লনীকে নিজের দপ্তরে ডেকে পাঠাতেন এবং তাকে অনৈতিক প্রস্তাব ও অশালীন ইঙ্গিত করতেন। এ ধরনের আচরণ সরকারি চাকরি (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হওয়ায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

একই সঙ্গে প্রজ্ঞাপনে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে, কেন তার বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্তসহ উপযুক্ত বিভাগীয় শাস্তি দেওয়া হবে না। নোটিশ পাওয়ার ১০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে এবং ব্যক্তিগত শুনানি চাইলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জুলাই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন বরগুনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক সার্জন ডা. লুৎফুন্নাহার লনী।

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, চলতি বছরের ৬ জুন হাসপাতালে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তত্ত্বাবধায়ক তাকে বিভিন্ন সময় অফিসকক্ষে ডেকে মানসিকভাবে হয়রানি করতেন এবং কুরুচিপূর্ণ ইঙ্গিত দিতেন। এ ছাড়া ১৩ জুলাই সকালে হোয়াটসঅ্যাপে কল করে নিজের ডরমিটরি কক্ষে একসঙ্গে সময় কাটানোর অনৈতিক প্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হওয়ায় পরদিন হাসপাতালের দায়িত্ব পালনকালে স্টাফ ও নার্সদের সামনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। নিজেকে নিরাপত্তাহীন দাবি করে তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানান।

পরবর্তী সময়ে ২১ জুলাই হাসপাতালের কয়েকজন সিনিয়র চিকিৎসকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের পর ডা. লনী স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবের কাছে অভিযোগ প্রত্যাহারের আবেদন করেন। তবে পরদিন, ২২ জুলাই দেওয়া আরেকটি আবেদনে তিনি অভিযোগ করেন, ভয়ভীতি ও চাকরিগত ক্ষতির আশঙ্কা দেখিয়ে তাকে অভিযোগ প্রত্যাহারে বাধ্য করা হয়েছিল। 

তিনি দাবি করেন, কয়েকজন চিকিৎসক তাকে বিভিন্ন ফেসবুক পোস্ট ও সংবাদ দেখিয়ে আতঙ্কিত করেন এবং তত্ত্বাবধায়কের কক্ষে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে মূল ঘটনা গোপন রেখে বক্তব্য দিতেও বাধ্য করা হয়।

নতুন আবেদনে তিনি আরো উল্লেখ করেন, জেলার স্বাস্থ্যসেবার স্বার্থ বিবেচনায় সাময়িকভাবে অভিযোগ প্রত্যাহারের আবেদন করলেও তার মূল অভিযোগের বিষয়ে তিনি এখনও অনড় রয়েছেন। অভিযোগের পক্ষে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ তার কাছে রয়েছে বলেও উল্লেখ করে আগের অভিযোগের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

ডা. লুৎফুন্নাহার লনী বলেন, আমি কোনো আপস করিনি এবং আমার সিদ্ধান্তে অটল আছি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বরগুনা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. রেজওয়ানুর আলম। তিনি বলেন, ডা. লুৎফুন্নাহার লনী আবাসিক সার্জন হিসেবে যোগদানের পর সপ্তাহে তিন দিন অফিস করেন, বাকি তিন দিন ভোলায় চেম্বার করেন। নিয়মিত অফিস করার জন্য আমি তাকে তাগাদা দিয়েছি। নিয়মিত উপস্থিত না থাকায় বাধ্য হয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছি। এরপরই তিনি আমার বিরুদ্ধে অসত্য, মনগড়া ও ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছেন।